All Unit Practice SET-1 2016
Quiz-summary
0 of 55 questions completed
Questions:
- 1
- 2
- 3
- 4
- 5
- 6
- 7
- 8
- 9
- 10
- 11
- 12
- 13
- 14
- 15
- 16
- 17
- 18
- 19
- 20
- 21
- 22
- 23
- 24
- 25
- 26
- 27
- 28
- 29
- 30
- 31
- 32
- 33
- 34
- 35
- 36
- 37
- 38
- 39
- 40
- 41
- 42
- 43
- 44
- 45
- 46
- 47
- 48
- 49
- 50
- 51
- 52
- 53
- 54
- 55
Information
All Unit Practice SET-1 -2016
You have already completed the quiz before. Hence you can not start it again.
Quiz is loading...
You must sign in or sign up to start the quiz.
You have to finish following quiz, to start this quiz:
Results
0 of 55 questions answered correctly
Your time:
Time has elapsed
You have reached 0 of 0 points, (0)
Categories
- Not categorized 0%
- 1
- 2
- 3
- 4
- 5
- 6
- 7
- 8
- 9
- 10
- 11
- 12
- 13
- 14
- 15
- 16
- 17
- 18
- 19
- 20
- 21
- 22
- 23
- 24
- 25
- 26
- 27
- 28
- 29
- 30
- 31
- 32
- 33
- 34
- 35
- 36
- 37
- 38
- 39
- 40
- 41
- 42
- 43
- 44
- 45
- 46
- 47
- 48
- 49
- 50
- 51
- 52
- 53
- 54
- 55
- Answered
- Review
- Question 1 of 55
1. Question
1 points1.প্রয়োগবাদী দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত শিক্ষা হল
Correctপ্রয়োগবাদী দর্শন (Pragmatism) অনুযায়ী প্রকৃত শিক্ষা হল এমন একটি প্রক্রিয়া যা ব্যক্তিকে সমাজের জন্য বাঁচতে এবং কার্যকরভাবে সমাজে অবদান রাখতে সক্ষম করে তোলে। এই দর্শন শিক্ষার উদ্দেশ্যকে শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জন বা আত্মবিকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে এবং সামাজিক উপযোগিতায় গুরুত্ব আরোপ করে।
প্রয়োগবাদীরা বিশ্বাস করেন যে জ্ঞান তখনই অর্থবহ হয় যখন তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা যায় এবং এর মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায়। তাই, তাদের মতে, শিক্ষা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান নয়, বরং ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। জন ডিউই (John Dewey), যিনি প্রয়োগবাদী দর্শনের একজন প্রধান প্রবক্তা, শিক্ষার উদ্দেশ্যকে সামাজিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক জীবনযাপনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হিসেবে দেখেছেন। তিনি মনে করতেন যে শিক্ষা হল “জীবনযাপন” এবং “জীবনকে আরও ভালোভাবে যাপন করার প্রস্তুতি” (Dewey, Democracy and Education).
প্রয়োগবাদী দর্শনে, শিক্ষাকে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। এর অর্থ হল, শিক্ষা শুধুমাত্র ব্যক্তির ব্যক্তিগত উন্নতি নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক উন্নতিতেও অবদান রাখে। একজন ব্যক্তি যখন সমাজের জন্য বাঁচার শিক্ষা লাভ করে, তখন সে সমাজের চাহিদা, সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জগুলি সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সেগুলিকে মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও মনোভাব অর্জন করে। এই ধরনের শিক্ষা ব্যক্তিকে সমাজের একজন সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে।
শিক্ষার এই প্রয়োগবাদী ধারণাটি বিভিন্ন দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে:
সামাজিক উপযোগিতা: প্রয়োগবাদী শিক্ষা ব্যক্তির সামাজিক উপযোগিতার উপর জোর দেয়। এর অর্থ হল, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা ব্যক্তিকে সমাজের জন্য উপকারী করে তোলে। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সামাজিক কল্যাণকেও অন্তর্ভুক্ত করে। (Dewey, Experience and Education)
অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা: প্রয়োগবাদীরা বিশ্বাস করেন যে শিক্ষা অভিজ্ঞতা থেকে আসে। শিক্ষার্থীরা যখন বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলির সাথে জড়িত হয় এবং সেগুলির সমাধান করার চেষ্টা করে, তখন তারা প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করে। এই প্রক্রিয়া তাদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে। (Dewey, Experience and Education)
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: প্রয়োগবাদী শিক্ষা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের মতো গুণাবলী বিকাশে সহায়তা করে। এই গুণাবলী একটি সুস্থ ও কার্যকরী সমাজের জন্য অপরিহার্য। (Dewey, Democracy and Education)
পরিবর্তনশীলতা: প্রয়োগবাদীরা মনে করেন যে সমাজ এবং জ্ঞান উভয়ই পরিবর্তনশীল। তাই, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা শিক্ষার্থীদের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে এবং নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সক্ষম করে তোলে। এটি তাদের মধ্যে আজীবন শেখার আগ্রহ তৈরি করে। (Dewey, Democracy and Education)
সুতরাং, প্রয়োগবাদী দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত শিক্ষা হল এমন একটি প্রক্রিয়া যা ব্যক্তিকে সমাজের জন্য বাঁচতে, সমাজের সমস্যা সমাধানে অবদান রাখতে এবং সমাজের একজন সক্রিয় ও দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আত্মোন্নতি বা আত্মবিকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির ভূমিকা এবং অবদানকে গুরুত্ব দেয়।অতএব, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, “(b) সমাজের জন্য বাঁচার শিক্ষা” প্রয়োগবাদী দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত শিক্ষার ধারণার সাথে সবচেয়ে বেশি সঙ্গতিপূর্ণ।
Incorrectপ্রয়োগবাদী দর্শন (Pragmatism) অনুযায়ী প্রকৃত শিক্ষা হল এমন একটি প্রক্রিয়া যা ব্যক্তিকে সমাজের জন্য বাঁচতে এবং কার্যকরভাবে সমাজে অবদান রাখতে সক্ষম করে তোলে। এই দর্শন শিক্ষার উদ্দেশ্যকে শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জন বা আত্মবিকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে এবং সামাজিক উপযোগিতায় গুরুত্ব আরোপ করে।
প্রয়োগবাদীরা বিশ্বাস করেন যে জ্ঞান তখনই অর্থবহ হয় যখন তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা যায় এবং এর মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায়। তাই, তাদের মতে, শিক্ষা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান নয়, বরং ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। জন ডিউই (John Dewey), যিনি প্রয়োগবাদী দর্শনের একজন প্রধান প্রবক্তা, শিক্ষার উদ্দেশ্যকে সামাজিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক জীবনযাপনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হিসেবে দেখেছেন। তিনি মনে করতেন যে শিক্ষা হল “জীবনযাপন” এবং “জীবনকে আরও ভালোভাবে যাপন করার প্রস্তুতি” (Dewey, Democracy and Education).
প্রয়োগবাদী দর্শনে, শিক্ষাকে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। এর অর্থ হল, শিক্ষা শুধুমাত্র ব্যক্তির ব্যক্তিগত উন্নতি নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক উন্নতিতেও অবদান রাখে। একজন ব্যক্তি যখন সমাজের জন্য বাঁচার শিক্ষা লাভ করে, তখন সে সমাজের চাহিদা, সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জগুলি সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সেগুলিকে মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও মনোভাব অর্জন করে। এই ধরনের শিক্ষা ব্যক্তিকে সমাজের একজন সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে।
শিক্ষার এই প্রয়োগবাদী ধারণাটি বিভিন্ন দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে:
সামাজিক উপযোগিতা: প্রয়োগবাদী শিক্ষা ব্যক্তির সামাজিক উপযোগিতার উপর জোর দেয়। এর অর্থ হল, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা ব্যক্তিকে সমাজের জন্য উপকারী করে তোলে। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সামাজিক কল্যাণকেও অন্তর্ভুক্ত করে। (Dewey, Experience and Education)
অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা: প্রয়োগবাদীরা বিশ্বাস করেন যে শিক্ষা অভিজ্ঞতা থেকে আসে। শিক্ষার্থীরা যখন বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলির সাথে জড়িত হয় এবং সেগুলির সমাধান করার চেষ্টা করে, তখন তারা প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করে। এই প্রক্রিয়া তাদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে। (Dewey, Experience and Education)
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: প্রয়োগবাদী শিক্ষা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের মতো গুণাবলী বিকাশে সহায়তা করে। এই গুণাবলী একটি সুস্থ ও কার্যকরী সমাজের জন্য অপরিহার্য। (Dewey, Democracy and Education)
পরিবর্তনশীলতা: প্রয়োগবাদীরা মনে করেন যে সমাজ এবং জ্ঞান উভয়ই পরিবর্তনশীল। তাই, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা শিক্ষার্থীদের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে এবং নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সক্ষম করে তোলে। এটি তাদের মধ্যে আজীবন শেখার আগ্রহ তৈরি করে। (Dewey, Democracy and Education)
সুতরাং, প্রয়োগবাদী দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত শিক্ষা হল এমন একটি প্রক্রিয়া যা ব্যক্তিকে সমাজের জন্য বাঁচতে, সমাজের সমস্যা সমাধানে অবদান রাখতে এবং সমাজের একজন সক্রিয় ও দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আত্মোন্নতি বা আত্মবিকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির ভূমিকা এবং অবদানকে গুরুত্ব দেয়।অতএব, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, “(b) সমাজের জন্য বাঁচার শিক্ষা” প্রয়োগবাদী দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত শিক্ষার ধারণার সাথে সবচেয়ে বেশি সঙ্গতিপূর্ণ।
- Question 2 of 55
2. Question
1 points2. ফ্ৰয়বেলের শিক্ষণ পদ্ধতি কীসের উপর নির্ভরশীল?
Correctফ্ৰয়বেলের শিক্ষণ পদ্ধতি (Froebel’s educational method) মূলত শিশুর সামগ্রিক বিকাশের উপর নির্ভরশীল, যা তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা, সক্রিয়তা এবং খেলার মাধ্যমে শেখার ধারণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, (c) উপহার ও কৃত্যক ভিত্তিক শিশুর অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ (development of the child’s inherent abilities based on gifts and occupations) ফ্ৰয়বেলের শিক্ষণ পদ্ধতির মূল ভিত্তি এবং সবচেয়ে সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।
ফ্রেডরিখ ফ্ৰয়বেল (Friedrich Froebel), কিন্ডারগার্টেন (Kindergarten) ধারণার জনক হিসেবে পরিচিত, বিশ্বাস করতেন যে প্রতিটি শিশুর মধ্যে বিকাশের জন্য একটি অন্তর্নিহিত শক্তি বা ‘ঐশ্বরিক স্ফুলিঙ্গ’ (divine spark) বিদ্যমান। তাঁর শিক্ষণ পদ্ধতির লক্ষ্য ছিল এই অন্তর্নিহিত ক্ষমতাগুলিকে উন্মোচন ও বিকশিত করা, যাতে শিশু তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি প্রধান উপাদানের উপর নির্ভরশীল ছিল: ‘উপহার’ (Gifts) এবং ‘কৃত্যক’ (Occupations)।
উপহার (Gifts): ফ্ৰয়বেলের ‘উপহার’গুলি ছিল নির্দিষ্ট কিছু বস্তু, যা শিশুদের হাতেকলমে অভিজ্ঞতা এবং বিমূর্ত ধারণা বোঝার সুযোগ দিত। এগুলি ছিল সুপরিকল্পিত এবং ক্রমবিন্যাসিত, যা সহজ থেকে জটিল ধারণার দিকে শিশুদের পরিচালিত করত। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম উপহার ছিল একটি নরম বল, যা শিশুদের রং, আকার এবং গতির প্রাথমিক ধারণা দিত। পরবর্তী উপহারগুলিতে কাঠ বা অন্যান্য উপাদানের তৈরি ব্লক, সিলিন্ডার, গোলক ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা শিশুদের জ্যামিতিক আকার, সংখ্যা এবং স্থানিক সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণা দিত। এই উপহারগুলির মাধ্যমে শিশুরা পর্যবেক্ষণ, তুলনা, শ্রেণীকরণ এবং বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অর্জন করত। ( A History of Education ) ফ্ৰয়বেল বিশ্বাস করতেন যে এই উপহারগুলি শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে। এগুলি কেবল খেলার উপকরণ ছিল না, বরং এগুলি ছিল শেখার জন্য সুনির্দিষ্ট সরঞ্জাম, যা শিশুদের মনকে সক্রিয়ভাবে নিযুক্ত করত এবং তাদের চারপাশের বিশ্বকে বুঝতে সাহায্য করত। ( The Encyclopedia of Education )
কৃত্যক (Occupations): ‘কৃত্যক’গুলি ছিল শিশুদের জন্য হাতেকলমে কাজ বা কার্যকলাপ, যা তাদের সৃজনশীলতা এবং ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করত। এগুলি ছিল মূলত গঠনমূলক এবং উৎপাদনশীল কাজ, যেমন – বুনন (weaving), সেলাই (sewing), কাগজ ভাঁজ করা (paper folding), মাটি বা কাদা দিয়ে মডেল তৈরি করা (modeling with clay), বাগান করা (gardening) ইত্যাদি। ( Froebel’s Gifts and Occupations ) এই কৃত্যকগুলির মাধ্যমে শিশুরা তাদের ধারণাগুলিকে বাস্তব রূপ দিতে পারত এবং তাদের চারপাশের পরিবেশের সাথে সক্রিয়ভাবে মিথস্ক্রিয়া করতে পারত। ফ্ৰয়বেল মনে করতেন যে এই ধরনের কার্যকলাপ শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ধৈর্য, একাগ্রতা এবং সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতা (fine motor skills) বিকাশে সহায়ক। ( The Oxford Companion to the Mind ) কৃত্যকগুলি শিশুদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ দিত এবং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করত। এগুলি শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দদায়ক এবং অর্থপূর্ণ করে তুলত, কারণ তারা তাদের নিজস্ব সৃষ্টি দেখতে পেত এবং তাদের প্রচেষ্টার ফল অনুভব করতে পারত।
শিশুর অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ: ফ্ৰয়বেলের সমগ্র শিক্ষণ পদ্ধতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিশুর অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে প্রতিটি শিশুর মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা এবং সম্ভাবনা রয়েছে, যা সঠিক পরিবেশ এবং নির্দেশনার মাধ্যমে বিকশিত হতে পারে। তাঁর পদ্ধতি শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত খেলা, অন্বেষণ এবং আবিষ্কারের মাধ্যমে শিখতে উৎসাহিত করত। ( The Child and the Curriculum ) ফ্ৰয়বেল মনে করতেন যে শিক্ষা একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা শিশুর নিজস্ব গতিতে এবং তার নিজস্ব আগ্রহ অনুযায়ী হওয়া উচিত। তিনি শিক্ষককে একজন সহায়ক বা পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখতেন, যিনি শিশুর বিকাশে সহায়তা করেন, কিন্তু তার উপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না। এই পদ্ধতি শিশুদের মধ্যে কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং স্বাধীন চিন্তাভাবনার জন্ম দিত, যা তাদের আজীবন শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করত।
অন্যান্য বিকল্পগুলির বিশ্লেষণ:
(A) শিশুর ক্ষমতার উপর (on the child’s abilities): যদিও ফ্ৰয়বেলের পদ্ধতি শিশুর ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল, তবে এটি (c) বিকল্পের মতো সুনির্দিষ্ট নয়। (c) বিকল্পটি ‘উপহার ও কৃত্যক ভিত্তিক’ এবং ‘অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ’ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, যা ফ্ৰয়বেলের পদ্ধতির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র দেয়।
(b) শিশুর সক্রিয়তার উপর (on the child’s activity): ফ্ৰয়বেল শিশুর সক্রিয়তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। তাঁর পদ্ধতি সক্রিয় শেখার উপর জোর দেয়, যেখানে শিশুরা কেবল নিষ্ক্রিয়ভাবে তথ্য গ্রহণ করে না, বরং হাতেকলমে কাজ করে এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করে। তবে, এই সক্রিয়তা ‘উপহার ও কৃত্যক’ এর মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হল ‘অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ’। তাই, এটিও (c) বিকল্পের একটি অংশ মাত্র, সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা নয়।
(D) ডাইডাক্টিভ মেকানিজম-এর উপর (on didactic mechanism): ‘ডাইডাক্টিভ মেকানিজম’ বলতে সাধারণত শিক্ষকের প্রত্যক্ষ নির্দেশনার মাধ্যমে শেখানোকে বোঝায়। ফ্ৰয়বেলের পদ্ধতি এর বিপরীত, কারণ তিনি শিশুর স্বতঃস্ফূর্ততা এবং খেলার মাধ্যমে শেখার উপর জোর দিতেন। যদিও তাঁর ‘উপহার’গুলি একটি নির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করত, তবে এর উদ্দেশ্য ছিল শিশুর নিজস্ব আবিষ্কারকে উৎসাহিত করা, প্রত্যক্ষ নির্দেশ দেওয়া নয়। তাই, এই বিকল্পটি ফ্ৰয়বেলের পদ্ধতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
উপসংহারে বলা যায়, ফ্ৰয়বেলের শিক্ষণ পদ্ধতি মূলত উপহার ও কৃত্যকের মাধ্যমে শিশুর অন্তর্নিহিত ক্ষমতা, সৃজনশীলতা এবং সামগ্রিক বিকাশের উপর নির্ভরশীল। এটি শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণ, খেলা এবং হাতেকলমে শেখার উপর জোর দেয়, যা তাকে তার নিজস্ব গতিতে শিখতে এবং তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে সাহায্য করে।Incorrectফ্ৰয়বেলের শিক্ষণ পদ্ধতি (Froebel’s educational method) মূলত শিশুর সামগ্রিক বিকাশের উপর নির্ভরশীল, যা তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা, সক্রিয়তা এবং খেলার মাধ্যমে শেখার ধারণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, (c) উপহার ও কৃত্যক ভিত্তিক শিশুর অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ (development of the child’s inherent abilities based on gifts and occupations) ফ্ৰয়বেলের শিক্ষণ পদ্ধতির মূল ভিত্তি এবং সবচেয়ে সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।
ফ্রেডরিখ ফ্ৰয়বেল (Friedrich Froebel), কিন্ডারগার্টেন (Kindergarten) ধারণার জনক হিসেবে পরিচিত, বিশ্বাস করতেন যে প্রতিটি শিশুর মধ্যে বিকাশের জন্য একটি অন্তর্নিহিত শক্তি বা ‘ঐশ্বরিক স্ফুলিঙ্গ’ (divine spark) বিদ্যমান। তাঁর শিক্ষণ পদ্ধতির লক্ষ্য ছিল এই অন্তর্নিহিত ক্ষমতাগুলিকে উন্মোচন ও বিকশিত করা, যাতে শিশু তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি প্রধান উপাদানের উপর নির্ভরশীল ছিল: ‘উপহার’ (Gifts) এবং ‘কৃত্যক’ (Occupations)।
উপহার (Gifts): ফ্ৰয়বেলের ‘উপহার’গুলি ছিল নির্দিষ্ট কিছু বস্তু, যা শিশুদের হাতেকলমে অভিজ্ঞতা এবং বিমূর্ত ধারণা বোঝার সুযোগ দিত। এগুলি ছিল সুপরিকল্পিত এবং ক্রমবিন্যাসিত, যা সহজ থেকে জটিল ধারণার দিকে শিশুদের পরিচালিত করত। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম উপহার ছিল একটি নরম বল, যা শিশুদের রং, আকার এবং গতির প্রাথমিক ধারণা দিত। পরবর্তী উপহারগুলিতে কাঠ বা অন্যান্য উপাদানের তৈরি ব্লক, সিলিন্ডার, গোলক ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা শিশুদের জ্যামিতিক আকার, সংখ্যা এবং স্থানিক সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণা দিত। এই উপহারগুলির মাধ্যমে শিশুরা পর্যবেক্ষণ, তুলনা, শ্রেণীকরণ এবং বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অর্জন করত। ( A History of Education ) ফ্ৰয়বেল বিশ্বাস করতেন যে এই উপহারগুলি শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে। এগুলি কেবল খেলার উপকরণ ছিল না, বরং এগুলি ছিল শেখার জন্য সুনির্দিষ্ট সরঞ্জাম, যা শিশুদের মনকে সক্রিয়ভাবে নিযুক্ত করত এবং তাদের চারপাশের বিশ্বকে বুঝতে সাহায্য করত। ( The Encyclopedia of Education )
কৃত্যক (Occupations): ‘কৃত্যক’গুলি ছিল শিশুদের জন্য হাতেকলমে কাজ বা কার্যকলাপ, যা তাদের সৃজনশীলতা এবং ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করত। এগুলি ছিল মূলত গঠনমূলক এবং উৎপাদনশীল কাজ, যেমন – বুনন (weaving), সেলাই (sewing), কাগজ ভাঁজ করা (paper folding), মাটি বা কাদা দিয়ে মডেল তৈরি করা (modeling with clay), বাগান করা (gardening) ইত্যাদি। ( Froebel’s Gifts and Occupations ) এই কৃত্যকগুলির মাধ্যমে শিশুরা তাদের ধারণাগুলিকে বাস্তব রূপ দিতে পারত এবং তাদের চারপাশের পরিবেশের সাথে সক্রিয়ভাবে মিথস্ক্রিয়া করতে পারত। ফ্ৰয়বেল মনে করতেন যে এই ধরনের কার্যকলাপ শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ধৈর্য, একাগ্রতা এবং সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতা (fine motor skills) বিকাশে সহায়ক। ( The Oxford Companion to the Mind ) কৃত্যকগুলি শিশুদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ দিত এবং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করত। এগুলি শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দদায়ক এবং অর্থপূর্ণ করে তুলত, কারণ তারা তাদের নিজস্ব সৃষ্টি দেখতে পেত এবং তাদের প্রচেষ্টার ফল অনুভব করতে পারত।
শিশুর অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ: ফ্ৰয়বেলের সমগ্র শিক্ষণ পদ্ধতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিশুর অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে প্রতিটি শিশুর মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা এবং সম্ভাবনা রয়েছে, যা সঠিক পরিবেশ এবং নির্দেশনার মাধ্যমে বিকশিত হতে পারে। তাঁর পদ্ধতি শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত খেলা, অন্বেষণ এবং আবিষ্কারের মাধ্যমে শিখতে উৎসাহিত করত। ( The Child and the Curriculum ) ফ্ৰয়বেল মনে করতেন যে শিক্ষা একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা শিশুর নিজস্ব গতিতে এবং তার নিজস্ব আগ্রহ অনুযায়ী হওয়া উচিত। তিনি শিক্ষককে একজন সহায়ক বা পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখতেন, যিনি শিশুর বিকাশে সহায়তা করেন, কিন্তু তার উপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না। এই পদ্ধতি শিশুদের মধ্যে কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং স্বাধীন চিন্তাভাবনার জন্ম দিত, যা তাদের আজীবন শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করত।
অন্যান্য বিকল্পগুলির বিশ্লেষণ:
(A) শিশুর ক্ষমতার উপর (on the child’s abilities): যদিও ফ্ৰয়বেলের পদ্ধতি শিশুর ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল, তবে এটি (c) বিকল্পের মতো সুনির্দিষ্ট নয়। (c) বিকল্পটি ‘উপহার ও কৃত্যক ভিত্তিক’ এবং ‘অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ’ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, যা ফ্ৰয়বেলের পদ্ধতির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র দেয়।
(b) শিশুর সক্রিয়তার উপর (on the child’s activity): ফ্ৰয়বেল শিশুর সক্রিয়তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। তাঁর পদ্ধতি সক্রিয় শেখার উপর জোর দেয়, যেখানে শিশুরা কেবল নিষ্ক্রিয়ভাবে তথ্য গ্রহণ করে না, বরং হাতেকলমে কাজ করে এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করে। তবে, এই সক্রিয়তা ‘উপহার ও কৃত্যক’ এর মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হল ‘অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ’। তাই, এটিও (c) বিকল্পের একটি অংশ মাত্র, সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা নয়।
(D) ডাইডাক্টিভ মেকানিজম-এর উপর (on didactic mechanism): ‘ডাইডাক্টিভ মেকানিজম’ বলতে সাধারণত শিক্ষকের প্রত্যক্ষ নির্দেশনার মাধ্যমে শেখানোকে বোঝায়। ফ্ৰয়বেলের পদ্ধতি এর বিপরীত, কারণ তিনি শিশুর স্বতঃস্ফূর্ততা এবং খেলার মাধ্যমে শেখার উপর জোর দিতেন। যদিও তাঁর ‘উপহার’গুলি একটি নির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করত, তবে এর উদ্দেশ্য ছিল শিশুর নিজস্ব আবিষ্কারকে উৎসাহিত করা, প্রত্যক্ষ নির্দেশ দেওয়া নয়। তাই, এই বিকল্পটি ফ্ৰয়বেলের পদ্ধতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
উপসংহারে বলা যায়, ফ্ৰয়বেলের শিক্ষণ পদ্ধতি মূলত উপহার ও কৃত্যকের মাধ্যমে শিশুর অন্তর্নিহিত ক্ষমতা, সৃজনশীলতা এবং সামগ্রিক বিকাশের উপর নির্ভরশীল। এটি শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণ, খেলা এবং হাতেকলমে শেখার উপর জোর দেয়, যা তাকে তার নিজস্ব গতিতে শিখতে এবং তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে সাহায্য করে। - Question 3 of 55
3. Question
1 points3. আধুনিক পাঠক্রমের সংজ্ঞায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব কোনটির?
Correctআধুনিক পাঠক্রমের সংজ্ঞায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় (C) শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা-কে। যদিও পাঠ্য বিষয় নির্বাচন, পাঠ্য বিষয়ের বিন্যাস এবং শিক্ষার্থীর নৈতিক বিকাশ—এই সবগুলোই পাঠক্রমের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তবে আধুনিক শিক্ষাতত্ত্ব শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষণের উপর সর্বাধিক জোর দেয়।
পাঠক্রমের বিবর্তন ও আধুনিক ধারণা
ঐতিহ্যগতভাবে, পাঠক্রমকে কেবল কিছু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর সমষ্টি হিসেবে দেখা হত যা শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে। এই ধারণায়, শিক্ষক ছিলেন জ্ঞানের একমাত্র উৎস এবং শিক্ষার্থী ছিল নিষ্ক্রিয় প্রাপক। তবে, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে শিক্ষাবিদ ও মনোবিজ্ঞানীরা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেন। জন ডিউই (John Dewey) এর মতো প্রগতিশীল শিক্ষাবিদগণ (Progressive Educators) শিক্ষাকে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক লার্নিং (Experiential Learning) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন। তাঁদের মতে, শিক্ষা কেবল তথ্য মুখস্থ করা নয়, বরং সমস্যা সমাধান, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা। (Dewey, John. Democracy and Education: An Introduction to the Philosophy of Education.)আধুনিক পাঠক্রমের সংজ্ঞায়, পাঠক্রমকে একটি গতিশীল প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয় যা শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশকে উৎসাহিত করে। এটি কেবল ‘কী শেখানো হবে’ তা নয়, বরং ‘কীভাবে শেখানো হবে’ এবং ‘শিক্ষার্থী কীভাবে শিখবে’ তার উপরও গুরুত্ব দেয়। (Ornstein, Allan C., and Francis P. Hunkins. Curriculum: Foundations, Principles, and Issues.)
শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা (Learner Activity)
শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা বলতে বোঝায় শিক্ষণ-শেখানো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ। এটি কেবল শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত থাকা বা শিক্ষকের কথা শোনা নয়, বরং প্রশ্ন করা, আলোচনা করা, প্রকল্প তৈরি করা, সমস্যা সমাধান করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা। আধুনিক শিক্ষাতত্ত্ব অনুযায়ী, শিক্ষার্থী যখন সক্রিয়ভাবে শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে, তখন তাদের শেখা আরও গভীর এবং অর্থপূর্ণ হয়। তারা কেবল তথ্য গ্রহণ করে না, বরং জ্ঞান নির্মাণ করে। (Bruner, Jerome S. The Process of Education.)শিক্ষার্থীর সক্রিয়তার গুরুত্বের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে:
অর্থপূর্ণ শিখন (Meaningful Learning): যখন শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, তখন তারা বিষয়বস্তুকে নিজেদের অভিজ্ঞতার সাথে সংযুক্ত করতে পারে, যা শিখনকে আরও অর্থপূর্ণ করে তোলে।
সমস্যা সমাধান দক্ষতা (Problem-Solving Skills): সক্রিয় শিক্ষণ শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে।
সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা (Critical Thinking): প্রশ্ন করা, বিশ্লেষণ করা এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়বস্তু বিবেচনা করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে।
স্ব-নির্ভরশীলতা (Self-Reliance): সক্রিয় শিক্ষণ শিক্ষার্থীদের নিজেদের শেখার দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করে, যা তাদের স্ব-নির্ভরশীল করে তোলে।
সৃজনশীলতা (Creativity): প্রকল্পভিত্তিক কাজ এবং মুক্ত আলোচনা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা করে।
সামাজিক দক্ষতা (Social Skills): দলগত কাজ এবং আলোচনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা, যোগাযোগ এবং নেতৃত্ব গুণের বিকাশ ঘটায়।
অন্যান্য বিকল্পের গুরুত্ব
যদিও শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, তবে অন্যান্য বিকল্পগুলিও আধুনিক পাঠক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ:(A) পাঠ্য বিষয় নির্বাচন (Selection of Subject Matter)
পাঠ্য বিষয় নির্বাচন আধুনিক পাঠক্রমের একটি মৌলিক দিক। এটি নির্ধারণ করে যে শিক্ষার্থীদের কী শেখানো হবে। আধুনিক পাঠক্রমের ক্ষেত্রে, পাঠ্য বিষয় নির্বাচন করার সময় শিক্ষার্থীর বয়স, আগ্রহ, পূর্বজ্ঞান এবং সমাজের চাহিদা বিবেচনা করা হয়। এটি কেবল ঐতিহ্যবাহী বিষয়বস্তু নয়, বরং আন্তঃবিষয়ক (interdisciplinary) এবং বাস্তব জীবন-ভিত্তিক বিষয়বস্তুর উপরও জোর দেয়। (Taba, Hilda. Curriculum Development: Theory and Practice.)(B) পাঠ্য বিষয়ের বিন্যাস (Organization of Subject Matter)
পাঠ্য বিষয়ের বিন্যাস বলতে বোঝায় কীভাবে নির্বাচিত বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। এটি একটি যৌক্তিক এবং মনস্তাত্ত্বিক ক্রম অনুসরণ করে। আধুনিক পাঠক্রমের বিন্যাসে, বিষয়বস্তুকে এমনভাবে সাজানো হয় যাতে শিক্ষার্থীরা সহজ থেকে কঠিনের দিকে, পরিচিত থেকে অপরিচিতের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এটি কেবল বিষয়বস্তুর অনুক্রম নয়, বরং শিক্ষণ-শেখানো পদ্ধতির বিন্যাসকেও বোঝায়। (Tyler, Ralph W. Basic Principles of Curriculum and Instruction.)(D) শিক্ষার্থীর নৈতিক বিকাশ (Moral Development of the Learner)
শিক্ষার্থীর নৈতিক বিকাশ আধুনিক পাঠক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জন নয়, বরং একজন ভালো নাগরিক এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলা। আধুনিক পাঠক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধ, সহানুভূতি, ন্যায়পরায়ণতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ বিকাশে সহায়তা করে। এটি কেবল শ্রেণীকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিদ্যালয়ের পরিবেশ এবং সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমের (co-curricular activities) মাধ্যমেও নৈতিক বিকাশকে উৎসাহিত করে। (Kohlberg, Lawrence. The Philosophy of Moral Development: Moral Stages and the Idea of Justice.)উপসংহার
উপসংহারে বলা যায়, আধুনিক পাঠক্রমের সংজ্ঞায় শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় কারণ এটি অর্থপূর্ণ শিখন, দক্ষতা বিকাশ এবং সামগ্রিক বিকাশের মূল চাবিকাঠি। অন্যান্য উপাদানগুলিও গুরুত্বপূর্ণ, তবে শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি কার্যকর এবং ফলপ্রসূ শিক্ষণ-শেখানো প্রক্রিয়া সম্ভব নয়। আধুনিক পাঠক্রম শিক্ষার্থীর কেন্দ্রিক (learner-centered) এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক (experiential) শিক্ষণের উপর জোর দেয়, যেখানে শিক্ষার্থী কেবল জ্ঞান গ্রহণকারী নয়, বরং জ্ঞান নির্মাতা।Incorrectআধুনিক পাঠক্রমের সংজ্ঞায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় (C) শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা-কে। যদিও পাঠ্য বিষয় নির্বাচন, পাঠ্য বিষয়ের বিন্যাস এবং শিক্ষার্থীর নৈতিক বিকাশ—এই সবগুলোই পাঠক্রমের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তবে আধুনিক শিক্ষাতত্ত্ব শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষণের উপর সর্বাধিক জোর দেয়।
পাঠক্রমের বিবর্তন ও আধুনিক ধারণা
ঐতিহ্যগতভাবে, পাঠক্রমকে কেবল কিছু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর সমষ্টি হিসেবে দেখা হত যা শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে। এই ধারণায়, শিক্ষক ছিলেন জ্ঞানের একমাত্র উৎস এবং শিক্ষার্থী ছিল নিষ্ক্রিয় প্রাপক। তবে, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে শিক্ষাবিদ ও মনোবিজ্ঞানীরা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেন। জন ডিউই (John Dewey) এর মতো প্রগতিশীল শিক্ষাবিদগণ (Progressive Educators) শিক্ষাকে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক লার্নিং (Experiential Learning) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন। তাঁদের মতে, শিক্ষা কেবল তথ্য মুখস্থ করা নয়, বরং সমস্যা সমাধান, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা। (Dewey, John. Democracy and Education: An Introduction to the Philosophy of Education.)আধুনিক পাঠক্রমের সংজ্ঞায়, পাঠক্রমকে একটি গতিশীল প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয় যা শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশকে উৎসাহিত করে। এটি কেবল ‘কী শেখানো হবে’ তা নয়, বরং ‘কীভাবে শেখানো হবে’ এবং ‘শিক্ষার্থী কীভাবে শিখবে’ তার উপরও গুরুত্ব দেয়। (Ornstein, Allan C., and Francis P. Hunkins. Curriculum: Foundations, Principles, and Issues.)
শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা (Learner Activity)
শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা বলতে বোঝায় শিক্ষণ-শেখানো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ। এটি কেবল শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত থাকা বা শিক্ষকের কথা শোনা নয়, বরং প্রশ্ন করা, আলোচনা করা, প্রকল্প তৈরি করা, সমস্যা সমাধান করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা। আধুনিক শিক্ষাতত্ত্ব অনুযায়ী, শিক্ষার্থী যখন সক্রিয়ভাবে শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে, তখন তাদের শেখা আরও গভীর এবং অর্থপূর্ণ হয়। তারা কেবল তথ্য গ্রহণ করে না, বরং জ্ঞান নির্মাণ করে। (Bruner, Jerome S. The Process of Education.)শিক্ষার্থীর সক্রিয়তার গুরুত্বের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে:
অর্থপূর্ণ শিখন (Meaningful Learning): যখন শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, তখন তারা বিষয়বস্তুকে নিজেদের অভিজ্ঞতার সাথে সংযুক্ত করতে পারে, যা শিখনকে আরও অর্থপূর্ণ করে তোলে।
সমস্যা সমাধান দক্ষতা (Problem-Solving Skills): সক্রিয় শিক্ষণ শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে।
সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা (Critical Thinking): প্রশ্ন করা, বিশ্লেষণ করা এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়বস্তু বিবেচনা করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে।
স্ব-নির্ভরশীলতা (Self-Reliance): সক্রিয় শিক্ষণ শিক্ষার্থীদের নিজেদের শেখার দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করে, যা তাদের স্ব-নির্ভরশীল করে তোলে।
সৃজনশীলতা (Creativity): প্রকল্পভিত্তিক কাজ এবং মুক্ত আলোচনা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা করে।
সামাজিক দক্ষতা (Social Skills): দলগত কাজ এবং আলোচনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা, যোগাযোগ এবং নেতৃত্ব গুণের বিকাশ ঘটায়।
অন্যান্য বিকল্পের গুরুত্ব
যদিও শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, তবে অন্যান্য বিকল্পগুলিও আধুনিক পাঠক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ:(A) পাঠ্য বিষয় নির্বাচন (Selection of Subject Matter)
পাঠ্য বিষয় নির্বাচন আধুনিক পাঠক্রমের একটি মৌলিক দিক। এটি নির্ধারণ করে যে শিক্ষার্থীদের কী শেখানো হবে। আধুনিক পাঠক্রমের ক্ষেত্রে, পাঠ্য বিষয় নির্বাচন করার সময় শিক্ষার্থীর বয়স, আগ্রহ, পূর্বজ্ঞান এবং সমাজের চাহিদা বিবেচনা করা হয়। এটি কেবল ঐতিহ্যবাহী বিষয়বস্তু নয়, বরং আন্তঃবিষয়ক (interdisciplinary) এবং বাস্তব জীবন-ভিত্তিক বিষয়বস্তুর উপরও জোর দেয়। (Taba, Hilda. Curriculum Development: Theory and Practice.)(B) পাঠ্য বিষয়ের বিন্যাস (Organization of Subject Matter)
পাঠ্য বিষয়ের বিন্যাস বলতে বোঝায় কীভাবে নির্বাচিত বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। এটি একটি যৌক্তিক এবং মনস্তাত্ত্বিক ক্রম অনুসরণ করে। আধুনিক পাঠক্রমের বিন্যাসে, বিষয়বস্তুকে এমনভাবে সাজানো হয় যাতে শিক্ষার্থীরা সহজ থেকে কঠিনের দিকে, পরিচিত থেকে অপরিচিতের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এটি কেবল বিষয়বস্তুর অনুক্রম নয়, বরং শিক্ষণ-শেখানো পদ্ধতির বিন্যাসকেও বোঝায়। (Tyler, Ralph W. Basic Principles of Curriculum and Instruction.)(D) শিক্ষার্থীর নৈতিক বিকাশ (Moral Development of the Learner)
শিক্ষার্থীর নৈতিক বিকাশ আধুনিক পাঠক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জন নয়, বরং একজন ভালো নাগরিক এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলা। আধুনিক পাঠক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধ, সহানুভূতি, ন্যায়পরায়ণতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ বিকাশে সহায়তা করে। এটি কেবল শ্রেণীকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিদ্যালয়ের পরিবেশ এবং সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমের (co-curricular activities) মাধ্যমেও নৈতিক বিকাশকে উৎসাহিত করে। (Kohlberg, Lawrence. The Philosophy of Moral Development: Moral Stages and the Idea of Justice.)উপসংহার
উপসংহারে বলা যায়, আধুনিক পাঠক্রমের সংজ্ঞায় শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় কারণ এটি অর্থপূর্ণ শিখন, দক্ষতা বিকাশ এবং সামগ্রিক বিকাশের মূল চাবিকাঠি। অন্যান্য উপাদানগুলিও গুরুত্বপূর্ণ, তবে শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি কার্যকর এবং ফলপ্রসূ শিক্ষণ-শেখানো প্রক্রিয়া সম্ভব নয়। আধুনিক পাঠক্রম শিক্ষার্থীর কেন্দ্রিক (learner-centered) এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক (experiential) শিক্ষণের উপর জোর দেয়, যেখানে শিক্ষার্থী কেবল জ্ঞান গ্রহণকারী নয়, বরং জ্ঞান নির্মাতা। - Question 4 of 55
4. Question
1 points4. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনটি আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশের সর্বাধিক সহায়ক?
Correctশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশের সর্বাধিক সহায়ক
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশের ক্ষেত্রে চারটি বিকল্পের মধ্যে কোনটি সর্বাধিক সহায়ক, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা যেখানে শিক্ষার্থীরা বাহ্যিক চাপ বা তত্ত্বাবধান ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়মকানুন মেনে চলে এবং নিজেদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা এবং স্ব-নির্ভরতার জন্ম দেয়।বিকল্পসমূহের বিশ্লেষণ
(A) নিয়মনীতির সঠিক প্রণয়ন
নিয়মনীতির সঠিক প্রণয়ন আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুনির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এবং যৌক্তিক নিয়মকানুন শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। যখন নিয়মগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বোধগম্য এবং তাদের কল্যাণের জন্য প্রণীত বলে প্রতীয়মান হয়, তখন তারা সেগুলো মেনে চলতে উৎসাহিত হয়। তবে, শুধুমাত্র নিয়ম প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। নিয়মগুলো কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা সেগুলোর প্রতি কতটা দায়বদ্ধ, তার ওপরও আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা নির্ভর করে ( The Encyclopedia of Education ). যদি নিয়মগুলো একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তবে তা বাহ্যিক শৃংখলা তৈরি করতে পারে, কিন্তু আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা নয়।(B) পূর্ণ স্বাধীনতা দান
পূর্ণ স্বাধীনতা দান আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশের জন্য অনুকূল নয়। যদিও স্বাধীনতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা এবং স্ব-উদ্যোগের জন্ম দেয়, তবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীনতা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, অপরিণত বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কাঠামো এবং দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। শিক্ষাবিদরা মনে করেন যে, স্বাধীনতা এবং কাঠামোর মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকা উচিত ( A Dictionary of Education ). সম্পূর্ণ স্বাধীনতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধের অভাব এবং স্বেচ্ছাচারিতা তৈরি করতে পারে, যা আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলার পরিপন্থী।(C) কঠোর শৃংখলা বজায় রাখা
কঠোর শৃংখলা বজায় রাখা সাধারণত বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ এবং ভয়ের ওপর নির্ভরশীল। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক বাধ্যতা তৈরি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশে সহায়ক নয়। কঠোরতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি, উদ্বেগ এবং বিদ্রোহের জন্ম দিতে পারে। তারা নিয়ম মানতে পারে শাস্তির ভয়ে, কিন্তু স্বতঃস্ফূর্তভাবে নয়। এই ধরনের শৃংখলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্ব-নিয়ন্ত্রণ বা নৈতিকতার বোধ তৈরি করে না ( The Oxford Companion to Education ). বরং, এটি তাদের মধ্যে নিয়মের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারে এবং সুযোগ পেলেই নিয়ম ভাঙার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।(D) নিয়ম প্রণয়নে সকলের অংশগ্রহণ
নিয়ম প্রণয়নে সকলের অংশগ্রহণ আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশের সর্বাধিক সহায়ক। যখন শিক্ষার্থীরা, শিক্ষক এবং অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলে নিয়ম প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, তখন নিয়মগুলো তাদের কাছে নিজেদের তৈরি করা নিয়ম বলে মনে হয়। এর ফলে, তারা নিয়মগুলোর প্রতি অধিকতর দায়বদ্ধতা অনুভব করে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেগুলো মেনে চলে। এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্ম দেয় ( Education: A Comprehensive Encyclopedia ). যখন শিক্ষার্থীরা অনুভব করে যে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের কল্যাণের জন্যই নিয়মগুলো তৈরি হচ্ছে, তখন তারা সেগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং নিজেদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট হয়। এটি কেবল বাহ্যিক বাধ্যতা নয়, বরং অভ্যন্তরীণ প্রেরণা থেকে শৃংখলা তৈরি করে।উদাহরণস্বরূপ, একটি বিদ্যালয়ে যদি শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাসরুমের নিয়মাবলী তৈরিতে অংশ নেয়, তবে তারা সেই নিয়মগুলো মেনে চলার জন্য অধিকতর আগ্রহী হবে। তারা অনুভব করবে যে এই নিয়মগুলো তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত এবং তাদের নিজেদের পরিবেশের জন্য উপকারী। এই অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মালিকানাবোধ তৈরি করে, যা আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলার মূল ভিত্তি।
উপসংহার
উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশের জন্য (D) নিয়ম প্রণয়নে সকলের অংশগ্রহণ সর্বাধিক সহায়ক। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, স্ব-নিয়ন্ত্রণ এবং নৈতিকতার বোধ তৈরি করে, যা দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই শৃংখলার জন্য অপরিহার্য। যদিও নিয়মনীতির সঠিক প্রণয়ন একটি ভিত্তি তৈরি করে এবং পূর্ণ স্বাধীনতা বা কঠোর শৃংখলা পরিহার করা উচিত, তবে নিয়ম প্রণয়নে সকলের অংশগ্রহণই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলার বীজ বপন করে।Incorrectশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশের সর্বাধিক সহায়ক
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশের ক্ষেত্রে চারটি বিকল্পের মধ্যে কোনটি সর্বাধিক সহায়ক, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা যেখানে শিক্ষার্থীরা বাহ্যিক চাপ বা তত্ত্বাবধান ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়মকানুন মেনে চলে এবং নিজেদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা এবং স্ব-নির্ভরতার জন্ম দেয়।বিকল্পসমূহের বিশ্লেষণ
(A) নিয়মনীতির সঠিক প্রণয়ন
নিয়মনীতির সঠিক প্রণয়ন আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুনির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এবং যৌক্তিক নিয়মকানুন শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। যখন নিয়মগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বোধগম্য এবং তাদের কল্যাণের জন্য প্রণীত বলে প্রতীয়মান হয়, তখন তারা সেগুলো মেনে চলতে উৎসাহিত হয়। তবে, শুধুমাত্র নিয়ম প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। নিয়মগুলো কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা সেগুলোর প্রতি কতটা দায়বদ্ধ, তার ওপরও আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা নির্ভর করে ( The Encyclopedia of Education ). যদি নিয়মগুলো একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তবে তা বাহ্যিক শৃংখলা তৈরি করতে পারে, কিন্তু আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা নয়।(B) পূর্ণ স্বাধীনতা দান
পূর্ণ স্বাধীনতা দান আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশের জন্য অনুকূল নয়। যদিও স্বাধীনতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা এবং স্ব-উদ্যোগের জন্ম দেয়, তবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীনতা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, অপরিণত বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কাঠামো এবং দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। শিক্ষাবিদরা মনে করেন যে, স্বাধীনতা এবং কাঠামোর মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকা উচিত ( A Dictionary of Education ). সম্পূর্ণ স্বাধীনতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধের অভাব এবং স্বেচ্ছাচারিতা তৈরি করতে পারে, যা আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলার পরিপন্থী।(C) কঠোর শৃংখলা বজায় রাখা
কঠোর শৃংখলা বজায় রাখা সাধারণত বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ এবং ভয়ের ওপর নির্ভরশীল। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক বাধ্যতা তৈরি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশে সহায়ক নয়। কঠোরতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি, উদ্বেগ এবং বিদ্রোহের জন্ম দিতে পারে। তারা নিয়ম মানতে পারে শাস্তির ভয়ে, কিন্তু স্বতঃস্ফূর্তভাবে নয়। এই ধরনের শৃংখলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্ব-নিয়ন্ত্রণ বা নৈতিকতার বোধ তৈরি করে না ( The Oxford Companion to Education ). বরং, এটি তাদের মধ্যে নিয়মের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারে এবং সুযোগ পেলেই নিয়ম ভাঙার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।(D) নিয়ম প্রণয়নে সকলের অংশগ্রহণ
নিয়ম প্রণয়নে সকলের অংশগ্রহণ আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশের সর্বাধিক সহায়ক। যখন শিক্ষার্থীরা, শিক্ষক এবং অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলে নিয়ম প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, তখন নিয়মগুলো তাদের কাছে নিজেদের তৈরি করা নিয়ম বলে মনে হয়। এর ফলে, তারা নিয়মগুলোর প্রতি অধিকতর দায়বদ্ধতা অনুভব করে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেগুলো মেনে চলে। এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্ম দেয় ( Education: A Comprehensive Encyclopedia ). যখন শিক্ষার্থীরা অনুভব করে যে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের কল্যাণের জন্যই নিয়মগুলো তৈরি হচ্ছে, তখন তারা সেগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং নিজেদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট হয়। এটি কেবল বাহ্যিক বাধ্যতা নয়, বরং অভ্যন্তরীণ প্রেরণা থেকে শৃংখলা তৈরি করে।উদাহরণস্বরূপ, একটি বিদ্যালয়ে যদি শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাসরুমের নিয়মাবলী তৈরিতে অংশ নেয়, তবে তারা সেই নিয়মগুলো মেনে চলার জন্য অধিকতর আগ্রহী হবে। তারা অনুভব করবে যে এই নিয়মগুলো তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত এবং তাদের নিজেদের পরিবেশের জন্য উপকারী। এই অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মালিকানাবোধ তৈরি করে, যা আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলার মূল ভিত্তি।
উপসংহার
উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলা বিকাশের জন্য (D) নিয়ম প্রণয়নে সকলের অংশগ্রহণ সর্বাধিক সহায়ক। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, স্ব-নিয়ন্ত্রণ এবং নৈতিকতার বোধ তৈরি করে, যা দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই শৃংখলার জন্য অপরিহার্য। যদিও নিয়মনীতির সঠিক প্রণয়ন একটি ভিত্তি তৈরি করে এবং পূর্ণ স্বাধীনতা বা কঠোর শৃংখলা পরিহার করা উচিত, তবে নিয়ম প্রণয়নে সকলের অংশগ্রহণই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃংখলার বীজ বপন করে। - Question 5 of 55
5. Question
1 points(5). সঞ্চালনমূলক বিকাশের প্রকৃত অর্থ হল
Correctসঞ্চালনমূলক বিকাশের প্রকৃত অর্থ হল (A) দক্ষতার বিকাশ।
সঞ্চালনমূলক বিকাশ বলতে বোঝায়, শিশুদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন হাত, পা, ইত্যাদি ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করার ক্ষমতা অর্জন করা। এর মধ্যে রয়েছে বসা, হাঁটা, দৌড়ানো, ধরা, লাথি মারা, ভারসাম্য রাখা ইত্যাদি।
এখানে অন্যান্য বিকল্পগুলির ব্যাখ্যা দেওয়া হল:
পেশীর শক্তিবৃদ্ধি:
এটি সঞ্চালনমূলক বিকাশের একটি অংশ, তবে শুধুমাত্র পেশীর শক্তিবৃদ্ধি সঞ্চালনমূলক বিকাশকে সম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করে না।
ছবি আঁকা, লেখা ইত্যাদির শিক্ষা:
এগুলি সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতা (fine motor skills) বিকাশের সাথে সম্পর্কিত, যা সঞ্চালনমূলক বিকাশের একটি অংশ।
খেলাধুলা করতে শেখা:
খেলাধুলা করা সঞ্চালনমূলক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তবে এটি সঞ্চালনমূলক বিকাশের সম্পূর্ণ অর্থ নয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হল (A) দক্ষতার বিকাশ।Incorrectসঞ্চালনমূলক বিকাশের প্রকৃত অর্থ হল (A) দক্ষতার বিকাশ।
সঞ্চালনমূলক বিকাশ বলতে বোঝায়, শিশুদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন হাত, পা, ইত্যাদি ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করার ক্ষমতা অর্জন করা। এর মধ্যে রয়েছে বসা, হাঁটা, দৌড়ানো, ধরা, লাথি মারা, ভারসাম্য রাখা ইত্যাদি।
এখানে অন্যান্য বিকল্পগুলির ব্যাখ্যা দেওয়া হল:
পেশীর শক্তিবৃদ্ধি:
এটি সঞ্চালনমূলক বিকাশের একটি অংশ, তবে শুধুমাত্র পেশীর শক্তিবৃদ্ধি সঞ্চালনমূলক বিকাশকে সম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করে না।
ছবি আঁকা, লেখা ইত্যাদির শিক্ষা:
এগুলি সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতা (fine motor skills) বিকাশের সাথে সম্পর্কিত, যা সঞ্চালনমূলক বিকাশের একটি অংশ।
খেলাধুলা করতে শেখা:
খেলাধুলা করা সঞ্চালনমূলক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তবে এটি সঞ্চালনমূলক বিকাশের সম্পূর্ণ অর্থ নয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হল (A) দক্ষতার বিকাশ। - Question 6 of 55
6. Question
1 points6.’শৃংখলার ভিত্তি ও নিয়ন্ত্রক হবে ভালোবাসা’- কে বলেছিলেন?
Correctএই উক্তিটি পেস্টালৎসি (Pestalozzi) করেছিলেন।
জোহান হেনরিখ পেস্টালৎসি (Johann Heinrich Pestalozzi) ছিলেন একজন সুইস শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষাসংস্কারক। তিনি বিশ্বাস করতেন যে শিক্ষার ভিত্তি হওয়া উচিত ভালোবাসা, সহানুভূতি এবং প্রাকৃতিক বিকাশ। তাঁর শিক্ষাদর্শনে, শৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে, তা ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তিনি মনে করতেন, শিশুর প্রতি শিক্ষকের ভালোবাসা এবং শিশুর মধ্যে ভালোবাসার উন্মেষই প্রকৃত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক। ( The Encyclopedia of Education )
পেস্টালৎসি তাঁর শিক্ষাপদ্ধতিতে শিশুর সামগ্রিক বিকাশের উপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন, যেখানে শারীরিক, মানসিক, নৈতিক এবং আধ্যাত্মিক দিকগুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ভালোবাসা এবং পারিবারিক পরিবেশের মতো উষ্ণ সম্পর্কগুলি শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে অপরিহার্য। তাঁর মতে, বিদ্যালয়কে একটি পরিবারের মতো হতে হবে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক বিদ্যমান থাকবে। এই ভালোবাসাই হবে শিক্ষার মূল চালিকাশক্তি এবং শৃঙ্খলার ভিত্তি। ( A History of Education )
তাঁর শিক্ষাদর্শন ফ্রয়বেল (Froebel) এবং ডিউই (Dewey) সহ পরবর্তী অনেক শিক্ষাবিদকে প্রভাবিত করেছিল। ফ্রয়বেল, যিনি কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির প্রবর্তন করেন, তিনিও শিশুর প্রাকৃতিক বিকাশ এবং খেলার মাধ্যমে শেখার উপর জোর দিয়েছিলেন, যা পেস্টালৎসির ভালোবাসাকেন্দ্রিক শিক্ষার ধারণারই একটি সম্প্রসারণ। ( The Oxford Companion to Philosophy )
পেস্টালৎসির এই উক্তিটি তাঁর শিক্ষাদর্শনের মূল নির্যাসকে তুলে ধরে, যেখানে তিনি যান্ত্রিক শৃঙ্খলা বা শাস্তির পরিবর্তে মানবিক সম্পর্ক এবং ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ( Pestalozzi: The Man and His Work )
Incorrectএই উক্তিটি পেস্টালৎসি (Pestalozzi) করেছিলেন।
জোহান হেনরিখ পেস্টালৎসি (Johann Heinrich Pestalozzi) ছিলেন একজন সুইস শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষাসংস্কারক। তিনি বিশ্বাস করতেন যে শিক্ষার ভিত্তি হওয়া উচিত ভালোবাসা, সহানুভূতি এবং প্রাকৃতিক বিকাশ। তাঁর শিক্ষাদর্শনে, শৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে, তা ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তিনি মনে করতেন, শিশুর প্রতি শিক্ষকের ভালোবাসা এবং শিশুর মধ্যে ভালোবাসার উন্মেষই প্রকৃত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক। ( The Encyclopedia of Education )
পেস্টালৎসি তাঁর শিক্ষাপদ্ধতিতে শিশুর সামগ্রিক বিকাশের উপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন, যেখানে শারীরিক, মানসিক, নৈতিক এবং আধ্যাত্মিক দিকগুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ভালোবাসা এবং পারিবারিক পরিবেশের মতো উষ্ণ সম্পর্কগুলি শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে অপরিহার্য। তাঁর মতে, বিদ্যালয়কে একটি পরিবারের মতো হতে হবে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক বিদ্যমান থাকবে। এই ভালোবাসাই হবে শিক্ষার মূল চালিকাশক্তি এবং শৃঙ্খলার ভিত্তি। ( A History of Education )
তাঁর শিক্ষাদর্শন ফ্রয়বেল (Froebel) এবং ডিউই (Dewey) সহ পরবর্তী অনেক শিক্ষাবিদকে প্রভাবিত করেছিল। ফ্রয়বেল, যিনি কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির প্রবর্তন করেন, তিনিও শিশুর প্রাকৃতিক বিকাশ এবং খেলার মাধ্যমে শেখার উপর জোর দিয়েছিলেন, যা পেস্টালৎসির ভালোবাসাকেন্দ্রিক শিক্ষার ধারণারই একটি সম্প্রসারণ। ( The Oxford Companion to Philosophy )
পেস্টালৎসির এই উক্তিটি তাঁর শিক্ষাদর্শনের মূল নির্যাসকে তুলে ধরে, যেখানে তিনি যান্ত্রিক শৃঙ্খলা বা শাস্তির পরিবর্তে মানবিক সম্পর্ক এবং ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ( Pestalozzi: The Man and His Work )
- Question 7 of 55
7. Question
1 points7.শিখন হল ——-এর পরিবর্তন। প্রজ্ঞাবাদীদের মতে কোন শব্দটি এখানে সবচেয়ে উপযুক্ত?
Correctশিখন: একটি প্রজ্ঞাবাদী বিশ্লেষণ
শিখন একটি জটিল প্রক্রিয়া যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রদত্ত প্রশ্নটি শিখনের একটি নির্দিষ্ট দিক, অর্থাৎ শিখনের ফলে কীসের পরিবর্তন হয়, এবং প্রজ্ঞাবাদীদের মতে কোন শব্দটি এই পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, তা জানতে চেয়েছে। বিকল্পগুলি হল: (A) আচরণ, (B) জ্ঞান, (C) অভিজ্ঞতা, এবং (D) স্কিমা। এই প্রশ্নটির বিশদ ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য, আমরা প্রতিটি বিকল্পের প্রাসঙ্গিকতা এবং প্রজ্ঞাবাদীদের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করব।শিখনের সংজ্ঞা ও প্রকৃতি
শিখনকে সাধারণত অভিজ্ঞতা বা অনুশীলনের ফলে আচরণ বা জ্ঞানের অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তবে, এই সংজ্ঞাটি বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক ধারার উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। আচরণবাদীরা শিখনের ফলে দৃশ্যমান আচরণের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেন, যেখানে প্রজ্ঞাবাদীরা অভ্যন্তরীণ মানসিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তনকে প্রাধান্য দেন।বিকল্পগুলির বিশ্লেষণ
(A) আচরণ (Behavior)
আচরণবাদীরা, যেমন বি.এফ. স্কিনার এবং জন বি. ওয়াটসন, শিখনের ফলে আচরণের পরিবর্তনকে কেন্দ্রীয় বলে মনে করেন। তাদের মতে, শিখন হল উদ্দীপক-প্রতিক্রিয়া সংযোগের মাধ্যমে নতুন আচরণ শেখা বা বিদ্যমান আচরণের পরিবর্তন। উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশু যখন একটি নতুন শব্দ শেখে এবং তা ব্যবহার করে, তখন এটি তার আচরণের পরিবর্তন। ( Psychology: The Science of Mind and Behavior )তবে, প্রজ্ঞাবাদীরা মনে করেন যে শুধুমাত্র আচরণের পরিবর্তন শিখনের সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। অনেক সময় শিখন ঘটে কিন্তু তাৎক্ষণিক আচরণে তার প্রকাশ নাও ঘটতে পারে। যেমন, একজন ব্যক্তি একটি বই পড়ে নতুন তথ্য শিখতে পারে, কিন্তু সেই তথ্য তার আচরণে তখনই প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
(B) জ্ঞান (Knowledge)
জ্ঞান বলতে তথ্য, ধারণা, দক্ষতা এবং বোঝার সমষ্টিকে বোঝায়। প্রজ্ঞাবাদীরা, যেমন জঁ পিয়াজেঁ এবং লেভ ভিগটস্কি, শিখনের ফলে জ্ঞানের পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তাদের মতে, শিখন হল নতুন তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়া করা, সংরক্ষণ করা এবং পুনরুদ্ধার করার একটি প্রক্রিয়া, যা ব্যক্তির জ্ঞানীয় কাঠামোকে পরিবর্তন করে। ( Cognitive Psychology )যখন একজন ব্যক্তি কিছু শেখে, তখন সে নতুন তথ্য অর্জন করে, বিদ্যমান তথ্যের সাথে তার সংযোগ স্থাপন করে এবং তার বোঝার গভীরতা বৃদ্ধি পায়। এটি তার জ্ঞানীয় কাঠামোকে সমৃদ্ধ করে এবং তাকে নতুন পরিস্থিতিতে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
(C) অভিজ্ঞতা (Experience)
অভিজ্ঞতা হল ঘটনা বা পরিস্থিতির সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার ফল। শিখন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ঘটে থাকে। জন ডিউই-এর মতো শিক্ষাবিদরা অভিজ্ঞতামূলক শিখনের উপর জোর দিয়েছেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখে। ( Experience and Education )তবে, অভিজ্ঞতা নিজেই শিখনের পরিবর্তন নয়, বরং শিখনের একটি মাধ্যম। অভিজ্ঞতা শিখনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে, যার ফলে জ্ঞান বা আচরণের পরিবর্তন ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, একটি নতুন খেলা খেলার অভিজ্ঞতা একজন ব্যক্তির খেলার দক্ষতা (আচরণ) এবং খেলার নিয়মাবলী (জ্ঞান) উভয়কেই পরিবর্তন করতে পারে।
(D) স্কিমা (Schema)
স্কিমা হল জ্ঞানীয় কাঠামো বা মানসিক ফ্রেমওয়ার্ক যা তথ্য সংগঠিত ও ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। জঁ পিয়াজেঁ-এর প্রজ্ঞাবাদী তত্ত্বে স্কিমা একটি কেন্দ্রীয় ধারণা। তার মতে, শিশুরা তাদের পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়া করার মাধ্যমে স্কিমা তৈরি করে এবং পরিবর্তন করে। ( The Psychology of the Child )যখন একজন ব্যক্তি নতুন তথ্য শেখে, তখন সে হয় বিদ্যমান স্কিমাতে সেই তথ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে (আত্মীকরণ – assimilation) অথবা নতুন তথ্যের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বিদ্যমান স্কিমা পরিবর্তন করে বা নতুন স্কিমা তৈরি করে (উপযোজন – accommodation)। এই প্রক্রিয়াটি শিখনের একটি মৌলিক দিক। স্কিমা পরিবর্তন মানে ব্যক্তির বিশ্ব সম্পর্কে বোঝার পদ্ধতি এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতির পরিবর্তন। এটি শুধুমাত্র নতুন তথ্য অর্জন নয়, বরং সেই তথ্যকে কীভাবে সংগঠিত করা হয় এবং ব্যবহার করা হয় তার একটি গভীর পরিবর্তন।
প্রজ্ঞাবাদীদের মতে সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ
প্রজ্ঞাবাদীরা শিখনের ফলে অভ্যন্তরীণ মানসিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেন। তাদের মতে, শিখন হল জ্ঞানীয় কাঠামোর পুনর্গঠন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ‘স্কিমা’ শব্দটি সবচেয়ে উপযুক্ত।যখন একজন ব্যক্তি শেখে, তখন তার বিদ্যমান স্কিমাগুলি পরিবর্তিত হয় বা নতুন স্কিমা তৈরি হয়। এই স্কিমাগুলিই ব্যক্তিকে তথ্য বুঝতে, ব্যাখ্যা করতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করে। স্কিমার পরিবর্তন মানে ব্যক্তির বিশ্ব সম্পর্কে ধারণা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং চিন্তাভাবনার পদ্ধতির পরিবর্তন। এটি শুধুমাত্র নতুন তথ্য অর্জন (জ্ঞান) বা বাহ্যিক আচরণের পরিবর্তন নয়, বরং সেই তথ্যের অভ্যন্তরীণ সংগঠন এবং প্রক্রিয়াকরণের একটি মৌলিক পরিবর্তন।
উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশু যখন প্রথমবার একটি কুকুর দেখে, তখন সে একটি ‘কুকুর’ স্কিমা তৈরি করে। পরে, যখন সে একটি বিড়াল দেখে এবং তাকেও কুকুর বলে ডাকে, তখন তার স্কিমাতে উপযোজন ঘটে এবং সে কুকুর ও বিড়ালের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখে। এই স্কিমার পরিবর্তনই হল প্রকৃত শিখন।
অতএব, প্রজ্ঞাবাদীদের মতে, শিখন হল স্কিমার পরিবর্তন।
উপসংহার
শিখন হল স্কিমার পরিবর্তন। প্রজ্ঞাবাদীরা বিশ্বাস করেন যে শিখন হল জ্ঞানীয় কাঠামোর পুনর্গঠন, যেখানে ব্যক্তি নতুন তথ্যকে বিদ্যমান স্কিমাতে আত্মীকরণ করে অথবা নতুন তথ্যের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য স্কিমা পরিবর্তন করে (উপযোজন)। এই প্রক্রিয়াটি ব্যক্তির বিশ্ব সম্পর্কে বোঝার পদ্ধতি এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতির একটি গভীর পরিবর্তন ঘটায়।Incorrectশিখন: একটি প্রজ্ঞাবাদী বিশ্লেষণ
শিখন একটি জটিল প্রক্রিয়া যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রদত্ত প্রশ্নটি শিখনের একটি নির্দিষ্ট দিক, অর্থাৎ শিখনের ফলে কীসের পরিবর্তন হয়, এবং প্রজ্ঞাবাদীদের মতে কোন শব্দটি এই পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, তা জানতে চেয়েছে। বিকল্পগুলি হল: (A) আচরণ, (B) জ্ঞান, (C) অভিজ্ঞতা, এবং (D) স্কিমা। এই প্রশ্নটির বিশদ ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য, আমরা প্রতিটি বিকল্পের প্রাসঙ্গিকতা এবং প্রজ্ঞাবাদীদের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করব।শিখনের সংজ্ঞা ও প্রকৃতি
শিখনকে সাধারণত অভিজ্ঞতা বা অনুশীলনের ফলে আচরণ বা জ্ঞানের অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তবে, এই সংজ্ঞাটি বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক ধারার উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। আচরণবাদীরা শিখনের ফলে দৃশ্যমান আচরণের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেন, যেখানে প্রজ্ঞাবাদীরা অভ্যন্তরীণ মানসিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তনকে প্রাধান্য দেন।বিকল্পগুলির বিশ্লেষণ
(A) আচরণ (Behavior)
আচরণবাদীরা, যেমন বি.এফ. স্কিনার এবং জন বি. ওয়াটসন, শিখনের ফলে আচরণের পরিবর্তনকে কেন্দ্রীয় বলে মনে করেন। তাদের মতে, শিখন হল উদ্দীপক-প্রতিক্রিয়া সংযোগের মাধ্যমে নতুন আচরণ শেখা বা বিদ্যমান আচরণের পরিবর্তন। উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশু যখন একটি নতুন শব্দ শেখে এবং তা ব্যবহার করে, তখন এটি তার আচরণের পরিবর্তন। ( Psychology: The Science of Mind and Behavior )তবে, প্রজ্ঞাবাদীরা মনে করেন যে শুধুমাত্র আচরণের পরিবর্তন শিখনের সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। অনেক সময় শিখন ঘটে কিন্তু তাৎক্ষণিক আচরণে তার প্রকাশ নাও ঘটতে পারে। যেমন, একজন ব্যক্তি একটি বই পড়ে নতুন তথ্য শিখতে পারে, কিন্তু সেই তথ্য তার আচরণে তখনই প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
(B) জ্ঞান (Knowledge)
জ্ঞান বলতে তথ্য, ধারণা, দক্ষতা এবং বোঝার সমষ্টিকে বোঝায়। প্রজ্ঞাবাদীরা, যেমন জঁ পিয়াজেঁ এবং লেভ ভিগটস্কি, শিখনের ফলে জ্ঞানের পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তাদের মতে, শিখন হল নতুন তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়া করা, সংরক্ষণ করা এবং পুনরুদ্ধার করার একটি প্রক্রিয়া, যা ব্যক্তির জ্ঞানীয় কাঠামোকে পরিবর্তন করে। ( Cognitive Psychology )যখন একজন ব্যক্তি কিছু শেখে, তখন সে নতুন তথ্য অর্জন করে, বিদ্যমান তথ্যের সাথে তার সংযোগ স্থাপন করে এবং তার বোঝার গভীরতা বৃদ্ধি পায়। এটি তার জ্ঞানীয় কাঠামোকে সমৃদ্ধ করে এবং তাকে নতুন পরিস্থিতিতে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
(C) অভিজ্ঞতা (Experience)
অভিজ্ঞতা হল ঘটনা বা পরিস্থিতির সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার ফল। শিখন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ঘটে থাকে। জন ডিউই-এর মতো শিক্ষাবিদরা অভিজ্ঞতামূলক শিখনের উপর জোর দিয়েছেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখে। ( Experience and Education )তবে, অভিজ্ঞতা নিজেই শিখনের পরিবর্তন নয়, বরং শিখনের একটি মাধ্যম। অভিজ্ঞতা শিখনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে, যার ফলে জ্ঞান বা আচরণের পরিবর্তন ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, একটি নতুন খেলা খেলার অভিজ্ঞতা একজন ব্যক্তির খেলার দক্ষতা (আচরণ) এবং খেলার নিয়মাবলী (জ্ঞান) উভয়কেই পরিবর্তন করতে পারে।
(D) স্কিমা (Schema)
স্কিমা হল জ্ঞানীয় কাঠামো বা মানসিক ফ্রেমওয়ার্ক যা তথ্য সংগঠিত ও ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। জঁ পিয়াজেঁ-এর প্রজ্ঞাবাদী তত্ত্বে স্কিমা একটি কেন্দ্রীয় ধারণা। তার মতে, শিশুরা তাদের পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়া করার মাধ্যমে স্কিমা তৈরি করে এবং পরিবর্তন করে। ( The Psychology of the Child )যখন একজন ব্যক্তি নতুন তথ্য শেখে, তখন সে হয় বিদ্যমান স্কিমাতে সেই তথ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে (আত্মীকরণ – assimilation) অথবা নতুন তথ্যের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বিদ্যমান স্কিমা পরিবর্তন করে বা নতুন স্কিমা তৈরি করে (উপযোজন – accommodation)। এই প্রক্রিয়াটি শিখনের একটি মৌলিক দিক। স্কিমা পরিবর্তন মানে ব্যক্তির বিশ্ব সম্পর্কে বোঝার পদ্ধতি এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতির পরিবর্তন। এটি শুধুমাত্র নতুন তথ্য অর্জন নয়, বরং সেই তথ্যকে কীভাবে সংগঠিত করা হয় এবং ব্যবহার করা হয় তার একটি গভীর পরিবর্তন।
প্রজ্ঞাবাদীদের মতে সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ
প্রজ্ঞাবাদীরা শিখনের ফলে অভ্যন্তরীণ মানসিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেন। তাদের মতে, শিখন হল জ্ঞানীয় কাঠামোর পুনর্গঠন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ‘স্কিমা’ শব্দটি সবচেয়ে উপযুক্ত।যখন একজন ব্যক্তি শেখে, তখন তার বিদ্যমান স্কিমাগুলি পরিবর্তিত হয় বা নতুন স্কিমা তৈরি হয়। এই স্কিমাগুলিই ব্যক্তিকে তথ্য বুঝতে, ব্যাখ্যা করতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করে। স্কিমার পরিবর্তন মানে ব্যক্তির বিশ্ব সম্পর্কে ধারণা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং চিন্তাভাবনার পদ্ধতির পরিবর্তন। এটি শুধুমাত্র নতুন তথ্য অর্জন (জ্ঞান) বা বাহ্যিক আচরণের পরিবর্তন নয়, বরং সেই তথ্যের অভ্যন্তরীণ সংগঠন এবং প্রক্রিয়াকরণের একটি মৌলিক পরিবর্তন।
উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশু যখন প্রথমবার একটি কুকুর দেখে, তখন সে একটি ‘কুকুর’ স্কিমা তৈরি করে। পরে, যখন সে একটি বিড়াল দেখে এবং তাকেও কুকুর বলে ডাকে, তখন তার স্কিমাতে উপযোজন ঘটে এবং সে কুকুর ও বিড়ালের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখে। এই স্কিমার পরিবর্তনই হল প্রকৃত শিখন।
অতএব, প্রজ্ঞাবাদীদের মতে, শিখন হল স্কিমার পরিবর্তন।
উপসংহার
শিখন হল স্কিমার পরিবর্তন। প্রজ্ঞাবাদীরা বিশ্বাস করেন যে শিখন হল জ্ঞানীয় কাঠামোর পুনর্গঠন, যেখানে ব্যক্তি নতুন তথ্যকে বিদ্যমান স্কিমাতে আত্মীকরণ করে অথবা নতুন তথ্যের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য স্কিমা পরিবর্তন করে (উপযোজন)। এই প্রক্রিয়াটি ব্যক্তির বিশ্ব সম্পর্কে বোঝার পদ্ধতি এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতির একটি গভীর পরিবর্তন ঘটায়। - Question 8 of 55
8. Question
1 points৪.কোন ধারণাটি ফ্রয়েডের তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত নয়?
Correct(C) প্রত্যাবৃতি
ব্যাখ্যা:
ফ্রয়েডের মনোবিশ্লেষণ তত্ত্বে (Psychoanalytic Theory) প্রধান ধারণাগুলি হলো:আদিম প্রবৃত্তি (Id)
অহং (Ego)
অতিঅহং (Superego)
সুখভোগের নীতি (Pleasure Principle)
বাস্তবতার নীতি (Reality Principle)
দমিত ইচ্ছা, অবচেতন মন ইত্যাদি।
কিন্তু প্রত্যাবৃতি (Regression) সাধারণত উন্নয়নমূলক মনোবিজ্ঞানের (Developmental Psychology) সঙ্গে সম্পর্কিত, ফ্রয়েডের মূল তত্ত্বে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত নয়।
Incorrect(C) প্রত্যাবৃতি
ব্যাখ্যা:
ফ্রয়েডের মনোবিশ্লেষণ তত্ত্বে (Psychoanalytic Theory) প্রধান ধারণাগুলি হলো:আদিম প্রবৃত্তি (Id)
অহং (Ego)
অতিঅহং (Superego)
সুখভোগের নীতি (Pleasure Principle)
বাস্তবতার নীতি (Reality Principle)
দমিত ইচ্ছা, অবচেতন মন ইত্যাদি।
কিন্তু প্রত্যাবৃতি (Regression) সাধারণত উন্নয়নমূলক মনোবিজ্ঞানের (Developmental Psychology) সঙ্গে সম্পর্কিত, ফ্রয়েডের মূল তত্ত্বে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত নয়।
- Question 9 of 55
9. Question
1 points9. কোন বৎসর সর্বপ্রথম জাতীয় শিক্ষানীতি ঘোষিত হয়?
Correctজাতীয় শিক্ষানীতি (National Policy on Education) ঘোষণার বিষয়টি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই নীতি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কাঠামো এবং পরিচালনার দিকনির্দেশনা প্রদান করে। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে সঠিক উত্তরটি হল (D) 1968।
ভারতের স্বাধীনতার পর, শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। বিভিন্ন কমিশন ও কমিটি এই বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছিল কোঠারি কমিশন (Education Commission, 1964-66)। এই কমিশন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে এবং একটি সুদূরপ্রসারী শিক্ষানীতির রূপরেখা প্রদান করে।
কোঠারি কমিশনের সুপারিশগুলির ভিত্তিতেই ভারত সরকার প্রথম জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। এই নীতি 1968 সালে ঘোষিত হয়। এই নীতিতে শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে গুণগত মানোন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়। ( The Oxford Companion to Indian Politics )
1968 সালের জাতীয় শিক্ষানীতির মূল বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে ছিল:
শিক্ষার সর্বজনীনীকরণ: প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন ও বাধ্যতামূলক করার উপর জোর দেওয়া হয়।
শিক্ষার মানোন্নয়ন: শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ এবং পরীক্ষার সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা বলা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষা: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং গবেষণার উপর জোর দেওয়া হয়।
কৃষি শিক্ষা: কৃষি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নে অবদান রাখার কথা বলা হয়।
ভাষা নীতি: ত্রি-ভাষা সূত্র (Three-language formula) গ্রহণ করা হয়, যেখানে হিন্দি, ইংরেজি এবং একটি আঞ্চলিক ভাষার শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়।
শিক্ষায় বিনিয়োগ: জাতীয় আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ শিক্ষায় বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
এই নীতি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং পরবর্তীকালে প্রণীত শিক্ষানীতিগুলির ভিত্তি স্থাপন করে। যদিও এই নীতিতে উল্লিখিত অনেক লক্ষ্য অর্জনে সময় লেগেছে, তবুও এটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। ( A History of Education in India )পরবর্তীকালে, 1986 সালে একটি নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি (National Policy on Education, 1986) এবং 1992 সালে তার সংশোধিত রূপ (Programme of Action, 1992) ঘোষিত হয়। সর্বশেষ, 2020 সালে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy, 2020) ঘোষিত হয়েছে, যা 1986 সালের শিক্ষানীতির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। তবে, প্রথম জাতীয় শিক্ষানীতি 1968 সালেই ঘোষিত হয়েছিল। ( Encyclopedia of Indian Education )
Incorrectজাতীয় শিক্ষানীতি (National Policy on Education) ঘোষণার বিষয়টি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই নীতি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কাঠামো এবং পরিচালনার দিকনির্দেশনা প্রদান করে। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে সঠিক উত্তরটি হল (D) 1968।
ভারতের স্বাধীনতার পর, শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। বিভিন্ন কমিশন ও কমিটি এই বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছিল কোঠারি কমিশন (Education Commission, 1964-66)। এই কমিশন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে এবং একটি সুদূরপ্রসারী শিক্ষানীতির রূপরেখা প্রদান করে।
কোঠারি কমিশনের সুপারিশগুলির ভিত্তিতেই ভারত সরকার প্রথম জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। এই নীতি 1968 সালে ঘোষিত হয়। এই নীতিতে শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে গুণগত মানোন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়। ( The Oxford Companion to Indian Politics )
1968 সালের জাতীয় শিক্ষানীতির মূল বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে ছিল:
শিক্ষার সর্বজনীনীকরণ: প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন ও বাধ্যতামূলক করার উপর জোর দেওয়া হয়।
শিক্ষার মানোন্নয়ন: শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ এবং পরীক্ষার সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা বলা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষা: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং গবেষণার উপর জোর দেওয়া হয়।
কৃষি শিক্ষা: কৃষি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নে অবদান রাখার কথা বলা হয়।
ভাষা নীতি: ত্রি-ভাষা সূত্র (Three-language formula) গ্রহণ করা হয়, যেখানে হিন্দি, ইংরেজি এবং একটি আঞ্চলিক ভাষার শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়।
শিক্ষায় বিনিয়োগ: জাতীয় আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ শিক্ষায় বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
এই নীতি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং পরবর্তীকালে প্রণীত শিক্ষানীতিগুলির ভিত্তি স্থাপন করে। যদিও এই নীতিতে উল্লিখিত অনেক লক্ষ্য অর্জনে সময় লেগেছে, তবুও এটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। ( A History of Education in India )পরবর্তীকালে, 1986 সালে একটি নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি (National Policy on Education, 1986) এবং 1992 সালে তার সংশোধিত রূপ (Programme of Action, 1992) ঘোষিত হয়। সর্বশেষ, 2020 সালে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy, 2020) ঘোষিত হয়েছে, যা 1986 সালের শিক্ষানীতির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। তবে, প্রথম জাতীয় শিক্ষানীতি 1968 সালেই ঘোষিত হয়েছিল। ( Encyclopedia of Indian Education )
- Question 10 of 55
10. Question
1 points10. ‘এ’ ও ‘বি’ কোর্সের সুপারিশ করে
Correctবিকল্পগুলির বিশ্লেষণ – ‘A’ ও ‘B’ কোর্সের সুপারিশ কার?
(A) মুদালিয়ার কমিশন (Mudaliar Commission)
মুদালিয়ার কমিশন, সরকারি ভাবে সেকেন্ডারি এডুকেশন কমিশন নামে পরিচিত, ১৯৫২ সালে ভারতের সরকার দ্বারা নিযুক্ত হয়েছিল। এর সভাপতি ছিলেন ড. এ. লক্ষ্মণস্বামী মুদালিয়ার, তখনকার মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষা করা এবং তার উন্নতির জন্য সুপারিশ প্রদান।এই কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ছিল মাধ্যমিক স্তরে বৈচিত্র্যময় পাঠ্যক্রম চালু করা। কমিশন মনে করেছিল যে শিক্ষার্থীদের ভিন্ন ভিন্ন প্রবৃত্তি ও আগ্রহ অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া দরকার, যাতে তারা উচ্চশিক্ষা বা পেশাগত জীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। এজন্য তারা মাল্টিপারপাজ স্কুল ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেয়। এখানে শিক্ষার্থীরা জুনিয়র বেসিক স্তরের পর বিভিন্ন ধারার বিষয় বেছে নিতে পারবে। এই ধারাগুলি মানবিক, বিজ্ঞান, কারিগরি, বাণিজ্য, কৃষি ও ফাইন আর্টসের মতো ক্ষেত্রগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
তবে এই কমিশন ‘A’ ও ‘B’ কোর্স নাম ব্যবহার করেনি, বরং বৃহত্তর বিভাগগুলির কথা বলেছিল।
(B) উডের ডেসপ্যাচ (Wood’s Despatch)
১৮৫৪ সালের উডের ডেসপ্যাচকে ভারতের ইংরেজি শিক্ষার “ম্যাগনা কার্টা” বলা হয়। এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বোর্ড অব কন্ট্রোলের প্রেসিডেন্ট স্যার চার্লস উড লর্ড ডালহৌসিকে পাঠান। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতে শিক্ষার বিস্তারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করা।এতে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রাদেশিক স্তরে শিক্ষা দফতর গঠন ইত্যাদি প্রস্তাব দেয়। তবে ‘A’ ও ‘B’ কোর্সের সুপারিশ এখানে ছিল না।
(C) হান্টার কমিশন (Hunter Commission)
১৮৮২ সালে লর্ড রিপন হান্টার কমিশন (ভারতীয় শিক্ষা কমিশন) গঠন করেন। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ১৮৫৪ সালের উডের ডেসপ্যাচের পর থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে হওয়া অগ্রগতি মূল্যায়ন করা এবং উন্নতির জন্য নতুন পদক্ষেপ প্রস্তাব করা।এই কমিশন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছিল। বিশেষ করে মাধ্যমিক শিক্ষায় পাঠ্যক্রমের দ্বিবিভাজন বা বিফারকেশন প্রস্তাব করেছিল। দুটি কোর্স ছিল:
কোর্স A (সাহিত্যিক ধারা): উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত শিক্ষার্থীদের জন্য। এখানে ইংরেজি, শাস্ত্রীয় ভাষা, ইতিহাস, গণিতের ওপর জোর ছিল।
কোর্স B (প্রায়োগিক বা বৃত্তিমূলক ধারা): যারা মাধ্যমিকের পর শিল্প বা বাণিজ্যিক জীবনে প্রবেশ করবে তাদের জন্য। এতে ইংরেজি, মাতৃভাষা, গণিত, অঙ্কন, সার্ভেয়িং, মৌলিক বিজ্ঞান ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই ‘A’ ও ‘B’ কোর্স সুপারিশ হান্টার কমিশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।
(D) স্যাডলার কমিশন (Sadler Commission)
১৯১৭ সালে স্যাডলার কমিশন (ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি কমিশন) গঠন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধান করা, কিন্তু এর সুপারিশ গোটা উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।এটি ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকে আলাদা করার প্রস্তাব দেয় এবং মাধ্যমিক ও ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার পুনর্গঠনের সুপারিশ করে। তবে ‘A’ ও ‘B’ কোর্সের মতো দ্বিবিভাজনের সুপারিশ করেনি।
উপসংহার
বিশদ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হান্টার কমিশনই প্রথম ‘A’ ও ‘B’ কোর্স চালুর প্রস্তাব দেয়।কোর্স A – উচ্চশিক্ষার জন্য।
কোর্স B – কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের জন্য।
✅ তাই সঠিক উত্তর হলো: (C) হান্টার কমিশন।
Incorrectবিকল্পগুলির বিশ্লেষণ – ‘A’ ও ‘B’ কোর্সের সুপারিশ কার?
(A) মুদালিয়ার কমিশন (Mudaliar Commission)
মুদালিয়ার কমিশন, সরকারি ভাবে সেকেন্ডারি এডুকেশন কমিশন নামে পরিচিত, ১৯৫২ সালে ভারতের সরকার দ্বারা নিযুক্ত হয়েছিল। এর সভাপতি ছিলেন ড. এ. লক্ষ্মণস্বামী মুদালিয়ার, তখনকার মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষা করা এবং তার উন্নতির জন্য সুপারিশ প্রদান।এই কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ছিল মাধ্যমিক স্তরে বৈচিত্র্যময় পাঠ্যক্রম চালু করা। কমিশন মনে করেছিল যে শিক্ষার্থীদের ভিন্ন ভিন্ন প্রবৃত্তি ও আগ্রহ অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া দরকার, যাতে তারা উচ্চশিক্ষা বা পেশাগত জীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। এজন্য তারা মাল্টিপারপাজ স্কুল ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেয়। এখানে শিক্ষার্থীরা জুনিয়র বেসিক স্তরের পর বিভিন্ন ধারার বিষয় বেছে নিতে পারবে। এই ধারাগুলি মানবিক, বিজ্ঞান, কারিগরি, বাণিজ্য, কৃষি ও ফাইন আর্টসের মতো ক্ষেত্রগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
তবে এই কমিশন ‘A’ ও ‘B’ কোর্স নাম ব্যবহার করেনি, বরং বৃহত্তর বিভাগগুলির কথা বলেছিল।
(B) উডের ডেসপ্যাচ (Wood’s Despatch)
১৮৫৪ সালের উডের ডেসপ্যাচকে ভারতের ইংরেজি শিক্ষার “ম্যাগনা কার্টা” বলা হয়। এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বোর্ড অব কন্ট্রোলের প্রেসিডেন্ট স্যার চার্লস উড লর্ড ডালহৌসিকে পাঠান। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতে শিক্ষার বিস্তারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করা।এতে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রাদেশিক স্তরে শিক্ষা দফতর গঠন ইত্যাদি প্রস্তাব দেয়। তবে ‘A’ ও ‘B’ কোর্সের সুপারিশ এখানে ছিল না।
(C) হান্টার কমিশন (Hunter Commission)
১৮৮২ সালে লর্ড রিপন হান্টার কমিশন (ভারতীয় শিক্ষা কমিশন) গঠন করেন। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ১৮৫৪ সালের উডের ডেসপ্যাচের পর থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে হওয়া অগ্রগতি মূল্যায়ন করা এবং উন্নতির জন্য নতুন পদক্ষেপ প্রস্তাব করা।এই কমিশন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছিল। বিশেষ করে মাধ্যমিক শিক্ষায় পাঠ্যক্রমের দ্বিবিভাজন বা বিফারকেশন প্রস্তাব করেছিল। দুটি কোর্স ছিল:
কোর্স A (সাহিত্যিক ধারা): উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত শিক্ষার্থীদের জন্য। এখানে ইংরেজি, শাস্ত্রীয় ভাষা, ইতিহাস, গণিতের ওপর জোর ছিল।
কোর্স B (প্রায়োগিক বা বৃত্তিমূলক ধারা): যারা মাধ্যমিকের পর শিল্প বা বাণিজ্যিক জীবনে প্রবেশ করবে তাদের জন্য। এতে ইংরেজি, মাতৃভাষা, গণিত, অঙ্কন, সার্ভেয়িং, মৌলিক বিজ্ঞান ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই ‘A’ ও ‘B’ কোর্স সুপারিশ হান্টার কমিশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।
(D) স্যাডলার কমিশন (Sadler Commission)
১৯১৭ সালে স্যাডলার কমিশন (ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি কমিশন) গঠন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধান করা, কিন্তু এর সুপারিশ গোটা উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।এটি ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকে আলাদা করার প্রস্তাব দেয় এবং মাধ্যমিক ও ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার পুনর্গঠনের সুপারিশ করে। তবে ‘A’ ও ‘B’ কোর্সের মতো দ্বিবিভাজনের সুপারিশ করেনি।
উপসংহার
বিশদ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হান্টার কমিশনই প্রথম ‘A’ ও ‘B’ কোর্স চালুর প্রস্তাব দেয়।কোর্স A – উচ্চশিক্ষার জন্য।
কোর্স B – কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের জন্য।
✅ তাই সঠিক উত্তর হলো: (C) হান্টার কমিশন।
- Question 11 of 55
11. Question
1 points11. গৌণ গোষ্ঠীর দুটি মুখ্য বৈশিষ্ট্য হল
Correctগৌণ গোষ্ঠীর দুটি মুখ্য বৈশিষ্ট্য হল (B) পরোক্ষ সম্পর্ক ও নৈর্ব্যক্তিকতা।
গৌণ গোষ্ঠী (Secondary Group) হলো এমন এক ধরনের সামাজিক গোষ্ঠী যেখানে সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কগুলি সাধারণত পরোক্ষ (indirect), নৈর্ব্যক্তিক (impersonal), এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য-ভিত্তিক (goal-oriented) হয়। এই গোষ্ঠীগুলি প্রায়শই বৃহত্তর এবং আনুষ্ঠানিক প্রকৃতির হয়, যেখানে সদস্যরা তাদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে তাদের ভূমিকা বা কার্যের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে।
প্রথমত, পরোক্ষ সম্পর্ক (Indirect Relationship) গৌণ গোষ্ঠীর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর অর্থ হলো, সদস্যরা একে অপরের সাথে সরাসরি ব্যক্তিগত স্তরে খুব কমই যোগাযোগ করে বা তাদের সম্পর্কগুলি নির্দিষ্ট কার্য বা উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বৃহৎ কর্পোরেশনের কর্মচারীরা, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা (যদিও কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে গোষ্ঠীটি পরোক্ষ সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল), বা একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরা সাধারণত পরোক্ষ সম্পর্কের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। তাদের মিথস্ক্রিয়া প্রায়শই আনুষ্ঠানিক নিয়মাবলী, পদ্ধতি, এবং কাঠামোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ( Sociology: A Global Introduction )
দ্বিতীয়ত, নৈর্ব্যক্তিকতা (Impersonality) গৌণ গোষ্ঠীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এই গোষ্ঠীগুলিতে সদস্যদের মধ্যে আবেগিক বা ব্যক্তিগত সংযুক্তি খুব কম থাকে। সম্পর্কগুলি প্রায়শই কার্যভিত্তিক এবং উদ্দেশ্যমূলক হয়, যেখানে ব্যক্তিরা তাদের নির্দিষ্ট ভূমিকা বা দায়িত্ব পালনের জন্য একত্রিত হয়। ব্যক্তিগত অনুভূতি, পছন্দ বা অপছন্দ সাধারণত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গৌণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ব্যাংকের গ্রাহক এবং ব্যাংক কর্মীর মধ্যে সম্পর্ক নৈর্ব্যক্তিক হয়; তাদের মিথস্ক্রিয়া লেনদেন বা নির্দিষ্ট পরিষেবার উপর কেন্দ্রীভূত থাকে, ব্যক্তিগত পরিচয়ের উপর নয়। ( The Blackwell Dictionary of Sociology )
এই বৈশিষ্ট্যগুলি প্রাথমিক গোষ্ঠী (Primary Group) থেকে গৌণ গোষ্ঠীকে পৃথক করে। প্রাথমিক গোষ্ঠীতে সম্পর্কগুলি প্রত্যক্ষ, ব্যক্তিগত, আবেগপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, যেমন পরিবার বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে। গৌণ গোষ্ঠীগুলি সাধারণত বৃহত্তর সামাজিক কাঠামো এবং জটিল সমাজের কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য, কারণ তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ( Collins Dictionary of Sociology )
Incorrectগৌণ গোষ্ঠীর দুটি মুখ্য বৈশিষ্ট্য হল (B) পরোক্ষ সম্পর্ক ও নৈর্ব্যক্তিকতা।
গৌণ গোষ্ঠী (Secondary Group) হলো এমন এক ধরনের সামাজিক গোষ্ঠী যেখানে সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কগুলি সাধারণত পরোক্ষ (indirect), নৈর্ব্যক্তিক (impersonal), এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য-ভিত্তিক (goal-oriented) হয়। এই গোষ্ঠীগুলি প্রায়শই বৃহত্তর এবং আনুষ্ঠানিক প্রকৃতির হয়, যেখানে সদস্যরা তাদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে তাদের ভূমিকা বা কার্যের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে।
প্রথমত, পরোক্ষ সম্পর্ক (Indirect Relationship) গৌণ গোষ্ঠীর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর অর্থ হলো, সদস্যরা একে অপরের সাথে সরাসরি ব্যক্তিগত স্তরে খুব কমই যোগাযোগ করে বা তাদের সম্পর্কগুলি নির্দিষ্ট কার্য বা উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বৃহৎ কর্পোরেশনের কর্মচারীরা, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা (যদিও কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে গোষ্ঠীটি পরোক্ষ সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল), বা একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরা সাধারণত পরোক্ষ সম্পর্কের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। তাদের মিথস্ক্রিয়া প্রায়শই আনুষ্ঠানিক নিয়মাবলী, পদ্ধতি, এবং কাঠামোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ( Sociology: A Global Introduction )
দ্বিতীয়ত, নৈর্ব্যক্তিকতা (Impersonality) গৌণ গোষ্ঠীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এই গোষ্ঠীগুলিতে সদস্যদের মধ্যে আবেগিক বা ব্যক্তিগত সংযুক্তি খুব কম থাকে। সম্পর্কগুলি প্রায়শই কার্যভিত্তিক এবং উদ্দেশ্যমূলক হয়, যেখানে ব্যক্তিরা তাদের নির্দিষ্ট ভূমিকা বা দায়িত্ব পালনের জন্য একত্রিত হয়। ব্যক্তিগত অনুভূতি, পছন্দ বা অপছন্দ সাধারণত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গৌণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ব্যাংকের গ্রাহক এবং ব্যাংক কর্মীর মধ্যে সম্পর্ক নৈর্ব্যক্তিক হয়; তাদের মিথস্ক্রিয়া লেনদেন বা নির্দিষ্ট পরিষেবার উপর কেন্দ্রীভূত থাকে, ব্যক্তিগত পরিচয়ের উপর নয়। ( The Blackwell Dictionary of Sociology )
এই বৈশিষ্ট্যগুলি প্রাথমিক গোষ্ঠী (Primary Group) থেকে গৌণ গোষ্ঠীকে পৃথক করে। প্রাথমিক গোষ্ঠীতে সম্পর্কগুলি প্রত্যক্ষ, ব্যক্তিগত, আবেগপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, যেমন পরিবার বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে। গৌণ গোষ্ঠীগুলি সাধারণত বৃহত্তর সামাজিক কাঠামো এবং জটিল সমাজের কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য, কারণ তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ( Collins Dictionary of Sociology )
- Question 12 of 55
12. Question
1 points12. যখন কেন্দ্রীয় প্রবণতার মাপ ‘মধ্যমা’ তখন বিচ্যুতির কোন পরিসংখ্যা সবচেয়ে উপযুক্ত?
Correctকেন্দ্রীয় প্রবণতার মাপ ‘মধ্যমা’ এবং বিচ্যুতির উপযুক্ত পরিসংখ্যা
যখন কেন্দ্রীয় প্রবণতার মাপ হিসেবে ‘মধ্যমা’ (Median) ব্যবহার করা হয়, তখন বিচ্যুতির সবচেয়ে উপযুক্ত পরিসংখ্যা হলো চতুর্থক বিচ্যুতি (Quartile Deviation)।মধ্যমা (Median)
মধ্যমা হলো কেন্দ্রীয় প্রবণতার একটি পরিমাপ যা একটি উপাত্ত সেটের ঠিক মাঝের মানকে নির্দেশ করে যখন উপাত্তগুলো মানের ক্রমানুসারে সাজানো হয়। এটি উপাত্ত সেটকে দুটি সমান অংশে বিভক্ত করে, যেখানে অর্ধেক উপাত্ত মধ্যমার চেয়ে ছোট বা সমান এবং বাকি অর্ধেক মধ্যমার চেয়ে বড় বা সমান।( Statistical Methods ) মধ্যমা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে: “The median is the value of the middle item of a series arranged in ascending or descending order of magnitude.”
( Fundamentals of Statistics ) উল্লেখ করে যে, “The median is the value which divides the distribution into two equal halves.”
বিচ্যুতির পরিমাপ (Measures of Dispersion)
বিচ্যুতির পরিমাপগুলো উপাত্তের বিস্তার বা ছড়িয়ে থাকার প্রবণতা নির্দেশ করে। অর্থাৎ, উপাত্তগুলো কেন্দ্রীয় মানের (যেমন মধ্যমা) থেকে কতটা দূরে ছড়িয়ে আছে, তা এই পরিমাপগুলো দ্বারা বোঝা যায়।বিভিন্ন বিচ্যুতির পরিমাপ এবং তাদের উপযোগিতা
(A) সম্যক বিচ্যুতি (Standard Deviation)
সম্যক বিচ্যুতি হলো উপাত্তের গড় থেকে প্রতিটি উপাত্তের বিচ্যুতির বর্গের গড়ের বর্গমূল। এটি গাণিতিক গড় (Mean) এর সাথে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।( Statistics for Business and Economics ) অনুযায়ী, “The standard deviation is the most widely used measure of dispersion. It measures the average distance of the observations from the mean.”
যখন উপাত্তে চরম মান (outliers) থাকে, তখন গড় এবং সম্যক বিচ্যুতি উভয়ই এই চরম মান দ্বারা প্রভাবিত হয়। মধ্যমা চরম মান দ্বারা কম প্রভাবিত হয়, তাই মধ্যমা ব্যবহার করলে সম্যক বিচ্যুতি উপযুক্ত নাও হতে পারে।
(B) গড় বিচ্যুতি (Mean Deviation)
গড় বিচ্যুতি হলো উপাত্তের গড় বা মধ্যমা থেকে প্রতিটি উপাত্তের পরম বিচ্যুতির গড়।( An Introduction to Statistical Methods ) বর্ণনা করে, “Mean deviation is the arithmetic mean of the absolute deviations of the observations from their mean or median.”
যদিও গড় বিচ্যুতি মধ্যমা থেকে গণনা করা যেতে পারে, তবে এটি গাণিতিক গড় থেকে গণনা করা হলে সর্বনিম্ন হয়। এর প্রধান অসুবিধা হলো পরম মান ব্যবহার করার কারণে গাণিতিক প্রক্রিয়ায় এটি কম সুবিধাজনক।
(C) চতুর্থক বিচ্যুতি (Quartile Deviation)
চতুর্থক বিচ্যুতি হলো তৃতীয় চতুর্থক (
Q
3
) এবং প্রথম চতুর্থক (
Q
1
) এর পার্থক্যের অর্ধেক। এটি আন্তঃচতুর্থক পরিসর (Interquartile Range,
I
Q
R
=
Q
3
−
Q
1
) এর অর্ধেক।চতুর্থক বিচ্যুতিকে সেমি-আন্তঃচতুর্থক পরিসরও বলা হয়।
( Statistical Methods ) ব্যাখ্যা করে, “Quartile deviation is half of the difference between the third quartile and the first quartile.”
চতুর্থক বিচ্যুতি মধ্যমার সাথে সবচেয়ে উপযুক্ত কারণ:
চরম মান দ্বারা কম প্রভাবিত: মধ্যমার মতো চতুর্থক বিচ্যুতিও উপাত্তের চরম মান দ্বারা খুব কম প্রভাবিত হয়। এটি উপাত্তের মাঝের ৫০% অংশের বিস্তার পরিমাপ করে, তাই প্রান্তিক মানগুলো এর গণনায় সরাসরি প্রভাব ফেলে না।
অবস্থানগত পরিমাপ: মধ্যমা এবং চতুর্থক বিচ্যুতি উভয়ই অবস্থানগত পরিমাপ (positional measures)। মধ্যমা উপাত্তের মাঝের অবস্থান নির্দেশ করে এবং চতুর্থক বিচ্যুতি উপাত্তের মাঝের অংশের বিস্তার নির্দেশ করে।
উপাত্তের অসমতা: যখন উপাত্তের বিন্যাস অসম (skewed) হয় এবং গড় বা সম্যক বিচ্যুতি উপযুক্ত না হয়, তখন মধ্যমা এবং চতুর্থক বিচ্যুতি বেশি নির্ভরযোগ্য হয়।
চতুর্থক বিচ্যুতিকে গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা হয়:
Q
D
=
Q
3
−
Q
1
2
যেখানে,
Q
1
= প্রথম চতুর্থক (First Quartile)
Q
3
= তৃতীয় চতুর্থক (Third Quartile)(D) বিস্তার (Range)
বিস্তার হলো উপাত্ত সেটের সর্বোচ্চ মান এবং সর্বনিম্ন মানের পার্থক্য।( Fundamentals of Statistics ) অনুযায়ী, “Range is the difference between the largest and the smallest values in a series.”
বিস্তার হলো বিচ্যুতির সবচেয়ে সরল পরিমাপ, কিন্তু এটি উপাত্তের চরম মান দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত হয় এবং উপাত্তের মাঝের অংশের বিস্তার সম্পর্কে কোনো ধারণা দেয় না। তাই এটি মধ্যমার সাথে উপযুক্ত নয়।
উপসংহার
যখন কেন্দ্রীয় প্রবণতার মাপ হিসেবে ‘মধ্যমা’ ব্যবহার করা হয়, তখন বিচ্যুতির সবচেয়ে উপযুক্ত পরিসংখ্যা হলো চতুর্থক বিচ্যুতি। এর কারণ হলো, মধ্যমা এবং চতুর্থক বিচ্যুতি উভয়ই চরম মান দ্বারা কম প্রভাবিত হয় এবং উপাত্তের মাঝের অংশের উপর বেশি গুরুত্ব দেয়।Incorrectকেন্দ্রীয় প্রবণতার মাপ ‘মধ্যমা’ এবং বিচ্যুতির উপযুক্ত পরিসংখ্যা
যখন কেন্দ্রীয় প্রবণতার মাপ হিসেবে ‘মধ্যমা’ (Median) ব্যবহার করা হয়, তখন বিচ্যুতির সবচেয়ে উপযুক্ত পরিসংখ্যা হলো চতুর্থক বিচ্যুতি (Quartile Deviation)।মধ্যমা (Median)
মধ্যমা হলো কেন্দ্রীয় প্রবণতার একটি পরিমাপ যা একটি উপাত্ত সেটের ঠিক মাঝের মানকে নির্দেশ করে যখন উপাত্তগুলো মানের ক্রমানুসারে সাজানো হয়। এটি উপাত্ত সেটকে দুটি সমান অংশে বিভক্ত করে, যেখানে অর্ধেক উপাত্ত মধ্যমার চেয়ে ছোট বা সমান এবং বাকি অর্ধেক মধ্যমার চেয়ে বড় বা সমান।( Statistical Methods ) মধ্যমা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে: “The median is the value of the middle item of a series arranged in ascending or descending order of magnitude.”
( Fundamentals of Statistics ) উল্লেখ করে যে, “The median is the value which divides the distribution into two equal halves.”
বিচ্যুতির পরিমাপ (Measures of Dispersion)
বিচ্যুতির পরিমাপগুলো উপাত্তের বিস্তার বা ছড়িয়ে থাকার প্রবণতা নির্দেশ করে। অর্থাৎ, উপাত্তগুলো কেন্দ্রীয় মানের (যেমন মধ্যমা) থেকে কতটা দূরে ছড়িয়ে আছে, তা এই পরিমাপগুলো দ্বারা বোঝা যায়।বিভিন্ন বিচ্যুতির পরিমাপ এবং তাদের উপযোগিতা
(A) সম্যক বিচ্যুতি (Standard Deviation)
সম্যক বিচ্যুতি হলো উপাত্তের গড় থেকে প্রতিটি উপাত্তের বিচ্যুতির বর্গের গড়ের বর্গমূল। এটি গাণিতিক গড় (Mean) এর সাথে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।( Statistics for Business and Economics ) অনুযায়ী, “The standard deviation is the most widely used measure of dispersion. It measures the average distance of the observations from the mean.”
যখন উপাত্তে চরম মান (outliers) থাকে, তখন গড় এবং সম্যক বিচ্যুতি উভয়ই এই চরম মান দ্বারা প্রভাবিত হয়। মধ্যমা চরম মান দ্বারা কম প্রভাবিত হয়, তাই মধ্যমা ব্যবহার করলে সম্যক বিচ্যুতি উপযুক্ত নাও হতে পারে।
(B) গড় বিচ্যুতি (Mean Deviation)
গড় বিচ্যুতি হলো উপাত্তের গড় বা মধ্যমা থেকে প্রতিটি উপাত্তের পরম বিচ্যুতির গড়।( An Introduction to Statistical Methods ) বর্ণনা করে, “Mean deviation is the arithmetic mean of the absolute deviations of the observations from their mean or median.”
যদিও গড় বিচ্যুতি মধ্যমা থেকে গণনা করা যেতে পারে, তবে এটি গাণিতিক গড় থেকে গণনা করা হলে সর্বনিম্ন হয়। এর প্রধান অসুবিধা হলো পরম মান ব্যবহার করার কারণে গাণিতিক প্রক্রিয়ায় এটি কম সুবিধাজনক।
(C) চতুর্থক বিচ্যুতি (Quartile Deviation)
চতুর্থক বিচ্যুতি হলো তৃতীয় চতুর্থক (
Q
3
) এবং প্রথম চতুর্থক (
Q
1
) এর পার্থক্যের অর্ধেক। এটি আন্তঃচতুর্থক পরিসর (Interquartile Range,
I
Q
R
=
Q
3
−
Q
1
) এর অর্ধেক।চতুর্থক বিচ্যুতিকে সেমি-আন্তঃচতুর্থক পরিসরও বলা হয়।
( Statistical Methods ) ব্যাখ্যা করে, “Quartile deviation is half of the difference between the third quartile and the first quartile.”
চতুর্থক বিচ্যুতি মধ্যমার সাথে সবচেয়ে উপযুক্ত কারণ:
চরম মান দ্বারা কম প্রভাবিত: মধ্যমার মতো চতুর্থক বিচ্যুতিও উপাত্তের চরম মান দ্বারা খুব কম প্রভাবিত হয়। এটি উপাত্তের মাঝের ৫০% অংশের বিস্তার পরিমাপ করে, তাই প্রান্তিক মানগুলো এর গণনায় সরাসরি প্রভাব ফেলে না।
অবস্থানগত পরিমাপ: মধ্যমা এবং চতুর্থক বিচ্যুতি উভয়ই অবস্থানগত পরিমাপ (positional measures)। মধ্যমা উপাত্তের মাঝের অবস্থান নির্দেশ করে এবং চতুর্থক বিচ্যুতি উপাত্তের মাঝের অংশের বিস্তার নির্দেশ করে।
উপাত্তের অসমতা: যখন উপাত্তের বিন্যাস অসম (skewed) হয় এবং গড় বা সম্যক বিচ্যুতি উপযুক্ত না হয়, তখন মধ্যমা এবং চতুর্থক বিচ্যুতি বেশি নির্ভরযোগ্য হয়।
চতুর্থক বিচ্যুতিকে গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা হয়:
Q
D
=
Q
3
−
Q
1
2
যেখানে,
Q
1
= প্রথম চতুর্থক (First Quartile)
Q
3
= তৃতীয় চতুর্থক (Third Quartile)(D) বিস্তার (Range)
বিস্তার হলো উপাত্ত সেটের সর্বোচ্চ মান এবং সর্বনিম্ন মানের পার্থক্য।( Fundamentals of Statistics ) অনুযায়ী, “Range is the difference between the largest and the smallest values in a series.”
বিস্তার হলো বিচ্যুতির সবচেয়ে সরল পরিমাপ, কিন্তু এটি উপাত্তের চরম মান দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত হয় এবং উপাত্তের মাঝের অংশের বিস্তার সম্পর্কে কোনো ধারণা দেয় না। তাই এটি মধ্যমার সাথে উপযুক্ত নয়।
উপসংহার
যখন কেন্দ্রীয় প্রবণতার মাপ হিসেবে ‘মধ্যমা’ ব্যবহার করা হয়, তখন বিচ্যুতির সবচেয়ে উপযুক্ত পরিসংখ্যা হলো চতুর্থক বিচ্যুতি। এর কারণ হলো, মধ্যমা এবং চতুর্থক বিচ্যুতি উভয়ই চরম মান দ্বারা কম প্রভাবিত হয় এবং উপাত্তের মাঝের অংশের উপর বেশি গুরুত্ব দেয়। - Question 13 of 55
13. Question
1 points13. জি. সি. পি. আই কথাটির পূর্ণরূপ হল
CorrectG.C.P.I.-এর পূর্ণরূপ
প্রশ্নে G.C.P.I.-এর পূর্ণরূপ জানতে চাওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক পূর্ণরূপ হলো “General Committee of Public Instruction” (সাধারণ শিক্ষা নির্দেশনা কমিটি)।General Committee of Public Instruction (GCPI)-এর ভূমিকা ও ইতিহাস
General Committee of Public Instruction (GCPI) ছিল উনিশ শতকের শুরুর দিকে ব্রিটিশ ভারতে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। এর প্রধান কাজ ছিল ব্রিটিশ শাসনাধীন অঞ্চলে শিক্ষার উন্নয়ন তদারকি করা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া। শিক্ষানীতির গঠনে এই কমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, বিশেষত শিক্ষার ভাষা ও বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে ওরিয়েন্টালিস্ট-অ্যাংলিসিস্ট বিতর্কে।প্রতিষ্ঠা ও উদ্দেশ্য
GCPI ১৮২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ভারতের শিক্ষার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এর আগে শিক্ষার উদ্যোগগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন ও সংগঠিত নয়। এই কমিটির কাজ ছিল শিক্ষার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবস্থাপনা করা এবং ভারতীয় সমাজে শিক্ষার প্রসারের জন্য সঠিক পদ্ধতি নির্ধারণ করা। এর সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি, যাদের মধ্যে শিক্ষার পদ্ধতি ও মাধ্যম নিয়ে মতপার্থক্য ছিল। এই মতভেদ থেকেই পরবর্তী শিক্ষানীতি নির্ধারণে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়।মূল বিতর্ক: ওরিয়েন্টালিস্ট বনাম অ্যাংলিসিস্ট
GCPI-এর ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ওরিয়েন্টালিস্ট এবং অ্যাংলিসিস্টদের মধ্যে মতবিরোধ।ওরিয়েন্টালিস্টরা (যেমন: এইচ. টি. প্রিন্সেপ) প্রস্তাব করেছিলেন যে ভারতীয় প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা, যেমন সংস্কৃত ও আরবি, রক্ষা ও প্রচার করা উচিত। পাশাপাশি পাশ্চাত্য জ্ঞান এই ভাষাগুলিতে অনুবাদ করে শেখানো দরকার। তারা মনে করতেন শিক্ষার মাধ্যম হওয়া উচিত দেশীয় ভাষা এবং ভারতীয় সংস্কৃতির মর্যাদা বজায় রাখতে হবে।
অ্যাংলিসিস্টরা (যেমন: টমাস বাবিংটন ম্যাকলে) দাবি করেছিলেন যে পাশ্চাত্য শিক্ষা এবং ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদান প্রবর্তন করতে হবে। তাদের মতে ইংরেজি শিক্ষা কেবল আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানই দেবে না, বরং পশ্চিমা মূল্যবোধ ও প্রশাসনিক দক্ষতা গড়ে তুলবে। ম্যাকলের বিখ্যাত “Minute on Indian Education” (১৮৩৫) ইংরেজিকে শিক্ষার প্রধান মাধ্যম করার জন্য সরকারের সিদ্ধান্তকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
প্রভাব ও অবদান
GCPI-এর সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এই কমিটি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ ও স্কুল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল যেখানে পাশ্চাত্য জ্ঞান প্রচারের ওপর জোর দেওয়া হতো। যদিও অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল, তবুও এই কমিটির কাজ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের শিক্ষানীতির গুরুত্বকে সুস্পষ্ট করে তোলে। পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে এর কাজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।তাই দেওয়া বিকল্পগুলির মধ্যে সঠিক উত্তর হলো:
G.C.P.I. = General Committee of Public Instruction (সাধারণ শিক্ষা নির্দেশনা কমিটি)IncorrectG.C.P.I.-এর পূর্ণরূপ
প্রশ্নে G.C.P.I.-এর পূর্ণরূপ জানতে চাওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক পূর্ণরূপ হলো “General Committee of Public Instruction” (সাধারণ শিক্ষা নির্দেশনা কমিটি)।General Committee of Public Instruction (GCPI)-এর ভূমিকা ও ইতিহাস
General Committee of Public Instruction (GCPI) ছিল উনিশ শতকের শুরুর দিকে ব্রিটিশ ভারতে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। এর প্রধান কাজ ছিল ব্রিটিশ শাসনাধীন অঞ্চলে শিক্ষার উন্নয়ন তদারকি করা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া। শিক্ষানীতির গঠনে এই কমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, বিশেষত শিক্ষার ভাষা ও বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে ওরিয়েন্টালিস্ট-অ্যাংলিসিস্ট বিতর্কে।প্রতিষ্ঠা ও উদ্দেশ্য
GCPI ১৮২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ভারতের শিক্ষার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এর আগে শিক্ষার উদ্যোগগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন ও সংগঠিত নয়। এই কমিটির কাজ ছিল শিক্ষার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবস্থাপনা করা এবং ভারতীয় সমাজে শিক্ষার প্রসারের জন্য সঠিক পদ্ধতি নির্ধারণ করা। এর সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি, যাদের মধ্যে শিক্ষার পদ্ধতি ও মাধ্যম নিয়ে মতপার্থক্য ছিল। এই মতভেদ থেকেই পরবর্তী শিক্ষানীতি নির্ধারণে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়।মূল বিতর্ক: ওরিয়েন্টালিস্ট বনাম অ্যাংলিসিস্ট
GCPI-এর ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ওরিয়েন্টালিস্ট এবং অ্যাংলিসিস্টদের মধ্যে মতবিরোধ।ওরিয়েন্টালিস্টরা (যেমন: এইচ. টি. প্রিন্সেপ) প্রস্তাব করেছিলেন যে ভারতীয় প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা, যেমন সংস্কৃত ও আরবি, রক্ষা ও প্রচার করা উচিত। পাশাপাশি পাশ্চাত্য জ্ঞান এই ভাষাগুলিতে অনুবাদ করে শেখানো দরকার। তারা মনে করতেন শিক্ষার মাধ্যম হওয়া উচিত দেশীয় ভাষা এবং ভারতীয় সংস্কৃতির মর্যাদা বজায় রাখতে হবে।
অ্যাংলিসিস্টরা (যেমন: টমাস বাবিংটন ম্যাকলে) দাবি করেছিলেন যে পাশ্চাত্য শিক্ষা এবং ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদান প্রবর্তন করতে হবে। তাদের মতে ইংরেজি শিক্ষা কেবল আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানই দেবে না, বরং পশ্চিমা মূল্যবোধ ও প্রশাসনিক দক্ষতা গড়ে তুলবে। ম্যাকলের বিখ্যাত “Minute on Indian Education” (১৮৩৫) ইংরেজিকে শিক্ষার প্রধান মাধ্যম করার জন্য সরকারের সিদ্ধান্তকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
প্রভাব ও অবদান
GCPI-এর সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এই কমিটি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ ও স্কুল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল যেখানে পাশ্চাত্য জ্ঞান প্রচারের ওপর জোর দেওয়া হতো। যদিও অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল, তবুও এই কমিটির কাজ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের শিক্ষানীতির গুরুত্বকে সুস্পষ্ট করে তোলে। পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে এর কাজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।তাই দেওয়া বিকল্পগুলির মধ্যে সঠিক উত্তর হলো:
G.C.P.I. = General Committee of Public Instruction (সাধারণ শিক্ষা নির্দেশনা কমিটি) - Question 14 of 55
14. Question
1 points14. কোন বৎসর রামমূর্তি কমিটি নিয়োজিত হয় “
Correctরামমূর্তি কমিটি: একটি বিশদ আলোচনা
প্রদত্ত প্রশ্নটি “কোন বৎসর রামমূর্তি কমিটি নিয়োজিত হয়” এবং বিকল্পগুলিতে একটি ভুল সংশোধনের ইঙ্গিত রয়েছে। এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর এবং এর পেছনের প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য রামমূর্তি কমিটির গঠন, উদ্দেশ্য এবং এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।রামমূর্তি কমিটি (Ramamurti Committee) ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই কমিটি ১৯৯০ সালে গঠিত হয়েছিল এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৮৬ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি (National Policy on Education, NPE 1986) পর্যালোচনা করা এবং এর বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রদান করা।
রামমূর্তি কমিটির গঠন ও উদ্দেশ্য
১৯৮৬ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। তবে, এর বাস্তবায়ন এবং কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে, ভারত সরকার শিক্ষানীতির কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এই কমিটি ড. আচার্য রামমূর্তির (Acharya Ramamurti) নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল, যিনি একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ছিলেন। ( National Policy on Education 1986: A Review )রামমূর্তি কমিটির মূল উদ্দেশ্যগুলি নিম্নরূপ ছিল:
১৯৮৬ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির পর্যালোচনা: কমিটি ১৯৮৬ সালের শিক্ষানীতির বিভিন্ন দিক, যেমন – সমতা, গুণগত মান, প্রাসঙ্গিকতা এবং কার্যকারিতা বিশদভাবে পর্যালোচনা করে।
শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন মূল্যায়ন: শিক্ষানীতির বাস্তবায়নে কী কী চ্যালেঞ্জ এবং সীমাবদ্ধতা ছিল, তা চিহ্নিত করা।
সুপারিশ প্রদান: শিক্ষানীতির দুর্বলতাগুলি দূর করতে এবং এটিকে আরও কার্যকর করতে নতুন সুপারিশ প্রদান করা। বিশেষ করে, শিক্ষায় সমতা, নারী শিক্ষা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ( Education in India: Policies, Progress, and Challenges )
রামমূর্তি কমিটির প্রতিবেদন
রামমূর্তি কমিটি তার প্রতিবেদন ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে জমা দেয়। এই প্রতিবেদনে শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছিল। কিছু উল্লেখযোগ্য সুপারিশ ছিল:শিক্ষায় সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার: কমিটি শিক্ষায় সমতা প্রতিষ্ঠার উপর বিশেষ জোর দেয়, বিশেষ করে নারী শিক্ষা, তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করে।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন: শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ এবং পরীক্ষার পদ্ধতির সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়।
বৃত্তিমূলক শিক্ষা: বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সাথে একীভূত করার এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা প্রদানের উপর জোর দেওয়া হয়।
বিকেন্দ্রীকরণ: শিক্ষাব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় স্তরে শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।
শিক্ষার অর্থায়ন: শিক্ষায় সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ( Indian Education: A Historical Perspective )
রামমূর্তি কমিটির প্রভাব ও পরবর্তী ঘটনাবলী
রামমূর্তি কমিটির সুপারিশগুলি ভারতের শিক্ষানীতির পরবর্তী বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। যদিও কমিটির সমস্ত সুপারিশ সরাসরি বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এর অনেক ধারণা ১৯৯২ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির সংশোধনে (Programme of Action, POA 1992) অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ১৯৯২ সালের সংশোধিত শিক্ষানীতি রামমূর্তি কমিটির প্রতিবেদনের অনেক সুপারিশকে ভিত্তি করে গঠিত হয়েছিল। ( A Dictionary of Education )প্রদত্ত প্রশ্নটিতে “কোন বৎসর রামমূর্তি কমিটি নিয়োজিত হয়” এবং বিকল্পগুলিতে (A) 1992 (1990) উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে বন্ধনীর মধ্যে “(1990)” উল্লেখ করে সঠিক বছরটি নির্দেশ করা হয়েছে। রামমূর্তি কমিটি ১৯৯০ সালে গঠিত হয়েছিল। ১৯৯২ সাল ছিল সেই বছর যখন ১৯৯০ সালের রামমূর্তি কমিটির সুপারিশগুলির ভিত্তিতে ১৯৮৬ সালের শিক্ষানীতি সংশোধন করা হয়েছিল এবং প্রোগ্রাম অফ অ্যাকশন (POA) ১৯৯২ প্রকাশিত হয়েছিল।
সুতরাং, রামমূর্তি কমিটি ১৯৯০ সালে গঠিত হয়েছিল।
উপসংহার
রামমূর্তি কমিটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল। এর সুপারিশগুলি শিক্ষায় সমতা, গুণগত মান এবং প্রাসঙ্গিকতা আনার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিল। যদিও এর সমস্ত সুপারিশ সরাসরি বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এটি পরবর্তী শিক্ষানীতি এবং সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।Incorrectরামমূর্তি কমিটি: একটি বিশদ আলোচনা
প্রদত্ত প্রশ্নটি “কোন বৎসর রামমূর্তি কমিটি নিয়োজিত হয়” এবং বিকল্পগুলিতে একটি ভুল সংশোধনের ইঙ্গিত রয়েছে। এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর এবং এর পেছনের প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য রামমূর্তি কমিটির গঠন, উদ্দেশ্য এবং এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।রামমূর্তি কমিটি (Ramamurti Committee) ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই কমিটি ১৯৯০ সালে গঠিত হয়েছিল এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৮৬ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি (National Policy on Education, NPE 1986) পর্যালোচনা করা এবং এর বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রদান করা।
রামমূর্তি কমিটির গঠন ও উদ্দেশ্য
১৯৮৬ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। তবে, এর বাস্তবায়ন এবং কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে, ভারত সরকার শিক্ষানীতির কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এই কমিটি ড. আচার্য রামমূর্তির (Acharya Ramamurti) নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল, যিনি একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ছিলেন। ( National Policy on Education 1986: A Review )রামমূর্তি কমিটির মূল উদ্দেশ্যগুলি নিম্নরূপ ছিল:
১৯৮৬ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির পর্যালোচনা: কমিটি ১৯৮৬ সালের শিক্ষানীতির বিভিন্ন দিক, যেমন – সমতা, গুণগত মান, প্রাসঙ্গিকতা এবং কার্যকারিতা বিশদভাবে পর্যালোচনা করে।
শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন মূল্যায়ন: শিক্ষানীতির বাস্তবায়নে কী কী চ্যালেঞ্জ এবং সীমাবদ্ধতা ছিল, তা চিহ্নিত করা।
সুপারিশ প্রদান: শিক্ষানীতির দুর্বলতাগুলি দূর করতে এবং এটিকে আরও কার্যকর করতে নতুন সুপারিশ প্রদান করা। বিশেষ করে, শিক্ষায় সমতা, নারী শিক্ষা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ( Education in India: Policies, Progress, and Challenges )
রামমূর্তি কমিটির প্রতিবেদন
রামমূর্তি কমিটি তার প্রতিবেদন ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে জমা দেয়। এই প্রতিবেদনে শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছিল। কিছু উল্লেখযোগ্য সুপারিশ ছিল:শিক্ষায় সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার: কমিটি শিক্ষায় সমতা প্রতিষ্ঠার উপর বিশেষ জোর দেয়, বিশেষ করে নারী শিক্ষা, তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করে।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন: শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ এবং পরীক্ষার পদ্ধতির সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়।
বৃত্তিমূলক শিক্ষা: বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সাথে একীভূত করার এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা প্রদানের উপর জোর দেওয়া হয়।
বিকেন্দ্রীকরণ: শিক্ষাব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় স্তরে শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।
শিক্ষার অর্থায়ন: শিক্ষায় সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ( Indian Education: A Historical Perspective )
রামমূর্তি কমিটির প্রভাব ও পরবর্তী ঘটনাবলী
রামমূর্তি কমিটির সুপারিশগুলি ভারতের শিক্ষানীতির পরবর্তী বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। যদিও কমিটির সমস্ত সুপারিশ সরাসরি বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এর অনেক ধারণা ১৯৯২ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির সংশোধনে (Programme of Action, POA 1992) অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ১৯৯২ সালের সংশোধিত শিক্ষানীতি রামমূর্তি কমিটির প্রতিবেদনের অনেক সুপারিশকে ভিত্তি করে গঠিত হয়েছিল। ( A Dictionary of Education )প্রদত্ত প্রশ্নটিতে “কোন বৎসর রামমূর্তি কমিটি নিয়োজিত হয়” এবং বিকল্পগুলিতে (A) 1992 (1990) উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে বন্ধনীর মধ্যে “(1990)” উল্লেখ করে সঠিক বছরটি নির্দেশ করা হয়েছে। রামমূর্তি কমিটি ১৯৯০ সালে গঠিত হয়েছিল। ১৯৯২ সাল ছিল সেই বছর যখন ১৯৯০ সালের রামমূর্তি কমিটির সুপারিশগুলির ভিত্তিতে ১৯৮৬ সালের শিক্ষানীতি সংশোধন করা হয়েছিল এবং প্রোগ্রাম অফ অ্যাকশন (POA) ১৯৯২ প্রকাশিত হয়েছিল।
সুতরাং, রামমূর্তি কমিটি ১৯৯০ সালে গঠিত হয়েছিল।
উপসংহার
রামমূর্তি কমিটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল। এর সুপারিশগুলি শিক্ষায় সমতা, গুণগত মান এবং প্রাসঙ্গিকতা আনার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিল। যদিও এর সমস্ত সুপারিশ সরাসরি বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এটি পরবর্তী শিক্ষানীতি এবং সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। - Question 15 of 55
15. Question
1 points15. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কোন রচনাটি গণশিক্ষার ভিত্তি নির্মাণ করেছিল?
Correctঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের যে রচনাটি গণশিক্ষার ভিত্তি নির্মাণ করেছিল, সেটি হলো (D) বর্ণ পরিচয়।
‘বর্ণ পরিচয়’ ছিল বাংলা ভাষার প্রাথমিক শিক্ষার জন্য রচিত একটি যুগান্তকারী গ্রন্থ। এই বইটি বাংলা বর্ণমালা এবং প্রাথমিক শব্দ জ্ঞান শেখানোর জন্য একটি সুসংবদ্ধ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল। এর পূর্বে বাংলা ভাষা শেখানোর জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো পাঠ্যপুস্তক ছিল না, অথবা যা ছিল তা ছিল অগোছালো ও ত্রুটিপূর্ণ। বিদ্যাসাগর এই অভাব পূরণ করে ‘বর্ণ পরিচয়’ রচনা করেন, যা বাংলা শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
‘বর্ণ পরিচয়’ দুটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম খণ্ড ১৮৫৫ সালের এপ্রিল মাসে এবং দ্বিতীয় খণ্ড একই বছরের জুন মাসে প্রকাশিত হয়। এই বইটিতে বিদ্যাসাগর বাংলা বর্ণমালাকে একটি নির্দিষ্ট ক্রমে সাজিয়েছিলেন এবং প্রতিটি বর্ণের সঙ্গে সহজবোধ্য শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করে শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ করে তুলেছিলেন। তিনি প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের বিন্যাস এবং তাদের উচ্চারণ পদ্ধতির উপর বিশেষ জোর দেন। এই বইয়ের মাধ্যমে শিশুরা কেবল অক্ষর জ্ঞানই লাভ করেনি, বরং সহজ সরল বাক্য গঠনের মাধ্যমে তাদের ভাষা শিক্ষার ভিত্তিও মজবুত হয়েছিল।
‘বর্ণ পরিচয়’-এর পূর্বে বাংলা শিক্ষার ক্ষেত্রে যে বিশৃঙ্খলা ছিল, বিদ্যাসাগর তা দূর করেন। তিনি প্রচলিত পুঁথিগত বিদ্যা এবং মুখস্থ করার পদ্ধতির পরিবর্তে শিশুদের জন্য সহজবোধ্য ও আনন্দদায়ক শিক্ষাপদ্ধতির প্রবর্তন করেন। এই বইটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় এবং গণশিক্ষার প্রসারে এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে। এটি কেবল শিশুদের অক্ষর জ্ঞানই দেয়নি, বরং তাদের মধ্যে পঠন-পাঠনের আগ্রহও তৈরি করেছিল।
বিদ্যাসাগরের এই রচনাটি বাংলা শিক্ষাব্যবস্থায় একটি আদর্শ পাঠ্যপুস্তক হিসেবে গৃহীত হয় এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। এটি বাংলা ভাষার প্রাথমিক শিক্ষার একটি মানদণ্ড স্থাপন করে এবং পরবর্তীকালে রচিত বহু পাঠ্যপুস্তক এই বইয়ের পদ্ধতি অনুসরণ করে। ‘বর্ণ পরিচয়’ গণশিক্ষার প্রসারে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল যে, এটিকে বাংলা নবজাগরণের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই বইয়ের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা, সহজে বাংলা ভাষা শিখতে সক্ষম হয় এবং এটি নিরক্ষরতা দূরীকরণে এক বিশাল অবদান রাখে।
Incorrectঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের যে রচনাটি গণশিক্ষার ভিত্তি নির্মাণ করেছিল, সেটি হলো (D) বর্ণ পরিচয়।
‘বর্ণ পরিচয়’ ছিল বাংলা ভাষার প্রাথমিক শিক্ষার জন্য রচিত একটি যুগান্তকারী গ্রন্থ। এই বইটি বাংলা বর্ণমালা এবং প্রাথমিক শব্দ জ্ঞান শেখানোর জন্য একটি সুসংবদ্ধ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল। এর পূর্বে বাংলা ভাষা শেখানোর জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো পাঠ্যপুস্তক ছিল না, অথবা যা ছিল তা ছিল অগোছালো ও ত্রুটিপূর্ণ। বিদ্যাসাগর এই অভাব পূরণ করে ‘বর্ণ পরিচয়’ রচনা করেন, যা বাংলা শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
‘বর্ণ পরিচয়’ দুটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম খণ্ড ১৮৫৫ সালের এপ্রিল মাসে এবং দ্বিতীয় খণ্ড একই বছরের জুন মাসে প্রকাশিত হয়। এই বইটিতে বিদ্যাসাগর বাংলা বর্ণমালাকে একটি নির্দিষ্ট ক্রমে সাজিয়েছিলেন এবং প্রতিটি বর্ণের সঙ্গে সহজবোধ্য শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করে শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ করে তুলেছিলেন। তিনি প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের বিন্যাস এবং তাদের উচ্চারণ পদ্ধতির উপর বিশেষ জোর দেন। এই বইয়ের মাধ্যমে শিশুরা কেবল অক্ষর জ্ঞানই লাভ করেনি, বরং সহজ সরল বাক্য গঠনের মাধ্যমে তাদের ভাষা শিক্ষার ভিত্তিও মজবুত হয়েছিল।
‘বর্ণ পরিচয়’-এর পূর্বে বাংলা শিক্ষার ক্ষেত্রে যে বিশৃঙ্খলা ছিল, বিদ্যাসাগর তা দূর করেন। তিনি প্রচলিত পুঁথিগত বিদ্যা এবং মুখস্থ করার পদ্ধতির পরিবর্তে শিশুদের জন্য সহজবোধ্য ও আনন্দদায়ক শিক্ষাপদ্ধতির প্রবর্তন করেন। এই বইটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় এবং গণশিক্ষার প্রসারে এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে। এটি কেবল শিশুদের অক্ষর জ্ঞানই দেয়নি, বরং তাদের মধ্যে পঠন-পাঠনের আগ্রহও তৈরি করেছিল।
বিদ্যাসাগরের এই রচনাটি বাংলা শিক্ষাব্যবস্থায় একটি আদর্শ পাঠ্যপুস্তক হিসেবে গৃহীত হয় এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। এটি বাংলা ভাষার প্রাথমিক শিক্ষার একটি মানদণ্ড স্থাপন করে এবং পরবর্তীকালে রচিত বহু পাঠ্যপুস্তক এই বইয়ের পদ্ধতি অনুসরণ করে। ‘বর্ণ পরিচয়’ গণশিক্ষার প্রসারে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল যে, এটিকে বাংলা নবজাগরণের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই বইয়ের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা, সহজে বাংলা ভাষা শিখতে সক্ষম হয় এবং এটি নিরক্ষরতা দূরীকরণে এক বিশাল অবদান রাখে।
- Question 16 of 55
16. Question
1 points16. ‘কাটে সিস’ কথাটি বণ্টনের কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
( confusion question)CorrectIncorrect - Question 17 of 55
17. Question
1 points17. সংগতি বিধান বলতে কী বোঝায়?
Correctসংগতি বিধান (Adjustment) বলতে বোঝায় ব্যক্তি তার চাহিদা ও ইচ্ছাকে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নেওয়া, যাতে সে মানসিক ও সামাজিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে।
উদাহরণ: নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্রের নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো।
অন্যান্য বিকল্পের বিশ্লেষণ:
অভ্যন্তরীণ সংহতি – এটি সমন্বয়ের (integration) সঙ্গে সম্পর্কিত, সংগতি বিধান নয়।
অন্যদের সঙ্গে মানিয়ে চলা – এটি সংগতি বিধানের একটি অংশ, কিন্তু পূর্ণ সংজ্ঞা নয়।
অভ্যন্তরীণ তাগিদ অগ্রাহ্য করা – এটি সংঘাত সমাধান নয়, বরং দমন।
✅ তাই সবচেয়ে সঠিক উত্তর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলা।
Incorrectসংগতি বিধান (Adjustment) বলতে বোঝায় ব্যক্তি তার চাহিদা ও ইচ্ছাকে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নেওয়া, যাতে সে মানসিক ও সামাজিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে।
উদাহরণ: নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্রের নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো।
অন্যান্য বিকল্পের বিশ্লেষণ:
অভ্যন্তরীণ সংহতি – এটি সমন্বয়ের (integration) সঙ্গে সম্পর্কিত, সংগতি বিধান নয়।
অন্যদের সঙ্গে মানিয়ে চলা – এটি সংগতি বিধানের একটি অংশ, কিন্তু পূর্ণ সংজ্ঞা নয়।
অভ্যন্তরীণ তাগিদ অগ্রাহ্য করা – এটি সংঘাত সমাধান নয়, বরং দমন।
✅ তাই সবচেয়ে সঠিক উত্তর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলা।
- Question 18 of 55
18. Question
1 points18. কোনটি উদ্বেগের একটি রকমফের?
Correctপ্রদত্ত প্রশ্নটি উদ্বেগের একটি রকমফের সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। বিকল্পগুলির মধ্যে কোনটি উদ্বেগের একটি প্রকারভেদ, তা নির্ণয় করতে হলে প্রতিটি বিকল্পের সংজ্ঞা এবং উদ্বেগের সাথে তাদের সম্পর্ক বিশদভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।
উদ্বেগ (Anxiety)
উদ্বেগ হলো একটি মানসিক অবস্থা যা ভয়, দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা এবং শারীরিক অস্বস্তি দ্বারা চিহ্নিত। এটি ভবিষ্যতের কোনো সম্ভাব্য বিপদ বা হুমকির প্রতিক্রিয়ায় উদ্ভূত হতে পারে। ( Concise Medical Dictionary ) উদ্বেগ একটি স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি হতে পারে, যা মানুষকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তবে, যখন উদ্বেগ অত্যধিক, দীর্ঘস্থায়ী এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়, তখন এটিকে একটি মানসিক ব্যাধি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ( The Gale Encyclopedia of Medicine )উদ্বেগের বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জেনারেলাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার (GAD), প্যানিক ডিসঅর্ডার, সোশ্যাল অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার এবং ফোবিয়া। ( Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders )
বিকল্পগুলির বিশ্লেষণ
(A) ফোবিয়া (Phobia)
ফোবিয়া হলো একটি নির্দিষ্ট বস্তু, পরিস্থিতি বা কার্যকলাপের প্রতি তীব্র, অযৌক্তিক এবং অপ্রতিরোধ্য ভয়। ( Oxford English Dictionary ) এই ভয় এতটাই তীব্র হতে পারে যে, আক্রান্ত ব্যক্তি সেই বস্তু বা পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে চায়, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গুরুতর ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ( The Gale Encyclopedia of Medicine ) ফোবিয়াকে উদ্বেগের একটি নির্দিষ্ট প্রকারভেদ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়, কারণ এর মূল উপাদান হলো তীব্র উদ্বেগ যা একটি নির্দিষ্ট উদ্দীপকের প্রতি কেন্দ্রীভূত। ( Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders )উদাহরণস্বরূপ, অ্যাক্রোফোবিয়া (উচ্চতার ভয়), অ্যারাকনোফোবিয়া (মাকড়সার ভয়), বা অ্যাগোরাফোবিয়া (খোলা বা জনাকীর্ণ স্থানের ভয়) হলো বিভিন্ন ধরণের ফোবিয়া। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই, ভয় এবং উদ্বেগ একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
(B) বুলিমিয়া (Bulimia)
বুলিমিয়া, যা বুলিমিয়া নার্ভোসা (Bulimia Nervosa) নামেও পরিচিত, হলো একটি গুরুতর খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি (eating disorder)। ( Concise Medical Dictionary ) এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বারবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করে (binge eating) এবং তারপর ওজন বৃদ্ধি রোধ করার জন্য অস্বাভাবিক আচরণ করে, যেমন – বমি করা, রেচক ব্যবহার করা, অতিরিক্ত ব্যায়াম করা বা উপবাস করা। ( The Gale Encyclopedia of Medicine ) বুলিমিয়া মূলত শরীরের ওজন এবং আকৃতি নিয়ে অত্যধিক উদ্বেগের সাথে সম্পর্কিত, তবে এটি সরাসরি উদ্বেগের একটি প্রকারভেদ নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র মানসিক ব্যাধি। ( Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders ) যদিও উদ্বেগ এবং হতাশা বুলিমিয়ার সাথে প্রায়শই সহাবস্থান করে, বুলিমিয়াকে উদ্বেগের একটি রকমফের হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয় না।(C) ইনসমনিয়া (Insomnia)
ইনসমনিয়া হলো একটি ঘুমের ব্যাধি (sleep disorder) যেখানে একজন ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়তে বা ঘুমিয়ে থাকতে অসুবিধা অনুভব করে। ( Oxford English Dictionary ) এর ফলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব এবং মেজাজের পরিবর্তন হতে পারে। ( The Gale Encyclopedia of Medicine ) ইনসমনিয়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যার মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হতাশা এবং কিছু শারীরিক অসুস্থতা অন্তর্ভুক্ত। ( Concise Medical Dictionary ) যদিও উদ্বেগ ইনসমনিয়ার একটি কারণ হতে পারে, ইনসমনিয়া নিজেই উদ্বেগের একটি রকমফের নয়, বরং একটি পৃথক ব্যাধি।(D) অ্যানোরেকসিয়া (Anorexia)
অ্যানোরেকসিয়া, যা অ্যানোরেকসিয়া নার্ভোসা (Anorexia Nervosa) নামেও পরিচিত, হলো আরেকটি গুরুতর খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি। ( Concise Medical Dictionary ) এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা শরীরের ওজন নিয়ে তীব্র ভয় পায় এবং নিজেদেরকে অতিরিক্ত মোটা মনে করে, এমনকি যখন তারা মারাত্মকভাবে কম ওজনের হয়। ( The Gale Encyclopedia of Medicine ) এর ফলে তারা খাবার গ্রহণ মারাত্মকভাবে সীমিত করে এবং ওজন কমানোর জন্য অস্বাভাবিক আচরণ করে। ( Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders ) বুলিমিয়ার মতোই, অ্যানোরেকসিয়াও একটি স্বতন্ত্র মানসিক ব্যাধি এবং উদ্বেগের একটি রকমফের নয়, যদিও উদ্বেগ এবং শরীরের চিত্র নিয়ে বিকৃত ধারণা এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।উপসংহার
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, ফোবিয়া হলো উদ্বেগের একটি নির্দিষ্ট প্রকারভেদ, যেখানে উদ্বেগ একটি নির্দিষ্ট বস্তু বা পরিস্থিতির প্রতি কেন্দ্রীভূত হয়। বুলিমিয়া, ইনসমনিয়া এবং অ্যানোরেকসিয়া হলো স্বতন্ত্র ব্যাধি, যদিও এগুলি উদ্বেগের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে বা উদ্বেগের কারণে উদ্ভূত হতে পারে।অতএব, সঠিক উত্তর হলো (A) ফোবিয়া।
Incorrectপ্রদত্ত প্রশ্নটি উদ্বেগের একটি রকমফের সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। বিকল্পগুলির মধ্যে কোনটি উদ্বেগের একটি প্রকারভেদ, তা নির্ণয় করতে হলে প্রতিটি বিকল্পের সংজ্ঞা এবং উদ্বেগের সাথে তাদের সম্পর্ক বিশদভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।
উদ্বেগ (Anxiety)
উদ্বেগ হলো একটি মানসিক অবস্থা যা ভয়, দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা এবং শারীরিক অস্বস্তি দ্বারা চিহ্নিত। এটি ভবিষ্যতের কোনো সম্ভাব্য বিপদ বা হুমকির প্রতিক্রিয়ায় উদ্ভূত হতে পারে। ( Concise Medical Dictionary ) উদ্বেগ একটি স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি হতে পারে, যা মানুষকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তবে, যখন উদ্বেগ অত্যধিক, দীর্ঘস্থায়ী এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়, তখন এটিকে একটি মানসিক ব্যাধি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ( The Gale Encyclopedia of Medicine )উদ্বেগের বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জেনারেলাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার (GAD), প্যানিক ডিসঅর্ডার, সোশ্যাল অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার এবং ফোবিয়া। ( Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders )
বিকল্পগুলির বিশ্লেষণ
(A) ফোবিয়া (Phobia)
ফোবিয়া হলো একটি নির্দিষ্ট বস্তু, পরিস্থিতি বা কার্যকলাপের প্রতি তীব্র, অযৌক্তিক এবং অপ্রতিরোধ্য ভয়। ( Oxford English Dictionary ) এই ভয় এতটাই তীব্র হতে পারে যে, আক্রান্ত ব্যক্তি সেই বস্তু বা পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে চায়, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গুরুতর ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ( The Gale Encyclopedia of Medicine ) ফোবিয়াকে উদ্বেগের একটি নির্দিষ্ট প্রকারভেদ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়, কারণ এর মূল উপাদান হলো তীব্র উদ্বেগ যা একটি নির্দিষ্ট উদ্দীপকের প্রতি কেন্দ্রীভূত। ( Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders )উদাহরণস্বরূপ, অ্যাক্রোফোবিয়া (উচ্চতার ভয়), অ্যারাকনোফোবিয়া (মাকড়সার ভয়), বা অ্যাগোরাফোবিয়া (খোলা বা জনাকীর্ণ স্থানের ভয়) হলো বিভিন্ন ধরণের ফোবিয়া। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই, ভয় এবং উদ্বেগ একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
(B) বুলিমিয়া (Bulimia)
বুলিমিয়া, যা বুলিমিয়া নার্ভোসা (Bulimia Nervosa) নামেও পরিচিত, হলো একটি গুরুতর খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি (eating disorder)। ( Concise Medical Dictionary ) এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বারবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করে (binge eating) এবং তারপর ওজন বৃদ্ধি রোধ করার জন্য অস্বাভাবিক আচরণ করে, যেমন – বমি করা, রেচক ব্যবহার করা, অতিরিক্ত ব্যায়াম করা বা উপবাস করা। ( The Gale Encyclopedia of Medicine ) বুলিমিয়া মূলত শরীরের ওজন এবং আকৃতি নিয়ে অত্যধিক উদ্বেগের সাথে সম্পর্কিত, তবে এটি সরাসরি উদ্বেগের একটি প্রকারভেদ নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র মানসিক ব্যাধি। ( Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders ) যদিও উদ্বেগ এবং হতাশা বুলিমিয়ার সাথে প্রায়শই সহাবস্থান করে, বুলিমিয়াকে উদ্বেগের একটি রকমফের হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয় না।(C) ইনসমনিয়া (Insomnia)
ইনসমনিয়া হলো একটি ঘুমের ব্যাধি (sleep disorder) যেখানে একজন ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়তে বা ঘুমিয়ে থাকতে অসুবিধা অনুভব করে। ( Oxford English Dictionary ) এর ফলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব এবং মেজাজের পরিবর্তন হতে পারে। ( The Gale Encyclopedia of Medicine ) ইনসমনিয়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যার মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হতাশা এবং কিছু শারীরিক অসুস্থতা অন্তর্ভুক্ত। ( Concise Medical Dictionary ) যদিও উদ্বেগ ইনসমনিয়ার একটি কারণ হতে পারে, ইনসমনিয়া নিজেই উদ্বেগের একটি রকমফের নয়, বরং একটি পৃথক ব্যাধি।(D) অ্যানোরেকসিয়া (Anorexia)
অ্যানোরেকসিয়া, যা অ্যানোরেকসিয়া নার্ভোসা (Anorexia Nervosa) নামেও পরিচিত, হলো আরেকটি গুরুতর খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি। ( Concise Medical Dictionary ) এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা শরীরের ওজন নিয়ে তীব্র ভয় পায় এবং নিজেদেরকে অতিরিক্ত মোটা মনে করে, এমনকি যখন তারা মারাত্মকভাবে কম ওজনের হয়। ( The Gale Encyclopedia of Medicine ) এর ফলে তারা খাবার গ্রহণ মারাত্মকভাবে সীমিত করে এবং ওজন কমানোর জন্য অস্বাভাবিক আচরণ করে। ( Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders ) বুলিমিয়ার মতোই, অ্যানোরেকসিয়াও একটি স্বতন্ত্র মানসিক ব্যাধি এবং উদ্বেগের একটি রকমফের নয়, যদিও উদ্বেগ এবং শরীরের চিত্র নিয়ে বিকৃত ধারণা এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।উপসংহার
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, ফোবিয়া হলো উদ্বেগের একটি নির্দিষ্ট প্রকারভেদ, যেখানে উদ্বেগ একটি নির্দিষ্ট বস্তু বা পরিস্থিতির প্রতি কেন্দ্রীভূত হয়। বুলিমিয়া, ইনসমনিয়া এবং অ্যানোরেকসিয়া হলো স্বতন্ত্র ব্যাধি, যদিও এগুলি উদ্বেগের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে বা উদ্বেগের কারণে উদ্ভূত হতে পারে।অতএব, সঠিক উত্তর হলো (A) ফোবিয়া।
- Question 19 of 55
19. Question
1 points19. কোন ছাত্রের নম্বরের শতাংশ বিন্দু 85 তম হলে কোনটি ঠিক
Correctশতাংশ বিন্দু (percentile) একটি পরিসংখ্যানগত পরিমাপ যা একটি ডেটা সেটের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মানের আপেক্ষিক অবস্থান নির্দেশ করে। যখন বলা হয় যে একজন ছাত্রের নম্বরের শতাংশ বিন্দু 85 তম, এর অর্থ হল সেই ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বর ডেটা সেটের 85% নম্বরের চেয়ে বেশি বা সমান। এটি সরাসরি তার প্রাপ্ত নম্বরের শতাংশ বা গড় নম্বরকে বোঝায় না।
একটি শতাংশ বিন্দু
P
k
হল সেই মান যার নিচে ডেটা সেটের
k
শতাংশ মান থাকে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন ছাত্রের নম্বর 85 তম শতাংশ বিন্দুতে থাকে, তাহলে এর অর্থ হল:85% ছাত্র তার থেকে কম নম্বর পেয়েছে। ( A Dictionary of Statistics )
বাকি 15% ছাত্র তার সমান বা তার থেকে বেশি নম্বর পেয়েছে।
এটি নিম্নলিখিত বিকল্পগুলির মধ্যে সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করে:(A) সে 85% নম্বর পেয়েছে: এটি ভুল। শতাংশ বিন্দু প্রাপ্ত নম্বরের শতাংশকে নির্দেশ করে না। একজন ছাত্র 70% নম্বর পেয়েও 85 তম শতাংশ বিন্দুতে থাকতে পারে যদি বেশিরভাগ ছাত্র 70% এর কম নম্বর পেয়ে থাকে। ( Statistics in a Nutshell )
(B) তার গড় নম্বর 85: এটি ভুল। শতাংশ বিন্দু গড় নম্বরকে নির্দেশ করে না। গড় নম্বর হল সমস্ত নম্বরের যোগফলকে মোট ছাত্র সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত মান। ( The Oxford Dictionary of Statistical Terms )
(C) 85 % ছাত্র তার চেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে: এটি ভুল। এর অর্থ হবে ছাত্রটি সর্বনিম্ন 15% এর মধ্যে আছে, যা 85 তম শতাংশ বিন্দুর বিপরীত।
(D) 85% ছাত্র তার থেকে কম নম্বর পেয়েছে: এটি সঠিক। 85 তম শতাংশ বিন্দুতে থাকার অর্থ হল ডেটা সেটের 85% মান এই ছাত্রের নম্বরের নিচে বা সমান। ( The Penguin Dictionary of Mathematics )
অতএব, সঠিক উত্তর হল (D)।
Incorrectশতাংশ বিন্দু (percentile) একটি পরিসংখ্যানগত পরিমাপ যা একটি ডেটা সেটের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মানের আপেক্ষিক অবস্থান নির্দেশ করে। যখন বলা হয় যে একজন ছাত্রের নম্বরের শতাংশ বিন্দু 85 তম, এর অর্থ হল সেই ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বর ডেটা সেটের 85% নম্বরের চেয়ে বেশি বা সমান। এটি সরাসরি তার প্রাপ্ত নম্বরের শতাংশ বা গড় নম্বরকে বোঝায় না।
একটি শতাংশ বিন্দু
P
k
হল সেই মান যার নিচে ডেটা সেটের
k
শতাংশ মান থাকে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন ছাত্রের নম্বর 85 তম শতাংশ বিন্দুতে থাকে, তাহলে এর অর্থ হল:85% ছাত্র তার থেকে কম নম্বর পেয়েছে। ( A Dictionary of Statistics )
বাকি 15% ছাত্র তার সমান বা তার থেকে বেশি নম্বর পেয়েছে।
এটি নিম্নলিখিত বিকল্পগুলির মধ্যে সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করে:(A) সে 85% নম্বর পেয়েছে: এটি ভুল। শতাংশ বিন্দু প্রাপ্ত নম্বরের শতাংশকে নির্দেশ করে না। একজন ছাত্র 70% নম্বর পেয়েও 85 তম শতাংশ বিন্দুতে থাকতে পারে যদি বেশিরভাগ ছাত্র 70% এর কম নম্বর পেয়ে থাকে। ( Statistics in a Nutshell )
(B) তার গড় নম্বর 85: এটি ভুল। শতাংশ বিন্দু গড় নম্বরকে নির্দেশ করে না। গড় নম্বর হল সমস্ত নম্বরের যোগফলকে মোট ছাত্র সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত মান। ( The Oxford Dictionary of Statistical Terms )
(C) 85 % ছাত্র তার চেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে: এটি ভুল। এর অর্থ হবে ছাত্রটি সর্বনিম্ন 15% এর মধ্যে আছে, যা 85 তম শতাংশ বিন্দুর বিপরীত।
(D) 85% ছাত্র তার থেকে কম নম্বর পেয়েছে: এটি সঠিক। 85 তম শতাংশ বিন্দুতে থাকার অর্থ হল ডেটা সেটের 85% মান এই ছাত্রের নম্বরের নিচে বা সমান। ( The Penguin Dictionary of Mathematics )
অতএব, সঠিক উত্তর হল (D)।
- Question 20 of 55
20. Question
1 points20. কোনটি পরামর্শ দানের প্রকারভেদ নয়?
CorrectShare
পরামর্শ দানের প্রকারভেদ
পরামর্শ দান (Counseling) একটি প্রক্রিয়া যেখানে একজন প্রশিক্ষিত পেশাদার ব্যক্তি (পরামর্শদাতা) একজন ব্যক্তিকে (পরামর্শপ্রার্থী) তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, মানসিক বা পেশাগত সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেন। পরামর্শ দানের বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে, যা মূলত পরামর্শদাতার ভূমিকা এবং পরামর্শপ্রার্থীর স্বায়ত্তশাসনের মাত্রার উপর নির্ভর করে। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, কোনটি পরামর্শ দানের প্রকারভেদ নয় তা নির্ধারণ করতে হলে প্রতিটি বিকল্পের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।নির্দেশিত পরামর্শ দান (Directive Counseling)
নির্দেশিত পরামর্শ দান, যা প্রেশক্রিপটিভ বা পরামর্শদাতা-কেন্দ্রিক পরামর্শ দান নামেও পরিচিত, সেখানে পরামর্শদাতা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই পদ্ধতিতে, পরামর্শদাতা পরামর্শপ্রার্থীর সমস্যাগুলি বিশ্লেষণ করেন, বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তারপর সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা বা পরামর্শ প্রদান করেন। পরামর্শপ্রার্থী মূলত পরামর্শদাতার নির্দেশ অনুসরণ করেন। এই পদ্ধতিটি সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয় যেখানে পরামর্শপ্রার্থীর দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন হয় এবং তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হন। উইলিয়ামসন (Williamson) এই পদ্ধতির একজন প্রধান প্রবক্তা ছিলেন। ( Theories of Counseling and Psychotherapy )অনির্দেশিত পরামর্শ দান (Non-Directive Counseling)
অনির্দেশিত পরামর্শ দান, যা ক্লায়েন্ট-কেন্দ্রিক বা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক পরামর্শ দান নামেও পরিচিত, সেখানে পরামর্শপ্রার্থীকে অধিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে, পরামর্শদাতা পরামর্শপ্রার্থীকে তাদের অনুভূতি, চিন্তা এবং সমস্যাগুলি অন্বেষণ করতে উৎসাহিত করেন, কিন্তু সরাসরি কোনো সমাধান বা নির্দেশনা দেন না। পরামর্শদাতার ভূমিকা হলো একটি সহায়ক এবং সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে পরামর্শপ্রার্থী নিজেদের সমস্যাগুলি উপলব্ধি করতে এবং নিজেদের সমাধান খুঁজে বের করতে সক্ষম হন। কার্ল রজার্স (Carl Rogers) এই পদ্ধতির প্রধান প্রবক্তা ছিলেন। ( On Becoming a Person: A Therapist’s View of Psychotherapy ) এই পদ্ধতিতে, পরামর্শদাতা সহানুভূতি, নিঃশর্ত ইতিবাচক শ্রদ্ধা এবং সঙ্গতি (congruence) প্রদর্শন করেন।মুক্ত পরামর্শ দান (Eclectic Counseling)
মুক্ত পরামর্শ দান একটি সমন্বিত পদ্ধতি, যেখানে পরামর্শদাতা বিভিন্ন পরামর্শ দান পদ্ধতির উপাদানগুলিকে একত্রিত করে ব্যবহার করেন। এই পদ্ধতিতে, পরামর্শদাতা পরামর্শপ্রার্থীর নির্দিষ্ট চাহিদা এবং সমস্যার উপর ভিত্তি করে নির্দেশিত এবং অনির্দেশিত উভয় পদ্ধতির কৌশলগুলি প্রয়োগ করেন। এর লক্ষ্য হলো প্রতিটি পরামর্শপ্রার্থীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর এবং উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করা। এটি কোনো একক তত্ত্বের উপর নির্ভর না করে, বিভিন্ন তত্ত্বের সেরা দিকগুলিকে গ্রহণ করে। ( Counseling and Psychotherapy: Theories and Interventions )মানসিক (Psychological)
‘মানসিক’ শব্দটি পরামর্শ দানের একটি প্রকারভেদ নয়, বরং এটি পরামর্শ দানের একটি ক্ষেত্র বা দিক নির্দেশ করে। পরামর্শ দান প্রক্রিয়াটি মূলত মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার সাথে সম্পর্কিত। এটি মানুষের আবেগ, চিন্তা, আচরণ এবং সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে। ‘মানসিক’ বলতে পরামর্শ দানের প্রকৃতি বা বিষয়বস্তুকে বোঝায়, কিন্তু এটি পরামর্শ দানের কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা প্রকারভেদকে নির্দেশ করে না। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি মানসিক সমস্যা সমাধানের জন্য পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন, কিন্তু ‘মানসিক’ নিজেই একটি পরামর্শ দানের প্রকারভেদ নয়। এটি পরামর্শ দানের একটি বিশেষণ, যা পরামর্শ দানের উদ্দেশ্য বা বিষয়বস্তুকে বর্ণনা করে। ( APA Dictionary of Psychology )সুতরাং, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, (D) মানসিক পরামর্শ দানের প্রকারভেদ নয়। এটি পরামর্শ দানের একটি বৈশিষ্ট্য বা ক্ষেত্র।
IncorrectShare
পরামর্শ দানের প্রকারভেদ
পরামর্শ দান (Counseling) একটি প্রক্রিয়া যেখানে একজন প্রশিক্ষিত পেশাদার ব্যক্তি (পরামর্শদাতা) একজন ব্যক্তিকে (পরামর্শপ্রার্থী) তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, মানসিক বা পেশাগত সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেন। পরামর্শ দানের বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে, যা মূলত পরামর্শদাতার ভূমিকা এবং পরামর্শপ্রার্থীর স্বায়ত্তশাসনের মাত্রার উপর নির্ভর করে। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, কোনটি পরামর্শ দানের প্রকারভেদ নয় তা নির্ধারণ করতে হলে প্রতিটি বিকল্পের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।নির্দেশিত পরামর্শ দান (Directive Counseling)
নির্দেশিত পরামর্শ দান, যা প্রেশক্রিপটিভ বা পরামর্শদাতা-কেন্দ্রিক পরামর্শ দান নামেও পরিচিত, সেখানে পরামর্শদাতা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই পদ্ধতিতে, পরামর্শদাতা পরামর্শপ্রার্থীর সমস্যাগুলি বিশ্লেষণ করেন, বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তারপর সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা বা পরামর্শ প্রদান করেন। পরামর্শপ্রার্থী মূলত পরামর্শদাতার নির্দেশ অনুসরণ করেন। এই পদ্ধতিটি সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয় যেখানে পরামর্শপ্রার্থীর দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন হয় এবং তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হন। উইলিয়ামসন (Williamson) এই পদ্ধতির একজন প্রধান প্রবক্তা ছিলেন। ( Theories of Counseling and Psychotherapy )অনির্দেশিত পরামর্শ দান (Non-Directive Counseling)
অনির্দেশিত পরামর্শ দান, যা ক্লায়েন্ট-কেন্দ্রিক বা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক পরামর্শ দান নামেও পরিচিত, সেখানে পরামর্শপ্রার্থীকে অধিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে, পরামর্শদাতা পরামর্শপ্রার্থীকে তাদের অনুভূতি, চিন্তা এবং সমস্যাগুলি অন্বেষণ করতে উৎসাহিত করেন, কিন্তু সরাসরি কোনো সমাধান বা নির্দেশনা দেন না। পরামর্শদাতার ভূমিকা হলো একটি সহায়ক এবং সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে পরামর্শপ্রার্থী নিজেদের সমস্যাগুলি উপলব্ধি করতে এবং নিজেদের সমাধান খুঁজে বের করতে সক্ষম হন। কার্ল রজার্স (Carl Rogers) এই পদ্ধতির প্রধান প্রবক্তা ছিলেন। ( On Becoming a Person: A Therapist’s View of Psychotherapy ) এই পদ্ধতিতে, পরামর্শদাতা সহানুভূতি, নিঃশর্ত ইতিবাচক শ্রদ্ধা এবং সঙ্গতি (congruence) প্রদর্শন করেন।মুক্ত পরামর্শ দান (Eclectic Counseling)
মুক্ত পরামর্শ দান একটি সমন্বিত পদ্ধতি, যেখানে পরামর্শদাতা বিভিন্ন পরামর্শ দান পদ্ধতির উপাদানগুলিকে একত্রিত করে ব্যবহার করেন। এই পদ্ধতিতে, পরামর্শদাতা পরামর্শপ্রার্থীর নির্দিষ্ট চাহিদা এবং সমস্যার উপর ভিত্তি করে নির্দেশিত এবং অনির্দেশিত উভয় পদ্ধতির কৌশলগুলি প্রয়োগ করেন। এর লক্ষ্য হলো প্রতিটি পরামর্শপ্রার্থীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর এবং উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করা। এটি কোনো একক তত্ত্বের উপর নির্ভর না করে, বিভিন্ন তত্ত্বের সেরা দিকগুলিকে গ্রহণ করে। ( Counseling and Psychotherapy: Theories and Interventions )মানসিক (Psychological)
‘মানসিক’ শব্দটি পরামর্শ দানের একটি প্রকারভেদ নয়, বরং এটি পরামর্শ দানের একটি ক্ষেত্র বা দিক নির্দেশ করে। পরামর্শ দান প্রক্রিয়াটি মূলত মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার সাথে সম্পর্কিত। এটি মানুষের আবেগ, চিন্তা, আচরণ এবং সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে। ‘মানসিক’ বলতে পরামর্শ দানের প্রকৃতি বা বিষয়বস্তুকে বোঝায়, কিন্তু এটি পরামর্শ দানের কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা প্রকারভেদকে নির্দেশ করে না। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি মানসিক সমস্যা সমাধানের জন্য পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন, কিন্তু ‘মানসিক’ নিজেই একটি পরামর্শ দানের প্রকারভেদ নয়। এটি পরামর্শ দানের একটি বিশেষণ, যা পরামর্শ দানের উদ্দেশ্য বা বিষয়বস্তুকে বর্ণনা করে। ( APA Dictionary of Psychology )সুতরাং, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, (D) মানসিক পরামর্শ দানের প্রকারভেদ নয়। এটি পরামর্শ দানের একটি বৈশিষ্ট্য বা ক্ষেত্র।
- Question 21 of 55
21. Question
1 points21. স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী কে ছিলেন?
Correctস্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী
স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ।মৌলানা আবুল কালাম আজাদ (জন্ম: ১১ নভেম্বর ১৮৮৮, মৃত্যু: ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮) ছিলেন একজন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, ইসলামী ধর্মতত্ত্ববিদ, লেখক এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন বরিষ্ঠ নেতা। তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ( The New Encyclopaedia Britannica )
শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তাঁর কার্যকালে তিনি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (University Grants Commission – UGC), অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (All India Council for Technical Education – AICTE), এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (Indian Institutes of Technology – IITs) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ( India’s Struggle for Freedom )
মৌলানা আজাদ শিক্ষাকে দেশের উন্নয়নের একটি অপরিহার্য স্তম্ভ হিসেবে দেখতেন এবং সকলের জন্য শিক্ষার প্রসারে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষায় জোর দিয়েছিলেন এবং ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ( Maulana Abul Kalam Azad: A Short Biography )
তাঁর নেতৃত্বে, ভারত সরকার প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন ও প্রসারে মনোনিবেশ করে। তিনি নারী শিক্ষার প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দেন। ( The Oxford Companion to Indian Politics )
অতএব, সঠিক উত্তর হল (A) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ।
Incorrectস্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী
স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ।মৌলানা আবুল কালাম আজাদ (জন্ম: ১১ নভেম্বর ১৮৮৮, মৃত্যু: ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮) ছিলেন একজন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, ইসলামী ধর্মতত্ত্ববিদ, লেখক এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন বরিষ্ঠ নেতা। তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ( The New Encyclopaedia Britannica )
শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তাঁর কার্যকালে তিনি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (University Grants Commission – UGC), অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (All India Council for Technical Education – AICTE), এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (Indian Institutes of Technology – IITs) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ( India’s Struggle for Freedom )
মৌলানা আজাদ শিক্ষাকে দেশের উন্নয়নের একটি অপরিহার্য স্তম্ভ হিসেবে দেখতেন এবং সকলের জন্য শিক্ষার প্রসারে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষায় জোর দিয়েছিলেন এবং ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ( Maulana Abul Kalam Azad: A Short Biography )
তাঁর নেতৃত্বে, ভারত সরকার প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন ও প্রসারে মনোনিবেশ করে। তিনি নারী শিক্ষার প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দেন। ( The Oxford Companion to Indian Politics )
অতএব, সঠিক উত্তর হল (A) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ।
- Question 22 of 55
22. Question
1 points22. কত খ্রীষ্টাব্দে এশিয়াটিক সোসাইটি স্থাপিত হয়?
Correctএশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠা
এশিয়াটিক সোসাইটি (The Asiatic Society) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে।স্যার উইলিয়াম জোনস (Sir William Jones) ১৭৮৪ সালের ১৫ই জানুয়ারি কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রাচ্যবিদ্যা (Oriental studies) গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল এশিয়া মহাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, শিল্পকলা এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষণ ও প্রচার করা। ( The New Encyclopaedia Britannica ) ( Encyclopedia Americana ) ( Chambers’s Encyclopaedia )
প্রাথমিকভাবে, এর নাম ছিল “এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল” (Asiatick Society of Bengal)। এর প্রতিষ্ঠার পেছনে স্যার উইলিয়াম জোনসের গভীর আগ্রহ এবং প্রাচ্য জ্ঞানচর্চার প্রতি তার অনুরাগ বিশেষভাবে কাজ করেছিল। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভাষাবিদ, আইনজ্ঞ এবং প্রাচ্যবিদ। এই সোসাইটির মাধ্যমে ভারতীয় এবং প্রাচ্য সংস্কৃতির প্রতি ইউরোপীয় পণ্ডিতদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং বহু প্রাচীন গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপি উদ্ধার ও অনুবাদ করা সম্ভব হয়। ( The Oxford English Dictionary ) ( The Cambridge History of India )
এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি বিভিন্ন গবেষণা পত্রিকা, যেমন “এশিয়াটিক রিসার্চেস” (Asiatick Researches) প্রকাশ করতে শুরু করে, যা প্রাচ্যবিদ্যা সংক্রান্ত গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, সাহিত্য এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে অসামান্য অবদান রেখেছে। ( A History of India )
অতএব, সঠিক উত্তর হল (D) 1784.
Incorrectএশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠা
এশিয়াটিক সোসাইটি (The Asiatic Society) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে।স্যার উইলিয়াম জোনস (Sir William Jones) ১৭৮৪ সালের ১৫ই জানুয়ারি কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রাচ্যবিদ্যা (Oriental studies) গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল এশিয়া মহাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, শিল্পকলা এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষণ ও প্রচার করা। ( The New Encyclopaedia Britannica ) ( Encyclopedia Americana ) ( Chambers’s Encyclopaedia )
প্রাথমিকভাবে, এর নাম ছিল “এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল” (Asiatick Society of Bengal)। এর প্রতিষ্ঠার পেছনে স্যার উইলিয়াম জোনসের গভীর আগ্রহ এবং প্রাচ্য জ্ঞানচর্চার প্রতি তার অনুরাগ বিশেষভাবে কাজ করেছিল। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভাষাবিদ, আইনজ্ঞ এবং প্রাচ্যবিদ। এই সোসাইটির মাধ্যমে ভারতীয় এবং প্রাচ্য সংস্কৃতির প্রতি ইউরোপীয় পণ্ডিতদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং বহু প্রাচীন গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপি উদ্ধার ও অনুবাদ করা সম্ভব হয়। ( The Oxford English Dictionary ) ( The Cambridge History of India )
এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি বিভিন্ন গবেষণা পত্রিকা, যেমন “এশিয়াটিক রিসার্চেস” (Asiatick Researches) প্রকাশ করতে শুরু করে, যা প্রাচ্যবিদ্যা সংক্রান্ত গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, সাহিত্য এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে অসামান্য অবদান রেখেছে। ( A History of India )
অতএব, সঠিক উত্তর হল (D) 1784.
- Question 23 of 55
23. Question
1 points23. Counselling and Therapy’ বইটির লেখক কে?
Correctসঠিক উত্তর হল (B) কার্ল রজার্স।
কার্ল রজার্স (Carl Rogers) একজন প্রভাবশালী আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী ছিলেন যিনি মানবতাবাদী মনোবিজ্ঞানের (humanistic psychology) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। তার কাজ মনোবিজ্ঞান এবং থেরাপির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছিল, বিশেষ করে তার “ক্লায়েন্ট-কেন্দ্রিক থেরাপি” (client-centered therapy) বা “ব্যক্তি-কেন্দ্রিক থেরাপি” (person-centered therapy) পদ্ধতির জন্য।
যদিও “Counselling and Therapy” শিরোনামে সরাসরি কোনো একক বই কার্ল রজার্সের লেখা হিসেবে সুপরিচিত নয়, তবে তার একাধিক কাজ কাউন্সেলিং এবং থেরাপির মৌলিক ধারণা এবং অনুশীলনের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং প্রভাবশালী কাজগুলির মধ্যে একটি হল Client-Centered Therapy: Its Current Practice, Implications, and Theory (1951)। এই বইটি তার থেরাপিউটিক পদ্ধতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং কাউন্সেলিং ও থেরাপির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
রজার্সের থেরাপিউটিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি ছিল এই বিশ্বাস যে প্রতিটি ব্যক্তির আত্ম-উপলব্ধি এবং ব্যক্তিগত বৃদ্ধির অন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে। থেরাপিস্টের ভূমিকা হল একটি সহায়ক, সহানুভূতিশীল এবং অ-বিচারমূলক পরিবেশ তৈরি করা যেখানে ক্লায়েন্ট তাদের নিজস্ব সমাধান খুঁজে পেতে পারে। এই পদ্ধতির তিনটি মূল শর্ত হল: শর্তহীন ইতিবাচক বিবেচনা (unconditional positive regard), সহানুভূতিশীল বোঝাপড়া (empathic understanding), এবং সঙ্গতি (congruence) বা সত্যতা (genuineness)।
ফ্রয়েড (Freud) ছিলেন মনোবিশ্লেষণের (psychoanalysis) জনক, এবং তার কাজ থেরাপির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তার পদ্ধতি রজার্সের থেকে ভিন্ন ছিল। ওয়াটসন (Watson) ছিলেন আচরণবাদের (behaviorism) একজন প্রধান প্রবক্তা, যার কাজ শেখার প্রক্রিয়া এবং পর্যবেক্ষণযোগ্য আচরণের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল। জি. ই. স্মিথ (G. E. Smith) কাউন্সেলিং বা থেরাপির ক্ষেত্রে কার্ল রজার্স, ফ্রয়েড বা ওয়াটসনের মতো সুপরিচিত নন।
সুতরাং, “Counselling and Therapy” শিরোনামটি সরাসরি কার্ল রজার্সের একটি বই না হলেও, তার কাজ এই ক্ষেত্রের উপর এতটাই প্রভাবশালী যে এই ধরনের একটি প্রশ্ন তাকে নির্দেশ করে। তার Client-Centered Therapy বইটি কাউন্সেলিং এবং থেরাপির উপর একটি মৌলিক পাঠ্য।
Incorrectসঠিক উত্তর হল (B) কার্ল রজার্স।
কার্ল রজার্স (Carl Rogers) একজন প্রভাবশালী আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী ছিলেন যিনি মানবতাবাদী মনোবিজ্ঞানের (humanistic psychology) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। তার কাজ মনোবিজ্ঞান এবং থেরাপির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছিল, বিশেষ করে তার “ক্লায়েন্ট-কেন্দ্রিক থেরাপি” (client-centered therapy) বা “ব্যক্তি-কেন্দ্রিক থেরাপি” (person-centered therapy) পদ্ধতির জন্য।
যদিও “Counselling and Therapy” শিরোনামে সরাসরি কোনো একক বই কার্ল রজার্সের লেখা হিসেবে সুপরিচিত নয়, তবে তার একাধিক কাজ কাউন্সেলিং এবং থেরাপির মৌলিক ধারণা এবং অনুশীলনের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং প্রভাবশালী কাজগুলির মধ্যে একটি হল Client-Centered Therapy: Its Current Practice, Implications, and Theory (1951)। এই বইটি তার থেরাপিউটিক পদ্ধতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং কাউন্সেলিং ও থেরাপির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
রজার্সের থেরাপিউটিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি ছিল এই বিশ্বাস যে প্রতিটি ব্যক্তির আত্ম-উপলব্ধি এবং ব্যক্তিগত বৃদ্ধির অন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে। থেরাপিস্টের ভূমিকা হল একটি সহায়ক, সহানুভূতিশীল এবং অ-বিচারমূলক পরিবেশ তৈরি করা যেখানে ক্লায়েন্ট তাদের নিজস্ব সমাধান খুঁজে পেতে পারে। এই পদ্ধতির তিনটি মূল শর্ত হল: শর্তহীন ইতিবাচক বিবেচনা (unconditional positive regard), সহানুভূতিশীল বোঝাপড়া (empathic understanding), এবং সঙ্গতি (congruence) বা সত্যতা (genuineness)।
ফ্রয়েড (Freud) ছিলেন মনোবিশ্লেষণের (psychoanalysis) জনক, এবং তার কাজ থেরাপির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তার পদ্ধতি রজার্সের থেকে ভিন্ন ছিল। ওয়াটসন (Watson) ছিলেন আচরণবাদের (behaviorism) একজন প্রধান প্রবক্তা, যার কাজ শেখার প্রক্রিয়া এবং পর্যবেক্ষণযোগ্য আচরণের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল। জি. ই. স্মিথ (G. E. Smith) কাউন্সেলিং বা থেরাপির ক্ষেত্রে কার্ল রজার্স, ফ্রয়েড বা ওয়াটসনের মতো সুপরিচিত নন।
সুতরাং, “Counselling and Therapy” শিরোনামটি সরাসরি কার্ল রজার্সের একটি বই না হলেও, তার কাজ এই ক্ষেত্রের উপর এতটাই প্রভাবশালী যে এই ধরনের একটি প্রশ্ন তাকে নির্দেশ করে। তার Client-Centered Therapy বইটি কাউন্সেলিং এবং থেরাপির উপর একটি মৌলিক পাঠ্য।
- Question 24 of 55
24. Question
1 points24. চর্চামূলক মহলা ও বিশদীয় মহলা কথা দুটি মনোবিজ্ঞানের কোন ধারণার সঙ্গে যুক্ত?
Correctচর্চামূলক মহলা ও বিশদীয় মহলা: মনোবিজ্ঞানের ধারণাগত সম্পর্ক
চর্চামূলক মহলা (rehearsal) এবং বিশদীয় মহলা (elaborative rehearsal) ধারণা দুটি মনোবিজ্ঞানের (C) স্মৃতি (memory) ধারণার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। এই দুটি প্রক্রিয়া স্মৃতির এনকোডিং (encoding) এবং ধারণ (retention) পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।স্মৃতির ধারণা
স্মৃতি হলো তথ্য ধারণ, সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার করার একটি জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া। মনোবিজ্ঞানে স্মৃতিকে সাধারণত তিনটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়: এনকোডিং (encoding), ধারণ (storage), এবং পুনরুদ্ধার (retrieval)। এনকোডিং হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে তথ্যকে এমন একটি রূপে রূপান্তরিত করা হয় যা স্মৃতিতে সংরক্ষণ করা যায়। ধারণ হলো সময়ের সাথে সাথে তথ্যকে ধরে রাখা। পুনরুদ্ধার হলো সংরক্ষিত তথ্যকে প্রয়োজন অনুযায়ী ফিরিয়ে আনা। (Atkinson & Shiffrin, The Psychology of Learning and Motivation)স্মৃতির মডেলগুলির মধ্যে অ্যাটকিনসন-শিফ্রিন মডেল (Atkinson-Shiffrin model) বা মাল্টিস্টোর মডেল (multi-store model) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই মডেল অনুযায়ী, স্মৃতিকে তিনটি প্রধান অংশে ভাগ করা যায়: সংবেদনশীল স্মৃতি (sensory memory), স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি (short-term memory বা STM), এবং দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি (long-term memory বা LTM)। (Baddeley, Human Memory: Theory and Practice)
স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি (Short-Term Memory – STM)
স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি হলো একটি অস্থায়ী ভান্ডার যেখানে সীমিত পরিমাণে তথ্য অল্প সময়ের জন্য ধারণ করা হয়। এর ধারণক্ষমতা এবং সময়কাল উভয়ই সীমিত। সাধারণত, স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে প্রায়
7
±
2
টি তথ্য একক (chunks) প্রায় 15-30 সেকেন্ডের জন্য ধারণ করা যায়, যদি না সক্রিয়ভাবে চর্চা করা হয়। (Miller, The Magical Number Seven, Plus or Minus Two: Some Limits on Our Capacity for Processing Information)চর্চামূলক মহলা (Maintenance Rehearsal)
চর্চামূলক মহলা, যা রক্ষণাবেক্ষণ মহলা (maintenance rehearsal) নামেও পরিচিত, হলো একটি প্রক্রিয়া যেখানে তথ্যকে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে সক্রিয়ভাবে পুনরাবৃত্তি করা হয় যাতে এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য সেখানে থাকে। এটি মূলত তথ্যের যান্ত্রিক পুনরাবৃত্তি। উদাহরণস্বরূপ, একটি ফোন নম্বর মনে রাখার জন্য বারবার সেটি মনে মনে আওড়ানো হলো চর্চামূলক মহলা। এই ধরনের মহলা স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্যের ধারণকাল বাড়াতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্যের স্থানান্তর নিশ্চিত করে না। (Atkinson & Shiffrin, The Psychology of Learning and Motivation)চর্চামূলক মহলার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তথ্যকে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে সক্রিয় রাখা এবং ক্ষয় (decay) বা হস্তক্ষেপ (interference) থেকে রক্ষা করা। এটি তথ্যের অর্থ বা গভীর প্রক্রিয়াকরণের উপর জোর দেয় না, বরং শুধুমাত্র তার পৃষ্ঠীয় বৈশিষ্ট্যগুলির পুনরাবৃত্তি করে। (Craik & Lockhart, Levels of Processing: A Framework for Memory Research)
বিশদীয় মহলা (Elaborative Rehearsal)
বিশদীয় মহলা হলো একটি গভীর প্রক্রিয়াকরণ কৌশল যেখানে নতুন তথ্যকে বিদ্যমান জ্ঞানের সাথে সংযুক্ত করা হয়, তার অর্থ বোঝা হয় এবং তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। এটি কেবল তথ্যের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং তার অর্থপূর্ণ বিশ্লেষণ এবং সংগঠন। উদাহরণস্বরূপ, একটি নতুন শব্দ শেখার সময় তার প্রতিশব্দ, বিপরীত শব্দ, এবং ব্যবহারিক উদাহরণ মনে রাখা হলো বিশদীয় মহলা। (Craik & Lockhart, Levels of Processing: A Framework for Memory Research)বিশদীয় মহলা তথ্যের গভীর প্রক্রিয়াকরণের উপর জোর দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্যের সফল এনকোডিং এবং পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়ায়। যখন আমরা কোনো তথ্যকে বিশদভাবে মহলা করি, তখন আমরা তার সাথে বিভিন্ন সংযোগ তৈরি করি, যা পরবর্তীতে সেই তথ্য পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। এই প্রক্রিয়ায়, তথ্যকে আরও অর্থপূর্ণ এবং স্মরণীয় করে তোলা হয়। (Baddeley, Human Memory: Theory and Practice)
চর্চামূলক মহলা ও বিশদীয় মহলার মধ্যে পার্থক্য
বৈশিষ্ট্য চর্চামূলক মহলা (Maintenance Rehearsal) বিশদীয় মহলা (Elaborative Rehearsal)
উদ্দেশ্য স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্য সক্রিয় রাখা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্য এনকোড করা
প্রক্রিয়া যান্ত্রিক পুনরাবৃত্তি, পৃষ্ঠীয় প্রক্রিয়াকরণ অর্থপূর্ণ বিশ্লেষণ, গভীর প্রক্রিয়াকরণ
ফলাফল স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে ধারণকাল বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে সফল এনকোডিং ও পুনরুদ্ধার
উদাহরণ ফোন নম্বর বারবার আওড়ানো নতুন শব্দের অর্থ, প্রতিশব্দ শেখাসংক্ষেপে, চর্চামূলক মহলা এবং বিশদীয় মহলা উভয়ই স্মৃতির প্রক্রিয়া, বিশেষ করে এনকোডিং এবং ধারণের সাথে সম্পর্কিত। চর্চামূলক মহলা স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্যের ধারণকাল বাড়াতে সাহায্য করে, যখন বিশদীয় মহলা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্যের সফল এনকোডিং এবং পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য।
Incorrectচর্চামূলক মহলা ও বিশদীয় মহলা: মনোবিজ্ঞানের ধারণাগত সম্পর্ক
চর্চামূলক মহলা (rehearsal) এবং বিশদীয় মহলা (elaborative rehearsal) ধারণা দুটি মনোবিজ্ঞানের (C) স্মৃতি (memory) ধারণার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। এই দুটি প্রক্রিয়া স্মৃতির এনকোডিং (encoding) এবং ধারণ (retention) পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।স্মৃতির ধারণা
স্মৃতি হলো তথ্য ধারণ, সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার করার একটি জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া। মনোবিজ্ঞানে স্মৃতিকে সাধারণত তিনটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়: এনকোডিং (encoding), ধারণ (storage), এবং পুনরুদ্ধার (retrieval)। এনকোডিং হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে তথ্যকে এমন একটি রূপে রূপান্তরিত করা হয় যা স্মৃতিতে সংরক্ষণ করা যায়। ধারণ হলো সময়ের সাথে সাথে তথ্যকে ধরে রাখা। পুনরুদ্ধার হলো সংরক্ষিত তথ্যকে প্রয়োজন অনুযায়ী ফিরিয়ে আনা। (Atkinson & Shiffrin, The Psychology of Learning and Motivation)স্মৃতির মডেলগুলির মধ্যে অ্যাটকিনসন-শিফ্রিন মডেল (Atkinson-Shiffrin model) বা মাল্টিস্টোর মডেল (multi-store model) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই মডেল অনুযায়ী, স্মৃতিকে তিনটি প্রধান অংশে ভাগ করা যায়: সংবেদনশীল স্মৃতি (sensory memory), স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি (short-term memory বা STM), এবং দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি (long-term memory বা LTM)। (Baddeley, Human Memory: Theory and Practice)
স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি (Short-Term Memory – STM)
স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি হলো একটি অস্থায়ী ভান্ডার যেখানে সীমিত পরিমাণে তথ্য অল্প সময়ের জন্য ধারণ করা হয়। এর ধারণক্ষমতা এবং সময়কাল উভয়ই সীমিত। সাধারণত, স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে প্রায়
7
±
2
টি তথ্য একক (chunks) প্রায় 15-30 সেকেন্ডের জন্য ধারণ করা যায়, যদি না সক্রিয়ভাবে চর্চা করা হয়। (Miller, The Magical Number Seven, Plus or Minus Two: Some Limits on Our Capacity for Processing Information)চর্চামূলক মহলা (Maintenance Rehearsal)
চর্চামূলক মহলা, যা রক্ষণাবেক্ষণ মহলা (maintenance rehearsal) নামেও পরিচিত, হলো একটি প্রক্রিয়া যেখানে তথ্যকে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে সক্রিয়ভাবে পুনরাবৃত্তি করা হয় যাতে এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য সেখানে থাকে। এটি মূলত তথ্যের যান্ত্রিক পুনরাবৃত্তি। উদাহরণস্বরূপ, একটি ফোন নম্বর মনে রাখার জন্য বারবার সেটি মনে মনে আওড়ানো হলো চর্চামূলক মহলা। এই ধরনের মহলা স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্যের ধারণকাল বাড়াতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্যের স্থানান্তর নিশ্চিত করে না। (Atkinson & Shiffrin, The Psychology of Learning and Motivation)চর্চামূলক মহলার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তথ্যকে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে সক্রিয় রাখা এবং ক্ষয় (decay) বা হস্তক্ষেপ (interference) থেকে রক্ষা করা। এটি তথ্যের অর্থ বা গভীর প্রক্রিয়াকরণের উপর জোর দেয় না, বরং শুধুমাত্র তার পৃষ্ঠীয় বৈশিষ্ট্যগুলির পুনরাবৃত্তি করে। (Craik & Lockhart, Levels of Processing: A Framework for Memory Research)
বিশদীয় মহলা (Elaborative Rehearsal)
বিশদীয় মহলা হলো একটি গভীর প্রক্রিয়াকরণ কৌশল যেখানে নতুন তথ্যকে বিদ্যমান জ্ঞানের সাথে সংযুক্ত করা হয়, তার অর্থ বোঝা হয় এবং তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। এটি কেবল তথ্যের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং তার অর্থপূর্ণ বিশ্লেষণ এবং সংগঠন। উদাহরণস্বরূপ, একটি নতুন শব্দ শেখার সময় তার প্রতিশব্দ, বিপরীত শব্দ, এবং ব্যবহারিক উদাহরণ মনে রাখা হলো বিশদীয় মহলা। (Craik & Lockhart, Levels of Processing: A Framework for Memory Research)বিশদীয় মহলা তথ্যের গভীর প্রক্রিয়াকরণের উপর জোর দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্যের সফল এনকোডিং এবং পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়ায়। যখন আমরা কোনো তথ্যকে বিশদভাবে মহলা করি, তখন আমরা তার সাথে বিভিন্ন সংযোগ তৈরি করি, যা পরবর্তীতে সেই তথ্য পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। এই প্রক্রিয়ায়, তথ্যকে আরও অর্থপূর্ণ এবং স্মরণীয় করে তোলা হয়। (Baddeley, Human Memory: Theory and Practice)
চর্চামূলক মহলা ও বিশদীয় মহলার মধ্যে পার্থক্য
বৈশিষ্ট্য চর্চামূলক মহলা (Maintenance Rehearsal) বিশদীয় মহলা (Elaborative Rehearsal)
উদ্দেশ্য স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্য সক্রিয় রাখা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্য এনকোড করা
প্রক্রিয়া যান্ত্রিক পুনরাবৃত্তি, পৃষ্ঠীয় প্রক্রিয়াকরণ অর্থপূর্ণ বিশ্লেষণ, গভীর প্রক্রিয়াকরণ
ফলাফল স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে ধারণকাল বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে সফল এনকোডিং ও পুনরুদ্ধার
উদাহরণ ফোন নম্বর বারবার আওড়ানো নতুন শব্দের অর্থ, প্রতিশব্দ শেখাসংক্ষেপে, চর্চামূলক মহলা এবং বিশদীয় মহলা উভয়ই স্মৃতির প্রক্রিয়া, বিশেষ করে এনকোডিং এবং ধারণের সাথে সম্পর্কিত। চর্চামূলক মহলা স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্যের ধারণকাল বাড়াতে সাহায্য করে, যখন বিশদীয় মহলা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্যের সফল এনকোডিং এবং পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য।
- Question 25 of 55
25. Question
1 points25. বিভাজিত মনোযোগের উদাহরণ কোনটি?
CorrectShare
বিভাজিত মনোযোগের উদাহরণ
বিভাজিত মনোযোগ (Divided Attention) হলো এমন একটি জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া যেখানে একজন ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক কাজ বা তথ্যের উৎসের প্রতি মনোযোগ দিতে সক্ষম হন। এই ক্ষমতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের মাল্টিটাস্কিং করতে সাহায্য করে। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, (A) ফোন করা ও লেখা হলো বিভাজিত মনোযোগের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।যখন একজন ব্যক্তি ফোন করেন এবং একই সাথে কিছু লেখেন, তখন তাদের মস্তিষ্ককে দুটি ভিন্ন কাজের মধ্যে মনোযোগ ভাগ করে নিতে হয়। ফোন করার সময়, ব্যক্তিকে কথোপকথনের বিষয়বস্তু বুঝতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, যা শ্রবণ প্রক্রিয়াকরণ এবং মৌখিক উৎপাদনের সাথে জড়িত। একই সময়ে, লেখার জন্য ব্যক্তিকে লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা করতে হয়, শব্দ গঠন করতে হয় এবং হাতের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, যা জ্ঞানীয় পরিকল্পনা এবং সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতার সাথে জড়িত। এই দুটি কাজ একই সাথে সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য, মস্তিষ্কের মনোযোগের সংস্থানগুলিকে কার্যকরভাবে বিভাজন করতে হয়। ( Cognitive Psychology: Connecting Mind, Research, and Everyday Experience )
অন্যান্য বিকল্পগুলি কেন বিভাজিত মনোযোগের উদাহরণ নয়, তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
(B) গাড়ি চালানো এবং সামনের দিকে দেখা: যদিও গাড়ি চালানো একটি জটিল কাজ যার জন্য মনোযোগের প্রয়োজন, এবং সামনের দিকে দেখা এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, এটি সাধারণত বিভাজিত মনোযোগের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয় না। গাড়ি চালানোর সময় সামনের দিকে দেখা হলো একটি একক, সমন্বিত প্রক্রিয়ার অংশ। মনোযোগ মূলত একটি প্রধান কাজের (গাড়ি চালানো) উপর নিবদ্ধ থাকে, যার মধ্যে বিভিন্ন উপ-কাজ (যেমন রাস্তা দেখা, ট্র্যাফিক পর্যবেক্ষণ করা, গতি নিয়ন্ত্রণ করা) অন্তর্ভুক্ত থাকে। এখানে মনোযোগ একাধিক স্বাধীন কাজের মধ্যে বিভক্ত হচ্ছে না, বরং একটি প্রধান কাজের বিভিন্ন দিকের উপর নিবদ্ধ থাকছে। ( The Oxford Handbook of Attention )
(C) দুটি ছবির তুলনা করা: দুটি ছবির তুলনা করার জন্য মনোযোগের প্রয়োজন হয়, তবে এটি সাধারণত বিভাজিত মনোযোগের উদাহরণ নয়। এই ক্ষেত্রে, মনোযোগ দুটি ভিন্ন বস্তুর (ছবি) উপর নিবদ্ধ থাকে, কিন্তু কাজটি হলো একটি একক বিশ্লেষণাত্মক প্রক্রিয়া – তুলনা করা। ব্যক্তি একটি ছবি থেকে অন্য ছবিতে মনোযোগ স্থানান্তরিত করতে পারে, অথবা উভয় ছবিকে একই সাথে প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে, কিন্তু এটি একাধিক স্বাধীন কাজ একই সাথে সম্পাদনের মতো নয়। এটি বরং একটি একক জ্ঞানীয় প্রক্রিয়ার অংশ যেখানে একাধিক ইনপুট বিশ্লেষণ করা হয়। ( Attention and Performance XXIV: From Brain Imaging to Cognition )
(D) একাধিক বিষয়ে চিন্তা করা: একাধিক বিষয়ে চিন্তা করা হলো একটি অভ্যন্তরীণ জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া যা প্রায়শই মনোযোগের স্থানান্তরের সাথে জড়িত। একজন ব্যক্তি এক সময়ে একটি বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে পারেন এবং তারপর অন্য বিষয়ে চলে যেতে পারেন। যদিও এটি দ্রুত মনোযোগ স্থানান্তরের উদাহরণ হতে পারে, এটি একই সময়ে একাধিক বাহ্যিক কাজ সম্পাদনের মতো নয়। এটি সাধারণত বিভাজিত মনোযোগের পরিবর্তে মনোযোগের নমনীয়তা বা স্থানান্তরের সাথে সম্পর্কিত। ( The Cambridge Handbook of Cognitive Psychology )
সুতরাং, (A) ফোন করা ও লেখা হলো বিভাজিত মনোযোগের সবচেয়ে উপযুক্ত উদাহরণ, কারণ এটি একই সাথে দুটি স্বতন্ত্র এবং ভিন্ন প্রকৃতির কাজ সম্পাদনের জন্য মনোযোগের বিভাজনকে নির্দেশ করে।
IncorrectShare
বিভাজিত মনোযোগের উদাহরণ
বিভাজিত মনোযোগ (Divided Attention) হলো এমন একটি জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া যেখানে একজন ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক কাজ বা তথ্যের উৎসের প্রতি মনোযোগ দিতে সক্ষম হন। এই ক্ষমতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের মাল্টিটাস্কিং করতে সাহায্য করে। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, (A) ফোন করা ও লেখা হলো বিভাজিত মনোযোগের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।যখন একজন ব্যক্তি ফোন করেন এবং একই সাথে কিছু লেখেন, তখন তাদের মস্তিষ্ককে দুটি ভিন্ন কাজের মধ্যে মনোযোগ ভাগ করে নিতে হয়। ফোন করার সময়, ব্যক্তিকে কথোপকথনের বিষয়বস্তু বুঝতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, যা শ্রবণ প্রক্রিয়াকরণ এবং মৌখিক উৎপাদনের সাথে জড়িত। একই সময়ে, লেখার জন্য ব্যক্তিকে লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা করতে হয়, শব্দ গঠন করতে হয় এবং হাতের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, যা জ্ঞানীয় পরিকল্পনা এবং সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতার সাথে জড়িত। এই দুটি কাজ একই সাথে সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য, মস্তিষ্কের মনোযোগের সংস্থানগুলিকে কার্যকরভাবে বিভাজন করতে হয়। ( Cognitive Psychology: Connecting Mind, Research, and Everyday Experience )
অন্যান্য বিকল্পগুলি কেন বিভাজিত মনোযোগের উদাহরণ নয়, তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
(B) গাড়ি চালানো এবং সামনের দিকে দেখা: যদিও গাড়ি চালানো একটি জটিল কাজ যার জন্য মনোযোগের প্রয়োজন, এবং সামনের দিকে দেখা এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, এটি সাধারণত বিভাজিত মনোযোগের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয় না। গাড়ি চালানোর সময় সামনের দিকে দেখা হলো একটি একক, সমন্বিত প্রক্রিয়ার অংশ। মনোযোগ মূলত একটি প্রধান কাজের (গাড়ি চালানো) উপর নিবদ্ধ থাকে, যার মধ্যে বিভিন্ন উপ-কাজ (যেমন রাস্তা দেখা, ট্র্যাফিক পর্যবেক্ষণ করা, গতি নিয়ন্ত্রণ করা) অন্তর্ভুক্ত থাকে। এখানে মনোযোগ একাধিক স্বাধীন কাজের মধ্যে বিভক্ত হচ্ছে না, বরং একটি প্রধান কাজের বিভিন্ন দিকের উপর নিবদ্ধ থাকছে। ( The Oxford Handbook of Attention )
(C) দুটি ছবির তুলনা করা: দুটি ছবির তুলনা করার জন্য মনোযোগের প্রয়োজন হয়, তবে এটি সাধারণত বিভাজিত মনোযোগের উদাহরণ নয়। এই ক্ষেত্রে, মনোযোগ দুটি ভিন্ন বস্তুর (ছবি) উপর নিবদ্ধ থাকে, কিন্তু কাজটি হলো একটি একক বিশ্লেষণাত্মক প্রক্রিয়া – তুলনা করা। ব্যক্তি একটি ছবি থেকে অন্য ছবিতে মনোযোগ স্থানান্তরিত করতে পারে, অথবা উভয় ছবিকে একই সাথে প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে, কিন্তু এটি একাধিক স্বাধীন কাজ একই সাথে সম্পাদনের মতো নয়। এটি বরং একটি একক জ্ঞানীয় প্রক্রিয়ার অংশ যেখানে একাধিক ইনপুট বিশ্লেষণ করা হয়। ( Attention and Performance XXIV: From Brain Imaging to Cognition )
(D) একাধিক বিষয়ে চিন্তা করা: একাধিক বিষয়ে চিন্তা করা হলো একটি অভ্যন্তরীণ জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া যা প্রায়শই মনোযোগের স্থানান্তরের সাথে জড়িত। একজন ব্যক্তি এক সময়ে একটি বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে পারেন এবং তারপর অন্য বিষয়ে চলে যেতে পারেন। যদিও এটি দ্রুত মনোযোগ স্থানান্তরের উদাহরণ হতে পারে, এটি একই সময়ে একাধিক বাহ্যিক কাজ সম্পাদনের মতো নয়। এটি সাধারণত বিভাজিত মনোযোগের পরিবর্তে মনোযোগের নমনীয়তা বা স্থানান্তরের সাথে সম্পর্কিত। ( The Cambridge Handbook of Cognitive Psychology )
সুতরাং, (A) ফোন করা ও লেখা হলো বিভাজিত মনোযোগের সবচেয়ে উপযুক্ত উদাহরণ, কারণ এটি একই সাথে দুটি স্বতন্ত্র এবং ভিন্ন প্রকৃতির কাজ সম্পাদনের জন্য মনোযোগের বিভাজনকে নির্দেশ করে।
- Question 26 of 55
26. Question
1 points26. নীচের কোনটি ম্যাক্স ওয়েবার সামাজিক স্তর বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন নি
Correctম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber), একজন প্রভাবশালী জার্মান সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ এবং দার্শনিক, সামাজিক স্তরবিন্যাস (social stratification) বোঝার জন্য একটি বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন। তিনি কেবল অর্থনৈতিক কারণের উপর জোর দেননি, বরং ক্ষমতা এবং মর্যাদার মতো অ-অর্থনৈতিক কারণগুলিকেও সামাজিক স্তরবিন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসাবে বিবেচনা করেছেন। প্রশ্নটি ম্যাক্স ওয়েবারের সামাজিক স্তরবিন্যাসের ক্ষেত্রে তিনি কোনটি প্রয়োগ করেননি তা জানতে চেয়েছে। বিকল্পগুলি হল: (A) শিক্ষা, (B) আয় এবং স্বাস্থ্য, (C) রাজনৈতিক ক্ষমতা, (D) সামাজিক সম্মান।
ওয়েবারের সামাজিক স্তরবিন্যাসের তত্ত্বকে সাধারণত “ত্রিমাত্রিক” বা “বহুমাত্রিক” হিসাবে বর্ণনা করা হয়, যেখানে তিনি তিনটি প্রধান মাত্রা বা ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করেছেন: শ্রেণী (class), মর্যাদা (status) এবং দল (party)। এই তিনটি মাত্রা একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র হলেও, তারা প্রায়শই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত এবং সামাজিক স্তরবিন্যাসের সামগ্রিক চিত্র তৈরি করে।
১. শ্রেণী (Class)
ওয়েবারের মতে, শ্রেণী মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর ভিত্তি করে গঠিত হয়। এটি বাজারের পরিস্থিতিতে ব্যক্তির অবস্থান দ্বারা নির্ধারিত হয়, বিশেষ করে তাদের সম্পদ, আয় এবং উৎপাদন উপায়ের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ। ওয়েবার কার্ল মার্কসের মতো কেবল উৎপাদন সম্পর্কের উপর জোর দেননি, বরং তিনি বাজারের সুযোগ (market situation) এবং জীবনযাত্রার সুযোগ (life chances) ধারণার উপরও গুরুত্বারোপ করেছেন।সম্পদ (Wealth): এটি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, যেমন জমি, বাড়ি, ব্যবসা, বিনিয়োগ ইত্যাদির সমষ্টি। সম্পদের পরিমাণ ব্যক্তির অর্থনৈতিক ক্ষমতা এবং সামাজিক অবস্থানকে প্রভাবিত করে।
আয় (Income): এটি নিয়মিত উপার্জনের প্রবাহ, যা বেতন, মজুরি, ভাড়া, সুদ বা লভ্যাংশ থেকে আসতে পারে। উচ্চ আয় সাধারণত উচ্চতর জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক সুযোগের সাথে যুক্ত।
প্রশ্নটির বিকল্প (B) “আয় এবং স্বাস্থ্য” এর মধ্যে ‘আয়’ সরাসরি ওয়েবারের শ্রেণী ধারণার সাথে সম্পর্কিত। যদিও ওয়েবার সরাসরি ‘স্বাস্থ্য’কে সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি স্বতন্ত্র মাত্রা হিসাবে উল্লেখ করেননি, তবে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা প্রায়শই অর্থনৈতিক শ্রেণী এবং জীবনযাত্রার সুযোগের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। উচ্চতর অর্থনৈতিক শ্রেণীর ব্যক্তিরা সাধারণত উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সুযোগ পান, যা তাদের সামাজিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করে। তাই, ‘আয়’ ওয়েবারের শ্রেণী বিশ্লেষণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।২. মর্যাদা (Status)
মর্যাদা বা সামাজিক সম্মান (social honor) ওয়েবারের সামাজিক স্তরবিন্যাসের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা। এটি অর্থনৈতিক শ্রেণী থেকে স্বতন্ত্র হতে পারে। মর্যাদা মূলত সামাজিক মূল্যায়ন, জীবনযাত্রার ধরন, শিক্ষা, পেশা এবং সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্যপদ দ্বারা নির্ধারিত হয়। এটি প্রায়শই সামাজিক স্বীকৃতি, সম্মান এবং প্রতিপত্তির সাথে সম্পর্কিত।সামাজিক সম্মান (Social Honor): এটি সমাজের দ্বারা প্রদত্ত সম্মান, প্রতিপত্তি এবং স্বীকৃতি। এটি ব্যক্তির জীবনযাত্রার ধরন, পেশা, শিক্ষা এবং সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্যপদ দ্বারা প্রভাবিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন ডাক্তার বা শিক্ষকের সমাজে একটি নির্দিষ্ট মর্যাদা থাকে, যা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান থেকে ভিন্ন হতে পারে।
শিক্ষা (Education): শিক্ষা প্রায়শই সামাজিক মর্যাদার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক। উচ্চ শিক্ষা সাধারণত উচ্চতর পেশা, সামাজিক স্বীকৃতি এবং সম্মান নিয়ে আসে। ওয়েবার সরাসরি শিক্ষাকে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা হিসাবে উল্লেখ না করলেও, এটি মর্যাদার একটি প্রধান উপাদান হিসাবে বিবেচিত হয়। একজন ব্যক্তি উচ্চ শিক্ষিত হয়েও অর্থনৈতিকভাবে খুব ধনী নাও হতে পারে, কিন্তু সমাজে তার একটি নির্দিষ্ট মর্যাদা থাকতে পারে।
প্রশ্নটির বিকল্প (A) “শিক্ষা” এবং (D) “সামাজিক সম্মান” সরাসরি ওয়েবারের মর্যাদা ধারণার সাথে সম্পর্কিত। ‘সামাজিক সম্মান’ হল মর্যাদার মূল ভিত্তি, এবং ‘শিক্ষা’ হল এই সম্মান অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।৩. দল (Party)
ওয়েবারের সামাজিক স্তরবিন্যাসের তৃতীয় মাত্রা হল দল বা রাজনৈতিক ক্ষমতা (political power)। এটি ক্ষমতা অর্জনের এবং প্রয়োগের সাথে সম্পর্কিত। দলগুলি হল এমন গোষ্ঠী যা সাধারণ স্বার্থ বা লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংগঠিত হয় এবং তারা রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে চায়।রাজনৈতিক ক্ষমতা (Political Power): এটি অন্যদের আচরণকে প্রভাবিত করার বা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা, এমনকি তাদের প্রতিরোধের মুখেও। রাজনৈতিক দল, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলি এই ক্ষমতার প্রধান বাহক। রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্থনৈতিক শ্রেণী বা সামাজিক মর্যাদা থেকে স্বাধীনভাবে বিদ্যমান থাকতে পারে। একজন ব্যক্তি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল বা সমাজে খুব বেশি মর্যাদা না থাকলেও রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
প্রশ্নটির বিকল্প (C) “রাজনৈতিক ক্ষমতা” সরাসরি ওয়েবারের দল ধারণার সাথে সম্পর্কিত।কোনটি ম্যাক্স ওয়েবার প্রয়োগ করেননি?
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, ম্যাক্স ওয়েবার তার সামাজিক স্তরবিন্যাসের বিশ্লেষণে ‘আয়’ (শ্রেণীর অংশ), ‘শিক্ষা’ (মর্যাদার অংশ), ‘রাজনৈতিক ক্ষমতা’ (দলের অংশ) এবং ‘সামাজিক সম্মান’ (মর্যাদার অংশ) – এই সবগুলিকেই কোনো না কোনোভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।প্রশ্নটির বিকল্প (B) “আয় এবং স্বাস্থ্য” এর মধ্যে ‘আয়’ ওয়েবারের শ্রেণী ধারণার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ‘স্বাস্থ্য’ সরাসরি ওয়েবারের সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি স্বতন্ত্র মাত্রা হিসাবে উল্লিখিত না হলেও, এটি প্রায়শই অর্থনৈতিক শ্রেণী এবং জীবনযাত্রার সুযোগের সাথে সম্পর্কিত। তবে, ওয়েবার তার মূল তত্ত্বে ‘স্বাস্থ্য’কে সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি স্বতন্ত্র এবং মৌলিক নির্ধারক হিসাবে ‘শ্রেণী’, ‘মর্যাদা’ বা ‘ক্ষমতা’র সমান্তরালে আলোচনা করেননি। তিনি মূলত অর্থনৈতিক সম্পদ, সামাজিক প্রতিপত্তি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের উপর জোর দিয়েছেন।
যদি প্রশ্নটি এমন একটি উপাদানকে নির্দেশ করে যা ওয়েবারের ত্রিমাত্রিক মডেলের কোনো একটি প্রধান স্তম্ভের অংশ নয়, তাহলে ‘স্বাস্থ্য’ সেই অর্থে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা হিসাবে বিবেচিত হয় না। ‘আয়’ অবশ্যই ওয়েবারের তত্ত্বে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
অতএব, বিকল্পগুলির মধ্যে, ‘স্বাস্থ্য’ হল এমন একটি উপাদান যা ম্যাক্স ওয়েবার তার সামাজিক স্তরবিন্যাসের মূল তত্ত্বে একটি স্বতন্ত্র এবং মৌলিক মাত্রা হিসাবে সরাসরি প্রয়োগ করেননি, যদিও এটি অন্যান্য মাত্রার (যেমন শ্রেণী) ফলাফল হিসাবে পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত হতে পারে।
উপসংহার:
ম্যাক্স ওয়েবার তার সামাজিক স্তরবিন্যাসের তত্ত্বে শ্রেণী (অর্থনৈতিক), মর্যাদা (সামাজিক সম্মান) এবং দল (রাজনৈতিক ক্ষমতা) এই তিনটি মাত্রাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ‘আয়’ শ্রেণীর একটি অংশ, ‘শিক্ষা’ এবং ‘সামাজিক সম্মান’ মর্যাদার অংশ, এবং ‘রাজনৈতিক ক্ষমতা’ দলের একটি অংশ। ‘স্বাস্থ্য’ সরাসরি ওয়েবারের ত্রিমাত্রিক মডেলের একটি স্বতন্ত্র মাত্রা নয়।
সুতরাং, ম্যাক্স ওয়েবার সামাজিক স্তরবিন্যাসের ক্ষেত্রে সরাসরি (B) আয় এবং স্বাস্থ্য এর মধ্যে ‘স্বাস্থ্য’কে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা হিসাবে প্রয়োগ করেননি। ‘আয়’ অবশ্যই প্রয়োগ করেছেন। যেহেতু বিকল্পটি ‘আয় এবং স্বাস্থ্য’ একসাথে উল্লেখ করেছে, এবং ‘স্বাস্থ্য’ একটি স্বতন্ত্র মাত্রা হিসাবে ওয়েবারের তত্ত্বে অনুপস্থিত, তাই এটিই সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তর।
Incorrectম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber), একজন প্রভাবশালী জার্মান সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ এবং দার্শনিক, সামাজিক স্তরবিন্যাস (social stratification) বোঝার জন্য একটি বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন। তিনি কেবল অর্থনৈতিক কারণের উপর জোর দেননি, বরং ক্ষমতা এবং মর্যাদার মতো অ-অর্থনৈতিক কারণগুলিকেও সামাজিক স্তরবিন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসাবে বিবেচনা করেছেন। প্রশ্নটি ম্যাক্স ওয়েবারের সামাজিক স্তরবিন্যাসের ক্ষেত্রে তিনি কোনটি প্রয়োগ করেননি তা জানতে চেয়েছে। বিকল্পগুলি হল: (A) শিক্ষা, (B) আয় এবং স্বাস্থ্য, (C) রাজনৈতিক ক্ষমতা, (D) সামাজিক সম্মান।
ওয়েবারের সামাজিক স্তরবিন্যাসের তত্ত্বকে সাধারণত “ত্রিমাত্রিক” বা “বহুমাত্রিক” হিসাবে বর্ণনা করা হয়, যেখানে তিনি তিনটি প্রধান মাত্রা বা ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করেছেন: শ্রেণী (class), মর্যাদা (status) এবং দল (party)। এই তিনটি মাত্রা একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র হলেও, তারা প্রায়শই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত এবং সামাজিক স্তরবিন্যাসের সামগ্রিক চিত্র তৈরি করে।
১. শ্রেণী (Class)
ওয়েবারের মতে, শ্রেণী মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর ভিত্তি করে গঠিত হয়। এটি বাজারের পরিস্থিতিতে ব্যক্তির অবস্থান দ্বারা নির্ধারিত হয়, বিশেষ করে তাদের সম্পদ, আয় এবং উৎপাদন উপায়ের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ। ওয়েবার কার্ল মার্কসের মতো কেবল উৎপাদন সম্পর্কের উপর জোর দেননি, বরং তিনি বাজারের সুযোগ (market situation) এবং জীবনযাত্রার সুযোগ (life chances) ধারণার উপরও গুরুত্বারোপ করেছেন।সম্পদ (Wealth): এটি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, যেমন জমি, বাড়ি, ব্যবসা, বিনিয়োগ ইত্যাদির সমষ্টি। সম্পদের পরিমাণ ব্যক্তির অর্থনৈতিক ক্ষমতা এবং সামাজিক অবস্থানকে প্রভাবিত করে।
আয় (Income): এটি নিয়মিত উপার্জনের প্রবাহ, যা বেতন, মজুরি, ভাড়া, সুদ বা লভ্যাংশ থেকে আসতে পারে। উচ্চ আয় সাধারণত উচ্চতর জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক সুযোগের সাথে যুক্ত।
প্রশ্নটির বিকল্প (B) “আয় এবং স্বাস্থ্য” এর মধ্যে ‘আয়’ সরাসরি ওয়েবারের শ্রেণী ধারণার সাথে সম্পর্কিত। যদিও ওয়েবার সরাসরি ‘স্বাস্থ্য’কে সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি স্বতন্ত্র মাত্রা হিসাবে উল্লেখ করেননি, তবে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা প্রায়শই অর্থনৈতিক শ্রেণী এবং জীবনযাত্রার সুযোগের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। উচ্চতর অর্থনৈতিক শ্রেণীর ব্যক্তিরা সাধারণত উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সুযোগ পান, যা তাদের সামাজিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করে। তাই, ‘আয়’ ওয়েবারের শ্রেণী বিশ্লেষণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।২. মর্যাদা (Status)
মর্যাদা বা সামাজিক সম্মান (social honor) ওয়েবারের সামাজিক স্তরবিন্যাসের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা। এটি অর্থনৈতিক শ্রেণী থেকে স্বতন্ত্র হতে পারে। মর্যাদা মূলত সামাজিক মূল্যায়ন, জীবনযাত্রার ধরন, শিক্ষা, পেশা এবং সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্যপদ দ্বারা নির্ধারিত হয়। এটি প্রায়শই সামাজিক স্বীকৃতি, সম্মান এবং প্রতিপত্তির সাথে সম্পর্কিত।সামাজিক সম্মান (Social Honor): এটি সমাজের দ্বারা প্রদত্ত সম্মান, প্রতিপত্তি এবং স্বীকৃতি। এটি ব্যক্তির জীবনযাত্রার ধরন, পেশা, শিক্ষা এবং সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্যপদ দ্বারা প্রভাবিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন ডাক্তার বা শিক্ষকের সমাজে একটি নির্দিষ্ট মর্যাদা থাকে, যা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান থেকে ভিন্ন হতে পারে।
শিক্ষা (Education): শিক্ষা প্রায়শই সামাজিক মর্যাদার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক। উচ্চ শিক্ষা সাধারণত উচ্চতর পেশা, সামাজিক স্বীকৃতি এবং সম্মান নিয়ে আসে। ওয়েবার সরাসরি শিক্ষাকে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা হিসাবে উল্লেখ না করলেও, এটি মর্যাদার একটি প্রধান উপাদান হিসাবে বিবেচিত হয়। একজন ব্যক্তি উচ্চ শিক্ষিত হয়েও অর্থনৈতিকভাবে খুব ধনী নাও হতে পারে, কিন্তু সমাজে তার একটি নির্দিষ্ট মর্যাদা থাকতে পারে।
প্রশ্নটির বিকল্প (A) “শিক্ষা” এবং (D) “সামাজিক সম্মান” সরাসরি ওয়েবারের মর্যাদা ধারণার সাথে সম্পর্কিত। ‘সামাজিক সম্মান’ হল মর্যাদার মূল ভিত্তি, এবং ‘শিক্ষা’ হল এই সম্মান অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।৩. দল (Party)
ওয়েবারের সামাজিক স্তরবিন্যাসের তৃতীয় মাত্রা হল দল বা রাজনৈতিক ক্ষমতা (political power)। এটি ক্ষমতা অর্জনের এবং প্রয়োগের সাথে সম্পর্কিত। দলগুলি হল এমন গোষ্ঠী যা সাধারণ স্বার্থ বা লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংগঠিত হয় এবং তারা রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে চায়।রাজনৈতিক ক্ষমতা (Political Power): এটি অন্যদের আচরণকে প্রভাবিত করার বা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা, এমনকি তাদের প্রতিরোধের মুখেও। রাজনৈতিক দল, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলি এই ক্ষমতার প্রধান বাহক। রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্থনৈতিক শ্রেণী বা সামাজিক মর্যাদা থেকে স্বাধীনভাবে বিদ্যমান থাকতে পারে। একজন ব্যক্তি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল বা সমাজে খুব বেশি মর্যাদা না থাকলেও রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
প্রশ্নটির বিকল্প (C) “রাজনৈতিক ক্ষমতা” সরাসরি ওয়েবারের দল ধারণার সাথে সম্পর্কিত।কোনটি ম্যাক্স ওয়েবার প্রয়োগ করেননি?
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, ম্যাক্স ওয়েবার তার সামাজিক স্তরবিন্যাসের বিশ্লেষণে ‘আয়’ (শ্রেণীর অংশ), ‘শিক্ষা’ (মর্যাদার অংশ), ‘রাজনৈতিক ক্ষমতা’ (দলের অংশ) এবং ‘সামাজিক সম্মান’ (মর্যাদার অংশ) – এই সবগুলিকেই কোনো না কোনোভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।প্রশ্নটির বিকল্প (B) “আয় এবং স্বাস্থ্য” এর মধ্যে ‘আয়’ ওয়েবারের শ্রেণী ধারণার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ‘স্বাস্থ্য’ সরাসরি ওয়েবারের সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি স্বতন্ত্র মাত্রা হিসাবে উল্লিখিত না হলেও, এটি প্রায়শই অর্থনৈতিক শ্রেণী এবং জীবনযাত্রার সুযোগের সাথে সম্পর্কিত। তবে, ওয়েবার তার মূল তত্ত্বে ‘স্বাস্থ্য’কে সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি স্বতন্ত্র এবং মৌলিক নির্ধারক হিসাবে ‘শ্রেণী’, ‘মর্যাদা’ বা ‘ক্ষমতা’র সমান্তরালে আলোচনা করেননি। তিনি মূলত অর্থনৈতিক সম্পদ, সামাজিক প্রতিপত্তি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের উপর জোর দিয়েছেন।
যদি প্রশ্নটি এমন একটি উপাদানকে নির্দেশ করে যা ওয়েবারের ত্রিমাত্রিক মডেলের কোনো একটি প্রধান স্তম্ভের অংশ নয়, তাহলে ‘স্বাস্থ্য’ সেই অর্থে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা হিসাবে বিবেচিত হয় না। ‘আয়’ অবশ্যই ওয়েবারের তত্ত্বে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
অতএব, বিকল্পগুলির মধ্যে, ‘স্বাস্থ্য’ হল এমন একটি উপাদান যা ম্যাক্স ওয়েবার তার সামাজিক স্তরবিন্যাসের মূল তত্ত্বে একটি স্বতন্ত্র এবং মৌলিক মাত্রা হিসাবে সরাসরি প্রয়োগ করেননি, যদিও এটি অন্যান্য মাত্রার (যেমন শ্রেণী) ফলাফল হিসাবে পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত হতে পারে।
উপসংহার:
ম্যাক্স ওয়েবার তার সামাজিক স্তরবিন্যাসের তত্ত্বে শ্রেণী (অর্থনৈতিক), মর্যাদা (সামাজিক সম্মান) এবং দল (রাজনৈতিক ক্ষমতা) এই তিনটি মাত্রাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ‘আয়’ শ্রেণীর একটি অংশ, ‘শিক্ষা’ এবং ‘সামাজিক সম্মান’ মর্যাদার অংশ, এবং ‘রাজনৈতিক ক্ষমতা’ দলের একটি অংশ। ‘স্বাস্থ্য’ সরাসরি ওয়েবারের ত্রিমাত্রিক মডেলের একটি স্বতন্ত্র মাত্রা নয়।
সুতরাং, ম্যাক্স ওয়েবার সামাজিক স্তরবিন্যাসের ক্ষেত্রে সরাসরি (B) আয় এবং স্বাস্থ্য এর মধ্যে ‘স্বাস্থ্য’কে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা হিসাবে প্রয়োগ করেননি। ‘আয়’ অবশ্যই প্রয়োগ করেছেন। যেহেতু বিকল্পটি ‘আয় এবং স্বাস্থ্য’ একসাথে উল্লেখ করেছে, এবং ‘স্বাস্থ্য’ একটি স্বতন্ত্র মাত্রা হিসাবে ওয়েবারের তত্ত্বে অনুপস্থিত, তাই এটিই সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তর।
- Question 27 of 55
27. Question
1 points27. নীচের কোনটি প্রতিরক্ষণ কৌশল
Correctপ্রতিরক্ষণ কৌশল
প্রদত্ত প্রশ্নটি প্রতিরক্ষণ কৌশল (defense mechanisms) সম্পর্কিত। মনোবিজ্ঞানে, প্রতিরক্ষণ কৌশল হলো অচেতন প্রক্রিয়া যা ব্যক্তি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বা সংঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করে। এই কৌশলগুলি সাধারণত অস্বস্তিকর চিন্তা, অনুভূতি বা স্মৃতিকে সচেতন মন থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। সিগমুন্ড ফ্রয়েড (Sigmund Freud) এবং তার কন্যা আনা ফ্রয়েড (Anna Freud) প্রতিরক্ষণ কৌশলগুলির ধারণাটি ব্যাপকভাবে বিকশিত করেছেন।প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, (A) অস্বীকার (denial) একটি সুপরিচিত প্রতিরক্ষণ কৌশল।
অস্বীকার (Denial)
অস্বীকার হলো একটি প্রতিরক্ষণ কৌশল যেখানে একজন ব্যক্তি একটি বেদনাদায়ক বাস্তবতা, ঘটনা, বা অনুভূতিকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে বা তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে ব্যক্তি সচেতনভাবে একটি সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করে, কারণ সেই সত্যটি তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর বা উদ্বেগজনক। ( The American Psychiatric Publishing Textbook of Psychiatry ) উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি যিনি গুরুতর অসুস্থ, তিনি তার অসুস্থতার তীব্রতা বা অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে পারেন। একইভাবে, একজন আসক্ত ব্যক্তি তার আসক্তিকে অস্বীকার করতে পারে। ( Theories of Personality )আনা ফ্রয়েড তার কাজে বিভিন্ন প্রতিরক্ষণ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে অস্বীকার অন্যতম। তিনি দেখিয়েছেন যে অস্বীকার বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেতে পারে, যেমন:
সাধারণ অস্বীকার: একটি অপ্রীতিকর সত্যকে সরাসরি অস্বীকার করা।
ফ্যান্টাসি অস্বীকার: বাস্তবতাকে অস্বীকার করে একটি কাল্পনিক জগতে আশ্রয় নেওয়া।
কর্মের মাধ্যমে অস্বীকার: এমনভাবে আচরণ করা যেন অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেনি।
অস্বীকার স্বল্পমেয়াদে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি সমস্যার সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং আরও বড় মানসিক সমস্যার জন্ম দিতে পারে। ( Abnormal Psychology )অন্যান্য বিকল্পের বিশ্লেষণ
প্রদত্ত অন্যান্য বিকল্পগুলি প্রতিরক্ষণ কৌশল হিসেবে সরাসরি পরিচিত নয়:(B) অনুষঙ্গ (Association): মনোবিজ্ঞানে, অনুষঙ্গ সাধারণত ধারণা, স্মৃতি বা অনুভূতির মধ্যে সংযোগ স্থাপনকে বোঝায়। এটি শেখার প্রক্রিয়া এবং স্মৃতিচারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু এটি সরাসরি প্রতিরক্ষণ কৌশল নয়। ( APA Dictionary of Psychology )
(C) সহযোগিতা (Cooperation): সহযোগিতা হলো একটি সামাজিক প্রক্রিয়া যেখানে ব্যক্তিরা একটি সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একসাথে কাজ করে। এটি একটি সামাজিক আচরণ, প্রতিরক্ষণ কৌশল নয়। ( APA Dictionary of Psychology )
(D) আক্রমণ (Aggression): আক্রমণ হলো এমন আচরণ যা অন্যকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করার উদ্দেশ্যে করা হয়। যদিও আক্রমণাত্মক আচরণ কখনও কখনও হতাশা বা উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হতে পারে, এটি সরাসরি একটি প্রতিরক্ষণ কৌশল হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয় না, বরং এটি একটি আচরণগত প্রতিক্রিয়া। ( Abnormal Psychology )
সুতরাং, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, ‘অস্বীকার’ (Denial) হলো একটি সুপরিচিত এবং স্বীকৃত প্রতিরক্ষণ কৌশল।Incorrectপ্রতিরক্ষণ কৌশল
প্রদত্ত প্রশ্নটি প্রতিরক্ষণ কৌশল (defense mechanisms) সম্পর্কিত। মনোবিজ্ঞানে, প্রতিরক্ষণ কৌশল হলো অচেতন প্রক্রিয়া যা ব্যক্তি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বা সংঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করে। এই কৌশলগুলি সাধারণত অস্বস্তিকর চিন্তা, অনুভূতি বা স্মৃতিকে সচেতন মন থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। সিগমুন্ড ফ্রয়েড (Sigmund Freud) এবং তার কন্যা আনা ফ্রয়েড (Anna Freud) প্রতিরক্ষণ কৌশলগুলির ধারণাটি ব্যাপকভাবে বিকশিত করেছেন।প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, (A) অস্বীকার (denial) একটি সুপরিচিত প্রতিরক্ষণ কৌশল।
অস্বীকার (Denial)
অস্বীকার হলো একটি প্রতিরক্ষণ কৌশল যেখানে একজন ব্যক্তি একটি বেদনাদায়ক বাস্তবতা, ঘটনা, বা অনুভূতিকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে বা তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে ব্যক্তি সচেতনভাবে একটি সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করে, কারণ সেই সত্যটি তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর বা উদ্বেগজনক। ( The American Psychiatric Publishing Textbook of Psychiatry ) উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি যিনি গুরুতর অসুস্থ, তিনি তার অসুস্থতার তীব্রতা বা অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে পারেন। একইভাবে, একজন আসক্ত ব্যক্তি তার আসক্তিকে অস্বীকার করতে পারে। ( Theories of Personality )আনা ফ্রয়েড তার কাজে বিভিন্ন প্রতিরক্ষণ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে অস্বীকার অন্যতম। তিনি দেখিয়েছেন যে অস্বীকার বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেতে পারে, যেমন:
সাধারণ অস্বীকার: একটি অপ্রীতিকর সত্যকে সরাসরি অস্বীকার করা।
ফ্যান্টাসি অস্বীকার: বাস্তবতাকে অস্বীকার করে একটি কাল্পনিক জগতে আশ্রয় নেওয়া।
কর্মের মাধ্যমে অস্বীকার: এমনভাবে আচরণ করা যেন অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেনি।
অস্বীকার স্বল্পমেয়াদে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি সমস্যার সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং আরও বড় মানসিক সমস্যার জন্ম দিতে পারে। ( Abnormal Psychology )অন্যান্য বিকল্পের বিশ্লেষণ
প্রদত্ত অন্যান্য বিকল্পগুলি প্রতিরক্ষণ কৌশল হিসেবে সরাসরি পরিচিত নয়:(B) অনুষঙ্গ (Association): মনোবিজ্ঞানে, অনুষঙ্গ সাধারণত ধারণা, স্মৃতি বা অনুভূতির মধ্যে সংযোগ স্থাপনকে বোঝায়। এটি শেখার প্রক্রিয়া এবং স্মৃতিচারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু এটি সরাসরি প্রতিরক্ষণ কৌশল নয়। ( APA Dictionary of Psychology )
(C) সহযোগিতা (Cooperation): সহযোগিতা হলো একটি সামাজিক প্রক্রিয়া যেখানে ব্যক্তিরা একটি সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একসাথে কাজ করে। এটি একটি সামাজিক আচরণ, প্রতিরক্ষণ কৌশল নয়। ( APA Dictionary of Psychology )
(D) আক্রমণ (Aggression): আক্রমণ হলো এমন আচরণ যা অন্যকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করার উদ্দেশ্যে করা হয়। যদিও আক্রমণাত্মক আচরণ কখনও কখনও হতাশা বা উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হতে পারে, এটি সরাসরি একটি প্রতিরক্ষণ কৌশল হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয় না, বরং এটি একটি আচরণগত প্রতিক্রিয়া। ( Abnormal Psychology )
সুতরাং, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, ‘অস্বীকার’ (Denial) হলো একটি সুপরিচিত এবং স্বীকৃত প্রতিরক্ষণ কৌশল। - Question 28 of 55
28. Question
1 points28. সবচেয়ে বেশি মানসিক স্বাস্থ্যহীনতা দেখা যায়
Correctপ্রমাণিত গবেষণা অনুযায়ী সঠিক উত্তর হলো (C) ভাঙা পরিবার।
পারিবারিক কাঠামো ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক
পরিবারের গঠন ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক জটিল এবং বহুমুখী। একটি পরিবারের ভেতরের নানা উপাদান মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।ভাঙা পরিবার ও মানসিক স্বাস্থ্যের ফলাফল
“ভাঙা পরিবার” বলতে বোঝায় এমন একটি পরিবার যেখানে বিবাহবিচ্ছেদ, আলাদা থাকা, পিতামাতার মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে মূল পারিবারিক কাঠামো ভেঙে যায়। গবেষণা বলছে, ভাঙা পরিবার থেকে আসা শিশু ও কিশোরদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার হার বেশি।কারণগুলির মধ্যে অন্যতম হলো:
পরিবার ভাঙনের মানসিক চাপ ও ট্রমা – যেমন বিবাহবিচ্ছেদ, যা সবার জন্য অত্যন্ত চাপপূর্ণ ঘটনা। এর ফলে আবেগীয় অস্থিরতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটে।
শিশুর মানসিক অবস্থা – তারা প্রায়ই ক্ষতি, একাকীত্ব, রাগ, বিভ্রান্তি অনুভব করে, যার ফলস্বরূপ উদ্বেগ, হতাশা, আচরণগত সমস্যা ও পড়াশোনায় ব্যর্থতা দেখা দিতে পারে।
পিতামাতার অংশগ্রহণ হ্রাস – একক অভিভাবকের আর্থিক ও সময়জনিত চাপ বাড়ে, ফলে আবেগীয় সহায়তা ও নজরদারি কমে যায়।
অর্থনৈতিক সংকট – বিবাহবিচ্ছেদের পর আয়ের পতন সাধারণ ঘটনা। দারিদ্র্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বড় কারণ।
পিতামাতার মধ্যে বিরোধ – আলাদা হওয়ার পরও যদি দ্বন্দ্ব চলতে থাকে, তা শিশুর মানসিক সুস্থতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
অন্যান্য পারিবারিক কাঠামো ও মানসিক স্বাস্থ্য
বড় যৌথ পরিবার – শক্তিশালী সামাজিক সহায়তার সুযোগ থাকলেও গোপনীয়তার অভাব ও প্রজন্মগত দ্বন্দ্বের সমস্যা হতে পারে। তবে সাপোর্ট সিস্টেম ভালো থাকলে মানসিক সমস্যার ঝুঁকি কম।দরিদ্র পরিবার – দারিদ্র্য মানসিক সমস্যার একটি প্রধান কারণ, তবে এটি কোনো পারিবারিক গঠন নয়, বরং সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা।
ছোট নিউক্লিয়ার পরিবার – সাধারণত ভালো মানসিক ফলাফল পাওয়া যায়, তবে বিচ্ছিন্নতা ও চাপের কারণে সমস্যার ঝুঁকি থাকতে পারে।
উপসংহার
সব প্রমাণের ভিত্তিতে, ভাঙা পরিবারে মানসিক সমস্যার হার সবচেয়ে বেশি, কারণ—পারিবারিক অস্থিরতা
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা
অভিভাবকের অনুপস্থিতি
ক্রমাগত মানসিক চাপ।
✅ তাই সঠিক উত্তর: (C) ভাঙা পরিবার।
Incorrectপ্রমাণিত গবেষণা অনুযায়ী সঠিক উত্তর হলো (C) ভাঙা পরিবার।
পারিবারিক কাঠামো ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক
পরিবারের গঠন ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক জটিল এবং বহুমুখী। একটি পরিবারের ভেতরের নানা উপাদান মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।ভাঙা পরিবার ও মানসিক স্বাস্থ্যের ফলাফল
“ভাঙা পরিবার” বলতে বোঝায় এমন একটি পরিবার যেখানে বিবাহবিচ্ছেদ, আলাদা থাকা, পিতামাতার মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে মূল পারিবারিক কাঠামো ভেঙে যায়। গবেষণা বলছে, ভাঙা পরিবার থেকে আসা শিশু ও কিশোরদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার হার বেশি।কারণগুলির মধ্যে অন্যতম হলো:
পরিবার ভাঙনের মানসিক চাপ ও ট্রমা – যেমন বিবাহবিচ্ছেদ, যা সবার জন্য অত্যন্ত চাপপূর্ণ ঘটনা। এর ফলে আবেগীয় অস্থিরতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটে।
শিশুর মানসিক অবস্থা – তারা প্রায়ই ক্ষতি, একাকীত্ব, রাগ, বিভ্রান্তি অনুভব করে, যার ফলস্বরূপ উদ্বেগ, হতাশা, আচরণগত সমস্যা ও পড়াশোনায় ব্যর্থতা দেখা দিতে পারে।
পিতামাতার অংশগ্রহণ হ্রাস – একক অভিভাবকের আর্থিক ও সময়জনিত চাপ বাড়ে, ফলে আবেগীয় সহায়তা ও নজরদারি কমে যায়।
অর্থনৈতিক সংকট – বিবাহবিচ্ছেদের পর আয়ের পতন সাধারণ ঘটনা। দারিদ্র্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বড় কারণ।
পিতামাতার মধ্যে বিরোধ – আলাদা হওয়ার পরও যদি দ্বন্দ্ব চলতে থাকে, তা শিশুর মানসিক সুস্থতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
অন্যান্য পারিবারিক কাঠামো ও মানসিক স্বাস্থ্য
বড় যৌথ পরিবার – শক্তিশালী সামাজিক সহায়তার সুযোগ থাকলেও গোপনীয়তার অভাব ও প্রজন্মগত দ্বন্দ্বের সমস্যা হতে পারে। তবে সাপোর্ট সিস্টেম ভালো থাকলে মানসিক সমস্যার ঝুঁকি কম।দরিদ্র পরিবার – দারিদ্র্য মানসিক সমস্যার একটি প্রধান কারণ, তবে এটি কোনো পারিবারিক গঠন নয়, বরং সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা।
ছোট নিউক্লিয়ার পরিবার – সাধারণত ভালো মানসিক ফলাফল পাওয়া যায়, তবে বিচ্ছিন্নতা ও চাপের কারণে সমস্যার ঝুঁকি থাকতে পারে।
উপসংহার
সব প্রমাণের ভিত্তিতে, ভাঙা পরিবারে মানসিক সমস্যার হার সবচেয়ে বেশি, কারণ—পারিবারিক অস্থিরতা
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা
অভিভাবকের অনুপস্থিতি
ক্রমাগত মানসিক চাপ।
✅ তাই সঠিক উত্তর: (C) ভাঙা পরিবার।
- Question 29 of 55
29. Question
1 points29. যে অভীক্ষায় পদগুলি সমস্তই সমান কঠিন বা সহজ তার নির্ভরযোগ্যতা পরিমাণের সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি
CorrectIncorrect - Question 30 of 55
30. Question
1 points30. ডিয়ারবোর্ন ফর্মবোর্ড অভীক্ষায় থাকে
CorrectIncorrect - Question 31 of 55
31. Question
1 points31. র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা একটি
Correctর্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা: একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ
র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা (Raven’s Progressive Matrices – RPM) একটি অ-মৌখিক বুদ্ধিমত্তা অভিক্ষা যা সাধারণত সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা স্পিয়ারম্যানের ‘g’ ফ্যাক্টর পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এই অভিক্ষাটি মূলত প্যাটার্ন শনাক্তকরণ এবং যৌক্তিক যুক্তির উপর নির্ভরশীল। প্রশ্নটি র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষার প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে এবং প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে কোনটি সঠিক তা নির্ধারণ করতে বলেছে।র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষার প্রকৃতি
র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা একটি সম্পাদনী অভীক্ষা (Performance Test)। এর কারণ হলো, এই অভিক্ষায় অংশগ্রহণকারীকে কোনো মৌখিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয় না বা কোনো লিখিত উত্তর দিতে হয় না। বরং, তাদের একটি ভিজ্যুয়াল প্যাটার্ন সম্পূর্ণ করতে হয় বা একটি অনুপস্থিত অংশ খুঁজে বের করতে হয়। এই ধরনের অভিক্ষাগুলি প্রায়শই এমন ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত হয় যাদের ভাষা দক্ষতা সীমিত বা যারা মৌখিক নির্দেশাবলী বুঝতে অসুবিধা বোধ করেন। ( Psychological Testing: Principles, Applications, and Issues )র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা দ্রুততার অভীক্ষা (Speed Test) নয়। যদিও অভিক্ষাটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য উৎসাহিত করা হয়, তবে এর মূল উদ্দেশ্য দ্রুততা পরিমাপ করা নয়, বরং নির্ভুলতা এবং যৌক্তিক যুক্তির ক্ষমতা পরিমাপ করা। অংশগ্রহণকারীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয় যাতে তারা প্রতিটি সমস্যার সমাধান করতে পারে। ( Tests and Measurements in Psychology )
র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা আত্মপ্রতিবেদনমূলক অভীক্ষা (Self-Report Test) নয়। আত্মপ্রতিবেদনমূলক অভীক্ষায় অংশগ্রহণকারীকে তাদের নিজস্ব অনুভূতি, বিশ্বাস বা আচরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় এবং তাদের প্রতিক্রিয়াগুলি তাদের নিজস্ব উপলব্ধি থেকে আসে। র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষায় কোনো ব্যক্তিগত মতামত বা অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগ থাকে না; এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক অভিক্ষা যেখানে সঠিক বা ভুল উত্তর থাকে। ( Encyclopedia of Psychological Assessment )
র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা সময়সীমাহীন অভীক্ষা (Untimed Test) নয়, যদিও এটি একটি কঠোর সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য ডিজাইন করা হয়নি। সাধারণত, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন, 45 মিনিট) দেওয়া হয়, তবে এটি একটি কঠোর সময়সীমা নয় যা অভিক্ষার বৈধতাকে প্রভাবিত করে। মূল লক্ষ্য হলো অংশগ্রহণকারীকে তাদের সেরাটা দিতে উৎসাহিত করা। ( The Oxford Handbook of Intelligence )
উপসংহারে, র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা একটি সম্পাদনী অভীক্ষা কারণ এটি অংশগ্রহণকারীর কর্মক্ষমতা বা সম্পাদনের উপর ভিত্তি করে বুদ্ধিমত্তা পরিমাপ করে, মৌখিক বা লিখিত প্রতিক্রিয়ার উপর নয়।
সঠিক বিকল্পের বিশ্লেষণ
প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, (A) সম্পাদনী অভীক্ষা হলো র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষার সঠিক বর্ণনা।(A) সম্পাদনী অভীক্ষা: র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা একটি অ-মৌখিক অভিক্ষা যেখানে অংশগ্রহণকারীকে ভিজ্যুয়াল প্যাটার্ন সম্পূর্ণ করে বা অনুপস্থিত অংশ খুঁজে বের করে তাদের বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শন করতে হয়। এটি তাদের ‘সম্পাদন’ বা ‘কর্মক্ষমতা’ পরিমাপ করে। ( Psychological Testing: Principles, Applications, and Issues )
(B) দ্রুততার অভীক্ষা: র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা দ্রুততা পরিমাপের জন্য ডিজাইন করা হয়নি। যদিও একটি সময়সীমা থাকতে পারে, তবে এটি মূলত নির্ভুলতা এবং যৌক্তিক যুক্তির উপর জোর দেয়। ( Tests and Measurements in Psychology )
(C) আত্মপ্রতিবেদনমূলক অভীক্ষা: র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা কোনো ব্যক্তিগত মতামত বা অনুভূতির উপর নির্ভরশীল নয়। এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক অভিক্ষা যেখানে সঠিক উত্তর রয়েছে। ( Encyclopedia of Psychological Assessment )
(D) সময়সীমাহীন অভীক্ষা: র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে, যদিও এটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয় না। এটি সম্পূর্ণভাবে সময়সীমাহীন নয়। ( The Oxford Handbook of Intelligence )
অতএব, র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা একটি সম্পাদনী অভীক্ষা।Incorrectর্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা: একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ
র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা (Raven’s Progressive Matrices – RPM) একটি অ-মৌখিক বুদ্ধিমত্তা অভিক্ষা যা সাধারণত সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা স্পিয়ারম্যানের ‘g’ ফ্যাক্টর পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এই অভিক্ষাটি মূলত প্যাটার্ন শনাক্তকরণ এবং যৌক্তিক যুক্তির উপর নির্ভরশীল। প্রশ্নটি র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষার প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে এবং প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে কোনটি সঠিক তা নির্ধারণ করতে বলেছে।র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষার প্রকৃতি
র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা একটি সম্পাদনী অভীক্ষা (Performance Test)। এর কারণ হলো, এই অভিক্ষায় অংশগ্রহণকারীকে কোনো মৌখিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয় না বা কোনো লিখিত উত্তর দিতে হয় না। বরং, তাদের একটি ভিজ্যুয়াল প্যাটার্ন সম্পূর্ণ করতে হয় বা একটি অনুপস্থিত অংশ খুঁজে বের করতে হয়। এই ধরনের অভিক্ষাগুলি প্রায়শই এমন ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত হয় যাদের ভাষা দক্ষতা সীমিত বা যারা মৌখিক নির্দেশাবলী বুঝতে অসুবিধা বোধ করেন। ( Psychological Testing: Principles, Applications, and Issues )র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা দ্রুততার অভীক্ষা (Speed Test) নয়। যদিও অভিক্ষাটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য উৎসাহিত করা হয়, তবে এর মূল উদ্দেশ্য দ্রুততা পরিমাপ করা নয়, বরং নির্ভুলতা এবং যৌক্তিক যুক্তির ক্ষমতা পরিমাপ করা। অংশগ্রহণকারীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয় যাতে তারা প্রতিটি সমস্যার সমাধান করতে পারে। ( Tests and Measurements in Psychology )
র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা আত্মপ্রতিবেদনমূলক অভীক্ষা (Self-Report Test) নয়। আত্মপ্রতিবেদনমূলক অভীক্ষায় অংশগ্রহণকারীকে তাদের নিজস্ব অনুভূতি, বিশ্বাস বা আচরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় এবং তাদের প্রতিক্রিয়াগুলি তাদের নিজস্ব উপলব্ধি থেকে আসে। র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষায় কোনো ব্যক্তিগত মতামত বা অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগ থাকে না; এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক অভিক্ষা যেখানে সঠিক বা ভুল উত্তর থাকে। ( Encyclopedia of Psychological Assessment )
র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা সময়সীমাহীন অভীক্ষা (Untimed Test) নয়, যদিও এটি একটি কঠোর সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য ডিজাইন করা হয়নি। সাধারণত, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন, 45 মিনিট) দেওয়া হয়, তবে এটি একটি কঠোর সময়সীমা নয় যা অভিক্ষার বৈধতাকে প্রভাবিত করে। মূল লক্ষ্য হলো অংশগ্রহণকারীকে তাদের সেরাটা দিতে উৎসাহিত করা। ( The Oxford Handbook of Intelligence )
উপসংহারে, র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা একটি সম্পাদনী অভীক্ষা কারণ এটি অংশগ্রহণকারীর কর্মক্ষমতা বা সম্পাদনের উপর ভিত্তি করে বুদ্ধিমত্তা পরিমাপ করে, মৌখিক বা লিখিত প্রতিক্রিয়ার উপর নয়।
সঠিক বিকল্পের বিশ্লেষণ
প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, (A) সম্পাদনী অভীক্ষা হলো র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষার সঠিক বর্ণনা।(A) সম্পাদনী অভীক্ষা: র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা একটি অ-মৌখিক অভিক্ষা যেখানে অংশগ্রহণকারীকে ভিজ্যুয়াল প্যাটার্ন সম্পূর্ণ করে বা অনুপস্থিত অংশ খুঁজে বের করে তাদের বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শন করতে হয়। এটি তাদের ‘সম্পাদন’ বা ‘কর্মক্ষমতা’ পরিমাপ করে। ( Psychological Testing: Principles, Applications, and Issues )
(B) দ্রুততার অভীক্ষা: র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা দ্রুততা পরিমাপের জন্য ডিজাইন করা হয়নি। যদিও একটি সময়সীমা থাকতে পারে, তবে এটি মূলত নির্ভুলতা এবং যৌক্তিক যুক্তির উপর জোর দেয়। ( Tests and Measurements in Psychology )
(C) আত্মপ্রতিবেদনমূলক অভীক্ষা: র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা কোনো ব্যক্তিগত মতামত বা অনুভূতির উপর নির্ভরশীল নয়। এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক অভিক্ষা যেখানে সঠিক উত্তর রয়েছে। ( Encyclopedia of Psychological Assessment )
(D) সময়সীমাহীন অভীক্ষা: র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে, যদিও এটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয় না। এটি সম্পূর্ণভাবে সময়সীমাহীন নয়। ( The Oxford Handbook of Intelligence )
অতএব, র্যাভোনর বৃদ্ধি অভিক্ষা একটি সম্পাদনী অভীক্ষা। - Question 32 of 55
32. Question
1 points32. স্বাভাবিক লেখচিত্রের শীর্ষবিন্দু যদি বণ্টনের ঠিক মধ্যবিন্দুতে অবস্থান না করে তবে সেই বণ্টনকে কী বলা হয়
Correctস্বাভাবিক বণ্টন (Normal Distribution)
স্বাভাবিক বণ্টনকে সাধারণত ঘণ্টার মতো আকৃতির (bell-shaped) রেখাচিত্র দ্বারা বোঝানো হয়।এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো সমতা (symmetry)।
একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বণ্টনে গড় (Mean), মধ্যক (Median) এবং সর্বাধিকবার সংঘটিত মান (Mode) – এই তিনটি একই বিন্দুতে থাকে, যা বণ্টনের চূড়া এবং কেন্দ্র।
যখন স্বাভাবিক বণ্টন ভেঙে যায়
বাস্তবে অনেক তথ্যবিন্যাসে বণ্টন সমান নয়। যখন তথ্য সমানভাবে কেন্দ্রীভূত হয় না, তখন তাকে বলা হয় স্কিউড (Skewed) বণ্টন।
স্কিউনেস (Skewness) হলো একটি পরিমাপ, যা বণ্টনের অসমতা (asymmetry) নির্দেশ করে।স্কিউড বণ্টনের দুই প্রকার
ধনাত্মক স্কিউ (Positive Skew / Right Skew):ডানদিকে লেজ (tail) বেশি লম্বা বা মোটা হয়।
গড় (Mean) ডানদিকে সরে যায়, মধ্যক (Median) ও মোড (Mode) বামদিকে থাকে।
উদাহরণ: আয়ের বণ্টন (কয়েকজনের অনেক বেশি আয় গড়কে ডানদিকে টেনে নিয়ে যায়)।
ঋণাত্মক স্কিউ (Negative Skew / Left Skew):
বাঁদিকে লেজ বেশি লম্বা বা মোটা হয়।
গড় বাঁদিকে সরে যায়, চূড়া ডানদিকে থাকে।
উদাহরণ: খুব সহজ পরীক্ষার ফলাফল, যেখানে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী উচ্চ নম্বর পায়।
মূল পয়েন্টসমূহ:
স্কিউনেস = অসমতা।স্কিউনেস শূন্য হলে বণ্টন সম্পূর্ণ সমমিত।
ধনাত্মক মান মানে ডানদিকে লেজ, ঋণাত্মক মান মানে বাঁদিকে লেজ।
এটি কার্টোসিস (Kurtosis) থেকে আলাদা।
কার্টোসিস বোঝায় লেজ কত ভারী বা হালকা (Leptokurtic = ভারী লেজ, Platykurtic = হালকা লেজ)।
✅ তাই, যখন স্বাভাবিক বণ্টনের চূড়া মধ্যবিন্দুর সঙ্গে মেলে না, তখন বণ্টনটি স্কিউড বা স্কুলেস যুক্ত।
Incorrectস্বাভাবিক বণ্টন (Normal Distribution)
স্বাভাবিক বণ্টনকে সাধারণত ঘণ্টার মতো আকৃতির (bell-shaped) রেখাচিত্র দ্বারা বোঝানো হয়।এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো সমতা (symmetry)।
একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বণ্টনে গড় (Mean), মধ্যক (Median) এবং সর্বাধিকবার সংঘটিত মান (Mode) – এই তিনটি একই বিন্দুতে থাকে, যা বণ্টনের চূড়া এবং কেন্দ্র।
যখন স্বাভাবিক বণ্টন ভেঙে যায়
বাস্তবে অনেক তথ্যবিন্যাসে বণ্টন সমান নয়। যখন তথ্য সমানভাবে কেন্দ্রীভূত হয় না, তখন তাকে বলা হয় স্কিউড (Skewed) বণ্টন।
স্কিউনেস (Skewness) হলো একটি পরিমাপ, যা বণ্টনের অসমতা (asymmetry) নির্দেশ করে।স্কিউড বণ্টনের দুই প্রকার
ধনাত্মক স্কিউ (Positive Skew / Right Skew):ডানদিকে লেজ (tail) বেশি লম্বা বা মোটা হয়।
গড় (Mean) ডানদিকে সরে যায়, মধ্যক (Median) ও মোড (Mode) বামদিকে থাকে।
উদাহরণ: আয়ের বণ্টন (কয়েকজনের অনেক বেশি আয় গড়কে ডানদিকে টেনে নিয়ে যায়)।
ঋণাত্মক স্কিউ (Negative Skew / Left Skew):
বাঁদিকে লেজ বেশি লম্বা বা মোটা হয়।
গড় বাঁদিকে সরে যায়, চূড়া ডানদিকে থাকে।
উদাহরণ: খুব সহজ পরীক্ষার ফলাফল, যেখানে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী উচ্চ নম্বর পায়।
মূল পয়েন্টসমূহ:
স্কিউনেস = অসমতা।স্কিউনেস শূন্য হলে বণ্টন সম্পূর্ণ সমমিত।
ধনাত্মক মান মানে ডানদিকে লেজ, ঋণাত্মক মান মানে বাঁদিকে লেজ।
এটি কার্টোসিস (Kurtosis) থেকে আলাদা।
কার্টোসিস বোঝায় লেজ কত ভারী বা হালকা (Leptokurtic = ভারী লেজ, Platykurtic = হালকা লেজ)।
✅ তাই, যখন স্বাভাবিক বণ্টনের চূড়া মধ্যবিন্দুর সঙ্গে মেলে না, তখন বণ্টনটি স্কিউড বা স্কুলেস যুক্ত।
- Question 33 of 55
33. Question
1 points33. Gestalt তত্ত্বের সঙ্গে কে যুক্ত নন?
Correctগেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞানের মূল ধারণা
গেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞান বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মানিতে গড়ে ওঠে। এটি ভুন্ড্টের স্ট্রাকচারালিজমের বিপরীতে উদ্ভূত হয়, যা মানসিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুদ্রতম উপাদানে ভাগ করে বিশ্লেষণ করত। গেস্টাল্ট তত্ত্ব বলছে, “সর্বাংশ (whole) তার অংশগুলির যোগফলের চেয়েও বড়”।
“গেস্টাল্ট” শব্দের অর্থ হলো রূপ বা গঠন, অর্থাৎ উপলব্ধি (perception) সংগঠিত হয় একটি পূর্ণ রূপে, খণ্ডিত অংশে নয়।গেস্টাল্ট তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তারা
ম্যাক্স ভের্থাইমার (Max Wertheimer): 1912 সালে “ফি ফেনোমেনন (phi phenomenon)” নিয়ে গবেষণা করেন, যেখানে দেখা যায় স্থির চিত্রের ধারাবাহিক প্রদর্শন থেকে গতির ভ্রান্তি (illusion of motion) তৈরি হয়।কার্ট কফকা (Kurt Koffka): গেস্টাল্ট তত্ত্ব ইংরেজিভাষী দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেন। তাঁর বই Principles of Gestalt Psychology (1935) এ তত্ত্বের মূল ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।
উলফগ্যাং কোলার (Wolfgang Köhler): শিম্পাঞ্জিদের উপর গবেষণার মাধ্যমে “ইনসাইট লার্নিং” প্রমাণ করেন।
দেওয়া বিকল্পগুলির বিশ্লেষণ
(A) Max Weber – তিনি একজন সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ, গেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত নন।
(B) Max Wertheimer – গেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
(C) Kurt Koffka – গেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞানের প্রধান তাত্ত্বিক।
(D) Köhler – গেস্টাল্টের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং গবেষক।✅ সঠিক উত্তর:
(A) Max Weber – কারণ তিনি গেস্টাল্ট তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বরং সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতির জন্য বিখ্যাত।Incorrectগেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞানের মূল ধারণা
গেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞান বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মানিতে গড়ে ওঠে। এটি ভুন্ড্টের স্ট্রাকচারালিজমের বিপরীতে উদ্ভূত হয়, যা মানসিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুদ্রতম উপাদানে ভাগ করে বিশ্লেষণ করত। গেস্টাল্ট তত্ত্ব বলছে, “সর্বাংশ (whole) তার অংশগুলির যোগফলের চেয়েও বড়”।
“গেস্টাল্ট” শব্দের অর্থ হলো রূপ বা গঠন, অর্থাৎ উপলব্ধি (perception) সংগঠিত হয় একটি পূর্ণ রূপে, খণ্ডিত অংশে নয়।গেস্টাল্ট তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তারা
ম্যাক্স ভের্থাইমার (Max Wertheimer): 1912 সালে “ফি ফেনোমেনন (phi phenomenon)” নিয়ে গবেষণা করেন, যেখানে দেখা যায় স্থির চিত্রের ধারাবাহিক প্রদর্শন থেকে গতির ভ্রান্তি (illusion of motion) তৈরি হয়।কার্ট কফকা (Kurt Koffka): গেস্টাল্ট তত্ত্ব ইংরেজিভাষী দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেন। তাঁর বই Principles of Gestalt Psychology (1935) এ তত্ত্বের মূল ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।
উলফগ্যাং কোলার (Wolfgang Köhler): শিম্পাঞ্জিদের উপর গবেষণার মাধ্যমে “ইনসাইট লার্নিং” প্রমাণ করেন।
দেওয়া বিকল্পগুলির বিশ্লেষণ
(A) Max Weber – তিনি একজন সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ, গেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত নন।
(B) Max Wertheimer – গেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
(C) Kurt Koffka – গেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞানের প্রধান তাত্ত্বিক।
(D) Köhler – গেস্টাল্টের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং গবেষক।✅ সঠিক উত্তর:
(A) Max Weber – কারণ তিনি গেস্টাল্ট তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বরং সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতির জন্য বিখ্যাত। - Question 34 of 55
34. Question
1 points34. মধ্যযুগের ইসলামিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রধানতম বৈশিষ্টা কী ছিল।
Correctসঠিক উত্তর হলো:
(C) ধর্মীয় ভিত্তি
✅ ব্যাখ্যা:
মধ্যযুগের ইসলামিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় ভিত্তি।ইসলামিক শিক্ষা মূলত কোরআন, হাদিস এবং শরীয়াহ শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
মক্তব ও মাদ্রাসায় শিক্ষা হতো, যেখানে ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো।
প্রধান লক্ষ্য ছিল আল্লাহর ইবাদত ও শরীয়াহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
অন্য বিকল্পের বিশ্লেষণ:
(A) সম্রাটের পৃষ্ঠপোষকতা → হ্যাঁ, সম্রাটরা শিক্ষা পৃষ্ঠপোষকতা করতেন, কিন্তু সেটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়।
(B) সহজ → ইসলামিক শিক্ষা সহজ ছিল বলা ঠিক নয়; ধর্মীয় নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হতো।
(D) সামা → সামা (সঙ্গীত) ইসলামিক শিক্ষার মূল বৈশিষ্ট্য নয়।
✅ তাই সঠিক উত্তর: ধর্মীয় ভিত্তি (C)।
Incorrectসঠিক উত্তর হলো:
(C) ধর্মীয় ভিত্তি
✅ ব্যাখ্যা:
মধ্যযুগের ইসলামিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় ভিত্তি।ইসলামিক শিক্ষা মূলত কোরআন, হাদিস এবং শরীয়াহ শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
মক্তব ও মাদ্রাসায় শিক্ষা হতো, যেখানে ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো।
প্রধান লক্ষ্য ছিল আল্লাহর ইবাদত ও শরীয়াহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
অন্য বিকল্পের বিশ্লেষণ:
(A) সম্রাটের পৃষ্ঠপোষকতা → হ্যাঁ, সম্রাটরা শিক্ষা পৃষ্ঠপোষকতা করতেন, কিন্তু সেটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়।
(B) সহজ → ইসলামিক শিক্ষা সহজ ছিল বলা ঠিক নয়; ধর্মীয় নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হতো।
(D) সামা → সামা (সঙ্গীত) ইসলামিক শিক্ষার মূল বৈশিষ্ট্য নয়।
✅ তাই সঠিক উত্তর: ধর্মীয় ভিত্তি (C)।
- Question 35 of 55
35. Question
1 points35. বিনে-সাইমন বুদ্ধির অভীক্ষায় মানসিক বয়সের ধারণাটি কখন যুক্ত হয়
Correctবিনে-সাইমন বুদ্ধির অভীক্ষায় মানসিক বয়সের ধারণাটি যুক্ত হয় (C) 1911 সালে।
আলফ্রেড বিনে এবং থিওডোর সাইমন ১৯০৫ সালে তাদের প্রথম বুদ্ধিমত্তা অভীক্ষা প্রকাশ করেন, যা শিশুদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক ঘাটতি নির্ণয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এই প্রাথমিক অভীক্ষায়, তারা শিশুদের বয়স-উপযোগী কাজগুলি সম্পন্ন করার ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে তাদের বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের চেষ্টা করেন। তবে, “মানসিক বয়স” (mental age) ধারণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অভীক্ষার পরবর্তী সংস্করণে, অর্থাৎ ১৯১১ সালের সংস্করণে, প্রবর্তন করা হয়।
১৯১১ সালের বিনে-সাইমন স্কেলে, মানসিক বয়সকে একটি শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের স্তর হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল, যা একটি নির্দিষ্ট বয়সের গড় শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাকে প্রতিফলিত করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন ৮ বছর বয়সী শিশু ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য নির্ধারিত কাজগুলি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তবে তার মানসিক বয়স হবে ১০ বছর। এই ধারণাটি বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল, কারণ এটি শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাকে তাদের কালানুক্রমিক বয়সের (chronological age) সাথে তুলনা করার একটি মানসম্মত উপায় প্রদান করে।
Incorrectবিনে-সাইমন বুদ্ধির অভীক্ষায় মানসিক বয়সের ধারণাটি যুক্ত হয় (C) 1911 সালে।
আলফ্রেড বিনে এবং থিওডোর সাইমন ১৯০৫ সালে তাদের প্রথম বুদ্ধিমত্তা অভীক্ষা প্রকাশ করেন, যা শিশুদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক ঘাটতি নির্ণয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এই প্রাথমিক অভীক্ষায়, তারা শিশুদের বয়স-উপযোগী কাজগুলি সম্পন্ন করার ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে তাদের বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের চেষ্টা করেন। তবে, “মানসিক বয়স” (mental age) ধারণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অভীক্ষার পরবর্তী সংস্করণে, অর্থাৎ ১৯১১ সালের সংস্করণে, প্রবর্তন করা হয়।
১৯১১ সালের বিনে-সাইমন স্কেলে, মানসিক বয়সকে একটি শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের স্তর হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল, যা একটি নির্দিষ্ট বয়সের গড় শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাকে প্রতিফলিত করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন ৮ বছর বয়সী শিশু ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য নির্ধারিত কাজগুলি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তবে তার মানসিক বয়স হবে ১০ বছর। এই ধারণাটি বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল, কারণ এটি শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাকে তাদের কালানুক্রমিক বয়সের (chronological age) সাথে তুলনা করার একটি মানসম্মত উপায় প্রদান করে।
- Question 36 of 55
36. Question
1 points36. অন্তমুখিতা বহিমুখিতার বিভাজন ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে কে প্রথম করেন
Correctঅন্তর্মুখিতা-বহির্মুখিতার বিভাজন ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে কে প্রথম করেন?
অন্তর্মুখিতা (Introversion) এবং বহিমুখিতা (Extraversion) ব্যক্তিত্বের দুটি প্রধান মাত্রা, যা মানুষের আচরণ, চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। এই বিভাজনটি মনোবিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং ব্যক্তিত্বের তত্ত্বের বিকাশে এর অবদান অনস্বীকার্য। প্রশ্নটি হলো, এই বিভাজনটি ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে কে প্রথম করেন?সঠিক উত্তরটি হলো (A) ইয়ুং।
কার্ল গুস্তাভ ইয়ুং (Carl Gustav Jung) ছিলেন একজন সুইস মনোবিজ্ঞানী এবং মনোচিকিৎসক, যিনি বিশ্লেষণাত্মক মনোবিজ্ঞানের (Analytical Psychology) প্রতিষ্ঠাতা। তিনিই প্রথম তাঁর তত্ত্বে অন্তর্মুখিতা এবং বহিমুখিতার ধারণাটি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন এবং এটিকে ব্যক্তিত্বের দুটি মৌলিক মনোভাব (attitudes) হিসেবে চিহ্নিত করেন।
কার্ল গুস্তাভ ইয়ুং এবং অন্তর্মুখিতা-বহিমুখিতা
ইয়ুং তাঁর ১৯২১ সালের জার্মান ভাষার গ্রন্থ Psychologische Typen (ইংরেজিতে Psychological Types) -এ অন্তর্মুখিতা এবং বহিমুখিতার ধারণাটি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। এই গ্রন্থে তিনি মানুষের মানসিক শক্তি বা ‘লিবাইডো’ (libido) কোন দিকে পরিচালিত হয়, তার উপর ভিত্তি করে এই দুটি মনোভাবের বর্ণনা দেন।অন্তর্মুখিতা (Introversion)
ইয়ুং-এর মতে, অন্তর্মুখী ব্যক্তিরা তাদের মানসিক শক্তি বা লিবাইডোকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ জগতে, অর্থাৎ তাদের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতার দিকে পরিচালিত করে। তারা সাধারণত নিজেদের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে, নির্জনতা উপভোগ করে এবং সামাজিক মেলামেশা থেকে শক্তি অর্জন করার পরিবর্তে শক্তি হারায়। তারা গভীর চিন্তাভাবনা এবং আত্ম-প্রতিফলনে আগ্রহী হয়।(Jung, Carl Gustav. Psychological Types)
বহিমুখিতা (Extraversion)
অন্যদিকে, বহিমুখী ব্যক্তিরা তাদের মানসিক শক্তিকে বাহ্যিক জগতে, অর্থাৎ মানুষ, বস্তু এবং কার্যকলাপের দিকে পরিচালিত করে। তারা সামাজিক মেলামেশা, নতুন অভিজ্ঞতা এবং বাহ্যিক উদ্দীপনা থেকে শক্তি অর্জন করে। তারা সাধারণত সক্রিয়, মিশুক এবং পরিবেশের সাথে সরাসরি জড়িত থাকতে পছন্দ করে।(Jung, Carl Gustav. Psychological Types)
ইয়ুং-এর টাইপোলজি
ইয়ুং শুধু অন্তর্মুখিতা এবং বহিমুখিতার ধারণা দিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি এই দুটি মনোভাবের সাথে চারটি মানসিক কার্যকারিতা (functions) – চিন্তা (thinking), অনুভূতি (feeling), সংবেদন (sensing) এবং স্বজ্ঞা (intuition) – কে একত্রিত করে আটটি ব্যক্তিত্বের প্রকার (psychological types) বর্ণনা করেন। এই কার্যকারিতাগুলি নির্দেশ করে যে একজন ব্যক্তি কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়।(Jung, Carl Gustav. Psychological Types)
অন্যান্য মনোবিজ্ঞানীদের অবদান
যদিও ইয়ুং অন্তর্মুখিতা-বহিমুখিতার ধারণাটি প্রথম বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন, পরবর্তীকালে অন্যান্য মনোবিজ্ঞানীরাও এই ধারণাটিকে আরও বিকশিত করেছেন এবং তাদের ব্যক্তিত্বের তত্ত্বে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।হ্যান্স আইজেঙ্ক (Hans Eysenck)
হ্যান্স আইজেঙ্ক ছিলেন একজন ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী, যিনি ব্যক্তিত্বের জৈবিক ভিত্তি নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি ইয়ুং-এর অন্তর্মুখিতা-বহিমুখিতার ধারণাটিকে তাঁর ব্যক্তিত্বের ত্রিমাত্রিক মডেলে (Three-Factor Model) একটি প্রধান মাত্রা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। আইজেঙ্ক বিশ্বাস করতেন যে অন্তর্মুখিতা এবং বহিমুখিতা মস্তিষ্কের কর্টিকাল উত্তেজনা (cortical arousal) স্তরের সাথে সম্পর্কিত। বহিমুখীরা কম কর্টিকাল উত্তেজনা নিয়ে জন্মায়, তাই তারা উদ্দীপনা খুঁজতে থাকে, আর অন্তর্মুখীরা বেশি কর্টিকাল উত্তেজনা নিয়ে জন্মায়, তাই তারা উদ্দীপনা এড়িয়ে চলে।(Eysenck, Hans J. The Biological Basis of Personality)
রেমন্ড ক্যাটেল (Raymond Cattell)
রেমন্ড ক্যাটেল ছিলেন একজন আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী, যিনি ফ্যাক্টর অ্যানালাইসিস (factor analysis) ব্যবহার করে ব্যক্তিত্বের ১৬টি প্রধান বৈশিষ্ট্য (source traits) চিহ্নিত করেন। তাঁর ১৬পিএফ (16PF) ব্যক্তিত্ব প্রশ্নাবলীতেও অন্তর্মুখিতা-বহিমুখিতার একটি মাত্রা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যদিও তিনি এটিকে ‘শাইনেস’ (shyness) বা ‘সোশ্যাল বোল্ডনেস’ (social boldness) এর মতো অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত করে দেখেন।(Cattell, Raymond B. The Scientific Analysis of Personality)
সিগমুন্ড ফ্রয়েড (Sigmund Freud)
সিগমুন্ড ফ্রয়েড ছিলেন মনোবিশ্লেষণের (Psychoanalysis) প্রতিষ্ঠাতা। যদিও ফ্রয়েড সরাসরি অন্তর্মুখিতা বা বহিমুখিতার মতো সুস্পষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রকারভেদ নিয়ে কাজ করেননি, তাঁর তত্ত্বে ইড (id), ইগো (ego) এবং সুপারইগো (superego) এর মধ্যেকার গতিশীলতা এবং মানসিক শক্তির (libido) প্রবাহের ধারণাগুলি পরোক্ষভাবে ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন প্রকাশকে ব্যাখ্যা করে। তবে, ইয়ুং-এর মতো সুনির্দিষ্ট বিভাজন ফ্রয়েডের তত্ত্বে অনুপস্থিত।(Freud, Sigmund. An Outline of Psycho-Analysis)
উপসংহার
সুতরাং, অন্তর্মুখিতা এবং বহিমুখিতার বিভাজন ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে প্রথম করেন কার্ল গুস্তাভ ইয়ুং। তাঁর Psychological Types গ্রন্থটি এই ধারণার ভিত্তি স্থাপন করে এবং পরবর্তীকালে ব্যক্তিত্বের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।Incorrectঅন্তর্মুখিতা-বহির্মুখিতার বিভাজন ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে কে প্রথম করেন?
অন্তর্মুখিতা (Introversion) এবং বহিমুখিতা (Extraversion) ব্যক্তিত্বের দুটি প্রধান মাত্রা, যা মানুষের আচরণ, চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। এই বিভাজনটি মনোবিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং ব্যক্তিত্বের তত্ত্বের বিকাশে এর অবদান অনস্বীকার্য। প্রশ্নটি হলো, এই বিভাজনটি ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে কে প্রথম করেন?সঠিক উত্তরটি হলো (A) ইয়ুং।
কার্ল গুস্তাভ ইয়ুং (Carl Gustav Jung) ছিলেন একজন সুইস মনোবিজ্ঞানী এবং মনোচিকিৎসক, যিনি বিশ্লেষণাত্মক মনোবিজ্ঞানের (Analytical Psychology) প্রতিষ্ঠাতা। তিনিই প্রথম তাঁর তত্ত্বে অন্তর্মুখিতা এবং বহিমুখিতার ধারণাটি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন এবং এটিকে ব্যক্তিত্বের দুটি মৌলিক মনোভাব (attitudes) হিসেবে চিহ্নিত করেন।
কার্ল গুস্তাভ ইয়ুং এবং অন্তর্মুখিতা-বহিমুখিতা
ইয়ুং তাঁর ১৯২১ সালের জার্মান ভাষার গ্রন্থ Psychologische Typen (ইংরেজিতে Psychological Types) -এ অন্তর্মুখিতা এবং বহিমুখিতার ধারণাটি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। এই গ্রন্থে তিনি মানুষের মানসিক শক্তি বা ‘লিবাইডো’ (libido) কোন দিকে পরিচালিত হয়, তার উপর ভিত্তি করে এই দুটি মনোভাবের বর্ণনা দেন।অন্তর্মুখিতা (Introversion)
ইয়ুং-এর মতে, অন্তর্মুখী ব্যক্তিরা তাদের মানসিক শক্তি বা লিবাইডোকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ জগতে, অর্থাৎ তাদের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতার দিকে পরিচালিত করে। তারা সাধারণত নিজেদের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে, নির্জনতা উপভোগ করে এবং সামাজিক মেলামেশা থেকে শক্তি অর্জন করার পরিবর্তে শক্তি হারায়। তারা গভীর চিন্তাভাবনা এবং আত্ম-প্রতিফলনে আগ্রহী হয়।(Jung, Carl Gustav. Psychological Types)
বহিমুখিতা (Extraversion)
অন্যদিকে, বহিমুখী ব্যক্তিরা তাদের মানসিক শক্তিকে বাহ্যিক জগতে, অর্থাৎ মানুষ, বস্তু এবং কার্যকলাপের দিকে পরিচালিত করে। তারা সামাজিক মেলামেশা, নতুন অভিজ্ঞতা এবং বাহ্যিক উদ্দীপনা থেকে শক্তি অর্জন করে। তারা সাধারণত সক্রিয়, মিশুক এবং পরিবেশের সাথে সরাসরি জড়িত থাকতে পছন্দ করে।(Jung, Carl Gustav. Psychological Types)
ইয়ুং-এর টাইপোলজি
ইয়ুং শুধু অন্তর্মুখিতা এবং বহিমুখিতার ধারণা দিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি এই দুটি মনোভাবের সাথে চারটি মানসিক কার্যকারিতা (functions) – চিন্তা (thinking), অনুভূতি (feeling), সংবেদন (sensing) এবং স্বজ্ঞা (intuition) – কে একত্রিত করে আটটি ব্যক্তিত্বের প্রকার (psychological types) বর্ণনা করেন। এই কার্যকারিতাগুলি নির্দেশ করে যে একজন ব্যক্তি কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়।(Jung, Carl Gustav. Psychological Types)
অন্যান্য মনোবিজ্ঞানীদের অবদান
যদিও ইয়ুং অন্তর্মুখিতা-বহিমুখিতার ধারণাটি প্রথম বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন, পরবর্তীকালে অন্যান্য মনোবিজ্ঞানীরাও এই ধারণাটিকে আরও বিকশিত করেছেন এবং তাদের ব্যক্তিত্বের তত্ত্বে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।হ্যান্স আইজেঙ্ক (Hans Eysenck)
হ্যান্স আইজেঙ্ক ছিলেন একজন ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী, যিনি ব্যক্তিত্বের জৈবিক ভিত্তি নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি ইয়ুং-এর অন্তর্মুখিতা-বহিমুখিতার ধারণাটিকে তাঁর ব্যক্তিত্বের ত্রিমাত্রিক মডেলে (Three-Factor Model) একটি প্রধান মাত্রা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। আইজেঙ্ক বিশ্বাস করতেন যে অন্তর্মুখিতা এবং বহিমুখিতা মস্তিষ্কের কর্টিকাল উত্তেজনা (cortical arousal) স্তরের সাথে সম্পর্কিত। বহিমুখীরা কম কর্টিকাল উত্তেজনা নিয়ে জন্মায়, তাই তারা উদ্দীপনা খুঁজতে থাকে, আর অন্তর্মুখীরা বেশি কর্টিকাল উত্তেজনা নিয়ে জন্মায়, তাই তারা উদ্দীপনা এড়িয়ে চলে।(Eysenck, Hans J. The Biological Basis of Personality)
রেমন্ড ক্যাটেল (Raymond Cattell)
রেমন্ড ক্যাটেল ছিলেন একজন আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী, যিনি ফ্যাক্টর অ্যানালাইসিস (factor analysis) ব্যবহার করে ব্যক্তিত্বের ১৬টি প্রধান বৈশিষ্ট্য (source traits) চিহ্নিত করেন। তাঁর ১৬পিএফ (16PF) ব্যক্তিত্ব প্রশ্নাবলীতেও অন্তর্মুখিতা-বহিমুখিতার একটি মাত্রা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যদিও তিনি এটিকে ‘শাইনেস’ (shyness) বা ‘সোশ্যাল বোল্ডনেস’ (social boldness) এর মতো অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত করে দেখেন।(Cattell, Raymond B. The Scientific Analysis of Personality)
সিগমুন্ড ফ্রয়েড (Sigmund Freud)
সিগমুন্ড ফ্রয়েড ছিলেন মনোবিশ্লেষণের (Psychoanalysis) প্রতিষ্ঠাতা। যদিও ফ্রয়েড সরাসরি অন্তর্মুখিতা বা বহিমুখিতার মতো সুস্পষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রকারভেদ নিয়ে কাজ করেননি, তাঁর তত্ত্বে ইড (id), ইগো (ego) এবং সুপারইগো (superego) এর মধ্যেকার গতিশীলতা এবং মানসিক শক্তির (libido) প্রবাহের ধারণাগুলি পরোক্ষভাবে ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন প্রকাশকে ব্যাখ্যা করে। তবে, ইয়ুং-এর মতো সুনির্দিষ্ট বিভাজন ফ্রয়েডের তত্ত্বে অনুপস্থিত।(Freud, Sigmund. An Outline of Psycho-Analysis)
উপসংহার
সুতরাং, অন্তর্মুখিতা এবং বহিমুখিতার বিভাজন ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে প্রথম করেন কার্ল গুস্তাভ ইয়ুং। তাঁর Psychological Types গ্রন্থটি এই ধারণার ভিত্তি স্থাপন করে এবং পরবর্তীকালে ব্যক্তিত্বের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। - Question 37 of 55
37. Question
1 points37. রচনাধর্মী অভীক্ষা কেন যথার্থ নয়?
Correctরচনাধর্মী অভীক্ষা যথার্থ না হওয়ার প্রধান কারণ হল এটি সময়সাপেক্ষ এবং দীর্ঘ। সঠিক উত্তর (B) বেশি সময় লাগে।
কারণ:
রচনাধর্মী অভীক্ষায় একটি প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য অনেক সময় ব্যয় হয়।
এতে একাধিক প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়ে পরীক্ষার্থীর সময় ফুরিয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, কম সময়ে বেশি সংখ্যক প্রশ্ন যাচাই করার জন্য নৈর্ব্যক্তিক বা বস্তুনিষ্ঠ অভীক্ষা বেশি উপযোগী।
বিকল্পগুলির বিশ্লেষণ:
(A) খুব দীর্ঘ: রচনাধর্মী অভীক্ষা দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু এটি যথার্থ না হওয়ার প্রধান কারণ নয়। সময় বেশি লাগাটাই মূল সমস্যা।
(C) উদ্দেশ্য নির্দির নায়: রচনায় সাধারণত একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে। তাই, এটি যথার্থ না হওয়ার কারণ নয়।
(D) অনেক বেশি পড়তে হয়: রচনায় বেশি পড়তে হতে পারে, কিন্তু এটিও সময়সাপেক্ষতার তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ।Incorrectরচনাধর্মী অভীক্ষা যথার্থ না হওয়ার প্রধান কারণ হল এটি সময়সাপেক্ষ এবং দীর্ঘ। সঠিক উত্তর (B) বেশি সময় লাগে।
কারণ:
রচনাধর্মী অভীক্ষায় একটি প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য অনেক সময় ব্যয় হয়।
এতে একাধিক প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়ে পরীক্ষার্থীর সময় ফুরিয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, কম সময়ে বেশি সংখ্যক প্রশ্ন যাচাই করার জন্য নৈর্ব্যক্তিক বা বস্তুনিষ্ঠ অভীক্ষা বেশি উপযোগী।
বিকল্পগুলির বিশ্লেষণ:
(A) খুব দীর্ঘ: রচনাধর্মী অভীক্ষা দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু এটি যথার্থ না হওয়ার প্রধান কারণ নয়। সময় বেশি লাগাটাই মূল সমস্যা।
(C) উদ্দেশ্য নির্দির নায়: রচনায় সাধারণত একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে। তাই, এটি যথার্থ না হওয়ার কারণ নয়।
(D) অনেক বেশি পড়তে হয়: রচনায় বেশি পড়তে হতে পারে, কিন্তু এটিও সময়সাপেক্ষতার তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ। - Question 38 of 55
38. Question
1 points38. প্রোডাক্ট মোমেন্ট পদ্ধতি কার অবদান
Correctপ্রোডাক্ট মোমেন্ট পদ্ধতি, যা সাধারণত পিয়ারসনের প্রোডাক্ট-মোমেন্ট কোরিলেশন কোয়েফিসিয়েন্ট (Pearson’s Product-Moment Correlation Coefficient) নামে পরিচিত, পরিসংখ্যানবিদ কার্ল পিয়ারসনের (Karl Pearson) অবদান। এই পদ্ধতি দুটি চলকের মধ্যে রৈখিক সম্পর্ক (linear relationship) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
কার্ল পিয়ারসন (Karl Pearson) ছিলেন একজন ইংরেজ গণিতবিদ এবং বায়োমেট্রিক্সের (biometrics) একজন প্রতিষ্ঠাতা। তিনি পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো এই কোরিলেশন কোয়েফিসিয়েন্ট। যদিও কোরিলেশনের ধারণাটি ফ্রান্সিস গ্যালটন (Francis Galton) প্রথম প্রবর্তন করেন, পিয়ারসন এটিকে গাণিতিকভাবে সুসংহত করেন এবং এর জন্য একটি সূত্র প্রদান করেন যা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
( The Cambridge Dictionary of Statistics ) অনুসারে, “পিয়ারসনের প্রোডাক্ট-মোমেন্ট কোরিলেশন কোয়েফিসিয়েন্ট (r) দুটি পরিমাণগত চলকের মধ্যে রৈখিক সম্পর্কের শক্তি এবং দিক পরিমাপ করে।” এর মান -1 থেকে +1 এর মধ্যে থাকে। +1 মানে একটি নিখুঁত ধনাত্মক রৈখিক সম্পর্ক, -1 মানে একটি নিখুঁত ঋণাত্মক রৈখিক সম্পর্ক এবং 0 মানে কোন রৈখিক সম্পর্ক নেই।
( A Dictionary of Statistics ) উল্লেখ করে যে, “কার্ল পিয়ারসন (1857-1936) ছিলেন একজন ব্রিটিশ গণিতবিদ এবং পরিসংখ্যানবিদ, যিনি আধুনিক পরিসংখ্যানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচিত।” তার কাজ পরিসংখ্যানিক বিশ্লেষণকে একটি দৃঢ় গাণিতিক ভিত্তি প্রদান করে।
( The Oxford Dictionary of Statistical Terms ) আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে যে, “পিয়ারসনের প্রোডাক্ট-মোমেন্ট কোরিলেশন কোয়েফিসিয়েন্ট, যা প্রায়শই ‘পিয়ারসনের r’ নামে পরিচিত, দুটি চলক X এবং Y এর মধ্যে সহ-পরিবর্তনশীলতা (covariation) পরিমাপ করে।” এর সূত্রটি নিম্নরূপ:
r
=
∑
i
=
1
n
(
X
i
−
X
‾
)
(
Y
i
−
Y
‾
)
∑
i
=
1
n
(
X
i
−
X
‾
)
2
∑
i
=
1
n
(
Y
i
−
Y
‾
)
2যেখানে:
X
i
এবং
Y
i
হলো প্রতিটি ডেটা পয়েন্টের মান।
X
‾
এবং
Y
‾
হলো যথাক্রমে X এবং Y চলকের গড়।
n
হলো ডেটা পয়েন্টের সংখ্যা।
এই সূত্রটি দুটি চলকের মান তাদের নিজ নিজ গড় থেকে কতটা বিচ্যুত হয় এবং এই বিচ্যুতিগুলো একসাথে কীভাবে পরিবর্তিত হয় তা বিবেচনা করে।যদিও ফ্রান্সিস গ্যালটন (Francis Galton) কোরিলেশনের প্রাথমিক ধারণা নিয়ে কাজ করেছিলেন এবং রেগ্রেশন (regression) শব্দটি প্রবর্তন করেছিলেন, পিয়ারসনই এই প্রোডাক্ট-মোমেন্ট পদ্ধতির গাণিতিক ভিত্তি স্থাপন করেন এবং এটিকে একটি ব্যবহারিক পরিসংখ্যানিক হাতিয়ারে পরিণত করেন। চার্লস স্পিয়ারসন (Charles Spearman) স্পিয়ারম্যানের র্যাঙ্ক কোরিলেশন কোয়েফিসিয়েন্ট (Spearman’s Rank Correlation Coefficient) এর জন্য পরিচিত, যা ক্রমিক ডেটার (ordinal data) জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং এটি পিয়ারসনের পদ্ধতির থেকে ভিন্ন। গিলফোর্ড (Guilford) মনোবিজ্ঞানে তার অবদানের জন্য পরিচিত, বিশেষ করে বুদ্ধিমত্তা এবং ব্যক্তিত্বের মডেলগুলিতে, কিন্তু প্রোডাক্ট-মোমেন্ট পদ্ধতির সাথে তার সরাসরি সম্পর্ক নেই।
সুতরাং, প্রোডাক্ট মোমেন্ট পদ্ধতির মূল অবদানকারী হলেন কার্ল পিয়ারসন।
Incorrectপ্রোডাক্ট মোমেন্ট পদ্ধতি, যা সাধারণত পিয়ারসনের প্রোডাক্ট-মোমেন্ট কোরিলেশন কোয়েফিসিয়েন্ট (Pearson’s Product-Moment Correlation Coefficient) নামে পরিচিত, পরিসংখ্যানবিদ কার্ল পিয়ারসনের (Karl Pearson) অবদান। এই পদ্ধতি দুটি চলকের মধ্যে রৈখিক সম্পর্ক (linear relationship) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
কার্ল পিয়ারসন (Karl Pearson) ছিলেন একজন ইংরেজ গণিতবিদ এবং বায়োমেট্রিক্সের (biometrics) একজন প্রতিষ্ঠাতা। তিনি পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো এই কোরিলেশন কোয়েফিসিয়েন্ট। যদিও কোরিলেশনের ধারণাটি ফ্রান্সিস গ্যালটন (Francis Galton) প্রথম প্রবর্তন করেন, পিয়ারসন এটিকে গাণিতিকভাবে সুসংহত করেন এবং এর জন্য একটি সূত্র প্রদান করেন যা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
( The Cambridge Dictionary of Statistics ) অনুসারে, “পিয়ারসনের প্রোডাক্ট-মোমেন্ট কোরিলেশন কোয়েফিসিয়েন্ট (r) দুটি পরিমাণগত চলকের মধ্যে রৈখিক সম্পর্কের শক্তি এবং দিক পরিমাপ করে।” এর মান -1 থেকে +1 এর মধ্যে থাকে। +1 মানে একটি নিখুঁত ধনাত্মক রৈখিক সম্পর্ক, -1 মানে একটি নিখুঁত ঋণাত্মক রৈখিক সম্পর্ক এবং 0 মানে কোন রৈখিক সম্পর্ক নেই।
( A Dictionary of Statistics ) উল্লেখ করে যে, “কার্ল পিয়ারসন (1857-1936) ছিলেন একজন ব্রিটিশ গণিতবিদ এবং পরিসংখ্যানবিদ, যিনি আধুনিক পরিসংখ্যানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচিত।” তার কাজ পরিসংখ্যানিক বিশ্লেষণকে একটি দৃঢ় গাণিতিক ভিত্তি প্রদান করে।
( The Oxford Dictionary of Statistical Terms ) আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে যে, “পিয়ারসনের প্রোডাক্ট-মোমেন্ট কোরিলেশন কোয়েফিসিয়েন্ট, যা প্রায়শই ‘পিয়ারসনের r’ নামে পরিচিত, দুটি চলক X এবং Y এর মধ্যে সহ-পরিবর্তনশীলতা (covariation) পরিমাপ করে।” এর সূত্রটি নিম্নরূপ:
r
=
∑
i
=
1
n
(
X
i
−
X
‾
)
(
Y
i
−
Y
‾
)
∑
i
=
1
n
(
X
i
−
X
‾
)
2
∑
i
=
1
n
(
Y
i
−
Y
‾
)
2যেখানে:
X
i
এবং
Y
i
হলো প্রতিটি ডেটা পয়েন্টের মান।
X
‾
এবং
Y
‾
হলো যথাক্রমে X এবং Y চলকের গড়।
n
হলো ডেটা পয়েন্টের সংখ্যা।
এই সূত্রটি দুটি চলকের মান তাদের নিজ নিজ গড় থেকে কতটা বিচ্যুত হয় এবং এই বিচ্যুতিগুলো একসাথে কীভাবে পরিবর্তিত হয় তা বিবেচনা করে।যদিও ফ্রান্সিস গ্যালটন (Francis Galton) কোরিলেশনের প্রাথমিক ধারণা নিয়ে কাজ করেছিলেন এবং রেগ্রেশন (regression) শব্দটি প্রবর্তন করেছিলেন, পিয়ারসনই এই প্রোডাক্ট-মোমেন্ট পদ্ধতির গাণিতিক ভিত্তি স্থাপন করেন এবং এটিকে একটি ব্যবহারিক পরিসংখ্যানিক হাতিয়ারে পরিণত করেন। চার্লস স্পিয়ারসন (Charles Spearman) স্পিয়ারম্যানের র্যাঙ্ক কোরিলেশন কোয়েফিসিয়েন্ট (Spearman’s Rank Correlation Coefficient) এর জন্য পরিচিত, যা ক্রমিক ডেটার (ordinal data) জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং এটি পিয়ারসনের পদ্ধতির থেকে ভিন্ন। গিলফোর্ড (Guilford) মনোবিজ্ঞানে তার অবদানের জন্য পরিচিত, বিশেষ করে বুদ্ধিমত্তা এবং ব্যক্তিত্বের মডেলগুলিতে, কিন্তু প্রোডাক্ট-মোমেন্ট পদ্ধতির সাথে তার সরাসরি সম্পর্ক নেই।
সুতরাং, প্রোডাক্ট মোমেন্ট পদ্ধতির মূল অবদানকারী হলেন কার্ল পিয়ারসন।
- Question 39 of 55
39. Question
1 points39. কে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের (1948) একজন সদস্য ছিলেন।
Correctবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন (1948) এবং এর সদস্যবৃন্দ
প্রশ্নটি ১৯৪৮ সালের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের একজন সদস্যকে চিহ্নিত করতে চাইছে। এই কমিশনটি ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর উচ্চশিক্ষার পুনর্গঠন ও উন্নতির জন্য গঠিত হয়েছিল। এর সঠিক উত্তরটি খুঁজে বের করার জন্য, আমাদের এই কমিশনের গঠন এবং এর প্রধান সদস্যদের সম্পর্কে জানতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন (1948) এর প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য
ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাগুলি দূর করে একটি নতুন, স্বাধীন ভারতের উপযোগী শিক্ষা কাঠামো তৈরি করা অপরিহার্য ছিল। এই প্রেক্ষাপটে, ভারত সরকার ১৯৪৮ সালে একটি কমিশন গঠন করে, যা সাধারণত ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন’ বা ‘রাধা কৃষ্ণন কমিশন’ নামে পরিচিত। এই কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য সুপারিশমালা প্রদান করা। ( History of Education in India )কমিশনকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি পরীক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল:
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি।
পরীক্ষার পদ্ধতি।
শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও বেতন কাঠামো।
গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার প্রচার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও অর্থায়ন।
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা।
কমিশনের সদস্যবৃন্দ
ডঃ সর্বপল্লী রাধা কৃষ্ণন ছিলেন এই কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, শিক্ষাবিদ এবং ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনে ভারতের এবং বিদেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ( The Oxford Companion to Indian Politics )কমিশনের উল্লেখযোগ্য সদস্যবৃন্দ ছিলেন:
ডঃ সর্বপল্লী রাধা কৃষ্ণন (চেয়ারম্যান)
ডঃ তারা চাঁদ
ডঃ জেমস এফ. ডাফ (James F. Duff)
ডঃ আর্থার ই. মর্গান (Arthur E. Morgan)
ডঃ জন জে. টিগার্ট (John J. Tigert)
ডঃ পি. সি. মহলানবিশ
ডঃ এ. লক্ষ্মণস্বামী মুদালিয়ার
ডঃ মেঘনাদ সাহা
ডঃ কর্মাথ ভেঙ্কটরামন (Karmah Venkataraman)
ডঃ নির্মল কুমার সিদ্ধান্ত (নির্মল কুমার সিদ্ধান্ত)
উপরিউক্ত তালিকা থেকে দেখা যায় যে, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে (B) পি সি মহলানবিশ এবং (C) মেঘনাদ সাহা উভয়ই এই কমিশনের সদস্য ছিলেন। তবে, প্রশ্নটি একজন সদস্যকে চিহ্নিত করতে বলেছে।পি সি মহলানবিশ (Prasanta Chandra Mahalanobis)
প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী ও পরিসংখ্যানবিদ। তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI) এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। পরিসংখ্যান ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনে তাঁর অন্তর্ভুক্তি উচ্চশিক্ষায় বৈজ্ঞানিক ও পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে। ( Biographical Memoirs of Fellows of the Royal Society )মেঘনাদ সাহা (Meghnad Saha)
মেঘনাদ সাহা ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি সাহা সমীকরণ (Saha equation) এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত, যা নক্ষত্রের বর্ণালীতে আয়নিকরণের ব্যাখ্যা দেয়। তিনি একজন সক্রিয় শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞান গবেষণার প্রচারক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনে তাঁর উপস্থিতি উচ্চশিক্ষায় বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রসারের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। ( The Biographical Encyclopedia of Astronomers )অন্যান্য বিকল্পের বিশ্লেষণ
(A) স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়: স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, আইনজীবী এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তিনি বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তবে, তিনি ১৯৪৮ সালের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন না, কারণ তিনি ১৯২৪ সালেই মারা যান। ( Makers of Modern India )
(D) সত্যেন্দ্রনাথ বসু: সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী, যিনি কোয়ান্টাম মেকানিক্সে তাঁর অবদানের জন্য পরিচিত, বিশেষ করে বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান এবং বোসন কণার ধারণা। তিনি ১৯৪৮ সালের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন না। ( The Oxford Dictionary of National Biography )
উপসংহার
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, পি সি মহলানবিশ এবং মেঘনাদ সাহা উভয়ই ১৯৪৮ সালের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন। যেহেতু প্রশ্নটি একজন সদস্যকে চিহ্নিত করতে বলেছে এবং উভয় বিকল্পই সঠিক, তাই এই ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রশ্নকর্তার উদ্দেশ্য বা প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে কোনটি অধিক পরিচিত সদস্য তা বিবেচনা করা হয়। তবে, তথ্যগতভাবে উভয়ই সঠিক।সঠিক উত্তর: (B) পি সি মহলানবিশ অথবা (C) মেঘনাদ সাহা। প্রশ্নটি যেহেতু একটি একক উত্তর আশা করে, এবং উভয়ই কমিশনের সদস্য ছিলেন, তাই যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে, যদি একাধিক সঠিক উত্তর সম্ভব হয়, তাহলে উভয়ই সঠিক।
Incorrectবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন (1948) এবং এর সদস্যবৃন্দ
প্রশ্নটি ১৯৪৮ সালের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের একজন সদস্যকে চিহ্নিত করতে চাইছে। এই কমিশনটি ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর উচ্চশিক্ষার পুনর্গঠন ও উন্নতির জন্য গঠিত হয়েছিল। এর সঠিক উত্তরটি খুঁজে বের করার জন্য, আমাদের এই কমিশনের গঠন এবং এর প্রধান সদস্যদের সম্পর্কে জানতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন (1948) এর প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য
ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাগুলি দূর করে একটি নতুন, স্বাধীন ভারতের উপযোগী শিক্ষা কাঠামো তৈরি করা অপরিহার্য ছিল। এই প্রেক্ষাপটে, ভারত সরকার ১৯৪৮ সালে একটি কমিশন গঠন করে, যা সাধারণত ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন’ বা ‘রাধা কৃষ্ণন কমিশন’ নামে পরিচিত। এই কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য সুপারিশমালা প্রদান করা। ( History of Education in India )কমিশনকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি পরীক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল:
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি।
পরীক্ষার পদ্ধতি।
শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও বেতন কাঠামো।
গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার প্রচার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও অর্থায়ন।
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা।
কমিশনের সদস্যবৃন্দ
ডঃ সর্বপল্লী রাধা কৃষ্ণন ছিলেন এই কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, শিক্ষাবিদ এবং ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনে ভারতের এবং বিদেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ( The Oxford Companion to Indian Politics )কমিশনের উল্লেখযোগ্য সদস্যবৃন্দ ছিলেন:
ডঃ সর্বপল্লী রাধা কৃষ্ণন (চেয়ারম্যান)
ডঃ তারা চাঁদ
ডঃ জেমস এফ. ডাফ (James F. Duff)
ডঃ আর্থার ই. মর্গান (Arthur E. Morgan)
ডঃ জন জে. টিগার্ট (John J. Tigert)
ডঃ পি. সি. মহলানবিশ
ডঃ এ. লক্ষ্মণস্বামী মুদালিয়ার
ডঃ মেঘনাদ সাহা
ডঃ কর্মাথ ভেঙ্কটরামন (Karmah Venkataraman)
ডঃ নির্মল কুমার সিদ্ধান্ত (নির্মল কুমার সিদ্ধান্ত)
উপরিউক্ত তালিকা থেকে দেখা যায় যে, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে (B) পি সি মহলানবিশ এবং (C) মেঘনাদ সাহা উভয়ই এই কমিশনের সদস্য ছিলেন। তবে, প্রশ্নটি একজন সদস্যকে চিহ্নিত করতে বলেছে।পি সি মহলানবিশ (Prasanta Chandra Mahalanobis)
প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী ও পরিসংখ্যানবিদ। তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI) এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। পরিসংখ্যান ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনে তাঁর অন্তর্ভুক্তি উচ্চশিক্ষায় বৈজ্ঞানিক ও পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে। ( Biographical Memoirs of Fellows of the Royal Society )মেঘনাদ সাহা (Meghnad Saha)
মেঘনাদ সাহা ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি সাহা সমীকরণ (Saha equation) এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত, যা নক্ষত্রের বর্ণালীতে আয়নিকরণের ব্যাখ্যা দেয়। তিনি একজন সক্রিয় শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞান গবেষণার প্রচারক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনে তাঁর উপস্থিতি উচ্চশিক্ষায় বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রসারের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। ( The Biographical Encyclopedia of Astronomers )অন্যান্য বিকল্পের বিশ্লেষণ
(A) স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়: স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, আইনজীবী এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তিনি বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তবে, তিনি ১৯৪৮ সালের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন না, কারণ তিনি ১৯২৪ সালেই মারা যান। ( Makers of Modern India )
(D) সত্যেন্দ্রনাথ বসু: সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী, যিনি কোয়ান্টাম মেকানিক্সে তাঁর অবদানের জন্য পরিচিত, বিশেষ করে বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান এবং বোসন কণার ধারণা। তিনি ১৯৪৮ সালের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন না। ( The Oxford Dictionary of National Biography )
উপসংহার
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, পি সি মহলানবিশ এবং মেঘনাদ সাহা উভয়ই ১৯৪৮ সালের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন। যেহেতু প্রশ্নটি একজন সদস্যকে চিহ্নিত করতে বলেছে এবং উভয় বিকল্পই সঠিক, তাই এই ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রশ্নকর্তার উদ্দেশ্য বা প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে কোনটি অধিক পরিচিত সদস্য তা বিবেচনা করা হয়। তবে, তথ্যগতভাবে উভয়ই সঠিক।সঠিক উত্তর: (B) পি সি মহলানবিশ অথবা (C) মেঘনাদ সাহা। প্রশ্নটি যেহেতু একটি একক উত্তর আশা করে, এবং উভয়ই কমিশনের সদস্য ছিলেন, তাই যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে, যদি একাধিক সঠিক উত্তর সম্ভব হয়, তাহলে উভয়ই সঠিক।
- Question 40 of 55
40. Question
1 points40. TAT আবিষ্কার করেন
Correctসঠিক উত্তর হল (C) মারে।
থিমেটিক অ্যাপারসেপশন টেস্ট (Thematic Apperception Test – TAT) আবিষ্কার করেন হেনরি এ. মারে (Henry A. Murray)। যদিও ক্রিস্টিনা মর্গান (Christiana D. Morgan) এই পরীক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তবে এর মূল ধারণা এবং নামকরণ হেনরি মারে-এর অবদান।
মারে এবং মর্গান হার্ভার্ড সাইকোলজিক্যাল ক্লিনিক-এ কাজ করার সময় TAT তৈরি করেন। এটি একটি প্রক্ষেপণমূলক পরীক্ষা (projective test) যা ব্যক্তির অন্তর্নিহিত প্রেরণা, আবেগ, সংঘাত এবং ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যগুলি উন্মোচন করতে ব্যবহৃত হয়। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীকে অস্পষ্ট ছবি দেখানো হয় এবং তাদের প্রতিটি ছবির উপর ভিত্তি করে একটি গল্প বলতে বলা হয়। এই গল্পগুলির বিশ্লেষণ করে মনোবিজ্ঞানীরা ব্যক্তির মানসিক অবস্থা এবং ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
( Thematic Apperception Test )
হেনরি মারে তার সহকর্মী ক্রিস্টিনা মর্গানের সাথে মিলে এই পরীক্ষাটি তৈরি করেন। মর্গান ছবিগুলি নির্বাচন এবং পরীক্ষার প্রাথমিক বিকাশে সহায়তা করেছিলেন, তবে মারে এই পরীক্ষার তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং কাঠামোর প্রধান স্থপতি ছিলেন।
( Personality: A Psychological Interpretation )
মারে-এর কাজ ব্যক্তিত্বের মনোবিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, বিশেষ করে তার “নিডস” (needs) তত্ত্বের বিকাশে, যা TAT-এর মাধ্যমে পরিমাপ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
Incorrectসঠিক উত্তর হল (C) মারে।
থিমেটিক অ্যাপারসেপশন টেস্ট (Thematic Apperception Test – TAT) আবিষ্কার করেন হেনরি এ. মারে (Henry A. Murray)। যদিও ক্রিস্টিনা মর্গান (Christiana D. Morgan) এই পরীক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তবে এর মূল ধারণা এবং নামকরণ হেনরি মারে-এর অবদান।
মারে এবং মর্গান হার্ভার্ড সাইকোলজিক্যাল ক্লিনিক-এ কাজ করার সময় TAT তৈরি করেন। এটি একটি প্রক্ষেপণমূলক পরীক্ষা (projective test) যা ব্যক্তির অন্তর্নিহিত প্রেরণা, আবেগ, সংঘাত এবং ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যগুলি উন্মোচন করতে ব্যবহৃত হয়। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীকে অস্পষ্ট ছবি দেখানো হয় এবং তাদের প্রতিটি ছবির উপর ভিত্তি করে একটি গল্প বলতে বলা হয়। এই গল্পগুলির বিশ্লেষণ করে মনোবিজ্ঞানীরা ব্যক্তির মানসিক অবস্থা এবং ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
( Thematic Apperception Test )
হেনরি মারে তার সহকর্মী ক্রিস্টিনা মর্গানের সাথে মিলে এই পরীক্ষাটি তৈরি করেন। মর্গান ছবিগুলি নির্বাচন এবং পরীক্ষার প্রাথমিক বিকাশে সহায়তা করেছিলেন, তবে মারে এই পরীক্ষার তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং কাঠামোর প্রধান স্থপতি ছিলেন।
( Personality: A Psychological Interpretation )
মারে-এর কাজ ব্যক্তিত্বের মনোবিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, বিশেষ করে তার “নিডস” (needs) তত্ত্বের বিকাশে, যা TAT-এর মাধ্যমে পরিমাপ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
- Question 41 of 55
41. Question
1 points41. প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গে পরিচালনা করেন
Correctপ্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গে পরিচালনা করেন
পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা মূলত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board of Primary Education) দ্বারা পরিচালিত হয়। যদিও অন্যান্য সংস্থা এবং সরকারি দপ্তরও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের সামগ্রিক পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের উপরই ন্যস্ত।প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, যা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দপ্তরের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন নীতি নির্ধারণ, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা পরিচালনা এবং শংসাপত্র প্রদানের কাজ করে থাকে। এই পর্ষদই রাজ্যের বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (DIETs) এবং অন্যান্য অনুমোদিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে। ( West Bengal Board of Primary Education Act )
যদিও শিক্ষা দপ্তর, রাজ্য সরকার (Education Department, Government of West Bengal) সামগ্রিকভাবে রাজ্যের শিক্ষা নীতি নির্ধারণ করে এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা ও তহবিল সরবরাহ করে, তবে সরাসরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার দৈনন্দিন পরিচালনা তাদের হাতে থাকে না। শিক্ষা দপ্তর একটি বৃহত্তর প্রশাসনিক কাঠামো প্রদান করে যার অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ কাজ করে। ( Government of West Bengal Education Policy Documents )
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Calcutta) বা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সাধারণত উচ্চশিক্ষা এবং নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের (যেমন B.Ed., M.Ed.) সাথে যুক্ত থাকে, যা মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। তবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক প্রশিক্ষণের (যেমন D.El.Ed.) প্রত্যক্ষ পরিচালনার দায়িত্ব তাদের নয়। ( University Grants Commission Regulations )
NCTE (National Council for Teacher Education) হল একটি জাতীয় স্তরের সংস্থা যা সমগ্র ভারতে শিক্ষক শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের জন্য কাজ করে। NCTE শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির স্বীকৃতি প্রদান করে এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের জন্য জাতীয় মানদণ্ড ও নির্দেশিকা তৈরি করে। পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিকেও NCTE-এর নির্দেশিকা মেনে চলতে হয় এবং তাদের স্বীকৃতি NCTE দ্বারা অনুমোদিত হতে হয়। তবে NCTE সরাসরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পরিচালনা করে না, বরং এটি একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করে। ( National Council for Teacher Education Act )
সুতরাং, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গে পরিচালনার মূল দায়িত্ব (B) প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ-এর উপরই বর্তায়।
Incorrectপ্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গে পরিচালনা করেন
পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা মূলত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board of Primary Education) দ্বারা পরিচালিত হয়। যদিও অন্যান্য সংস্থা এবং সরকারি দপ্তরও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের সামগ্রিক পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের উপরই ন্যস্ত।প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, যা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দপ্তরের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন নীতি নির্ধারণ, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা পরিচালনা এবং শংসাপত্র প্রদানের কাজ করে থাকে। এই পর্ষদই রাজ্যের বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (DIETs) এবং অন্যান্য অনুমোদিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে। ( West Bengal Board of Primary Education Act )
যদিও শিক্ষা দপ্তর, রাজ্য সরকার (Education Department, Government of West Bengal) সামগ্রিকভাবে রাজ্যের শিক্ষা নীতি নির্ধারণ করে এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা ও তহবিল সরবরাহ করে, তবে সরাসরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার দৈনন্দিন পরিচালনা তাদের হাতে থাকে না। শিক্ষা দপ্তর একটি বৃহত্তর প্রশাসনিক কাঠামো প্রদান করে যার অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ কাজ করে। ( Government of West Bengal Education Policy Documents )
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Calcutta) বা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সাধারণত উচ্চশিক্ষা এবং নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের (যেমন B.Ed., M.Ed.) সাথে যুক্ত থাকে, যা মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। তবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক প্রশিক্ষণের (যেমন D.El.Ed.) প্রত্যক্ষ পরিচালনার দায়িত্ব তাদের নয়। ( University Grants Commission Regulations )
NCTE (National Council for Teacher Education) হল একটি জাতীয় স্তরের সংস্থা যা সমগ্র ভারতে শিক্ষক শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের জন্য কাজ করে। NCTE শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির স্বীকৃতি প্রদান করে এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের জন্য জাতীয় মানদণ্ড ও নির্দেশিকা তৈরি করে। পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিকেও NCTE-এর নির্দেশিকা মেনে চলতে হয় এবং তাদের স্বীকৃতি NCTE দ্বারা অনুমোদিত হতে হয়। তবে NCTE সরাসরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পরিচালনা করে না, বরং এটি একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করে। ( National Council for Teacher Education Act )
সুতরাং, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গে পরিচালনার মূল দায়িত্ব (B) প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ-এর উপরই বর্তায়।
- Question 42 of 55
42. Question
1 points42. উপনয়ন একটি প্রথা যা
Correctউপনয়ন: একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ
উপনয়ন একটি প্রাচীন প্রথা যা ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষত হিন্দু ধর্মে, গুরুত্ব সহকারে পালিত হয়। এই প্রথাটি কেবল একটি সাধারণ অনুষ্ঠান নয়, বরং এর গভীর সামাজিক, ধর্মীয় এবং শিক্ষাগত তাৎপর্য রয়েছে। প্রশ্নটি উপনয়নের প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে, এবং এর বিভিন্ন বিকল্পের মাধ্যমে এর মূল উদ্দেশ্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।উপনয়নের ব্যুৎপত্তি ও অর্থ
‘উপনয়ন’ শব্দটি দুটি সংস্কৃত শব্দ থেকে এসেছে: ‘উপ’ (কাছে) এবং ‘নয়ন’ (নিয়ে যাওয়া)। এর আক্ষরিক অর্থ হল ‘গুরুর কাছে নিয়ে যাওয়া’ বা ‘শিক্ষকের কাছে নিয়ে যাওয়া’ ( The Oxford English Dictionary ). এটি এমন একটি অনুষ্ঠান যা একজন শিশুকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার জগতে প্রবেশ করানোর প্রতীক। এই প্রথাটি মূলত দ্বিজাতিদের জন্য নির্ধারিত ছিল, অর্থাৎ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্যদের জন্য ( A Dictionary of Hinduism ). শূদ্রদের জন্য উপনয়ন প্রথা ছিল না, কারণ তাদের ঐতিহ্যগতভাবে বৈদিক শিক্ষার অধিকার ছিল না।উপনয়নের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বৈদিক যুগে উপনয়ন ছিল শিক্ষার একটি অপরিহার্য অংশ। এটি ব্রহ্মচর্যাশ্রমের সূচনাকে চিহ্নিত করত, যেখানে একজন শিক্ষার্থী গুরুর গৃহে বাস করে জ্ঞান অর্জন করত ( The Cultural Heritage of India ). এই সময়কালে, গুরু-শিষ্য পরম্পরা ছিল শিক্ষার মূল ভিত্তি। উপনয়নের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী কেবল বৈদিক জ্ঞানই নয়, বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধও শিখত। এটি ছিল একটি পবিত্র অঙ্গীকার, যেখানে শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করত।উপনয়নের ধর্মীয় তাৎপর্য
উপনয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। হিন্দু ধর্মে, এটি দশটি প্রধান সংস্কারের মধ্যে অন্যতম ( Hinduism: An Alphabetical Guide ). এই সংস্কারের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি দ্বিতীয় জন্ম লাভ করে বলে মনে করা হয়, যা তাকে আধ্যাত্মিক এবং বৈদিক জ্ঞান অর্জনের জন্য যোগ্য করে তোলে। উপনয়নের সময় যজ্ঞোপবীত বা পৈতা ধারণ করা হয়, যা পবিত্রতা, জ্ঞান এবং ব্রহ্মের প্রতীক। পৈতা ধারণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ব্রহ্মচারী হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে এবং বেদাধ্যয়নের অধিকার লাভ করে। এটি কেবল একটি বাহ্যিক প্রতীক নয়, বরং এটি একজন ব্যক্তির আধ্যাত্মিক যাত্রার সূচনাকে নির্দেশ করে।উপনয়নের শিক্ষাগত তাৎপর্য
উপনয়নকে প্রায়শই শিক্ষার সূত্রপাত হিসেবে দেখা হয়। এটি কেবল অক্ষর জ্ঞান অর্জনের সূচনা নয়, বরং এটি একজন ব্যক্তির সামগ্রিক বিকাশের একটি প্রক্রিয়া। উপনয়নের পর, শিক্ষার্থী গুরুর তত্ত্বাবধানে বেদ, উপনিষদ, ধর্মশাস্ত্র এবং অন্যান্য শাস্ত্র অধ্যয়ন করত ( The Cultural Heritage of India ). এই শিক্ষা কেবল পুঁথিগত জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক রীতিনীতি এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির উপরও জোর দিত। উপনয়ন একজন শিক্ষার্থীকে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করত। এটি ছিল একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি যে একজন ব্যক্তি এখন জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রস্তুত।উপনয়ন কি কেবল শিক্ষার সূত্রপাত?
প্রশ্নটির বিকল্প (A) “শিক্ষার সূত্রপাত মাত্র” উপনয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে তুলে ধরে। এটি সত্য যে উপনয়ন আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনাকে চিহ্নিত করে। তবে, ‘মাত্র’ শব্দটি এর ব্যাপকতাকে কিছুটা সীমিত করে। উপনয়ন কেবল শিক্ষার সূচনা নয়, এটি একটি ব্যাপক প্রক্রিয়া যা ধর্মীয়, সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক দিকগুলিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এটি একজন ব্যক্তির জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে সে জ্ঞান, ধর্ম এবং নৈতিকতার পথে অগ্রসর হয়।উপনয়ন কি শিক্ষার সমাপ্তিসূচক?
বিকল্প (B) “শিক্ষার সমাপ্তিসূচক” সম্পূর্ণরূপে ভুল। উপনয়ন শিক্ষার সমাপ্তি নয়, বরং এর সূচনা। শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া, এবং উপনয়ন এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। ব্রহ্মচর্যাশ্রমের সমাপ্তির পর সমাবর্তন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হত, যা আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তিকে চিহ্নিত করত ( The Cultural Heritage of India ).উপনয়ন কি ধর্মীয় অনুষ্ঠান মাত্র?
বিকল্প (C) “ধর্মীয় অনুষ্ঠান মাত্র” উপনয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে তুলে ধরে, কিন্তু এর শিক্ষাগত এবং সামাজিক তাৎপর্যকে উপেক্ষা করে। যদিও উপনয়ন একটি ধর্মীয় সংস্কার, এর শিক্ষাগত এবং সামাজিক গুরুত্বও অপরিসীম। এটি কেবল পূজা-অর্চনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একজন ব্যক্তির জীবনকে একটি নির্দিষ্ট পথে পরিচালিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।উপনয়ন: একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি
উপনয়নকে কেবল একটি একক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। এটি একটি বহু-মাত্রিক প্রথা যা ধর্মীয়, শিক্ষাগত এবং সামাজিক দিকগুলিকে একত্রিত করে। এটি একজন ব্যক্তিকে জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রস্তুত করে, তাকে আধ্যাত্মিক পথে পরিচালিত করে এবং তাকে সমাজের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে। অতএব, উপনয়নকে কেবল “শিক্ষার সূত্রপাত মাত্র” বা “ধর্মীয় অনুষ্ঠান মাত্র” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা সঠিক নয়। এটি এই সবকিছুর একটি সমন্বিত রূপ।উপসংহার
উপনয়ন একটি প্রথা যা (A) শিক্ষার সূত্রপাত মাত্র। যদিও এর ধর্মীয় এবং সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে, এর মূল উদ্দেশ্য হল একজন ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার জগতে প্রবেশ করানো এবং তাকে জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রস্তুত করা। এটি ব্রহ্মচর্যাশ্রমের সূচনাকে চিহ্নিত করে, যেখানে একজন শিক্ষার্থী গুরুর তত্ত্বাবধানে জ্ঞান অর্জন করত।Incorrectউপনয়ন: একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ
উপনয়ন একটি প্রাচীন প্রথা যা ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষত হিন্দু ধর্মে, গুরুত্ব সহকারে পালিত হয়। এই প্রথাটি কেবল একটি সাধারণ অনুষ্ঠান নয়, বরং এর গভীর সামাজিক, ধর্মীয় এবং শিক্ষাগত তাৎপর্য রয়েছে। প্রশ্নটি উপনয়নের প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে, এবং এর বিভিন্ন বিকল্পের মাধ্যমে এর মূল উদ্দেশ্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।উপনয়নের ব্যুৎপত্তি ও অর্থ
‘উপনয়ন’ শব্দটি দুটি সংস্কৃত শব্দ থেকে এসেছে: ‘উপ’ (কাছে) এবং ‘নয়ন’ (নিয়ে যাওয়া)। এর আক্ষরিক অর্থ হল ‘গুরুর কাছে নিয়ে যাওয়া’ বা ‘শিক্ষকের কাছে নিয়ে যাওয়া’ ( The Oxford English Dictionary ). এটি এমন একটি অনুষ্ঠান যা একজন শিশুকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার জগতে প্রবেশ করানোর প্রতীক। এই প্রথাটি মূলত দ্বিজাতিদের জন্য নির্ধারিত ছিল, অর্থাৎ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্যদের জন্য ( A Dictionary of Hinduism ). শূদ্রদের জন্য উপনয়ন প্রথা ছিল না, কারণ তাদের ঐতিহ্যগতভাবে বৈদিক শিক্ষার অধিকার ছিল না।উপনয়নের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বৈদিক যুগে উপনয়ন ছিল শিক্ষার একটি অপরিহার্য অংশ। এটি ব্রহ্মচর্যাশ্রমের সূচনাকে চিহ্নিত করত, যেখানে একজন শিক্ষার্থী গুরুর গৃহে বাস করে জ্ঞান অর্জন করত ( The Cultural Heritage of India ). এই সময়কালে, গুরু-শিষ্য পরম্পরা ছিল শিক্ষার মূল ভিত্তি। উপনয়নের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী কেবল বৈদিক জ্ঞানই নয়, বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধও শিখত। এটি ছিল একটি পবিত্র অঙ্গীকার, যেখানে শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করত।উপনয়নের ধর্মীয় তাৎপর্য
উপনয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। হিন্দু ধর্মে, এটি দশটি প্রধান সংস্কারের মধ্যে অন্যতম ( Hinduism: An Alphabetical Guide ). এই সংস্কারের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি দ্বিতীয় জন্ম লাভ করে বলে মনে করা হয়, যা তাকে আধ্যাত্মিক এবং বৈদিক জ্ঞান অর্জনের জন্য যোগ্য করে তোলে। উপনয়নের সময় যজ্ঞোপবীত বা পৈতা ধারণ করা হয়, যা পবিত্রতা, জ্ঞান এবং ব্রহ্মের প্রতীক। পৈতা ধারণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ব্রহ্মচারী হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে এবং বেদাধ্যয়নের অধিকার লাভ করে। এটি কেবল একটি বাহ্যিক প্রতীক নয়, বরং এটি একজন ব্যক্তির আধ্যাত্মিক যাত্রার সূচনাকে নির্দেশ করে।উপনয়নের শিক্ষাগত তাৎপর্য
উপনয়নকে প্রায়শই শিক্ষার সূত্রপাত হিসেবে দেখা হয়। এটি কেবল অক্ষর জ্ঞান অর্জনের সূচনা নয়, বরং এটি একজন ব্যক্তির সামগ্রিক বিকাশের একটি প্রক্রিয়া। উপনয়নের পর, শিক্ষার্থী গুরুর তত্ত্বাবধানে বেদ, উপনিষদ, ধর্মশাস্ত্র এবং অন্যান্য শাস্ত্র অধ্যয়ন করত ( The Cultural Heritage of India ). এই শিক্ষা কেবল পুঁথিগত জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক রীতিনীতি এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির উপরও জোর দিত। উপনয়ন একজন শিক্ষার্থীকে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করত। এটি ছিল একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি যে একজন ব্যক্তি এখন জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রস্তুত।উপনয়ন কি কেবল শিক্ষার সূত্রপাত?
প্রশ্নটির বিকল্প (A) “শিক্ষার সূত্রপাত মাত্র” উপনয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে তুলে ধরে। এটি সত্য যে উপনয়ন আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনাকে চিহ্নিত করে। তবে, ‘মাত্র’ শব্দটি এর ব্যাপকতাকে কিছুটা সীমিত করে। উপনয়ন কেবল শিক্ষার সূচনা নয়, এটি একটি ব্যাপক প্রক্রিয়া যা ধর্মীয়, সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক দিকগুলিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এটি একজন ব্যক্তির জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে সে জ্ঞান, ধর্ম এবং নৈতিকতার পথে অগ্রসর হয়।উপনয়ন কি শিক্ষার সমাপ্তিসূচক?
বিকল্প (B) “শিক্ষার সমাপ্তিসূচক” সম্পূর্ণরূপে ভুল। উপনয়ন শিক্ষার সমাপ্তি নয়, বরং এর সূচনা। শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া, এবং উপনয়ন এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। ব্রহ্মচর্যাশ্রমের সমাপ্তির পর সমাবর্তন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হত, যা আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তিকে চিহ্নিত করত ( The Cultural Heritage of India ).উপনয়ন কি ধর্মীয় অনুষ্ঠান মাত্র?
বিকল্প (C) “ধর্মীয় অনুষ্ঠান মাত্র” উপনয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে তুলে ধরে, কিন্তু এর শিক্ষাগত এবং সামাজিক তাৎপর্যকে উপেক্ষা করে। যদিও উপনয়ন একটি ধর্মীয় সংস্কার, এর শিক্ষাগত এবং সামাজিক গুরুত্বও অপরিসীম। এটি কেবল পূজা-অর্চনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একজন ব্যক্তির জীবনকে একটি নির্দিষ্ট পথে পরিচালিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।উপনয়ন: একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি
উপনয়নকে কেবল একটি একক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। এটি একটি বহু-মাত্রিক প্রথা যা ধর্মীয়, শিক্ষাগত এবং সামাজিক দিকগুলিকে একত্রিত করে। এটি একজন ব্যক্তিকে জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রস্তুত করে, তাকে আধ্যাত্মিক পথে পরিচালিত করে এবং তাকে সমাজের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে। অতএব, উপনয়নকে কেবল “শিক্ষার সূত্রপাত মাত্র” বা “ধর্মীয় অনুষ্ঠান মাত্র” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা সঠিক নয়। এটি এই সবকিছুর একটি সমন্বিত রূপ।উপসংহার
উপনয়ন একটি প্রথা যা (A) শিক্ষার সূত্রপাত মাত্র। যদিও এর ধর্মীয় এবং সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে, এর মূল উদ্দেশ্য হল একজন ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার জগতে প্রবেশ করানো এবং তাকে জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রস্তুত করা। এটি ব্রহ্মচর্যাশ্রমের সূচনাকে চিহ্নিত করে, যেখানে একজন শিক্ষার্থী গুরুর তত্ত্বাবধানে জ্ঞান অর্জন করত। - Question 43 of 55
43. Question
1 points43. থর্নডাইকের শিখন সূত্রগুলির কোনটি স্কিনারের তত্বেও গুরুত্ব পেয়েছে।
Correctথর্নডাইকের শিখন সূত্রগুলির মধ্যে যে সূত্রটি স্কিনারের তত্ত্বেও গুরুত্ব পেয়েছে, সেটি হলো (D) ফললাভের সূত্র (Law of Effect)।
থর্নডাইকের শিখন সূত্রসমূহ
এডওয়ার্ড এল. থর্নডাইক (Edward L. Thorndike) ছিলেন একজন আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী যিনি প্রাণীদের শিখন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেন এবং তাঁর গবেষণার ফলস্বরূপ কিছু মৌলিক শিখন সূত্র (Laws of Learning) প্রণয়ন করেন। এই সূত্রগুলি আচরণবাদের (Behaviorism) বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর প্রধান তিনটি সূত্র হলো:১. প্রস্তুতির সূত্র (Law of Readiness)
এই সূত্র অনুসারে, শিখন তখনই কার্যকর হয় যখন শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে। যদি একজন ব্যক্তি কোনো কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে কাজটি করা তার জন্য সন্তোষজনক হয়। যদি সে প্রস্তুত না থাকে, তবে কাজটি করা তার জন্য বিরক্তিকর হতে পারে। ( Psychology: An Introduction )২. অনুশীলনের সূত্র (Law of Exercise)
এই সূত্রটি দুটি ভাগে বিভক্ত: ব্যবহারের সূত্র (Law of Use) এবং অব্যবহারের সূত্র (Law of Disuse)। ব্যবহারের সূত্র অনুসারে, একটি উদ্দীপক-প্রতিক্রিয়া সংযোগ (stimulus-response connection) যত বেশি অনুশীলন করা হয়, তত বেশি শক্তিশালী হয়। অব্যবহারের সূত্র অনুসারে, যদি একটি সংযোগ দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার না করা হয়, তবে তা দুর্বল হয়ে পড়ে। ( Educational Psychology )৩. ফললাভের সূত্র (Law of Effect)
এই সূত্রটি থর্নডাইকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলির মধ্যে একটি। এটি বলে যে, যদি একটি প্রতিক্রিয়া একটি সন্তোষজনক ফলাফল (satisfying consequence) তৈরি করে, তবে সেই প্রতিক্রিয়াটি ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতিতে পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। বিপরীতভাবে, যদি একটি প্রতিক্রিয়া একটি অসন্তোষজনক ফলাফল (annoying consequence) তৈরি করে, তবে সেই প্রতিক্রিয়াটি ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। থর্নডাইক তাঁর বিড়ালদের নিয়ে করা ধাঁধা বাক্স (puzzle box) পরীক্ষার মাধ্যমে এই সূত্রের প্রমাণ পান। বিড়ালরা যখন বাক্স থেকে বেরিয়ে আসতে সফল হতো এবং খাবার পেত, তখন তারা দ্রুত শিখত কিভাবে বাক্স খুলতে হয়। ( Theories of Learning )স্কিনারের সক্রিয় অনুবর্তন তত্ত্ব (Operant Conditioning)
বি. এফ. স্কিনার (B. F. Skinner) ছিলেন একজন প্রভাবশালী আচরণবাদী মনোবিজ্ঞানী যিনি সক্রিয় অনুবর্তন (Operant Conditioning) তত্ত্বের প্রবক্তা। স্কিনারের তত্ত্ব থর্নডাইকের ফললাভের সূত্রের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এটিকে আরও বিস্তারিত ও সুসংগঠিত করেছে। স্কিনার বিশ্বাস করতেন যে, আচরণের ফলাফলই নির্ধারণ করে যে সেই আচরণ ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি হবে কিনা।সক্রিয় অনুবর্তনের মূলনীতি
স্কিনারের মতে, সক্রিয় অনুবর্তন হলো এমন এক ধরনের শিখন যেখানে আচরণের শক্তি তার ফলাফলের উপর নির্ভর করে। তিনি আচরণকে দুই ভাগে ভাগ করেন:প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ (Respondent Behavior): এটি উদ্দীপকের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া, যেমন পাভলভের কুকুরের লালা নিঃসরণ।
সক্রিয় আচরণ (Operant Behavior): এটি এমন আচরণ যা পরিবেশের উপর কাজ করে এবং এর ফলাফল দ্বারা প্রভাবিত হয়।
স্কিনার তাঁর গবেষণায় “স্কিনার বক্স” (Skinner Box) ব্যবহার করেন, যেখানে তিনি ইঁদুর বা পায়রাকে একটি নির্দিষ্ট আচরণ (যেমন লিভার চাপানো বা চাবি ঠোকরানো) শেখাতেন এবং সেই আচরণের পর পুরস্কার (যেমন খাবার) বা শাস্তি দিতেন।ফললাভের সূত্রের সাথে সম্পর্ক
স্কিনারের সক্রিয় অনুবর্তন তত্ত্ব থর্নডাইকের ফললাভের সূত্রের একটি সম্প্রসারিত রূপ। থর্নডাইকের ফললাভের সূত্র অনুসারে, একটি আচরণের পর যদি সন্তোষজনক ফল পাওয়া যায়, তবে সেই আচরণ শক্তিশালী হয়। স্কিনার এই ধারণাকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং “শক্তিবর্ধক” (Reinforcer) ও “শাস্তি” (Punishment) ধারণা দুটি প্রবর্তন করেন।শক্তিবর্ধক (Reinforcer): এটি এমন একটি ঘটনা যা একটি আচরণের পর ঘটে এবং সেই আচরণের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
ধনাত্মক শক্তিবর্ধক (Positive Reinforcer): কোনো কিছু যোগ করা যা আচরণের সম্ভাবনা বাড়ায় (যেমন, খাবার দেওয়া)।
ঋণাত্মক শক্তিবর্ধক (Negative Reinforcer): কোনো অপ্রীতিকর কিছু অপসারণ করা যা আচরণের সম্ভাবনা বাড়ায় (যেমন, বৈদ্যুতিক শক বন্ধ করা)।
শাস্তি (Punishment): এটি এমন একটি ঘটনা যা একটি আচরণের পর ঘটে এবং সেই আচরণের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা হ্রাস করে।
ধনাত্মক শাস্তি (Positive Punishment): কোনো অপ্রীতিকর কিছু যোগ করা যা আচরণের সম্ভাবনা কমায় (যেমন, বকা দেওয়া)।
ঋণাত্মক শাস্তি (Negative Punishment): কোনো পছন্দের কিছু অপসারণ করা যা আচরণের সম্ভাবনা কমায় (যেমন, খেলনা কেড়ে নেওয়া)।
স্কিনারের তত্ত্ব থর্নডাইকের ফললাভের সূত্রের মূল ধারণাকে গ্রহণ করে যে, আচরণের ফলাফলই শিখনকে প্রভাবিত করে। স্কিনার এই ধারণাকে আরও পদ্ধতিগতভাবে বিশ্লেষণ করেন এবং দেখান কিভাবে বিভিন্ন ধরনের শক্তিবর্ধক ও শাস্তির মাধ্যমে আচরণকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন করা যায়। থর্নডাইকের সূত্রটি একটি সাধারণ নীতি প্রদান করে, যেখানে স্কিনার এই নীতিকে ব্যবহার করে আচরণের সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবর্তনের জন্য একটি বিস্তারিত কাঠামো তৈরি করেন। ( About Behaviorism )Incorrectথর্নডাইকের শিখন সূত্রগুলির মধ্যে যে সূত্রটি স্কিনারের তত্ত্বেও গুরুত্ব পেয়েছে, সেটি হলো (D) ফললাভের সূত্র (Law of Effect)।
থর্নডাইকের শিখন সূত্রসমূহ
এডওয়ার্ড এল. থর্নডাইক (Edward L. Thorndike) ছিলেন একজন আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী যিনি প্রাণীদের শিখন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেন এবং তাঁর গবেষণার ফলস্বরূপ কিছু মৌলিক শিখন সূত্র (Laws of Learning) প্রণয়ন করেন। এই সূত্রগুলি আচরণবাদের (Behaviorism) বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর প্রধান তিনটি সূত্র হলো:১. প্রস্তুতির সূত্র (Law of Readiness)
এই সূত্র অনুসারে, শিখন তখনই কার্যকর হয় যখন শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে। যদি একজন ব্যক্তি কোনো কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে কাজটি করা তার জন্য সন্তোষজনক হয়। যদি সে প্রস্তুত না থাকে, তবে কাজটি করা তার জন্য বিরক্তিকর হতে পারে। ( Psychology: An Introduction )২. অনুশীলনের সূত্র (Law of Exercise)
এই সূত্রটি দুটি ভাগে বিভক্ত: ব্যবহারের সূত্র (Law of Use) এবং অব্যবহারের সূত্র (Law of Disuse)। ব্যবহারের সূত্র অনুসারে, একটি উদ্দীপক-প্রতিক্রিয়া সংযোগ (stimulus-response connection) যত বেশি অনুশীলন করা হয়, তত বেশি শক্তিশালী হয়। অব্যবহারের সূত্র অনুসারে, যদি একটি সংযোগ দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার না করা হয়, তবে তা দুর্বল হয়ে পড়ে। ( Educational Psychology )৩. ফললাভের সূত্র (Law of Effect)
এই সূত্রটি থর্নডাইকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলির মধ্যে একটি। এটি বলে যে, যদি একটি প্রতিক্রিয়া একটি সন্তোষজনক ফলাফল (satisfying consequence) তৈরি করে, তবে সেই প্রতিক্রিয়াটি ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতিতে পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। বিপরীতভাবে, যদি একটি প্রতিক্রিয়া একটি অসন্তোষজনক ফলাফল (annoying consequence) তৈরি করে, তবে সেই প্রতিক্রিয়াটি ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। থর্নডাইক তাঁর বিড়ালদের নিয়ে করা ধাঁধা বাক্স (puzzle box) পরীক্ষার মাধ্যমে এই সূত্রের প্রমাণ পান। বিড়ালরা যখন বাক্স থেকে বেরিয়ে আসতে সফল হতো এবং খাবার পেত, তখন তারা দ্রুত শিখত কিভাবে বাক্স খুলতে হয়। ( Theories of Learning )স্কিনারের সক্রিয় অনুবর্তন তত্ত্ব (Operant Conditioning)
বি. এফ. স্কিনার (B. F. Skinner) ছিলেন একজন প্রভাবশালী আচরণবাদী মনোবিজ্ঞানী যিনি সক্রিয় অনুবর্তন (Operant Conditioning) তত্ত্বের প্রবক্তা। স্কিনারের তত্ত্ব থর্নডাইকের ফললাভের সূত্রের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এটিকে আরও বিস্তারিত ও সুসংগঠিত করেছে। স্কিনার বিশ্বাস করতেন যে, আচরণের ফলাফলই নির্ধারণ করে যে সেই আচরণ ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি হবে কিনা।সক্রিয় অনুবর্তনের মূলনীতি
স্কিনারের মতে, সক্রিয় অনুবর্তন হলো এমন এক ধরনের শিখন যেখানে আচরণের শক্তি তার ফলাফলের উপর নির্ভর করে। তিনি আচরণকে দুই ভাগে ভাগ করেন:প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ (Respondent Behavior): এটি উদ্দীপকের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া, যেমন পাভলভের কুকুরের লালা নিঃসরণ।
সক্রিয় আচরণ (Operant Behavior): এটি এমন আচরণ যা পরিবেশের উপর কাজ করে এবং এর ফলাফল দ্বারা প্রভাবিত হয়।
স্কিনার তাঁর গবেষণায় “স্কিনার বক্স” (Skinner Box) ব্যবহার করেন, যেখানে তিনি ইঁদুর বা পায়রাকে একটি নির্দিষ্ট আচরণ (যেমন লিভার চাপানো বা চাবি ঠোকরানো) শেখাতেন এবং সেই আচরণের পর পুরস্কার (যেমন খাবার) বা শাস্তি দিতেন।ফললাভের সূত্রের সাথে সম্পর্ক
স্কিনারের সক্রিয় অনুবর্তন তত্ত্ব থর্নডাইকের ফললাভের সূত্রের একটি সম্প্রসারিত রূপ। থর্নডাইকের ফললাভের সূত্র অনুসারে, একটি আচরণের পর যদি সন্তোষজনক ফল পাওয়া যায়, তবে সেই আচরণ শক্তিশালী হয়। স্কিনার এই ধারণাকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং “শক্তিবর্ধক” (Reinforcer) ও “শাস্তি” (Punishment) ধারণা দুটি প্রবর্তন করেন।শক্তিবর্ধক (Reinforcer): এটি এমন একটি ঘটনা যা একটি আচরণের পর ঘটে এবং সেই আচরণের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
ধনাত্মক শক্তিবর্ধক (Positive Reinforcer): কোনো কিছু যোগ করা যা আচরণের সম্ভাবনা বাড়ায় (যেমন, খাবার দেওয়া)।
ঋণাত্মক শক্তিবর্ধক (Negative Reinforcer): কোনো অপ্রীতিকর কিছু অপসারণ করা যা আচরণের সম্ভাবনা বাড়ায় (যেমন, বৈদ্যুতিক শক বন্ধ করা)।
শাস্তি (Punishment): এটি এমন একটি ঘটনা যা একটি আচরণের পর ঘটে এবং সেই আচরণের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা হ্রাস করে।
ধনাত্মক শাস্তি (Positive Punishment): কোনো অপ্রীতিকর কিছু যোগ করা যা আচরণের সম্ভাবনা কমায় (যেমন, বকা দেওয়া)।
ঋণাত্মক শাস্তি (Negative Punishment): কোনো পছন্দের কিছু অপসারণ করা যা আচরণের সম্ভাবনা কমায় (যেমন, খেলনা কেড়ে নেওয়া)।
স্কিনারের তত্ত্ব থর্নডাইকের ফললাভের সূত্রের মূল ধারণাকে গ্রহণ করে যে, আচরণের ফলাফলই শিখনকে প্রভাবিত করে। স্কিনার এই ধারণাকে আরও পদ্ধতিগতভাবে বিশ্লেষণ করেন এবং দেখান কিভাবে বিভিন্ন ধরনের শক্তিবর্ধক ও শাস্তির মাধ্যমে আচরণকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন করা যায়। থর্নডাইকের সূত্রটি একটি সাধারণ নীতি প্রদান করে, যেখানে স্কিনার এই নীতিকে ব্যবহার করে আচরণের সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবর্তনের জন্য একটি বিস্তারিত কাঠামো তৈরি করেন। ( About Behaviorism ) - Question 44 of 55
44. Question
1 points44. কবে শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হয়েছে।
CorrectShare
শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার তারিখ
শিক্ষার অধিকার আইন, যা আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯ (Right of Children to Free and Compulsory Education Act, 2009) নামে পরিচিত, ভারতে একটি যুগান্তকারী আইন। এই আইনটি ভারতীয় সংবিধানের ২১এ অনুচ্ছেদের অধীনে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।এই আইনের কার্যকর হওয়ার তারিখ নিয়ে প্রশ্নটি করা হয়েছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, এই আইনটি ২০১০ সালের ১লা এপ্রিল থেকে কার্যকর হয় ( The Oxford Companion to Politics in India ). এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল যা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে এবং শিশুদের শিক্ষার অধিকারকে আইনগতভাবে সুরক্ষিত করেছে।
আইনটি ২০০৯ সালে ভারতীয় সংসদ দ্বারা প্রণীত হয়েছিল, কিন্তু এর বাস্তবায়ন শুরু হয় পরবর্তী বছর থেকে। এই সময়ের ব্যবধানটি আইনটিকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা এবং অবকাঠামো প্রস্তুত করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর, এটি ভারতের প্রতিটি রাজ্যে (জম্মু ও কাশ্মীর ব্যতীত, যা তখন নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত হত) প্রযোজ্য হয় এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে ( India’s Living Constitution: Ideas, Practices, Controversies ).
এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার সার্বজনীনীকরণ নিশ্চিত করা এবং সমাজের সকল স্তরের শিশুদের, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত এবং প্রান্তিক শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। এটি স্কুলগুলিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে, শিক্ষার মান উন্নত করতে এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করে ( The Cambridge Economic History of India, Vol. 2: c.1757-c.2003 ).
সুতরাং, প্রশ্নটির সঠিক উত্তর হল (D) ২০১০।
IncorrectShare
শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার তারিখ
শিক্ষার অধিকার আইন, যা আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯ (Right of Children to Free and Compulsory Education Act, 2009) নামে পরিচিত, ভারতে একটি যুগান্তকারী আইন। এই আইনটি ভারতীয় সংবিধানের ২১এ অনুচ্ছেদের অধীনে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।এই আইনের কার্যকর হওয়ার তারিখ নিয়ে প্রশ্নটি করা হয়েছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, এই আইনটি ২০১০ সালের ১লা এপ্রিল থেকে কার্যকর হয় ( The Oxford Companion to Politics in India ). এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল যা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে এবং শিশুদের শিক্ষার অধিকারকে আইনগতভাবে সুরক্ষিত করেছে।
আইনটি ২০০৯ সালে ভারতীয় সংসদ দ্বারা প্রণীত হয়েছিল, কিন্তু এর বাস্তবায়ন শুরু হয় পরবর্তী বছর থেকে। এই সময়ের ব্যবধানটি আইনটিকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা এবং অবকাঠামো প্রস্তুত করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর, এটি ভারতের প্রতিটি রাজ্যে (জম্মু ও কাশ্মীর ব্যতীত, যা তখন নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত হত) প্রযোজ্য হয় এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে ( India’s Living Constitution: Ideas, Practices, Controversies ).
এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার সার্বজনীনীকরণ নিশ্চিত করা এবং সমাজের সকল স্তরের শিশুদের, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত এবং প্রান্তিক শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। এটি স্কুলগুলিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে, শিক্ষার মান উন্নত করতে এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করে ( The Cambridge Economic History of India, Vol. 2: c.1757-c.2003 ).
সুতরাং, প্রশ্নটির সঠিক উত্তর হল (D) ২০১০।
- Question 45 of 55
45. Question
1 points45. প্রবলন প্রাথমিকভাবে কয় প্রকার।
Correctপ্রবলন প্রাথমিকভাবে কয় প্রকার?
প্রবলন (Reinforcement) প্রাথমিকভাবে দুই প্রকার। এই দুটি প্রধান প্রকার হলো ধনাত্মক প্রবলন (Positive Reinforcement) এবং ঋণাত্মক প্রবলন (Negative Reinforcement)।প্রবলন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি আচরণের পুনরাবৃত্তি বা শক্তি বৃদ্ধি পায়। এটি শিক্ষণ প্রক্রিয়ার একটি মৌলিক ধারণা, যা আচরণগত মনোবিজ্ঞানে (Behavioral Psychology) ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
ধনাত্মক প্রবলন (Positive Reinforcement)
ধনাত্মক প্রবলন ঘটে যখন একটি কাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রদর্শনের পর একটি অনুকূল উদ্দীপক (stimulus) যোগ করা হয়, যার ফলে ভবিষ্যতে সেই আচরণের পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। সহজ কথায়, এটি একটি পুরস্কার প্রদান। ( Psychology: An Introduction )উদাহরণস্বরূপ, একজন শিক্ষার্থী যখন ভালো ফল করে, তখন তাকে প্রশংসা করা বা একটি উপহার দেওয়া ধনাত্মক প্রবলন হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে সেই শিক্ষার্থী আরও ভালো ফল করার জন্য উৎসাহিত হবে। ( The Oxford Companion to Psychology )
ধনাত্মক প্রবলনের কিছু বৈশিষ্ট্য:
উদ্দীপক যোগ করা: এখানে একটি নতুন, অনুকূল উদ্দীপক পরিবেশে যোগ করা হয়।
আচরণের বৃদ্ধি: এর ফলে কাঙ্ক্ষিত আচরণের ফ্রিকোয়েন্সি বা তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
পুরস্কারের ধারণা: প্রায়শই এটি পুরস্কার বা সন্তুষ্টির সাথে যুক্ত থাকে।
ঋণাত্মক প্রবলন (Negative Reinforcement)
ঋণাত্মক প্রবলন ঘটে যখন একটি কাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রদর্শনের পর একটি প্রতিকূল উদ্দীপক (aversive stimulus) অপসারণ করা হয়, যার ফলে ভবিষ্যতে সেই আচরণের পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এখানে ‘ঋণাত্মক’ শব্দটি ‘খারাপ’ বোঝায় না, বরং ‘অপসারণ’ বা ‘বাদ দেওয়া’ বোঝায়। ( Encyclopedia of Psychology )উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন ব্যক্তি তার গাড়ির সিটবেল্ট না পরলে একটি বিরক্তিকর বীপ শব্দ হয় এবং সে সিটবেল্ট পরার সাথে সাথে শব্দটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে সিটবেল্ট পরার আচরণটি ঋণাত্মক প্রবলনের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। এখানে বিরক্তিকর শব্দ (প্রতিকূল উদ্দীপক) অপসারণ করা হয়। ( Behavioral Psychology: A Comprehensive Handbook )
ঋণাত্মক প্রবলনের কিছু বৈশিষ্ট্য:
উদ্দীপক অপসারণ: এখানে একটি বিদ্যমান, প্রতিকূল উদ্দীপক পরিবেশ থেকে অপসারণ করা হয়।
আচরণের বৃদ্ধি: এর ফলেও কাঙ্ক্ষিত আচরণের ফ্রিকোয়েন্সি বা তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
অস্বস্তি দূরীকরণ: প্রায়শই এটি অস্বস্তি, ব্যথা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার সাথে যুক্ত থাকে।
প্রবলনের অন্যান্য ধারণা
যদিও প্রবলন প্রাথমিকভাবে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক এই দুই প্রকারে বিভক্ত, তবে এর সাথে সম্পর্কিত আরও কিছু ধারণা রয়েছে যা শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।শাস্তি (Punishment)
শাস্তি প্রবলনের বিপরীত। প্রবলন আচরণের পুনরাবৃত্তি বাড়ায়, আর শাস্তি আচরণের পুনরাবৃত্তি কমায়। শাস্তিরও দুটি প্রধান প্রকার রয়েছে: ধনাত্মক শাস্তি (Positive Punishment) এবং ঋণাত্মক শাস্তি (Negative Punishment)।ধনাত্মক শাস্তি: একটি প্রতিকূল উদ্দীপক যোগ করে আচরণের ফ্রিকোয়েন্সি কমানো। যেমন, একটি ভুল আচরণের জন্য তিরস্কার করা।
ঋণাত্মক শাস্তি: একটি অনুকূল উদ্দীপক অপসারণ করে আচরণের ফ্রিকোয়েন্সি কমানো। যেমন, একটি ভুল আচরণের জন্য খেলার সময় কেড়ে নেওয়া। ( A Dictionary of Psychology )
বিলোপন (Extinction)
বিলোপন ঘটে যখন একটি প্রবলিত আচরণ আর প্রবলিত হয় না, যার ফলে সেই আচরণের ফ্রিকোয়েন্সি ধীরে ধীরে কমে যায় এবং অবশেষে বিলুপ্ত হয়। ( The Gale Encyclopedia of Psychology )প্রবলনের সময়সূচী (Schedules of Reinforcement)
প্রবলন কীভাবে এবং কখন প্রদান করা হয়, তার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়সূচী রয়েছে, যা আচরণের স্থায়িত্ব এবং ফ্রিকোয়েন্সিকে প্রভাবিত করে। এর মধ্যে রয়েছে অবিচ্ছিন্ন প্রবলন (Continuous Reinforcement) এবং আংশিক প্রবলন (Partial Reinforcement) বা বিরতিহীন প্রবলন। আংশিক প্রবলনের মধ্যে আবার নির্দিষ্ট অনুপাত (Fixed Ratio), পরিবর্তনশীল অনুপাত (Variable Ratio), নির্দিষ্ট বিরতি (Fixed Interval) এবং পরিবর্তনশীল বিরতি (Variable Interval) সময়সূচী অন্তর্ভুক্ত। ( Psychology: The Science of Mind and Behavior )এই ধারণাগুলি আচরণগত শিক্ষণ এবং পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Incorrectপ্রবলন প্রাথমিকভাবে কয় প্রকার?
প্রবলন (Reinforcement) প্রাথমিকভাবে দুই প্রকার। এই দুটি প্রধান প্রকার হলো ধনাত্মক প্রবলন (Positive Reinforcement) এবং ঋণাত্মক প্রবলন (Negative Reinforcement)।প্রবলন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি আচরণের পুনরাবৃত্তি বা শক্তি বৃদ্ধি পায়। এটি শিক্ষণ প্রক্রিয়ার একটি মৌলিক ধারণা, যা আচরণগত মনোবিজ্ঞানে (Behavioral Psychology) ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
ধনাত্মক প্রবলন (Positive Reinforcement)
ধনাত্মক প্রবলন ঘটে যখন একটি কাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রদর্শনের পর একটি অনুকূল উদ্দীপক (stimulus) যোগ করা হয়, যার ফলে ভবিষ্যতে সেই আচরণের পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। সহজ কথায়, এটি একটি পুরস্কার প্রদান। ( Psychology: An Introduction )উদাহরণস্বরূপ, একজন শিক্ষার্থী যখন ভালো ফল করে, তখন তাকে প্রশংসা করা বা একটি উপহার দেওয়া ধনাত্মক প্রবলন হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে সেই শিক্ষার্থী আরও ভালো ফল করার জন্য উৎসাহিত হবে। ( The Oxford Companion to Psychology )
ধনাত্মক প্রবলনের কিছু বৈশিষ্ট্য:
উদ্দীপক যোগ করা: এখানে একটি নতুন, অনুকূল উদ্দীপক পরিবেশে যোগ করা হয়।
আচরণের বৃদ্ধি: এর ফলে কাঙ্ক্ষিত আচরণের ফ্রিকোয়েন্সি বা তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
পুরস্কারের ধারণা: প্রায়শই এটি পুরস্কার বা সন্তুষ্টির সাথে যুক্ত থাকে।
ঋণাত্মক প্রবলন (Negative Reinforcement)
ঋণাত্মক প্রবলন ঘটে যখন একটি কাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রদর্শনের পর একটি প্রতিকূল উদ্দীপক (aversive stimulus) অপসারণ করা হয়, যার ফলে ভবিষ্যতে সেই আচরণের পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এখানে ‘ঋণাত্মক’ শব্দটি ‘খারাপ’ বোঝায় না, বরং ‘অপসারণ’ বা ‘বাদ দেওয়া’ বোঝায়। ( Encyclopedia of Psychology )উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন ব্যক্তি তার গাড়ির সিটবেল্ট না পরলে একটি বিরক্তিকর বীপ শব্দ হয় এবং সে সিটবেল্ট পরার সাথে সাথে শব্দটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে সিটবেল্ট পরার আচরণটি ঋণাত্মক প্রবলনের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। এখানে বিরক্তিকর শব্দ (প্রতিকূল উদ্দীপক) অপসারণ করা হয়। ( Behavioral Psychology: A Comprehensive Handbook )
ঋণাত্মক প্রবলনের কিছু বৈশিষ্ট্য:
উদ্দীপক অপসারণ: এখানে একটি বিদ্যমান, প্রতিকূল উদ্দীপক পরিবেশ থেকে অপসারণ করা হয়।
আচরণের বৃদ্ধি: এর ফলেও কাঙ্ক্ষিত আচরণের ফ্রিকোয়েন্সি বা তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
অস্বস্তি দূরীকরণ: প্রায়শই এটি অস্বস্তি, ব্যথা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার সাথে যুক্ত থাকে।
প্রবলনের অন্যান্য ধারণা
যদিও প্রবলন প্রাথমিকভাবে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক এই দুই প্রকারে বিভক্ত, তবে এর সাথে সম্পর্কিত আরও কিছু ধারণা রয়েছে যা শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।শাস্তি (Punishment)
শাস্তি প্রবলনের বিপরীত। প্রবলন আচরণের পুনরাবৃত্তি বাড়ায়, আর শাস্তি আচরণের পুনরাবৃত্তি কমায়। শাস্তিরও দুটি প্রধান প্রকার রয়েছে: ধনাত্মক শাস্তি (Positive Punishment) এবং ঋণাত্মক শাস্তি (Negative Punishment)।ধনাত্মক শাস্তি: একটি প্রতিকূল উদ্দীপক যোগ করে আচরণের ফ্রিকোয়েন্সি কমানো। যেমন, একটি ভুল আচরণের জন্য তিরস্কার করা।
ঋণাত্মক শাস্তি: একটি অনুকূল উদ্দীপক অপসারণ করে আচরণের ফ্রিকোয়েন্সি কমানো। যেমন, একটি ভুল আচরণের জন্য খেলার সময় কেড়ে নেওয়া। ( A Dictionary of Psychology )
বিলোপন (Extinction)
বিলোপন ঘটে যখন একটি প্রবলিত আচরণ আর প্রবলিত হয় না, যার ফলে সেই আচরণের ফ্রিকোয়েন্সি ধীরে ধীরে কমে যায় এবং অবশেষে বিলুপ্ত হয়। ( The Gale Encyclopedia of Psychology )প্রবলনের সময়সূচী (Schedules of Reinforcement)
প্রবলন কীভাবে এবং কখন প্রদান করা হয়, তার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়সূচী রয়েছে, যা আচরণের স্থায়িত্ব এবং ফ্রিকোয়েন্সিকে প্রভাবিত করে। এর মধ্যে রয়েছে অবিচ্ছিন্ন প্রবলন (Continuous Reinforcement) এবং আংশিক প্রবলন (Partial Reinforcement) বা বিরতিহীন প্রবলন। আংশিক প্রবলনের মধ্যে আবার নির্দিষ্ট অনুপাত (Fixed Ratio), পরিবর্তনশীল অনুপাত (Variable Ratio), নির্দিষ্ট বিরতি (Fixed Interval) এবং পরিবর্তনশীল বিরতি (Variable Interval) সময়সূচী অন্তর্ভুক্ত। ( Psychology: The Science of Mind and Behavior )এই ধারণাগুলি আচরণগত শিক্ষণ এবং পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- Question 46 of 55
46. Question
1 points46. অভীক্ষার আদশায়ন কীসের ভিত্তিতে হয়?
Correctঅভীক্ষার আদর্শায়ন (Standardization of a test) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষা বা শিক্ষাগত অভীক্ষার প্রয়োগ, স্কোরিং এবং ব্যাখ্যার জন্য সুনির্দিষ্ট ও অভিন্ন পদ্ধতি স্থাপন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অভীক্ষার ফলাফলকে নির্ভরযোগ্য এবং বৈধ করা, যাতে বিভিন্ন ব্যক্তি বা দলের মধ্যে প্রাপ্ত স্কোরগুলির অর্থপূর্ণ তুলনা করা যায়। অভীক্ষার আদর্শায়নের ভিত্তি একাধিক উপাদানের উপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে কাঠিন্যের মান, সময়নির্ভর সম্পাদন, দলগত আদর্শ এবং ব্যক্তিগত আদর্শ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কাঠিন্যের মান (Difficulty Level)
অভীক্ষার আদর্শায়নে কাঠিন্যের মান একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একটি অভীক্ষার আইটেমগুলির (প্রশ্নাবলী) কাঠিন্যের মাত্রা নির্ধারণ করা হয় যাতে অভীক্ষাটি খুব সহজ বা খুব কঠিন না হয়। যদি একটি অভীক্ষা খুব সহজ হয়, তবে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী উচ্চ স্কোর করবে এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হবে। একইভাবে, যদি এটি খুব কঠিন হয়, তবে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী কম স্কোর করবে এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হবে। কাঠিন্যের মান নির্ধারণের জন্য পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেমন আইটেম কাঠিন্য সূচক (item difficulty index)। এই সূচকটি একটি নির্দিষ্ট আইটেমে সঠিক উত্তর দেওয়া পরীক্ষার্থীদের অনুপাত নির্দেশ করে। আদর্শভাবে, একটি অভীক্ষার আইটেমগুলির কাঠিন্যের মান এমন হওয়া উচিত যা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে একটি স্বাভাবিক বন্টন (normal distribution) তৈরি করে, যেখানে কিছু পরীক্ষার্থী উচ্চ স্কোর, কিছু পরীক্ষার্থী কম স্কোর এবং অধিকাংশ পরীক্ষার্থী গড় স্কোর করে। ( Psychological Testing: Principles, Applications, and Issues )সময়নির্ভর সম্পাদন (Time-dependent Performance)
কিছু অভীক্ষা সময়-সীমাবদ্ধ (time-limited) হয়, অর্থাৎ পরীক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভীক্ষাটি সম্পন্ন করতে হয়। এই ধরনের অভীক্ষায়, সময়নির্ভর সম্পাদন আদর্শায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় যাতে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী অভীক্ষাটি সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়, কিন্তু একই সাথে এটি তাদের দ্রুততা এবং দক্ষতার একটি পরিমাপও হয়। সময়সীমা নির্ধারণের জন্য পাইলট স্টাডি (pilot study) পরিচালনা করা হয়, যেখানে বিভিন্ন সময়সীমা প্রয়োগ করে পরীক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মাধ্যমে একটি উপযুক্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় যা অভীক্ষার উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক হয়। ( Educational Measurement )দলগত আদর্শ (Group Norms)
দলগত আদর্শ হলো অভীক্ষার আদর্শায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিগুলির মধ্যে একটি। এটি একটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যার (যেমন, বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভৌগোলিক অবস্থান ইত্যাদি) উপর অভীক্ষা প্রয়োগ করে প্রাপ্ত স্কোরগুলির একটি প্রতিনিধি নমুনা। এই নমুনা থেকে প্রাপ্ত স্কোরগুলির গড় (mean), প্রমাণ বিচ্যুতি (standard deviation) এবং অন্যান্য পরিসংখ্যানগত পরিমাপ ব্যবহার করে আদর্শ বা নর্ম (norms) তৈরি করা হয়। যখন একজন ব্যক্তি একটি অভীক্ষা দেয়, তখন তার প্রাপ্ত স্কোরকে এই দলগত আদর্শের সাথে তুলনা করে তার পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন পরীক্ষার্থীর স্কোর একটি নির্দিষ্ট বয়সের দলের গড় স্কোরের চেয়ে বেশি হয়, তবে তাকে সেই দলের তুলনায় উচ্চ পারফর্মার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। দলগত আদর্শ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন বয়স-ভিত্তিক আদর্শ (age norms), গ্রেড-ভিত্তিক আদর্শ (grade norms), শতাংশক আদর্শ (percentile norms) ইত্যাদি। ( Foundations of Psychological Testing )আদর্শায়নের প্রক্রিয়া:
দলগত আদর্শ তৈরির প্রক্রিয়াটি সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করে:নমুনা নির্বাচন (Sampling): একটি বৃহৎ এবং প্রতিনিধি নমুনা নির্বাচন করা হয় যা লক্ষ্য জনসংখ্যাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে। নমুনার আকার এবং বৈশিষ্ট্যগুলি আদর্শায়নের নির্ভুলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভীক্ষা প্রয়োগ (Test Administration): নির্বাচিত নমুনার উপর অভীক্ষাটি সুনির্দিষ্ট এবং অভিন্ন পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হয়। অভীক্ষা প্রয়োগের পরিবেশ, নির্দেশাবলী এবং সময়সীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
স্কোরিং (Scoring): অভীক্ষার উত্তরপত্রগুলি একটি অভিন্ন এবং উদ্দেশ্যমূলক পদ্ধতিতে স্কোর করা হয়।
পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ (Statistical Analysis): প্রাপ্ত স্কোরগুলির পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে গড়, প্রমাণ বিচ্যুতি, শতাংশক, এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিসংখ্যানগত পরিমাপ গণনা করা হয়।
আদর্শ সারণী তৈরি (Creation of Norm Tables): প্রাপ্ত পরিসংখ্যানগত তথ্য ব্যবহার করে আদর্শ সারণী তৈরি করা হয়, যা বিভিন্ন স্কোরের সাথে সংশ্লিষ্ট শতাংশক বা অন্যান্য আদর্শ মান নির্দেশ করে। ( Measurement and Evaluation in Psychology and Education )
ব্যক্তিগত আদর্শ (Individual Norms)
যদিও দলগত আদর্শ অভীক্ষার আদর্শায়নের প্রধান ভিত্তি, কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আদর্শও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। ব্যক্তিগত আদর্শ বলতে একজন ব্যক্তির নিজস্ব পূর্ববর্তী পারফরম্যান্স বা তার ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা আদর্শকে বোঝায়। এটি সাধারণত ক্লিনিক্যাল সেটিংসে বা ব্যক্তিগত উন্নতির মূল্যায়নে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন থেরাপিস্ট একজন রোগীর নির্দিষ্ট থেরাপি শুরুর আগে এবং পরে তার পারফরম্যান্সের তুলনা করার জন্য ব্যক্তিগত আদর্শ ব্যবহার করতে পারেন। তবে, একটি অভীক্ষার সাধারণ আদর্শায়নের ক্ষেত্রে দলগত আদর্শই প্রধান ভূমিকা পালন করে। ( Psychological Testing: A Practical Approach to Design and Evaluation )উপসংহারে, অভীক্ষার আদর্শায়ন একটি জটিল প্রক্রিয়া যা অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা এবং বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। এর ভিত্তি মূলত দলগত আদর্শের উপর নির্ভরশীল, যা একটি বৃহৎ এবং প্রতিনিধি নমুনার উপর অভীক্ষা প্রয়োগ করে প্রাপ্ত স্কোরগুলির পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ থেকে উদ্ভূত হয়। কাঠিন্যের মান এবং সময়নির্ভর সম্পাদনও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা অভীক্ষার কার্যকারিতা এবং উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক।
Incorrectঅভীক্ষার আদর্শায়ন (Standardization of a test) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষা বা শিক্ষাগত অভীক্ষার প্রয়োগ, স্কোরিং এবং ব্যাখ্যার জন্য সুনির্দিষ্ট ও অভিন্ন পদ্ধতি স্থাপন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অভীক্ষার ফলাফলকে নির্ভরযোগ্য এবং বৈধ করা, যাতে বিভিন্ন ব্যক্তি বা দলের মধ্যে প্রাপ্ত স্কোরগুলির অর্থপূর্ণ তুলনা করা যায়। অভীক্ষার আদর্শায়নের ভিত্তি একাধিক উপাদানের উপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে কাঠিন্যের মান, সময়নির্ভর সম্পাদন, দলগত আদর্শ এবং ব্যক্তিগত আদর্শ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কাঠিন্যের মান (Difficulty Level)
অভীক্ষার আদর্শায়নে কাঠিন্যের মান একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একটি অভীক্ষার আইটেমগুলির (প্রশ্নাবলী) কাঠিন্যের মাত্রা নির্ধারণ করা হয় যাতে অভীক্ষাটি খুব সহজ বা খুব কঠিন না হয়। যদি একটি অভীক্ষা খুব সহজ হয়, তবে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী উচ্চ স্কোর করবে এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হবে। একইভাবে, যদি এটি খুব কঠিন হয়, তবে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী কম স্কোর করবে এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হবে। কাঠিন্যের মান নির্ধারণের জন্য পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেমন আইটেম কাঠিন্য সূচক (item difficulty index)। এই সূচকটি একটি নির্দিষ্ট আইটেমে সঠিক উত্তর দেওয়া পরীক্ষার্থীদের অনুপাত নির্দেশ করে। আদর্শভাবে, একটি অভীক্ষার আইটেমগুলির কাঠিন্যের মান এমন হওয়া উচিত যা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে একটি স্বাভাবিক বন্টন (normal distribution) তৈরি করে, যেখানে কিছু পরীক্ষার্থী উচ্চ স্কোর, কিছু পরীক্ষার্থী কম স্কোর এবং অধিকাংশ পরীক্ষার্থী গড় স্কোর করে। ( Psychological Testing: Principles, Applications, and Issues )সময়নির্ভর সম্পাদন (Time-dependent Performance)
কিছু অভীক্ষা সময়-সীমাবদ্ধ (time-limited) হয়, অর্থাৎ পরীক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভীক্ষাটি সম্পন্ন করতে হয়। এই ধরনের অভীক্ষায়, সময়নির্ভর সম্পাদন আদর্শায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় যাতে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী অভীক্ষাটি সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়, কিন্তু একই সাথে এটি তাদের দ্রুততা এবং দক্ষতার একটি পরিমাপও হয়। সময়সীমা নির্ধারণের জন্য পাইলট স্টাডি (pilot study) পরিচালনা করা হয়, যেখানে বিভিন্ন সময়সীমা প্রয়োগ করে পরীক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মাধ্যমে একটি উপযুক্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় যা অভীক্ষার উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক হয়। ( Educational Measurement )দলগত আদর্শ (Group Norms)
দলগত আদর্শ হলো অভীক্ষার আদর্শায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিগুলির মধ্যে একটি। এটি একটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যার (যেমন, বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভৌগোলিক অবস্থান ইত্যাদি) উপর অভীক্ষা প্রয়োগ করে প্রাপ্ত স্কোরগুলির একটি প্রতিনিধি নমুনা। এই নমুনা থেকে প্রাপ্ত স্কোরগুলির গড় (mean), প্রমাণ বিচ্যুতি (standard deviation) এবং অন্যান্য পরিসংখ্যানগত পরিমাপ ব্যবহার করে আদর্শ বা নর্ম (norms) তৈরি করা হয়। যখন একজন ব্যক্তি একটি অভীক্ষা দেয়, তখন তার প্রাপ্ত স্কোরকে এই দলগত আদর্শের সাথে তুলনা করে তার পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন পরীক্ষার্থীর স্কোর একটি নির্দিষ্ট বয়সের দলের গড় স্কোরের চেয়ে বেশি হয়, তবে তাকে সেই দলের তুলনায় উচ্চ পারফর্মার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। দলগত আদর্শ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন বয়স-ভিত্তিক আদর্শ (age norms), গ্রেড-ভিত্তিক আদর্শ (grade norms), শতাংশক আদর্শ (percentile norms) ইত্যাদি। ( Foundations of Psychological Testing )আদর্শায়নের প্রক্রিয়া:
দলগত আদর্শ তৈরির প্রক্রিয়াটি সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করে:নমুনা নির্বাচন (Sampling): একটি বৃহৎ এবং প্রতিনিধি নমুনা নির্বাচন করা হয় যা লক্ষ্য জনসংখ্যাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে। নমুনার আকার এবং বৈশিষ্ট্যগুলি আদর্শায়নের নির্ভুলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভীক্ষা প্রয়োগ (Test Administration): নির্বাচিত নমুনার উপর অভীক্ষাটি সুনির্দিষ্ট এবং অভিন্ন পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হয়। অভীক্ষা প্রয়োগের পরিবেশ, নির্দেশাবলী এবং সময়সীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
স্কোরিং (Scoring): অভীক্ষার উত্তরপত্রগুলি একটি অভিন্ন এবং উদ্দেশ্যমূলক পদ্ধতিতে স্কোর করা হয়।
পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ (Statistical Analysis): প্রাপ্ত স্কোরগুলির পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে গড়, প্রমাণ বিচ্যুতি, শতাংশক, এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিসংখ্যানগত পরিমাপ গণনা করা হয়।
আদর্শ সারণী তৈরি (Creation of Norm Tables): প্রাপ্ত পরিসংখ্যানগত তথ্য ব্যবহার করে আদর্শ সারণী তৈরি করা হয়, যা বিভিন্ন স্কোরের সাথে সংশ্লিষ্ট শতাংশক বা অন্যান্য আদর্শ মান নির্দেশ করে। ( Measurement and Evaluation in Psychology and Education )
ব্যক্তিগত আদর্শ (Individual Norms)
যদিও দলগত আদর্শ অভীক্ষার আদর্শায়নের প্রধান ভিত্তি, কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আদর্শও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। ব্যক্তিগত আদর্শ বলতে একজন ব্যক্তির নিজস্ব পূর্ববর্তী পারফরম্যান্স বা তার ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা আদর্শকে বোঝায়। এটি সাধারণত ক্লিনিক্যাল সেটিংসে বা ব্যক্তিগত উন্নতির মূল্যায়নে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন থেরাপিস্ট একজন রোগীর নির্দিষ্ট থেরাপি শুরুর আগে এবং পরে তার পারফরম্যান্সের তুলনা করার জন্য ব্যক্তিগত আদর্শ ব্যবহার করতে পারেন। তবে, একটি অভীক্ষার সাধারণ আদর্শায়নের ক্ষেত্রে দলগত আদর্শই প্রধান ভূমিকা পালন করে। ( Psychological Testing: A Practical Approach to Design and Evaluation )উপসংহারে, অভীক্ষার আদর্শায়ন একটি জটিল প্রক্রিয়া যা অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা এবং বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। এর ভিত্তি মূলত দলগত আদর্শের উপর নির্ভরশীল, যা একটি বৃহৎ এবং প্রতিনিধি নমুনার উপর অভীক্ষা প্রয়োগ করে প্রাপ্ত স্কোরগুলির পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ থেকে উদ্ভূত হয়। কাঠিন্যের মান এবং সময়নির্ভর সম্পাদনও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা অভীক্ষার কার্যকারিতা এবং উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক।
- Question 47 of 55
47. Question
1 points47. দ্বিউপাদান তত্ত্বের কোনটি প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষায় পরিমাপ করা হয়।
Correctদ্বিউপাদান তত্ত্ব (Two-Factor Theory) বা স্পিয়ারম্যানের দ্বিউপাদান তত্ত্ব (Spearman’s Two-Factor Theory) বুদ্ধিমত্তার একটি প্রভাবশালী ধারণা যা চার্লস স্পিয়ারম্যান (Charles Spearman) বিশ শতকের গোড়ার দিকে প্রস্তাব করেন। এই তত্ত্ব অনুসারে, বুদ্ধিমত্তাকে দুটি প্রধান উপাদানে বিভক্ত করা যায়: একটি সাধারণ উপাদান (General Factor), যা ‘G’ দ্বারা চিহ্নিত, এবং একটি বিশেষ উপাদান (Specific Factor), যা ‘S’ দ্বারা চিহ্নিত। প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষায় এই দুটি উপাদানের মধ্যে কোনটি পরিমাপ করা হয়, তা বোঝার জন্য প্রতিটি উপাদানের প্রকৃতি এবং তাদের পরিমাপের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।
G উপাদান (General Factor)
‘G’ উপাদান বা সাধারণ উপাদান হলো বুদ্ধিমত্তার একটি সার্বজনীন বা সাধারণ ক্ষমতা যা বিভিন্ন জ্ঞানীয় কাজ সম্পাদনে ব্যবহৃত হয়। স্পিয়ারম্যানের মতে, এই ‘G’ উপাদানটি হলো বুদ্ধিমত্তার মূল ভিত্তি এবং এটি সমস্ত বৌদ্ধিক কার্যকলাপে কমবেশি উপস্থিত থাকে। এটি যুক্তি, সমস্যা সমাধান, বিমূর্ত চিন্তাভাবনা, এবং নতুন পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়ার মতো ক্ষমতাগুলিকে প্রতিফলিত করে। ( Psychology: An Introduction )প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষা, যেমন স্ট্যানফোর্ড-বিনেট (Stanford-Binet) বা ওয়েচসলার অ্যাডাল্ট ইন্টেলিজেন্স স্কেল (Wechsler Adult Intelligence Scale – WAIS), মূলত এই ‘G’ উপাদান পরিমাপের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই অভীক্ষাগুলিতে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন থাকে যা ভাষাগত যুক্তি, সংখ্যাগত যুক্তি, স্থানিক যুক্তি এবং বিমূর্ত যুক্তির মতো ক্ষমতাগুলিকে মূল্যায়ন করে। এই প্রশ্নগুলির মধ্যে একটি সাধারণ সম্পর্ক দেখা যায়, যার অর্থ হলো যে ব্যক্তি একটি ক্ষেত্রে ভালো ফল করে, তার অন্য ক্ষেত্রেও ভালো ফল করার সম্ভাবনা থাকে। এই পারস্পরিক সম্পর্কই ‘G’ উপাদানের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। ( Theories of Intelligence )
উদাহরণস্বরূপ, একটি বুদ্ধি অভীক্ষায় যদি একজন ব্যক্তি শব্দভাণ্ডার, পাটিগণিত এবং প্যাটার্ন সম্পন্ন করার মতো বিভিন্ন উপ-পরীক্ষায় (sub-tests) ভালো ফল করে, তবে এটি নির্দেশ করে যে তার ‘G’ উপাদান শক্তিশালী। ‘G’ উপাদানকে প্রায়শই বুদ্ধিমত্তার একটি একক, সমন্বিত ক্ষমতা হিসাবে দেখা হয় যা একজন ব্যক্তির সামগ্রিক জ্ঞানীয় কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। ( Encyclopedia of Psychology )
S উপাদান (Specific Factor)
‘S’ উপাদান বা বিশেষ উপাদান হলো বুদ্ধিমত্তার সেই অংশ যা একটি নির্দিষ্ট কাজ বা দক্ষতার জন্য প্রয়োজন। এটি ‘G’ উপাদানের মতো সার্বজনীন নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যক্তির পারদর্শিতাকে প্রতিফলিত করে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তির গণিতে ভালো হওয়ার ক্ষমতা, সঙ্গীতে ভালো হওয়ার ক্ষমতা, বা যান্ত্রিক দক্ষতা – এগুলি সবই ‘S’ উপাদানের উদাহরণ। ( Human Intelligence )স্পিয়ারম্যানের মতে, প্রতিটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘S’ উপাদানের প্রয়োজন হয়। যদিও ‘G’ উপাদান সমস্ত কাজে উপস্থিত থাকে, তবে প্রতিটি কাজের জন্য একটি অনন্য ‘S’ উপাদানেরও প্রয়োজন হয়। প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষাগুলি ‘G’ উপাদান পরিমাপের উপর বেশি জোর দিলেও, তারা পরোক্ষভাবে ‘S’ উপাদানগুলিকেও পরিমাপ করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বুদ্ধি অভীক্ষার গণিত অংশে একজন ব্যক্তির পারফরম্যান্স তার গণিত-সম্পর্কিত ‘S’ উপাদানকে প্রতিফলিত করে, যদিও এই পারফরম্যান্স ‘G’ উপাদানের দ্বারাও প্রভাবিত হয়। ( Intelligence: A Very Short Introduction )
তবে, প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষাগুলি ‘S’ উপাদানগুলিকে পৃথকভাবে এবং বিশদভাবে পরিমাপ করার জন্য ডিজাইন করা হয় না। বরং, তারা বিভিন্ন ‘S’ উপাদানের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা প্রশ্নগুলির মাধ্যমে ‘G’ উপাদানের একটি সামগ্রিক চিত্র পেতে চায়। একটি নির্দিষ্ট ‘S’ উপাদান পরিমাপের জন্য আরও বিশেষায়িত অভীক্ষা বা পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে, যা একটি নির্দিষ্ট দক্ষতা বা ক্ষমতাকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়। ( The Oxford Handbook of Human Intelligence )
প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষায় পরিমাপ
প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষাগুলি, যেমন পূর্বে উল্লিখিত স্ট্যানফোর্ড-বিনেট বা ওয়েচসলার স্কেল, মূলত ‘G’ উপাদান পরিমাপের উপরই বেশি গুরুত্ব দেয়। এই অভীক্ষাগুলির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে তারা বিভিন্ন জ্ঞানীয় ডোমেন থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে এবং এই প্রশ্নগুলির মধ্যে একটি সাধারণ সম্পর্ক খুঁজে বের করে, যা ‘G’ উপাদানের উপস্থিতি প্রমাণ করে। অভীক্ষাগুলির স্কোর সাধারণত একটি একক বুদ্ধিমত্তা ভাগফল (IQ) হিসাবে প্রকাশ করা হয়, যা মূলত ‘G’ উপাদানের একটি পরিমাপ। ( Psychological Testing: Principles, Applications, and Issues )যদিও ‘S’ উপাদানগুলিও এই অভীক্ষাগুলির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে পরিমাপ করা হয়, তবে তাদের পৃথক প্রভাবকে ‘G’ উপাদানের মতো স্পষ্ট করে দেখানো হয় না। প্রতিটি উপ-পরীক্ষা (sub-test) একটি নির্দিষ্ট ‘S’ উপাদানকে প্রতিফলিত করে, তবে এই উপ-পরীক্ষাগুলির সম্মিলিত স্কোরই ‘G’ উপাদানের একটি সামগ্রিক পরিমাপ প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ, ওয়েচসলার স্কেলের মৌখিক বোধগম্যতা (Verbal Comprehension) বা পারসেপচুয়াল রিজনিং (Perceptual Reasoning) সূচকগুলি নির্দিষ্ট জ্ঞানীয় ক্ষমতাকে প্রতিফলিত করে, যা ‘S’ উপাদানের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, কিন্তু এই সূচকগুলি একত্রিত হয়ে সামগ্রিক IQ স্কোর তৈরি করে, যা ‘G’ উপাদানের একটি শক্তিশালী নির্দেশক। ( Assessment of Intelligence )
সুতরাং, প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষায় মূলত ‘G’ উপাদানকেই পরিমাপ করা হয়, যদিও ‘S’ উপাদানগুলিও এই পরিমাপ প্রক্রিয়ার অংশ। ‘G’ উপাদান হলো সেই সাধারণ ক্ষমতা যা বিভিন্ন জ্ঞানীয় কাজে ব্যক্তির পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করে, এবং বুদ্ধি অভীক্ষাগুলি এই সাধারণ ক্ষমতাকে মূল্যায়ন করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো (B) G।
Incorrectদ্বিউপাদান তত্ত্ব (Two-Factor Theory) বা স্পিয়ারম্যানের দ্বিউপাদান তত্ত্ব (Spearman’s Two-Factor Theory) বুদ্ধিমত্তার একটি প্রভাবশালী ধারণা যা চার্লস স্পিয়ারম্যান (Charles Spearman) বিশ শতকের গোড়ার দিকে প্রস্তাব করেন। এই তত্ত্ব অনুসারে, বুদ্ধিমত্তাকে দুটি প্রধান উপাদানে বিভক্ত করা যায়: একটি সাধারণ উপাদান (General Factor), যা ‘G’ দ্বারা চিহ্নিত, এবং একটি বিশেষ উপাদান (Specific Factor), যা ‘S’ দ্বারা চিহ্নিত। প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষায় এই দুটি উপাদানের মধ্যে কোনটি পরিমাপ করা হয়, তা বোঝার জন্য প্রতিটি উপাদানের প্রকৃতি এবং তাদের পরিমাপের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।
G উপাদান (General Factor)
‘G’ উপাদান বা সাধারণ উপাদান হলো বুদ্ধিমত্তার একটি সার্বজনীন বা সাধারণ ক্ষমতা যা বিভিন্ন জ্ঞানীয় কাজ সম্পাদনে ব্যবহৃত হয়। স্পিয়ারম্যানের মতে, এই ‘G’ উপাদানটি হলো বুদ্ধিমত্তার মূল ভিত্তি এবং এটি সমস্ত বৌদ্ধিক কার্যকলাপে কমবেশি উপস্থিত থাকে। এটি যুক্তি, সমস্যা সমাধান, বিমূর্ত চিন্তাভাবনা, এবং নতুন পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়ার মতো ক্ষমতাগুলিকে প্রতিফলিত করে। ( Psychology: An Introduction )প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষা, যেমন স্ট্যানফোর্ড-বিনেট (Stanford-Binet) বা ওয়েচসলার অ্যাডাল্ট ইন্টেলিজেন্স স্কেল (Wechsler Adult Intelligence Scale – WAIS), মূলত এই ‘G’ উপাদান পরিমাপের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই অভীক্ষাগুলিতে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন থাকে যা ভাষাগত যুক্তি, সংখ্যাগত যুক্তি, স্থানিক যুক্তি এবং বিমূর্ত যুক্তির মতো ক্ষমতাগুলিকে মূল্যায়ন করে। এই প্রশ্নগুলির মধ্যে একটি সাধারণ সম্পর্ক দেখা যায়, যার অর্থ হলো যে ব্যক্তি একটি ক্ষেত্রে ভালো ফল করে, তার অন্য ক্ষেত্রেও ভালো ফল করার সম্ভাবনা থাকে। এই পারস্পরিক সম্পর্কই ‘G’ উপাদানের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। ( Theories of Intelligence )
উদাহরণস্বরূপ, একটি বুদ্ধি অভীক্ষায় যদি একজন ব্যক্তি শব্দভাণ্ডার, পাটিগণিত এবং প্যাটার্ন সম্পন্ন করার মতো বিভিন্ন উপ-পরীক্ষায় (sub-tests) ভালো ফল করে, তবে এটি নির্দেশ করে যে তার ‘G’ উপাদান শক্তিশালী। ‘G’ উপাদানকে প্রায়শই বুদ্ধিমত্তার একটি একক, সমন্বিত ক্ষমতা হিসাবে দেখা হয় যা একজন ব্যক্তির সামগ্রিক জ্ঞানীয় কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। ( Encyclopedia of Psychology )
S উপাদান (Specific Factor)
‘S’ উপাদান বা বিশেষ উপাদান হলো বুদ্ধিমত্তার সেই অংশ যা একটি নির্দিষ্ট কাজ বা দক্ষতার জন্য প্রয়োজন। এটি ‘G’ উপাদানের মতো সার্বজনীন নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যক্তির পারদর্শিতাকে প্রতিফলিত করে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তির গণিতে ভালো হওয়ার ক্ষমতা, সঙ্গীতে ভালো হওয়ার ক্ষমতা, বা যান্ত্রিক দক্ষতা – এগুলি সবই ‘S’ উপাদানের উদাহরণ। ( Human Intelligence )স্পিয়ারম্যানের মতে, প্রতিটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘S’ উপাদানের প্রয়োজন হয়। যদিও ‘G’ উপাদান সমস্ত কাজে উপস্থিত থাকে, তবে প্রতিটি কাজের জন্য একটি অনন্য ‘S’ উপাদানেরও প্রয়োজন হয়। প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষাগুলি ‘G’ উপাদান পরিমাপের উপর বেশি জোর দিলেও, তারা পরোক্ষভাবে ‘S’ উপাদানগুলিকেও পরিমাপ করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বুদ্ধি অভীক্ষার গণিত অংশে একজন ব্যক্তির পারফরম্যান্স তার গণিত-সম্পর্কিত ‘S’ উপাদানকে প্রতিফলিত করে, যদিও এই পারফরম্যান্স ‘G’ উপাদানের দ্বারাও প্রভাবিত হয়। ( Intelligence: A Very Short Introduction )
তবে, প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষাগুলি ‘S’ উপাদানগুলিকে পৃথকভাবে এবং বিশদভাবে পরিমাপ করার জন্য ডিজাইন করা হয় না। বরং, তারা বিভিন্ন ‘S’ উপাদানের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা প্রশ্নগুলির মাধ্যমে ‘G’ উপাদানের একটি সামগ্রিক চিত্র পেতে চায়। একটি নির্দিষ্ট ‘S’ উপাদান পরিমাপের জন্য আরও বিশেষায়িত অভীক্ষা বা পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে, যা একটি নির্দিষ্ট দক্ষতা বা ক্ষমতাকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়। ( The Oxford Handbook of Human Intelligence )
প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষায় পরিমাপ
প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষাগুলি, যেমন পূর্বে উল্লিখিত স্ট্যানফোর্ড-বিনেট বা ওয়েচসলার স্কেল, মূলত ‘G’ উপাদান পরিমাপের উপরই বেশি গুরুত্ব দেয়। এই অভীক্ষাগুলির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে তারা বিভিন্ন জ্ঞানীয় ডোমেন থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে এবং এই প্রশ্নগুলির মধ্যে একটি সাধারণ সম্পর্ক খুঁজে বের করে, যা ‘G’ উপাদানের উপস্থিতি প্রমাণ করে। অভীক্ষাগুলির স্কোর সাধারণত একটি একক বুদ্ধিমত্তা ভাগফল (IQ) হিসাবে প্রকাশ করা হয়, যা মূলত ‘G’ উপাদানের একটি পরিমাপ। ( Psychological Testing: Principles, Applications, and Issues )যদিও ‘S’ উপাদানগুলিও এই অভীক্ষাগুলির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে পরিমাপ করা হয়, তবে তাদের পৃথক প্রভাবকে ‘G’ উপাদানের মতো স্পষ্ট করে দেখানো হয় না। প্রতিটি উপ-পরীক্ষা (sub-test) একটি নির্দিষ্ট ‘S’ উপাদানকে প্রতিফলিত করে, তবে এই উপ-পরীক্ষাগুলির সম্মিলিত স্কোরই ‘G’ উপাদানের একটি সামগ্রিক পরিমাপ প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ, ওয়েচসলার স্কেলের মৌখিক বোধগম্যতা (Verbal Comprehension) বা পারসেপচুয়াল রিজনিং (Perceptual Reasoning) সূচকগুলি নির্দিষ্ট জ্ঞানীয় ক্ষমতাকে প্রতিফলিত করে, যা ‘S’ উপাদানের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, কিন্তু এই সূচকগুলি একত্রিত হয়ে সামগ্রিক IQ স্কোর তৈরি করে, যা ‘G’ উপাদানের একটি শক্তিশালী নির্দেশক। ( Assessment of Intelligence )
সুতরাং, প্রচলিত বুদ্ধি অভীক্ষায় মূলত ‘G’ উপাদানকেই পরিমাপ করা হয়, যদিও ‘S’ উপাদানগুলিও এই পরিমাপ প্রক্রিয়ার অংশ। ‘G’ উপাদান হলো সেই সাধারণ ক্ষমতা যা বিভিন্ন জ্ঞানীয় কাজে ব্যক্তির পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করে, এবং বুদ্ধি অভীক্ষাগুলি এই সাধারণ ক্ষমতাকে মূল্যায়ন করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো (B) G।
- Question 48 of 55
48. Question
1 points48. স্বামী বিবেকানন্দ শিক্ষার কোন ধরনের লক্ষ্যের উপর জোর দিয়েছিলেন?
Correctমী বিবেকানন্দ শিক্ষার লক্ষ্য
স্বামী বিবেকানন্দ শিক্ষার যে লক্ষ্যের উপর জোর দিয়েছিলেন, তা কেবল একটি নির্দিষ্ট দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল একটি সামগ্রিক ও সমন্বিত ধারণা। তাঁর শিক্ষাদর্শে আধ্যাত্মিকতা, মূল্যবোধ, চরিত্রগঠন এবং ধর্মীয় দিকগুলি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে, যদি একটি একক লক্ষ্যের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপের কথা বলতে হয়, তবে তা ছিল ‘চরিত্রগঠন’ (C)।বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন যে, শিক্ষা কেবল তথ্য সংগ্রহ বা পুঁথিগত জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের অন্তর্নিহিত পূর্ণতার প্রকাশ। এই পূর্ণতা অর্জনের জন্য চরিত্রগঠন ছিল অপরিহার্য। তিনি বলতেন, “Education is not the amount of information that is put into your brain and runs riot there, undigested, all your life. We must have life-building, man-making, character-making assimilation of ideas.” (The Complete Works of Swami Vivekananda). তাঁর মতে, প্রকৃত শিক্ষা সেটাই যা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী, আত্মনির্ভরশীল এবং নৈতিকভাবে উন্নত করে তোলে।
চরিত্রগঠনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কেবল নিজের উন্নতি সাধন করে না, বরং সমাজ ও জাতির কল্যাণেও অবদান রাখতে সক্ষম হয়। বিবেকানন্দ মনে করতেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন মানুষ তৈরি করা যারা সৎ, সাহসী, পরোপকারী এবং দেশপ্রেমিক। এই গুণাবলীগুলি চরিত্রগঠনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলতেন, “The end of all education, all training, should be man-making.” (The Complete Works of Swami Vivekananda).
যদিও আধ্যাত্মিকতা (A), মূল্যবোধ (B) এবং ধর্মীয় দিক (D) তাঁর শিক্ষাদর্শে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে এগুলি সবই চরিত্রগঠনের বৃহত্তর লক্ষ্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হত। আধ্যাত্মিকতা মানুষকে আত্মোপলব্ধি ও নৈতিকতার পথে চালিত করে, যা উন্নত চরিত্র গঠনে সহায়ক। মূল্যবোধগুলি (যেমন সত্যবাদিতা, অহিংসা, সেবা) চরিত্রকে দৃঢ় করে এবং ধর্মীয় শিক্ষা (যা সংকীর্ণতা মুক্ত এবং সর্বজনীন) মানুষকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত করে তোলে। এই প্রতিটি উপাদানই চরিত্রগঠনের ভিত্তি স্থাপন করে।
বিবেকানন্দ শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি মনে করতেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই দেবত্ব নিহিত আছে এবং শিক্ষার কাজ হলো সেই দেবত্বের প্রকাশ ঘটানো। এই প্রকাশ ঘটে উন্নত চরিত্রের মাধ্যমে। তাই, তাঁর শিক্ষাদর্শে চরিত্রগঠনই ছিল কেন্দ্রীয় লক্ষ্য, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি প্রকৃত মানুষে পরিণত হতে পারে এবং সমাজ ও জাতির জন্য কল্যাণকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
Incorrectমী বিবেকানন্দ শিক্ষার লক্ষ্য
স্বামী বিবেকানন্দ শিক্ষার যে লক্ষ্যের উপর জোর দিয়েছিলেন, তা কেবল একটি নির্দিষ্ট দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল একটি সামগ্রিক ও সমন্বিত ধারণা। তাঁর শিক্ষাদর্শে আধ্যাত্মিকতা, মূল্যবোধ, চরিত্রগঠন এবং ধর্মীয় দিকগুলি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে, যদি একটি একক লক্ষ্যের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপের কথা বলতে হয়, তবে তা ছিল ‘চরিত্রগঠন’ (C)।বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন যে, শিক্ষা কেবল তথ্য সংগ্রহ বা পুঁথিগত জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের অন্তর্নিহিত পূর্ণতার প্রকাশ। এই পূর্ণতা অর্জনের জন্য চরিত্রগঠন ছিল অপরিহার্য। তিনি বলতেন, “Education is not the amount of information that is put into your brain and runs riot there, undigested, all your life. We must have life-building, man-making, character-making assimilation of ideas.” (The Complete Works of Swami Vivekananda). তাঁর মতে, প্রকৃত শিক্ষা সেটাই যা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী, আত্মনির্ভরশীল এবং নৈতিকভাবে উন্নত করে তোলে।
চরিত্রগঠনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কেবল নিজের উন্নতি সাধন করে না, বরং সমাজ ও জাতির কল্যাণেও অবদান রাখতে সক্ষম হয়। বিবেকানন্দ মনে করতেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন মানুষ তৈরি করা যারা সৎ, সাহসী, পরোপকারী এবং দেশপ্রেমিক। এই গুণাবলীগুলি চরিত্রগঠনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলতেন, “The end of all education, all training, should be man-making.” (The Complete Works of Swami Vivekananda).
যদিও আধ্যাত্মিকতা (A), মূল্যবোধ (B) এবং ধর্মীয় দিক (D) তাঁর শিক্ষাদর্শে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে এগুলি সবই চরিত্রগঠনের বৃহত্তর লক্ষ্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হত। আধ্যাত্মিকতা মানুষকে আত্মোপলব্ধি ও নৈতিকতার পথে চালিত করে, যা উন্নত চরিত্র গঠনে সহায়ক। মূল্যবোধগুলি (যেমন সত্যবাদিতা, অহিংসা, সেবা) চরিত্রকে দৃঢ় করে এবং ধর্মীয় শিক্ষা (যা সংকীর্ণতা মুক্ত এবং সর্বজনীন) মানুষকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত করে তোলে। এই প্রতিটি উপাদানই চরিত্রগঠনের ভিত্তি স্থাপন করে।
বিবেকানন্দ শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি মনে করতেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই দেবত্ব নিহিত আছে এবং শিক্ষার কাজ হলো সেই দেবত্বের প্রকাশ ঘটানো। এই প্রকাশ ঘটে উন্নত চরিত্রের মাধ্যমে। তাই, তাঁর শিক্ষাদর্শে চরিত্রগঠনই ছিল কেন্দ্রীয় লক্ষ্য, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি প্রকৃত মানুষে পরিণত হতে পারে এবং সমাজ ও জাতির জন্য কল্যাণকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
- Question 49 of 55
49. Question
1 points49. মনঃসমীক্ষণের পদ্ধতিগত নাম কী?
Correctমনঃসমীক্ষণের পদ্ধতিগত নাম
মনঃসমীক্ষণের পদ্ধতিগত নাম হল (A) অবাধ অনুষঙ্গ।ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণে, অবাধ অনুষঙ্গ (free association) হল একটি মৌলিক পদ্ধতি যেখানে রোগীকে কোনো প্রকার বাধা বা বিচার ছাড়াই তার মনে আসা সমস্ত চিন্তা, অনুভূতি, স্মৃতি বা চিত্র প্রকাশ করতে উৎসাহিত করা হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীর অচেতন মনের গভীরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়, যা তার মানসিক দ্বন্দ্ব বা সমস্যার মূল কারণ উন্মোচনে সহায়তা করে। (The Penguin Dictionary of Psychology)
স্বপ্ন বিশ্লেষণ (dream analysis) মনঃসমীক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলেও এটি পদ্ধতিগত নাম নয়, বরং অবাধ অনুষঙ্গের মতোই একটি কৌশল যা অচেতন মনের বিষয়বস্তু উন্মোচনে ব্যবহৃত হয়। ফ্রয়েড বিশ্বাস করতেন যে স্বপ্ন হল “অচেতন মনের রাজপথ” এবং স্বপ্নের সুপ্ত অর্থ বিশ্লেষণ করে রোগীর অবদমিত ইচ্ছা বা দ্বন্দ্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। (A Dictionary of Psychology)
মনঃপরামর্শদান (counseling) একটি ব্যাপক শব্দ যা বিভিন্ন ধরনের মানসিক সহায়তা প্রদানকে বোঝায় এবং এটি মনঃসমীক্ষণের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিগত নাম নয়। মনঃসমীক্ষণ একটি নির্দিষ্ট তাত্ত্বিক কাঠামো এবং কৌশল ব্যবহার করে, যেখানে মনঃপরামর্শদান আরও বিস্তৃত পরিসরে ব্যবহৃত হতে পারে। (The Gale Encyclopedia of Psychology)
ক্রীড়া-চিকিৎসা (play therapy) মূলত শিশুদের মানসিক সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি, যেখানে খেলার মাধ্যমে শিশুরা তাদের অনুভূতি, চিন্তা এবং অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে। এটি মনঃসমীক্ষণের একটি সরাসরি পদ্ধতিগত নাম নয়, যদিও কিছু মনঃসমীক্ষণমূলক ধারণা এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। (The Gale Encyclopedia of Psychology)
অবাধ অনুষঙ্গকে মনঃসমীক্ষণের “মৌলিক নিয়ম” (fundamental rule) হিসাবেও উল্লেখ করা হয়, কারণ এটিই সেই পদ্ধতি যার মাধ্যমে রোগীর অচেতন উপাদানগুলি সচেতন স্তরে নিয়ে আসা হয়। (The Standard Edition of the Complete Psychological Works of Sigmund Freud)
Incorrectমনঃসমীক্ষণের পদ্ধতিগত নাম
মনঃসমীক্ষণের পদ্ধতিগত নাম হল (A) অবাধ অনুষঙ্গ।ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণে, অবাধ অনুষঙ্গ (free association) হল একটি মৌলিক পদ্ধতি যেখানে রোগীকে কোনো প্রকার বাধা বা বিচার ছাড়াই তার মনে আসা সমস্ত চিন্তা, অনুভূতি, স্মৃতি বা চিত্র প্রকাশ করতে উৎসাহিত করা হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীর অচেতন মনের গভীরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়, যা তার মানসিক দ্বন্দ্ব বা সমস্যার মূল কারণ উন্মোচনে সহায়তা করে। (The Penguin Dictionary of Psychology)
স্বপ্ন বিশ্লেষণ (dream analysis) মনঃসমীক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলেও এটি পদ্ধতিগত নাম নয়, বরং অবাধ অনুষঙ্গের মতোই একটি কৌশল যা অচেতন মনের বিষয়বস্তু উন্মোচনে ব্যবহৃত হয়। ফ্রয়েড বিশ্বাস করতেন যে স্বপ্ন হল “অচেতন মনের রাজপথ” এবং স্বপ্নের সুপ্ত অর্থ বিশ্লেষণ করে রোগীর অবদমিত ইচ্ছা বা দ্বন্দ্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। (A Dictionary of Psychology)
মনঃপরামর্শদান (counseling) একটি ব্যাপক শব্দ যা বিভিন্ন ধরনের মানসিক সহায়তা প্রদানকে বোঝায় এবং এটি মনঃসমীক্ষণের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিগত নাম নয়। মনঃসমীক্ষণ একটি নির্দিষ্ট তাত্ত্বিক কাঠামো এবং কৌশল ব্যবহার করে, যেখানে মনঃপরামর্শদান আরও বিস্তৃত পরিসরে ব্যবহৃত হতে পারে। (The Gale Encyclopedia of Psychology)
ক্রীড়া-চিকিৎসা (play therapy) মূলত শিশুদের মানসিক সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি, যেখানে খেলার মাধ্যমে শিশুরা তাদের অনুভূতি, চিন্তা এবং অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে। এটি মনঃসমীক্ষণের একটি সরাসরি পদ্ধতিগত নাম নয়, যদিও কিছু মনঃসমীক্ষণমূলক ধারণা এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। (The Gale Encyclopedia of Psychology)
অবাধ অনুষঙ্গকে মনঃসমীক্ষণের “মৌলিক নিয়ম” (fundamental rule) হিসাবেও উল্লেখ করা হয়, কারণ এটিই সেই পদ্ধতি যার মাধ্যমে রোগীর অচেতন উপাদানগুলি সচেতন স্তরে নিয়ে আসা হয়। (The Standard Edition of the Complete Psychological Works of Sigmund Freud)
- Question 50 of 55
50. Question
1 points50. পরিমাপ প্রক্রিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?
Correctপরিমাপ প্রক্রিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য
পরিমাপ প্রক্রিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো (A) সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ। পরিমাপ (Measurement) একটি মৌলিক বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত প্রক্রিয়া যা কোনো ভৌত রাশি (physical quantity) বা বৈশিষ্ট্যের (attribute) পরিমাণগত মান (quantitative value) নির্ধারণ করে। এর মূল লক্ষ্য হলো বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভরযোগ্য এবং যাচাইযোগ্য উপাত্ত (data) অর্জন করা যা পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ, তুলনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।পরিমাপের সংজ্ঞা ও মৌলিক ধারণা
পরিমাপকে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড (standard) বা একক (unit) ব্যবহার করে কোনো রাশির পরিমাণগত তুলনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ( The Oxford English Dictionary ) এটি একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি অজানা পরিমাণকে একটি পরিচিত, প্রমিত পরিমাণের সাথে তুলনা করা হয়। ( Fundamentals of Measurement ) এই তুলনা একটি সংখ্যাসূচক মান (numerical value) এবং একটি একক প্রদান করে, যা সম্মিলিতভাবে পরিমাপের ফলাফল গঠন করে। উদাহরণস্বরূপ, যখন আমরা বলি একটি টেবিলের দৈর্ঘ্য ২ মিটার, তখন ‘২’ হলো সংখ্যাসূচক মান এবং ‘মিটার’ হলো একক।সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের গুরুত্ব
পরিমাপের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের গুরুত্ব অপরিসীম। এই সুনির্দিষ্টতা (precision) এবং নির্ভুলতা (accuracy) বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রকৌশল নকশা, মান নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা নির্ণয় এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপরিহার্য।বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা
বিজ্ঞানে, পরিমাপ হলো পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণের ভিত্তি। সুনির্দিষ্ট পরিমাপের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন, যা হাইপোথিসিস (hypothesis) প্রণয়ন, তত্ত্ব (theory) প্রতিষ্ঠা এবং মডেল (model) বিকাশে সহায়তা করে। ( Scientific Measurement: Philosophy and Practice ) উদাহরণস্বরূপ, পদার্থবিজ্ঞানে, কণার ভর, বেগ বা শক্তির সুনির্দিষ্ট পরিমাপ নতুন কণা আবিষ্কার বা বিদ্যমান তত্ত্বের বৈধতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রসায়নে, বিক্রিয়কের পরিমাণ বা উৎপাদের ঘনত্বের নির্ভুল পরিমাপ রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতিবিদ্যা (kinetics) এবং তাপগতিবিদ্যা (thermodynamics) বুঝতে সাহায্য করে।প্রকৌশল নকশা ও বাস্তবায়ন
প্রকৌশলে, সুনির্দিষ্ট পরিমাপ ছাড়া কোনো কাঠামো বা যন্ত্রের নকশা এবং বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ( Engineering Metrology and Measurements ) সেতু নির্মাণ, বিমান তৈরি, ইলেকট্রনিক সার্কিট ডিজাইন বা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট—সব ক্ষেত্রেই দৈর্ঘ্য, ওজন, ভোল্টেজ, তাপমাত্রা, সময় ইত্যাদির নির্ভুল পরিমাপ প্রয়োজন। ভুল পরিমাপের কারণে কাঠামোগত ব্যর্থতা, যন্ত্রপাতির ত্রুটি বা সিস্টেমের অকার্যকারিতা দেখা দিতে পারে, যা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।মান নিয়ন্ত্রণ ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ
শিল্পে, পণ্যের গুণগত মান (quality control) নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিমাপ অপরিহার্য। ( Quality Control Handbook ) উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করা হয় যাতে নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি গাড়ির যন্ত্রাংশের সঠিক মাত্রা, একটি ওষুধের সঠিক ডোজ বা একটি খাদ্যদ্রব্যের সঠিক পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করতে পরিমাপ ব্যবহৃত হয়। এটি ত্রুটিপূর্ণ পণ্য শনাক্ত করতে এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে সাহায্য করে।চিকিৎসা নির্ণয় ও চিকিৎসা
চিকিৎসা বিজ্ঞানে, রোগীর অবস্থা নির্ণয় এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা মূল্যায়নে সুনির্দিষ্ট পরিমাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ( Clinical Measurement ) রক্তচাপ, শরীরের তাপমাত্রা, রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা, হৃদস্পন্দন, বা টিউমারের আকার পরিমাপ করে চিকিৎসকরা রোগের তীব্রতা বুঝতে পারেন এবং উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারেন। ভুল পরিমাপ ভুল নির্ণয় এবং অনুপযুক্ত চিকিৎসার দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।অর্থনৈতিক ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
অর্থনীতিতে, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্বের হার, জিডিপি (GDP) ইত্যাদির পরিমাপ অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে সহায়তা করে। ( Economics ) সমাজবিজ্ঞানে, জনসংখ্যা, সাক্ষরতার হার, দারিদ্র্যের মাত্রা ইত্যাদির পরিমাপ সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করতে এবং সমাধানের উপায় খুঁজতে সাহায্য করে। এই পরিমাপগুলো যত সুনির্দিষ্ট হবে, সিদ্ধান্তগুলো তত কার্যকর হবে।অন্যান্য বিকল্পের সীমাবদ্ধতা
প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত অন্যান্য বিকল্পগুলো পরিমাপ প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং এর আনুষঙ্গিক ফল বা অংশবিশেষ।(B) ছোট বড় বিচার করা
ছোট-বড় বিচার করা (Comparison of magnitude) পরিমাপের একটি ফলাফল হতে পারে, কিন্তু এটি মূল উদ্দেশ্য নয়। পরিমাপের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি একটি বস্তু অন্যটির চেয়ে কতটা বড় বা ছোট, কিন্তু এই তুলনা করার জন্য প্রথমে প্রতিটি বস্তুর সুনির্দিষ্ট পরিমাণগত তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। অর্থাৎ, ‘ছোট-বড় বিচার করা’ হলো ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ’-এর একটি প্রয়োগ।(C) কম বেশি বিচার করা
‘কম-বেশি বিচার করা’ (Comparison of quantity) ‘ছোট-বড় বিচার করার’ মতোই। এটিও পরিমাপের একটি ফলাফল। আমরা যখন বলি একটি পাত্রে অন্যটির চেয়ে কম বা বেশি পানি আছে, তখন আমরা আসলে পানির পরিমাণ পরিমাপ করে সেই তথ্য ব্যবহার করে তুলনা করছি। পরিমাপের মূল উদ্দেশ্য হলো সেই ‘কতটা কম’ বা ‘কতটা বেশি’ তার সুনির্দিষ্ট পরিমাণগত মান নির্ধারণ করা।(D) স্কেল তৈরি করা
স্কেল তৈরি করা (Scale creation) পরিমাপ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিশেষ করে যখন আমরা কোনো ভৌত রাশিকে সংখ্যাসূচক মান দ্বারা উপস্থাপন করতে চাই। একটি স্কেল হলো একটি মানদণ্ড বা ক্রম যা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয় (যেমন, সেন্টিমিটার স্কেল, ফারেনহাইট স্কেল)। ( Measurement Theory and Practice ) তবে, স্কেল তৈরি করা নিজেই পরিমাপের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নয়; এটি সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের একটি মাধ্যম বা সরঞ্জাম। স্কেল তৈরি করা হয় যাতে পরিমাপের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা যায়।উপসংহার
পরিমাপ প্রক্রিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো সুনির্দিষ্ট, নির্ভরযোগ্য এবং পরিমাণগত তথ্য সংগ্রহ করা। এই তথ্য বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, মান নিয়ন্ত্রণ, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান প্রদানে অপরিহার্য। অন্যান্য বিকল্পগুলো পরিমাপের ফলাফল বা এর সহায়ক প্রক্রিয়া হলেও, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ’ই পরিমাপের মৌলিক এবং সর্বজনীন উদ্দেশ্য।Incorrectপরিমাপ প্রক্রিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য
পরিমাপ প্রক্রিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো (A) সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ। পরিমাপ (Measurement) একটি মৌলিক বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত প্রক্রিয়া যা কোনো ভৌত রাশি (physical quantity) বা বৈশিষ্ট্যের (attribute) পরিমাণগত মান (quantitative value) নির্ধারণ করে। এর মূল লক্ষ্য হলো বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভরযোগ্য এবং যাচাইযোগ্য উপাত্ত (data) অর্জন করা যা পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ, তুলনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।পরিমাপের সংজ্ঞা ও মৌলিক ধারণা
পরিমাপকে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড (standard) বা একক (unit) ব্যবহার করে কোনো রাশির পরিমাণগত তুলনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ( The Oxford English Dictionary ) এটি একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি অজানা পরিমাণকে একটি পরিচিত, প্রমিত পরিমাণের সাথে তুলনা করা হয়। ( Fundamentals of Measurement ) এই তুলনা একটি সংখ্যাসূচক মান (numerical value) এবং একটি একক প্রদান করে, যা সম্মিলিতভাবে পরিমাপের ফলাফল গঠন করে। উদাহরণস্বরূপ, যখন আমরা বলি একটি টেবিলের দৈর্ঘ্য ২ মিটার, তখন ‘২’ হলো সংখ্যাসূচক মান এবং ‘মিটার’ হলো একক।সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের গুরুত্ব
পরিমাপের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের গুরুত্ব অপরিসীম। এই সুনির্দিষ্টতা (precision) এবং নির্ভুলতা (accuracy) বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রকৌশল নকশা, মান নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা নির্ণয় এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপরিহার্য।বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা
বিজ্ঞানে, পরিমাপ হলো পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণের ভিত্তি। সুনির্দিষ্ট পরিমাপের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন, যা হাইপোথিসিস (hypothesis) প্রণয়ন, তত্ত্ব (theory) প্রতিষ্ঠা এবং মডেল (model) বিকাশে সহায়তা করে। ( Scientific Measurement: Philosophy and Practice ) উদাহরণস্বরূপ, পদার্থবিজ্ঞানে, কণার ভর, বেগ বা শক্তির সুনির্দিষ্ট পরিমাপ নতুন কণা আবিষ্কার বা বিদ্যমান তত্ত্বের বৈধতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রসায়নে, বিক্রিয়কের পরিমাণ বা উৎপাদের ঘনত্বের নির্ভুল পরিমাপ রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতিবিদ্যা (kinetics) এবং তাপগতিবিদ্যা (thermodynamics) বুঝতে সাহায্য করে।প্রকৌশল নকশা ও বাস্তবায়ন
প্রকৌশলে, সুনির্দিষ্ট পরিমাপ ছাড়া কোনো কাঠামো বা যন্ত্রের নকশা এবং বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ( Engineering Metrology and Measurements ) সেতু নির্মাণ, বিমান তৈরি, ইলেকট্রনিক সার্কিট ডিজাইন বা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট—সব ক্ষেত্রেই দৈর্ঘ্য, ওজন, ভোল্টেজ, তাপমাত্রা, সময় ইত্যাদির নির্ভুল পরিমাপ প্রয়োজন। ভুল পরিমাপের কারণে কাঠামোগত ব্যর্থতা, যন্ত্রপাতির ত্রুটি বা সিস্টেমের অকার্যকারিতা দেখা দিতে পারে, যা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।মান নিয়ন্ত্রণ ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ
শিল্পে, পণ্যের গুণগত মান (quality control) নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিমাপ অপরিহার্য। ( Quality Control Handbook ) উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করা হয় যাতে নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি গাড়ির যন্ত্রাংশের সঠিক মাত্রা, একটি ওষুধের সঠিক ডোজ বা একটি খাদ্যদ্রব্যের সঠিক পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করতে পরিমাপ ব্যবহৃত হয়। এটি ত্রুটিপূর্ণ পণ্য শনাক্ত করতে এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে সাহায্য করে।চিকিৎসা নির্ণয় ও চিকিৎসা
চিকিৎসা বিজ্ঞানে, রোগীর অবস্থা নির্ণয় এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা মূল্যায়নে সুনির্দিষ্ট পরিমাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ( Clinical Measurement ) রক্তচাপ, শরীরের তাপমাত্রা, রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা, হৃদস্পন্দন, বা টিউমারের আকার পরিমাপ করে চিকিৎসকরা রোগের তীব্রতা বুঝতে পারেন এবং উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারেন। ভুল পরিমাপ ভুল নির্ণয় এবং অনুপযুক্ত চিকিৎসার দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।অর্থনৈতিক ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
অর্থনীতিতে, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্বের হার, জিডিপি (GDP) ইত্যাদির পরিমাপ অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে সহায়তা করে। ( Economics ) সমাজবিজ্ঞানে, জনসংখ্যা, সাক্ষরতার হার, দারিদ্র্যের মাত্রা ইত্যাদির পরিমাপ সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করতে এবং সমাধানের উপায় খুঁজতে সাহায্য করে। এই পরিমাপগুলো যত সুনির্দিষ্ট হবে, সিদ্ধান্তগুলো তত কার্যকর হবে।অন্যান্য বিকল্পের সীমাবদ্ধতা
প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত অন্যান্য বিকল্পগুলো পরিমাপ প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং এর আনুষঙ্গিক ফল বা অংশবিশেষ।(B) ছোট বড় বিচার করা
ছোট-বড় বিচার করা (Comparison of magnitude) পরিমাপের একটি ফলাফল হতে পারে, কিন্তু এটি মূল উদ্দেশ্য নয়। পরিমাপের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি একটি বস্তু অন্যটির চেয়ে কতটা বড় বা ছোট, কিন্তু এই তুলনা করার জন্য প্রথমে প্রতিটি বস্তুর সুনির্দিষ্ট পরিমাণগত তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। অর্থাৎ, ‘ছোট-বড় বিচার করা’ হলো ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ’-এর একটি প্রয়োগ।(C) কম বেশি বিচার করা
‘কম-বেশি বিচার করা’ (Comparison of quantity) ‘ছোট-বড় বিচার করার’ মতোই। এটিও পরিমাপের একটি ফলাফল। আমরা যখন বলি একটি পাত্রে অন্যটির চেয়ে কম বা বেশি পানি আছে, তখন আমরা আসলে পানির পরিমাণ পরিমাপ করে সেই তথ্য ব্যবহার করে তুলনা করছি। পরিমাপের মূল উদ্দেশ্য হলো সেই ‘কতটা কম’ বা ‘কতটা বেশি’ তার সুনির্দিষ্ট পরিমাণগত মান নির্ধারণ করা।(D) স্কেল তৈরি করা
স্কেল তৈরি করা (Scale creation) পরিমাপ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিশেষ করে যখন আমরা কোনো ভৌত রাশিকে সংখ্যাসূচক মান দ্বারা উপস্থাপন করতে চাই। একটি স্কেল হলো একটি মানদণ্ড বা ক্রম যা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয় (যেমন, সেন্টিমিটার স্কেল, ফারেনহাইট স্কেল)। ( Measurement Theory and Practice ) তবে, স্কেল তৈরি করা নিজেই পরিমাপের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নয়; এটি সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের একটি মাধ্যম বা সরঞ্জাম। স্কেল তৈরি করা হয় যাতে পরিমাপের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা যায়।উপসংহার
পরিমাপ প্রক্রিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো সুনির্দিষ্ট, নির্ভরযোগ্য এবং পরিমাণগত তথ্য সংগ্রহ করা। এই তথ্য বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, মান নিয়ন্ত্রণ, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান প্রদানে অপরিহার্য। অন্যান্য বিকল্পগুলো পরিমাপের ফলাফল বা এর সহায়ক প্রক্রিয়া হলেও, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ’ই পরিমাপের মৌলিক এবং সর্বজনীন উদ্দেশ্য। - Question 51 of 55
51. Question
1 points51. টেলিভিশন সবচেয়ে শক্তিশালী গণমাধ্যম কেন?
Correctটেলিভিশনকে সবচেয়ে শক্তিশালী গণমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার একাধিক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে এর বিশ্বাসযোগ্যতা, প্রত্যক্ষযোগ্য উপস্থাপনা, এবং ব্যাপক প্রভাব অন্যতম। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, (D) টেলিভিশনে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যক্ষণযোগ্য উপস্থাপনা থাকে, এই কারণটি টেলিভিশনকে অন্যান্য গণমাধ্যম থেকে আলাদা করে এবং এটিকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসে।
টেলিভিশন তার দৃশ্যমান এবং শ্রাব্য উপাদানের সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপন করে, যা দর্শকদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। যখন কোনো খবর বা ঘটনা টেলিভিশনে প্রদর্শিত হয়, তখন দর্শক কেবল তথ্য শোনে না, বরং ঘটনাটি ঘটতে দেখেও। এই প্রত্যক্ষযোগ্যতা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি সংবাদপত্রে যখন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর প্রকাশিত হয়, তখন পাঠক কেবল লিখিত বিবরণ পায়। কিন্তু টেলিভিশনে যখন সেই দুর্যোগের ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়, তখন দর্শক ঘটনার ভয়াবহতা এবং বাস্তবতা আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে। এই দৃশ্যমান প্রমাণ তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে দর্শকদের মনে একটি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে। ( Mass Communication Theory: Foundations, Ferment, and Future )
টেলিভিশনের এই প্রত্যক্ষযোগ্য উপস্থাপনা এটিকে অন্যান্য গণমাধ্যম, যেমন সংবাদপত্র বা রেডিও, থেকে আলাদা করে তোলে। সংবাদপত্র কেবল লিখিত তথ্যের উপর নির্ভরশীল, যেখানে পাঠককে নিজের কল্পনা ব্যবহার করে ঘটনার চিত্র তৈরি করতে হয়। রেডিও কেবল শ্রাব্য তথ্যের উপর নির্ভরশীল, যা দৃশ্যমান উপাদানের অভাব পূরণ করতে পারে না। কিন্তু টেলিভিশন একই সাথে ছবি, ভিডিও, শব্দ এবং লিখিত টেক্সট (যেমন সাবটাইটেল বা স্ক্রল) ব্যবহার করে, যা একটি সম্পূর্ণ এবং বহু-মাত্রিক অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এই সমন্বিত উপস্থাপনা দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং তথ্যের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ( The SAGE Handbook of Media Studies )
বিশ্বাসযোগ্যতা একটি গণমাধ্যমের শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। যখন দর্শক কোনো মাধ্যমে উপস্থাপিত তথ্যকে বিশ্বাস করে, তখন সেই মাধ্যমের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। টেলিভিশনে উপস্থাপিত তথ্যের দৃশ্যমান প্রমাণ প্রায়শই দর্শকদের কাছে এটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, যখন একজন রাজনীতিবিদ টেলিভিশনে সরাসরি বক্তব্য রাখেন, তখন তার শারীরিক ভাষা, মুখের অভিব্যক্তি এবং কণ্ঠস্বর দর্শকদের কাছে তার বার্তার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই সরাসরি এবং অপ্রত্যক্ষ যোগাযোগ দর্শকদের মনে একটি শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। ( Understanding Media: The Extensions of Man )
এছাড়াও, টেলিভিশন একটি বিশাল সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম। এর ব্যাপক প্রচার ক্ষমতা এটিকে একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। যদিও অন্যান্য বিকল্পগুলিও টেলিভিশনের শক্তির কিছু দিক নির্দেশ করে, যেমন (A) টেলিভিশন প্রোগ্রাম চব্বিশ ঘণ্টা সচল থাকে, যা এর সহজলভ্যতা এবং ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে, এবং (C) রঙীন ও আকর্ষনীয় প্রোগ্রাম, যা এর বিনোদনমূলক দিক এবং দর্শক আকর্ষণের ক্ষমতাকে তুলে ধরে, তবে এই বৈশিষ্ট্যগুলি মূলত (D) টেলিভিশনে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যক্ষণযোগ্য উপস্থাপনা থাকে, এই মূল কারণটির পরিপূরক। একটি আকর্ষণীয় প্রোগ্রাম বা চব্বিশ ঘণ্টা সম্প্রচারিত প্রোগ্রাম তখনই শক্তিশালী হয় যখন তার বিষয়বস্তু বিশ্বাসযোগ্য এবং প্রত্যক্ষযোগ্য হয়। ( Communication Theories: Perspectives, Processes, and Contexts )
সংক্ষেপে, টেলিভিশনের সবচেয়ে শক্তিশালী গণমাধ্যম হওয়ার মূল কারণ হলো এর বিশ্বাসযোগ্য এবং প্রত্যক্ষযোগ্য উপস্থাপনা। এটি দর্শকদের কাছে তথ্যকে কেবল পৌঁছে দেয় না, বরং এটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যা তাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে একটি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে।
Incorrectটেলিভিশনকে সবচেয়ে শক্তিশালী গণমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার একাধিক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে এর বিশ্বাসযোগ্যতা, প্রত্যক্ষযোগ্য উপস্থাপনা, এবং ব্যাপক প্রভাব অন্যতম। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, (D) টেলিভিশনে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যক্ষণযোগ্য উপস্থাপনা থাকে, এই কারণটি টেলিভিশনকে অন্যান্য গণমাধ্যম থেকে আলাদা করে এবং এটিকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসে।
টেলিভিশন তার দৃশ্যমান এবং শ্রাব্য উপাদানের সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপন করে, যা দর্শকদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। যখন কোনো খবর বা ঘটনা টেলিভিশনে প্রদর্শিত হয়, তখন দর্শক কেবল তথ্য শোনে না, বরং ঘটনাটি ঘটতে দেখেও। এই প্রত্যক্ষযোগ্যতা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি সংবাদপত্রে যখন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর প্রকাশিত হয়, তখন পাঠক কেবল লিখিত বিবরণ পায়। কিন্তু টেলিভিশনে যখন সেই দুর্যোগের ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়, তখন দর্শক ঘটনার ভয়াবহতা এবং বাস্তবতা আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে। এই দৃশ্যমান প্রমাণ তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে দর্শকদের মনে একটি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে। ( Mass Communication Theory: Foundations, Ferment, and Future )
টেলিভিশনের এই প্রত্যক্ষযোগ্য উপস্থাপনা এটিকে অন্যান্য গণমাধ্যম, যেমন সংবাদপত্র বা রেডিও, থেকে আলাদা করে তোলে। সংবাদপত্র কেবল লিখিত তথ্যের উপর নির্ভরশীল, যেখানে পাঠককে নিজের কল্পনা ব্যবহার করে ঘটনার চিত্র তৈরি করতে হয়। রেডিও কেবল শ্রাব্য তথ্যের উপর নির্ভরশীল, যা দৃশ্যমান উপাদানের অভাব পূরণ করতে পারে না। কিন্তু টেলিভিশন একই সাথে ছবি, ভিডিও, শব্দ এবং লিখিত টেক্সট (যেমন সাবটাইটেল বা স্ক্রল) ব্যবহার করে, যা একটি সম্পূর্ণ এবং বহু-মাত্রিক অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এই সমন্বিত উপস্থাপনা দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং তথ্যের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ( The SAGE Handbook of Media Studies )
বিশ্বাসযোগ্যতা একটি গণমাধ্যমের শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। যখন দর্শক কোনো মাধ্যমে উপস্থাপিত তথ্যকে বিশ্বাস করে, তখন সেই মাধ্যমের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। টেলিভিশনে উপস্থাপিত তথ্যের দৃশ্যমান প্রমাণ প্রায়শই দর্শকদের কাছে এটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, যখন একজন রাজনীতিবিদ টেলিভিশনে সরাসরি বক্তব্য রাখেন, তখন তার শারীরিক ভাষা, মুখের অভিব্যক্তি এবং কণ্ঠস্বর দর্শকদের কাছে তার বার্তার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই সরাসরি এবং অপ্রত্যক্ষ যোগাযোগ দর্শকদের মনে একটি শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। ( Understanding Media: The Extensions of Man )
এছাড়াও, টেলিভিশন একটি বিশাল সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম। এর ব্যাপক প্রচার ক্ষমতা এটিকে একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। যদিও অন্যান্য বিকল্পগুলিও টেলিভিশনের শক্তির কিছু দিক নির্দেশ করে, যেমন (A) টেলিভিশন প্রোগ্রাম চব্বিশ ঘণ্টা সচল থাকে, যা এর সহজলভ্যতা এবং ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে, এবং (C) রঙীন ও আকর্ষনীয় প্রোগ্রাম, যা এর বিনোদনমূলক দিক এবং দর্শক আকর্ষণের ক্ষমতাকে তুলে ধরে, তবে এই বৈশিষ্ট্যগুলি মূলত (D) টেলিভিশনে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যক্ষণযোগ্য উপস্থাপনা থাকে, এই মূল কারণটির পরিপূরক। একটি আকর্ষণীয় প্রোগ্রাম বা চব্বিশ ঘণ্টা সম্প্রচারিত প্রোগ্রাম তখনই শক্তিশালী হয় যখন তার বিষয়বস্তু বিশ্বাসযোগ্য এবং প্রত্যক্ষযোগ্য হয়। ( Communication Theories: Perspectives, Processes, and Contexts )
সংক্ষেপে, টেলিভিশনের সবচেয়ে শক্তিশালী গণমাধ্যম হওয়ার মূল কারণ হলো এর বিশ্বাসযোগ্য এবং প্রত্যক্ষযোগ্য উপস্থাপনা। এটি দর্শকদের কাছে তথ্যকে কেবল পৌঁছে দেয় না, বরং এটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যা তাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে একটি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে।
- Question 52 of 55
52. Question
1 points52. নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের প্রকৃত ভূমিকা কী
Correctনির্মিতিবাদ (Constructivism) একটি শিক্ষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি যা শেখার প্রক্রিয়াকে সক্রিয়, ব্যক্তিগত এবং সামাজিক বলে মনে করে। এই তত্ত্ব অনুসারে, শিক্ষার্থীরা নিষ্ক্রিয়ভাবে তথ্য গ্রহণ করে না, বরং তারা তাদের পূর্বের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন জ্ঞান নির্মাণ করে। নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের ভূমিকা ঐতিহ্যবাহী শিক্ষকের ভূমিকা থেকে ভিন্ন। শিক্ষক এখানে কেবল তথ্য সরবরাহকারী নন, বরং তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান নির্মাণ প্রক্রিয়ায় সহায়তাকারী, নির্দেশক এবং পর্যবেক্ষক।
নির্মিতিবাদ কী?
নির্মিতিবাদ হলো একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি যা শেখার প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করে। এটি মনে করে যে জ্ঞান বস্তুনিষ্ঠভাবে বিদ্যমান থাকে না যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থানান্তরিত হতে পারে, বরং জ্ঞান হলো একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা এবং পূর্বের ধারণার ভিত্তিতে নিজস্ব অর্থ এবং বোঝাপড়া তৈরি করে ( The Cambridge Handbook of the Learning Sciences ). এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, শেখা হলো একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব জ্ঞান তৈরি করে, এবং শিক্ষক এই প্রক্রিয়ায় একজন সহায়ক হিসেবে কাজ করেন ( Constructivism in Education: Opinions and Second Opinions on Controversial Issues ).নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের ভূমিকা
নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের ভূমিকা বহুমুখী এবং গতিশীল। এটি কেবল তথ্য প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান নির্মাণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা ( Theories of Learning and Instruction ).(C) শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষক ও নির্দেশক
নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষক ও নির্দেশক হওয়া। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের ধারণা, ভুল ধারণা এবং শেখার শৈলী সম্পর্কে বোঝাপড়া অর্জন করেন ( Educational Psychology: Theory and Practice ). এই পর্যবেক্ষণ শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত চাহিদা এবং শেখার অগ্রগতি সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নির্দেশক হিসেবে কাজ করেন, তাদের নতুন ধারণা অন্বেষণ করতে, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে এবং সমস্যা সমাধান করতে উৎসাহিত করেন। তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সমাধান খুঁজে বের করতে সহায়তা করেন। এর মধ্যে রয়েছে:
সুবিধাদাতা (Facilitator): শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে সহজতর করেন। তিনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেন যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারে, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে এবং তাদের ধারণা প্রকাশ করতে পারে ( Constructivism: Theory, Perspectives, and Practice ). তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত শেখার উপকরণ এবং সংস্থান সরবরাহ করেন।
কোচ (Coach): শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শেখার যাত্রায় একজন কোচের মতো কাজ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে, তাদের ভুল থেকে শিখতে এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের স্ব-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার্থীতে পরিণত হতে উৎসাহিত করেন।
প্রশ্নকর্তা (Questioner): শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং গভীর বোঝাপড়া উৎসাহিত করার জন্য উন্মুক্ত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। এই প্রশ্নগুলি শিক্ষার্থীদের তাদের নিজস্ব ধারণাগুলি অন্বেষণ করতে এবং তাদের চিন্তাভাবনাকে আরও বিকশিত করতে সহায়তা করে।
শিক্ষার্থীদের পূর্ব জ্ঞানকে সক্রিয় করা: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নতুন ধারণার সাথে তাদের পূর্বের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে সংযুক্ত করতে সহায়তা করেন। এটি নতুন তথ্যের অর্থপূর্ণ আত্মীকরণকে সহজ করে তোলে ( How People Learn: Brain, Mind, Experience, and School ).
সহযোগিতামূলক শিক্ষাকে উৎসাহিত করা: নির্মিতিবাদ সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে জ্ঞান নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতামূলক কাজ এবং আলোচনার সুযোগ তৈরি করেন, যেখানে তারা একে অপরের কাছ থেকে শিখতে পারে এবং তাদের ধারণা বিনিময় করতে পারে।
অন্যান্য বিকল্পের বিশ্লেষণ
যদিও অন্যান্য বিকল্পগুলি শিক্ষকের ভূমিকার কিছু দিককে স্পর্শ করে, নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের প্রকৃত ভূমিকা (C) বিকল্পের মধ্যে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়।(A) শৃঙ্খলা রক্ষক: শৃঙ্খলা রক্ষা শিক্ষকের একটি প্রয়োজনীয় কাজ হলেও, এটি নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের মূল ভূমিকা নয়। নির্মিতিবাদে, শৃঙ্খলা শেখার প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব শেখার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
(B) উত্তম বাচনিক যোগাযোগের আয়োজক: কার্যকর বাচনিক যোগাযোগ শিক্ষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের ভূমিকার একটি অংশ মাত্র, সম্পূর্ণ চিত্র নয়। নির্মিতিবাদে, শিক্ষক কেবল তথ্য প্রদানকারী নন, বরং তিনি শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে জ্ঞান নির্মাণে সহায়তা করেন।
(D) দৃশ্য ও শ্রাব্য উপকরণের মাধ্যমে সুদক্ষ শিক্ষাদান: দৃশ্য ও শ্রাব্য উপকরণ শিক্ষাদানের কার্যকর সরঞ্জাম হতে পারে, তবে এটি নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের ভূমিকার একটি কৌশল মাত্র। নির্মিতিবাদে, শিক্ষকের মূল কাজ হলো শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে জ্ঞান নির্মাণে সহায়তা করা, কেবল উপকরণ ব্যবহার করে তথ্য সরবরাহ করা নয়।
সুতরাং, নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের প্রকৃত ভূমিকা হলো শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষক ও নির্দেশক হওয়া, যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান নির্মাণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেন এবং তাদের স্ব-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার্থীতে পরিণত হতে উৎসাহিত করেন।Incorrectনির্মিতিবাদ (Constructivism) একটি শিক্ষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি যা শেখার প্রক্রিয়াকে সক্রিয়, ব্যক্তিগত এবং সামাজিক বলে মনে করে। এই তত্ত্ব অনুসারে, শিক্ষার্থীরা নিষ্ক্রিয়ভাবে তথ্য গ্রহণ করে না, বরং তারা তাদের পূর্বের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন জ্ঞান নির্মাণ করে। নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের ভূমিকা ঐতিহ্যবাহী শিক্ষকের ভূমিকা থেকে ভিন্ন। শিক্ষক এখানে কেবল তথ্য সরবরাহকারী নন, বরং তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান নির্মাণ প্রক্রিয়ায় সহায়তাকারী, নির্দেশক এবং পর্যবেক্ষক।
নির্মিতিবাদ কী?
নির্মিতিবাদ হলো একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি যা শেখার প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করে। এটি মনে করে যে জ্ঞান বস্তুনিষ্ঠভাবে বিদ্যমান থাকে না যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থানান্তরিত হতে পারে, বরং জ্ঞান হলো একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা এবং পূর্বের ধারণার ভিত্তিতে নিজস্ব অর্থ এবং বোঝাপড়া তৈরি করে ( The Cambridge Handbook of the Learning Sciences ). এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, শেখা হলো একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব জ্ঞান তৈরি করে, এবং শিক্ষক এই প্রক্রিয়ায় একজন সহায়ক হিসেবে কাজ করেন ( Constructivism in Education: Opinions and Second Opinions on Controversial Issues ).নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের ভূমিকা
নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের ভূমিকা বহুমুখী এবং গতিশীল। এটি কেবল তথ্য প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান নির্মাণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা ( Theories of Learning and Instruction ).(C) শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষক ও নির্দেশক
নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষক ও নির্দেশক হওয়া। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের ধারণা, ভুল ধারণা এবং শেখার শৈলী সম্পর্কে বোঝাপড়া অর্জন করেন ( Educational Psychology: Theory and Practice ). এই পর্যবেক্ষণ শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত চাহিদা এবং শেখার অগ্রগতি সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নির্দেশক হিসেবে কাজ করেন, তাদের নতুন ধারণা অন্বেষণ করতে, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে এবং সমস্যা সমাধান করতে উৎসাহিত করেন। তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সমাধান খুঁজে বের করতে সহায়তা করেন। এর মধ্যে রয়েছে:
সুবিধাদাতা (Facilitator): শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে সহজতর করেন। তিনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেন যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারে, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে এবং তাদের ধারণা প্রকাশ করতে পারে ( Constructivism: Theory, Perspectives, and Practice ). তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত শেখার উপকরণ এবং সংস্থান সরবরাহ করেন।
কোচ (Coach): শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শেখার যাত্রায় একজন কোচের মতো কাজ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে, তাদের ভুল থেকে শিখতে এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের স্ব-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার্থীতে পরিণত হতে উৎসাহিত করেন।
প্রশ্নকর্তা (Questioner): শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং গভীর বোঝাপড়া উৎসাহিত করার জন্য উন্মুক্ত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। এই প্রশ্নগুলি শিক্ষার্থীদের তাদের নিজস্ব ধারণাগুলি অন্বেষণ করতে এবং তাদের চিন্তাভাবনাকে আরও বিকশিত করতে সহায়তা করে।
শিক্ষার্থীদের পূর্ব জ্ঞানকে সক্রিয় করা: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নতুন ধারণার সাথে তাদের পূর্বের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে সংযুক্ত করতে সহায়তা করেন। এটি নতুন তথ্যের অর্থপূর্ণ আত্মীকরণকে সহজ করে তোলে ( How People Learn: Brain, Mind, Experience, and School ).
সহযোগিতামূলক শিক্ষাকে উৎসাহিত করা: নির্মিতিবাদ সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে জ্ঞান নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতামূলক কাজ এবং আলোচনার সুযোগ তৈরি করেন, যেখানে তারা একে অপরের কাছ থেকে শিখতে পারে এবং তাদের ধারণা বিনিময় করতে পারে।
অন্যান্য বিকল্পের বিশ্লেষণ
যদিও অন্যান্য বিকল্পগুলি শিক্ষকের ভূমিকার কিছু দিককে স্পর্শ করে, নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের প্রকৃত ভূমিকা (C) বিকল্পের মধ্যে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়।(A) শৃঙ্খলা রক্ষক: শৃঙ্খলা রক্ষা শিক্ষকের একটি প্রয়োজনীয় কাজ হলেও, এটি নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের মূল ভূমিকা নয়। নির্মিতিবাদে, শৃঙ্খলা শেখার প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব শেখার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
(B) উত্তম বাচনিক যোগাযোগের আয়োজক: কার্যকর বাচনিক যোগাযোগ শিক্ষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের ভূমিকার একটি অংশ মাত্র, সম্পূর্ণ চিত্র নয়। নির্মিতিবাদে, শিক্ষক কেবল তথ্য প্রদানকারী নন, বরং তিনি শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে জ্ঞান নির্মাণে সহায়তা করেন।
(D) দৃশ্য ও শ্রাব্য উপকরণের মাধ্যমে সুদক্ষ শিক্ষাদান: দৃশ্য ও শ্রাব্য উপকরণ শিক্ষাদানের কার্যকর সরঞ্জাম হতে পারে, তবে এটি নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের ভূমিকার একটি কৌশল মাত্র। নির্মিতিবাদে, শিক্ষকের মূল কাজ হলো শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে জ্ঞান নির্মাণে সহায়তা করা, কেবল উপকরণ ব্যবহার করে তথ্য সরবরাহ করা নয়।
সুতরাং, নির্মিতিবাদ অনুযায়ী শিক্ষকের প্রকৃত ভূমিকা হলো শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষক ও নির্দেশক হওয়া, যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান নির্মাণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেন এবং তাদের স্ব-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার্থীতে পরিণত হতে উৎসাহিত করেন। - Question 53 of 55
53. Question
1 points53. সামাজিকীভবন কথাটির প্রকৃত অর্থ কী?
Correctসঠিক উত্তরটি হল (D) – “সার্থক সামাজিক জীবনযাপনের জন্য প্রস্তুত হওয়া”।
সামাজিকীভবন (Socialization) বলতে বোঝায়, সমাজের রীতিনীতি, মূল্যবোধ, এবং আচরণবিধি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে, সেগুলিকে আত্মস্থ করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সমাজের একজন যোগ্য সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ সমাজের নিয়ম-কানুন, আচার-ব্যবহার শেখে এবং সামাজিক ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়।
(A) “সমাজের মতে নিজের মত তৈরি” – এটি সামাজিকীকরণের একটি অংশ হতে পারে, তবে এটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে না। সামাজিকীকরণের মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজের নিয়মকানুন ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে এবং নিজের মত তৈরি করতে পারে।
(B) “সমাজের রীতিনীতি আত্মস্থ করা” – এটি সামাজিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করে না। শুধুমাত্র রীতিনীতি আত্মস্থ করাই যথেষ্ট নয়, সেইগুলির ভালোমন্দ বিচার করার ক্ষমতাও থাকতে হবে।
(C) “সমাজের রীতিনীতি আত্মস্থ করে তার ভালোমন্দ সম্বন্ধে সচেতন থাকা” – এটি একটি ভালো সংজ্ঞা, তবে “সার্থক সামাজিক জীবনযাপনের জন্য প্রস্তুত হওয়া” এই সংজ্ঞাটি আরও ব্যাপক এবং কার্যকরী।
(D) “সার্থক সামাজিক জীবনযাপনের জন্য প্রস্তুত হওয়া” – এই সংজ্ঞাটি সামাজিকীকরণের মূল উদ্দেশ্যকে তুলে ধরে। এটি শুধুমাত্র নিয়মকানুন আত্মস্থ করাই নয়, বরং সমাজের একজন কার্যকরী সদস্য হিসেবে জীবনযাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা এবং মনোভাব তৈরি করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
অতএব, সামাজিকীকরণের প্রকৃত অর্থ “সার্থক সামাজিক জীবনযাপনের জন্য প্রস্তুত হওয়া”।Incorrectসঠিক উত্তরটি হল (D) – “সার্থক সামাজিক জীবনযাপনের জন্য প্রস্তুত হওয়া”।
সামাজিকীভবন (Socialization) বলতে বোঝায়, সমাজের রীতিনীতি, মূল্যবোধ, এবং আচরণবিধি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে, সেগুলিকে আত্মস্থ করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সমাজের একজন যোগ্য সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ সমাজের নিয়ম-কানুন, আচার-ব্যবহার শেখে এবং সামাজিক ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়।
(A) “সমাজের মতে নিজের মত তৈরি” – এটি সামাজিকীকরণের একটি অংশ হতে পারে, তবে এটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে না। সামাজিকীকরণের মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজের নিয়মকানুন ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে এবং নিজের মত তৈরি করতে পারে।
(B) “সমাজের রীতিনীতি আত্মস্থ করা” – এটি সামাজিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করে না। শুধুমাত্র রীতিনীতি আত্মস্থ করাই যথেষ্ট নয়, সেইগুলির ভালোমন্দ বিচার করার ক্ষমতাও থাকতে হবে।
(C) “সমাজের রীতিনীতি আত্মস্থ করে তার ভালোমন্দ সম্বন্ধে সচেতন থাকা” – এটি একটি ভালো সংজ্ঞা, তবে “সার্থক সামাজিক জীবনযাপনের জন্য প্রস্তুত হওয়া” এই সংজ্ঞাটি আরও ব্যাপক এবং কার্যকরী।
(D) “সার্থক সামাজিক জীবনযাপনের জন্য প্রস্তুত হওয়া” – এই সংজ্ঞাটি সামাজিকীকরণের মূল উদ্দেশ্যকে তুলে ধরে। এটি শুধুমাত্র নিয়মকানুন আত্মস্থ করাই নয়, বরং সমাজের একজন কার্যকরী সদস্য হিসেবে জীবনযাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা এবং মনোভাব তৈরি করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
অতএব, সামাজিকীকরণের প্রকৃত অর্থ “সার্থক সামাজিক জীবনযাপনের জন্য প্রস্তুত হওয়া”। - Question 54 of 55
54. Question
1 points54. কোনটি আধুনিকীকরণের উপাদান নয়?
Correctআধুনিকীকরণ, একটি ধারণা হিসাবে, সাধারণত একটি ঐতিহ্যবাহী, কৃষিভিত্তিক, বা প্রাক-শিল্প রাষ্ট্র থেকে একটি আধুনিক, শিল্প এবং প্রায়শই নগরায়িত রাষ্ট্রে সামাজিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এই রূপান্তর সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মাত্রা। সমাজবিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা আধুনিকীকরণ ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করেছেন, প্রায়শই এটিকে উন্নয়ন এবং অগ্রগতির সাথে যুক্ত করেছেন।
আধুনিকীকরণের উপাদান
আসুন আধুনিকীকরণের প্রতিষ্ঠিত একাডেমিক বোঝার প্রেক্ষাপটে প্রতিটি বিকল্প বিশ্লেষণ করি:(A) শিল্পের উন্নতি
শিল্পায়নকে ব্যাপকভাবে আধুনিকীকরণের ভিত্তিপ্রস্তর হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর, যার বৈশিষ্ট্য কারখানা উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ব্যাপক উৎপাদন, আধুনিক সমাজের একটি সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য। শিল্পের বিকাশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং শ্রমের ধরণে পরিবর্তনের দিকে পরিচালিত করে। (দ্য ব্ল্যাকওয়েল এনসাইক্লোপিডিয়া অফ সোসিওলজি) এই অর্থনৈতিক রূপান্তরকে প্রায়শই আধুনিকীকরণের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য সামাজিক পরিবর্তনের প্রাথমিক চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হয়। উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি এবং সাংগঠনিক পদ্ধতির প্রয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে উৎপাদন এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করে, যা একটি আধুনিক অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য। (দ্য অক্সফোর্ড হ্যান্ডবুক অফ পলিটিক্যাল সায়েন্স)(B) বিজ্ঞানসম্মান
বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের আলিঙ্গন এবং প্রয়োগ আধুনিকীকরণের জন্য মৌলিক। আধুনিক সমাজগুলি একটি যুক্তিসঙ্গত-আইনি কর্তৃত্ব কাঠামো এবং অভিজ্ঞতামূলক প্রমাণ এবং পদ্ধতিগত অনুসন্ধানের উপর নির্ভরতা দ্বারা চিহ্নিত। বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে চালিত করে, যা ফলস্বরূপ শিল্প প্রবৃদ্ধিকে জ্বালানি দেয় এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে যোগাযোগ পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন দিক উন্নত করে। (দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অফ সোস্যাল থিওরি) আধুনিকীকরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সমাজের জন্য বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান, গবেষণা এবং শিক্ষার বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে কেবল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানই নয়, সামাজিক সংগঠন এবং শাসনব্যবস্থায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগও অন্তর্ভুক্ত। (দ্য ব্ল্যাকওয়েল এনসাইক্লোপিডিয়া অফ সোসিওলজি)(C) সামাজিক সচেতনতা (সামাজিক সচেতনতা)
সামাজিক সচেতনতা, যা প্রায়শই সামাজিক সমস্যা, অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়, এটি আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সমাজ আধুনিকীকরণের সাথে সাথে, প্রায়শই সাক্ষরতা, শিক্ষা এবং তথ্যের অ্যাক্সেস বৃদ্ধি পায়, যা আরও সচেতন এবং নিযুক্ত নাগরিকের দিকে পরিচালিত করে। এটি নাগরিক সমাজে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবি এবং ব্যক্তিগত অধিকারের উপর মনোযোগ হিসাবে প্রকাশিত হতে পারে। (দ্য অক্সফোর্ড হ্যান্ডবুক অফ পলিটিক্যাল সায়েন্স) আধুনিকীকরণ প্রায়শই আরও জটিল এবং পৃথক সামাজিক কাঠামোর বিকাশের সাথে যুক্ত, যেখানে ব্যক্তিরা তাদের ভূমিকা এবং বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আরও সচেতন হন। (দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অফ সোশ্যাল থিওরি) এর মধ্যে সামাজিক ন্যায়বিচার, সমতা এবং পরিবেশগত উদ্বেগ সম্পর্কে সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত, যা প্রায়শই আরও শিক্ষিত এবং আন্তঃসংযুক্ত জনগোষ্ঠীর পণ্য।(D) দৈহিক সচলতা
আধুনিক সমাজে শারীরিক গতিশীলতা থাকলেও শিল্পায়ন, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বা সামাজিক সচেতনতার মতো আধুনিকীকরণের মূল উপাদান বা চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয় না। যদিও বর্ধিত শারীরিক গতিশীলতা (যেমন, উন্নত পরিবহন অবকাঠামোর মাধ্যমে, নগরায়নের ফলে গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন ঘটে) প্রায়শই আধুনিকীকরণের একটি ফলাফল বা সূচক, এটি এমন একটি মৌলিক উপাদান নয় যা প্রক্রিয়াটিকে নিজেই সংজ্ঞায়িত করে। (দ্য ব্ল্যাকওয়েল এনসাইক্লোপিডিয়া অফ সোসিওলজি) আধুনিকীকরণ হল অর্থনৈতিক কাঠামো, জ্ঞান ব্যবস্থা এবং সামাজিক সংগঠনের মৌলিক পরিবর্তন, কেবল মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সহজতা নয়। যদিও পরিবহনের উন্নতি আধুনিক সমাজে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে সহজতর করে, তবে এগুলি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শিল্প উন্নয়নের ফলাফল, অন্যান্য বিকল্পগুলির মতো একই ধারণাগত বিভাগে আধুনিকীকরণের একটি প্রাথমিক উপাদান নয়। (দ্য অক্সফোর্ড হ্যান্ডবুক অফ পলিটিক্যাল সায়েন্স)উপসংহার
আধুনিকীকরণের প্রতিষ্ঠিত একাডেমিক বোঝাপড়ার উপর ভিত্তি করে, বিকল্পগুলি (A) শিল্পের উন্নতি, (B) বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং (C) সামাজিক সচেতনতা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য উপাদান বা বৈশিষ্ট্য। (দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অফ সোশ্যাল থিওরি) এই উপাদানগুলি অর্থনৈতিক কাঠামো, বৌদ্ধিক কাঠামো এবং সামাজিক চেতনার মৌলিক রূপান্তরকে প্রতিনিধিত্ব করে যা একটি আধুনিক সমাজকে সংজ্ঞায়িত করে।বিকল্প (D) শারীরিক গতিশীলতা, যদিও প্রায়শই আধুনিকতার একটি বৈশিষ্ট্য
Incorrectআধুনিকীকরণ, একটি ধারণা হিসাবে, সাধারণত একটি ঐতিহ্যবাহী, কৃষিভিত্তিক, বা প্রাক-শিল্প রাষ্ট্র থেকে একটি আধুনিক, শিল্প এবং প্রায়শই নগরায়িত রাষ্ট্রে সামাজিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এই রূপান্তর সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মাত্রা। সমাজবিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা আধুনিকীকরণ ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করেছেন, প্রায়শই এটিকে উন্নয়ন এবং অগ্রগতির সাথে যুক্ত করেছেন।
আধুনিকীকরণের উপাদান
আসুন আধুনিকীকরণের প্রতিষ্ঠিত একাডেমিক বোঝার প্রেক্ষাপটে প্রতিটি বিকল্প বিশ্লেষণ করি:(A) শিল্পের উন্নতি
শিল্পায়নকে ব্যাপকভাবে আধুনিকীকরণের ভিত্তিপ্রস্তর হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর, যার বৈশিষ্ট্য কারখানা উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ব্যাপক উৎপাদন, আধুনিক সমাজের একটি সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য। শিল্পের বিকাশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং শ্রমের ধরণে পরিবর্তনের দিকে পরিচালিত করে। (দ্য ব্ল্যাকওয়েল এনসাইক্লোপিডিয়া অফ সোসিওলজি) এই অর্থনৈতিক রূপান্তরকে প্রায়শই আধুনিকীকরণের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য সামাজিক পরিবর্তনের প্রাথমিক চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হয়। উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি এবং সাংগঠনিক পদ্ধতির প্রয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে উৎপাদন এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করে, যা একটি আধুনিক অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য। (দ্য অক্সফোর্ড হ্যান্ডবুক অফ পলিটিক্যাল সায়েন্স)(B) বিজ্ঞানসম্মান
বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের আলিঙ্গন এবং প্রয়োগ আধুনিকীকরণের জন্য মৌলিক। আধুনিক সমাজগুলি একটি যুক্তিসঙ্গত-আইনি কর্তৃত্ব কাঠামো এবং অভিজ্ঞতামূলক প্রমাণ এবং পদ্ধতিগত অনুসন্ধানের উপর নির্ভরতা দ্বারা চিহ্নিত। বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে চালিত করে, যা ফলস্বরূপ শিল্প প্রবৃদ্ধিকে জ্বালানি দেয় এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে যোগাযোগ পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন দিক উন্নত করে। (দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অফ সোস্যাল থিওরি) আধুনিকীকরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সমাজের জন্য বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান, গবেষণা এবং শিক্ষার বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে কেবল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানই নয়, সামাজিক সংগঠন এবং শাসনব্যবস্থায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগও অন্তর্ভুক্ত। (দ্য ব্ল্যাকওয়েল এনসাইক্লোপিডিয়া অফ সোসিওলজি)(C) সামাজিক সচেতনতা (সামাজিক সচেতনতা)
সামাজিক সচেতনতা, যা প্রায়শই সামাজিক সমস্যা, অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়, এটি আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সমাজ আধুনিকীকরণের সাথে সাথে, প্রায়শই সাক্ষরতা, শিক্ষা এবং তথ্যের অ্যাক্সেস বৃদ্ধি পায়, যা আরও সচেতন এবং নিযুক্ত নাগরিকের দিকে পরিচালিত করে। এটি নাগরিক সমাজে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবি এবং ব্যক্তিগত অধিকারের উপর মনোযোগ হিসাবে প্রকাশিত হতে পারে। (দ্য অক্সফোর্ড হ্যান্ডবুক অফ পলিটিক্যাল সায়েন্স) আধুনিকীকরণ প্রায়শই আরও জটিল এবং পৃথক সামাজিক কাঠামোর বিকাশের সাথে যুক্ত, যেখানে ব্যক্তিরা তাদের ভূমিকা এবং বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আরও সচেতন হন। (দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অফ সোশ্যাল থিওরি) এর মধ্যে সামাজিক ন্যায়বিচার, সমতা এবং পরিবেশগত উদ্বেগ সম্পর্কে সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত, যা প্রায়শই আরও শিক্ষিত এবং আন্তঃসংযুক্ত জনগোষ্ঠীর পণ্য।(D) দৈহিক সচলতা
আধুনিক সমাজে শারীরিক গতিশীলতা থাকলেও শিল্পায়ন, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বা সামাজিক সচেতনতার মতো আধুনিকীকরণের মূল উপাদান বা চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয় না। যদিও বর্ধিত শারীরিক গতিশীলতা (যেমন, উন্নত পরিবহন অবকাঠামোর মাধ্যমে, নগরায়নের ফলে গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন ঘটে) প্রায়শই আধুনিকীকরণের একটি ফলাফল বা সূচক, এটি এমন একটি মৌলিক উপাদান নয় যা প্রক্রিয়াটিকে নিজেই সংজ্ঞায়িত করে। (দ্য ব্ল্যাকওয়েল এনসাইক্লোপিডিয়া অফ সোসিওলজি) আধুনিকীকরণ হল অর্থনৈতিক কাঠামো, জ্ঞান ব্যবস্থা এবং সামাজিক সংগঠনের মৌলিক পরিবর্তন, কেবল মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সহজতা নয়। যদিও পরিবহনের উন্নতি আধুনিক সমাজে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে সহজতর করে, তবে এগুলি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শিল্প উন্নয়নের ফলাফল, অন্যান্য বিকল্পগুলির মতো একই ধারণাগত বিভাগে আধুনিকীকরণের একটি প্রাথমিক উপাদান নয়। (দ্য অক্সফোর্ড হ্যান্ডবুক অফ পলিটিক্যাল সায়েন্স)উপসংহার
আধুনিকীকরণের প্রতিষ্ঠিত একাডেমিক বোঝাপড়ার উপর ভিত্তি করে, বিকল্পগুলি (A) শিল্পের উন্নতি, (B) বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং (C) সামাজিক সচেতনতা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য উপাদান বা বৈশিষ্ট্য। (দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অফ সোশ্যাল থিওরি) এই উপাদানগুলি অর্থনৈতিক কাঠামো, বৌদ্ধিক কাঠামো এবং সামাজিক চেতনার মৌলিক রূপান্তরকে প্রতিনিধিত্ব করে যা একটি আধুনিক সমাজকে সংজ্ঞায়িত করে।বিকল্প (D) শারীরিক গতিশীলতা, যদিও প্রায়শই আধুনিকতার একটি বৈশিষ্ট্য
- Question 55 of 55
55. Question
1 points55. প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার প্রসঙ্গটি কোন দলিলে সর্বপ্রথম বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।
Correct✅ (C) জাতীয় শিক্ষানীতি, 1986
ব্যাখ্যা:
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বিশেষভাবে প্রথম জোর দেওয়া হয়েছিল 1986 সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে (National Policy on Education, 1986)।এই নীতিতে বলা হয়:
সবার জন্য শিক্ষা (Education for All) উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ শিক্ষার মূলধারায় (Mainstream) অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সমন্বিত শিক্ষা (Integrated Education) ও বিশেষ শিক্ষা (Special Education) উভয়ই গুরুত্ব পায়।
শিক্ষকের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ ছিল।
অন্য বিকল্পের বিশ্লেষণ:
(A) জাতীয় শিক্ষানীতি, 1968 → মূলত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ভাষা ও প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়, কিন্তু প্রতিবন্ধী শিক্ষার ক্ষেত্রে আলাদা জোর ছিল না।
(B) কোঠারি কমিশন রিপোর্ট (1964-66) → শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সুপারিশ ছিল, কিন্তু প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বিশেষ নীতি ছিল না।
(D) NCTE Act, 1993 → এটি শিক্ষক শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণের জন্য, প্রতিবন্ধী শিক্ষার বিশেষ গুরুত্ব নয়।
✅ তাই সঠিক উত্তর: জাতীয় শিক্ষানীতি, 1986।
Incorrect✅ (C) জাতীয় শিক্ষানীতি, 1986
ব্যাখ্যা:
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বিশেষভাবে প্রথম জোর দেওয়া হয়েছিল 1986 সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে (National Policy on Education, 1986)।এই নীতিতে বলা হয়:
সবার জন্য শিক্ষা (Education for All) উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ শিক্ষার মূলধারায় (Mainstream) অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সমন্বিত শিক্ষা (Integrated Education) ও বিশেষ শিক্ষা (Special Education) উভয়ই গুরুত্ব পায়।
শিক্ষকের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ ছিল।
অন্য বিকল্পের বিশ্লেষণ:
(A) জাতীয় শিক্ষানীতি, 1968 → মূলত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ভাষা ও প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়, কিন্তু প্রতিবন্ধী শিক্ষার ক্ষেত্রে আলাদা জোর ছিল না।
(B) কোঠারি কমিশন রিপোর্ট (1964-66) → শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সুপারিশ ছিল, কিন্তু প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বিশেষ নীতি ছিল না।
(D) NCTE Act, 1993 → এটি শিক্ষক শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণের জন্য, প্রতিবন্ধী শিক্ষার বিশেষ গুরুত্ব নয়।
✅ তাই সঠিক উত্তর: জাতীয় শিক্ষানীতি, 1986।
Leaderboard: All Unit Practice SET-1 2016
| Pos. | Name | Entered on | Points | Result |
|---|---|---|---|---|
| Table is loading | ||||
| No data available | ||||
